রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৯ অপরাহ্ন
উত্তর : ইসলামে পোশাকের মূলনীতি হল, যে কোন পোশাক মূলত বৈধ, যতক্ষণ তাতে শরী‘আতবিরোধী কোন বিষয় না পাওয়া যায়। তবে কোন পোশাক যদি কোন ধর্ম, কুফরী বিশ্বাস, অশ্লীলতা, হারাম প্রতীক অথবা বাতিল মতাদর্শের পরিচায়ক হয়, তাহলে তা পরিধান করা বৈধ নয়। এ কারণে মুসলিমের জন্য পোশাক নির্বাচনে সতর্কতা অবলম্বন করা যরূরী। অনেক মুসলিম ব্যক্তি বিভিন্ন দেশের ফুটবল বা অন্যান্য দলের জার্সি পরিধান করেন। এর মধ্যে অমুসলিম দেশের জার্সিও রয়েছে। এ বিষয়ে শরী‘আতের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে হলে কয়েকটি মূলনীতি সামনে রাখতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ لَا تَرۡکَنُوۡۤا اِلَی الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا فَتَمَسَّکُمُ النَّارُ ‘আর তোমরা যালিমদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না, তাহলে আগুন তোমাদের স্পর্শ করবে’ (সূরা হূদ : ১১৩)। আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন, وَ لَا تَکُوۡنُوۡا مِنَ الۡمُشۡرِکِیۡنَ ‘এবং তোমরা মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না’ (সূরা আর-রূম : ৩১)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ ‘যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত’ (আবূ দাঊদ, হা/৪০৩১)।

এই হাদীছের ব্যাখ্যায় আলেমগণ বলেছেন, নিষিদ্ধ সাদৃশ্য গ্রহণ হল এমন সাদৃশ্য, যা তাদের ধর্মীয় নিদর্শন, বিশ্বাস, বিশেষ সংস্কৃতি বা পরিচয়ের অংশ হয়ে যায়। আল্লামা ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘কোন পোশাক যদি কাফেরদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য বা পরিচয়ের প্রতীক হয়, তাহলে তা পরিধান করা থেকে বিরত থাকা উচিত। কিন্তু যদি তা সাধারণ পোশাক হয়, যা মুসলিম ও অমুসলিম উভয়েই ব্যবহার করে, তাহলে শুধু অমুসলিমরা ব্যবহার করে বলে তা হারাম হয়ে যায় না’। যদি জার্সিতে ক্রুশ, কোন কুফরী ধর্মীয় প্রতীক, অশ্লীল ছবি, হারাম শব্দ, বা ইসলামের বিরোধী কোন স্লোগান থাকে, তাহলে তা পরিধান করা জায়েয নয়। যদি জার্সি কোন দেশের জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক হয় এবং তা পরিধানকারী ব্যক্তি সেই দেশের প্রতি গর্ব, আনুগত্য বা তাদের সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের উদ্দেশ্যে পরে, তাহলে তা থেকে বিরত থাকা উচিত। কারণ মুসলিমের প্রকৃত পরিচয় হল ইসলাম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, اِنَّمَا الۡمُؤۡمِنُوۡنَ  اِخۡوَۃٌ ‘নিশ্চয় মুমিনগণ পরস্পর ভাই ভাই’ (সূরা আল-হুজুরাত : ১০)। তবে যদি কোন ব্যক্তি শুধু খেলাধুলার পসন্দ, খেলোয়াড়ের দক্ষতা বা সাধারণ পোশাক হিসাবে কোন জার্সি পরিধান করে এবং তাতে কোন নিষিদ্ধ প্রতীক না থাকে, তাহলে তা সরাসরি হারাম বলা যায় না। কিন্তু মুসলিমের জন্য উত্তম হল এমন পোশাক নির্বাচন করা, যা তার ঈমানী পরিচয় ও স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখে।


প্রশ্নকারী : হাসিব, ঢাকা।





প্রশ্ন (৪) : গীবতের গুনাহ থেকে কিভাবে বাঁচব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : যারা পানের সাথে সাদা পাতা খায় এবং ২০ বছর বা ২৫ বছর ধরে ছালাত আদায় করে, তাদের ছালাত কবুল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৯) : ‘বড় পরীক্ষায় বড় পুরস্কার’ এ কথা কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : নবী-রাসূলদেরকে মু‘জিযা দান করার কারণ কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : একজন মুসলিম ব্যক্তি ছিয়ামের পরিবর্তে কখন ফিদইয়া দিবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : ছালাতে তাশাহ্হুদের সময় দৃষ্টি কোন্ দিকে রাখতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : জনৈক ব্যক্তি জর্জ কোর্টে মুহুরীর সহযোগী হিসাবে কাজ করে। মজুরী হিসাবে টাকাও পায়। কিন্তু যার সহযোগী হিসাবে কাজ করে সে মানুষের কাছ থেকে মিথ্যা/প্রতারণা করে টাকা নেয় এবং বিভিন্ন সময় তাকেও মিথ্যা কথা বলতে হয়। এ ধরনের চাকরী করা বৈধ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : মুসলিম সরকারের শরী‘আত বিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সেদেশের মুসলিম নাগরিকদের করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : ফুটবল, ক্রিকেট কিংবা ভলিবল খেলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : অনেক মহিলারা ডান হাতের নখ রাখে। কারণ তারা তা না রাখলে নাকি কাজ করতে পারে না। এখন কেউ যদি বড় নখ রাখে তাহলে তার পাপ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : গর্ভবতী হওয়ার ৩ মাস পর বাচ্চা নষ্ট হয়ে গেছে। এই বাচ্চার জন্য কোন আমল করা যাবে কি? এই বাচ্চা পরকালে মায়ের জন্য কোন সুপারিশ করবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) বিভিন্ন খারাপ কাজের সাথে জড়িত এমন ইমামের পিছনে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ