মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ইসলামে পোশাকের মূলনীতি হল, যে কোন পোশাক মূলত বৈধ, যতক্ষণ তাতে শরী‘আতবিরোধী কোন বিষয় না পাওয়া যায়। তবে কোন পোশাক যদি কোন ধর্ম, কুফরী বিশ্বাস, অশ্লীলতা, হারাম প্রতীক অথবা বাতিল মতাদর্শের পরিচায়ক হয়, তাহলে তা পরিধান করা বৈধ নয়। এ কারণে মুসলিমের জন্য পোশাক নির্বাচনে সতর্কতা অবলম্বন করা যরূরী। অনেক মুসলিম ব্যক্তি বিভিন্ন দেশের ফুটবল বা অন্যান্য দলের জার্সি পরিধান করেন। এর মধ্যে অমুসলিম দেশের জার্সিও রয়েছে। এ বিষয়ে শরী‘আতের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে হলে কয়েকটি মূলনীতি সামনে রাখতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ لَا تَرۡکَنُوۡۤا اِلَی الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا فَتَمَسَّکُمُ النَّارُ ‘আর তোমরা যালিমদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না, তাহলে আগুন তোমাদের স্পর্শ করবে’ (সূরা হূদ : ১১৩)। আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন, وَ لَا تَکُوۡنُوۡا مِنَ الۡمُشۡرِکِیۡنَ ‘এবং তোমরা মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না’ (সূরা আর-রূম : ৩১)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ ‘যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত’ (আবূ দাঊদ, হা/৪০৩১)।

এই হাদীছের ব্যাখ্যায় আলেমগণ বলেছেন, নিষিদ্ধ সাদৃশ্য গ্রহণ হল এমন সাদৃশ্য, যা তাদের ধর্মীয় নিদর্শন, বিশ্বাস, বিশেষ সংস্কৃতি বা পরিচয়ের অংশ হয়ে যায়। আল্লামা ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘কোন পোশাক যদি কাফেরদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য বা পরিচয়ের প্রতীক হয়, তাহলে তা পরিধান করা থেকে বিরত থাকা উচিত। কিন্তু যদি তা সাধারণ পোশাক হয়, যা মুসলিম ও অমুসলিম উভয়েই ব্যবহার করে, তাহলে শুধু অমুসলিমরা ব্যবহার করে বলে তা হারাম হয়ে যায় না’। যদি জার্সিতে ক্রুশ, কোন কুফরী ধর্মীয় প্রতীক, অশ্লীল ছবি, হারাম শব্দ, বা ইসলামের বিরোধী কোন স্লোগান থাকে, তাহলে তা পরিধান করা জায়েয নয়। যদি জার্সি কোন দেশের জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক হয় এবং তা পরিধানকারী ব্যক্তি সেই দেশের প্রতি গর্ব, আনুগত্য বা তাদের সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের উদ্দেশ্যে পরে, তাহলে তা থেকে বিরত থাকা উচিত। কারণ মুসলিমের প্রকৃত পরিচয় হল ইসলাম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, اِنَّمَا الۡمُؤۡمِنُوۡنَ  اِخۡوَۃٌ ‘নিশ্চয় মুমিনগণ পরস্পর ভাই ভাই’ (সূরা আল-হুজুরাত : ১০)। তবে যদি কোন ব্যক্তি শুধু খেলাধুলার পসন্দ, খেলোয়াড়ের দক্ষতা বা সাধারণ পোশাক হিসাবে কোন জার্সি পরিধান করে এবং তাতে কোন নিষিদ্ধ প্রতীক না থাকে, তাহলে তা সরাসরি হারাম বলা যায় না। কিন্তু মুসলিমের জন্য উত্তম হল এমন পোশাক নির্বাচন করা, যা তার ঈমানী পরিচয় ও স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখে।


প্রশ্নকারী : হাসিব, ঢাকা।





প্রশ্ন (২৮) : মেয়ে শিশুর নাম ‘হাওয়া’ রাখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : ছালাতুল ইশরাক, ছালাতু যোহা, ছালাতুল আউয়াবীন কোন্ সময় পড়তে হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ইয়া’জূজ-মা’জূজ মানুষ জাতি। তারা কি সবাই পথভ্রষ্ট? ইয়া’জূজ-মা’জূজ কি কোন নবীর অনুসরণ করতে পেরেছে? তাদেরকে কেন সুযোগ দেয়া হল না? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : কোন অসুস্থ ব্যক্তি দু‘আ চাইলে শুক্রবারে জুমু‘আর ছালাতের পর সম্মিলিত মুনাজাত করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : যদি কোন সন্তান তার দৈনন্দিন খরচ থেকে দান করে, তাহলে এর ছওয়াব কি বাবা পাবেন, না-কি ছেলে পাবেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : জনৈক ব্যক্তি প্রেম করে মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে গিয়ে কোটে বিবাহ করেছে। তাদের বিবাহ কি সম্পূর্ণ হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : টাখনুর নীচে কাপড় পরিধান করা অহংকারের লক্ষণ। প্রশ্ন হল- কেউ অহংকার না করে টাখনুর নীচে কাপড় ঝুলিয়ে পরতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩): রহমত ও বরকত লাভের আশায় কোন সৎ ব্যক্তিকে ডেকে বা কোন সৎ ব্যক্তি কারো বাড়িতে বেড়াতে আসলে তাকে ঘরে সাধারণভাবে নফল ছালাত পড়তে বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : ‘যে বিয়েতে খরচ যত কম, সেই বিয়েতে বরকত তত বেশি' মর্মে বর্ণিত হাদীছ কি সহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : পিতার চার কন্যা সন্তান, কোন ছেলে নেই। সে কি তার সমস্ত সম্পত্তি চার কন্যা সন্তানের মধ্যে জীবিত থাকাকালে ভাগ করে দিতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : মসজিদের ইমাম যদি বিশ্বাস করে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নূর থেকে মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সৃষ্টি করেছেন, তাহলে সেই ইমামের পিছনে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : ওযূ করার পর ছালাত চলাকালীন যদি জানতে পারি যে, আমার দাঁতে সামান্য খাবার অবশিষ্ট আছে। এখন উক্ত ছালাত কি ওযূ করে আবার পড়তে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ