বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ইসলামে ছাগল বা অন্যান্য হালাল পশুকে খাসি (ঈধংঃৎধঃব) করা সম্পর্কে মূলনীতি হল, আল্লাহ তা‘আলা যেসব প্রাণী মানুষের উপকারের জন্য সৃষ্টি করেছেন, সেগুলো থেকে বৈধ উপায়ে উপকার গ্রহণ করা জায়েয। তবে কোন প্রাণীর অঙ্গহানি বা কষ্ট দেয়ার বিষয়টি শরী‘আতের নীতিমালার অধীন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَّ الۡخَیۡلَ وَ الۡبِغَالَ وَ الۡحَمِیۡرَ لِتَرۡکَبُوۡہَا وَ زِیۡنَۃً ؕ وَ یَخۡلُقُ مَا لَا تَعۡلَمُوۡنَ ‘আর তিনি সৃষ্টি করেছেন ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা, যাতে তোমরা তাতে আরোহণ কর এবং এগুলো সৌন্দর্যের উপকরণ। আর তিনি এমন কিছু সৃষ্টি করেন যা তোমরা জান না’ (সূরা আন-নাহল : ৮)। এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, প্রাণীগুলো মানুষের বিভিন্ন উপকারের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। তবে তাদের ওপর এমন আচরণ করা যাবে না, যা অপ্রয়োজনীয় কষ্টের কারণ হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রাণীর প্রতি দয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, إِنَّ اللهَ كَتَبَ الإِحْسَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ ‘নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ের মধ্যে ইহসান (সুন্দর আচরণ) আবশ্যক করেছেন’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৯৫৫)।

পশুকে খাসি করার ক্ষেত্রে অধিকাংশ ফক্বীহ বলেছেন, যদি এর দ্বারা বৈধ উপকার উদ্দেশ্য হয় এবং প্রাণীর জন্য অতিরিক্ত ক্ষতি না হয়, তাহলে তা জায়েয। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যে পশু খাওয়া হয়, তাকে খাসি করা জায়েয; কারণ এতে তার গোশত অধিক উত্তম হয় এবং এতে কোন উপকার থাকলে তা বৈধ’ (শারহু ছহীহ মুসলিম, ১৩/১০৫ পৃ.)। খাওয়ার উদ্দেশ্যে পালিত পশু যেমন ছাগল, ভেড়া ইত্যাদি খাসি করা জায়েয, বিশেষত যখন এতে গোশতের মান বৃদ্ধি পায় বা পশু শান্ত হয়। সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া বোর্ড বলেন, ‘খাওয়ার জন্য প্রস্তুত করা পশুকে খাসি করা জায়েয, যদি এতে পশুর প্রতি এমন ক্ষতি না হয় যা সহ্য করা অসম্ভব। কারণ এতে গোশত ভালো হওয়ার উপকার রয়েছে’ (ফাতাওয়া আল লাজনাহ আদ-দায়িমাহ, ১১/৪৩১ পৃ.)। শায়খ আব্দুল আযীয ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, খাওয়ার উদ্দেশ্যে ছাগল বা ভেড়া খাসি করাতে কোন অসুবিধা নেই; কারণ এতে গোশতের গুণ বৃদ্ধি পায় এবং এটি মানুষের জন্য উপকারী’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবন বায, ২৫/৪৯ পৃ.)। আল্লামা মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘খাওয়ার উদ্দেশ্যে পশুকে খাসি করা জায়েয, যদি তা পশুর জন্য উপকারী হয় এবং এতে অপ্রয়োজনীয় কষ্ট না দেয়া হয়’ (লিকাউল বাব আল-মাফতূহ, ২০/৩)।


প্রশ্নকারী : হুমায়ুন কবীর, সঊদী আরব।





প্রশ্ন (৩৫) : ডাস্টবিনে রুটি ও খাবার ফেলা কি হারাম; অথচ সেগুলো এক রকম খাওয়ার উপযুক্ত নয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : ক্বিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম কাকে বস্ত্র পরিধান করানো হবে? কেউ কেউ বলে যে, ‘বস্ত্র পরিধান করেই রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ক্বিয়ামতের দিন উঠবেন’, একথা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : যক্ষা রোগে আক্রান্ত কোন ব্যক্তি ছিয়াম রাখতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : আলু বোখারা খাওয়া কি যায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : পালিত পুত্র-কন্যা কি পালক পিতা-মাতার জন্য এবং তাদের প্রকৃত সন্তানদের ক্ষেত্রে মাহরাম হিসাবে গণ্য হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : ‘মসজিদে হারাম, মসজিদে নববী ও মসজিদে আক্বছা ব্যতীত অন্য কোন মসজিদে ই‘তিকাফ করা যাবে না। এ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : যে সকল দেশে মানবরচিত বিধান দ্বারা বিচার কার্র্য পরিচিালিত হয়, সেখানে বিচারক হওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : একাধিকবার গ্লাসে পানি পান করার সময়, প্রতিবারই কি ‘বিসমিল্লাহ’ এবং শেষে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : স্বামী বা স্ত্রীর কোন একজন মুরতাদ বা কাফের হলে তাদের বৈবাহিক অবস্থার বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৩) : মুসলিম নারী কি বাইরে গিয়ে কাজ করতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫০) : ছিয়াম অবস্থায় হস্তমৈথুন করলে ছিয়াম নষ্ট হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : সূদী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে এমন ব্যক্তিকে বাসা ভাড়া দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ