বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ইসলামে স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ইদ্দত পালন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ الَّذِیۡنَ یُتَوَفَّوۡنَ مِنۡکُمۡ وَ یَذَرُوۡنَ اَزۡوَاجًا یَّتَرَبَّصۡنَ بِاَنۡفُسِہِنَّ اَرۡبَعَۃَ اَشۡہُرٍ وَّ عَشۡرًا

‘আর তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করবে এবং স্ত্রী রেখে যাবে, তাদের স্ত্রীগণ নিজেদেরকে চার মাস দশ দিন পর্যন্ত অপেক্ষায় রাখবে’ (সূরা আল-বাকারা : ২৩৪)। এই ইদ্দতের সময় স্ত্রীকে শোক পালন করতে হয়, যাকে আরবীতে ‘ইহদাদ’ বলা হয়। ইহদাদের অন্তর্ভুক্ত হল সাজসজ্জা, সুগন্ধি, অলংকার ইত্যাদি পরিহার করা। তাই স্বামী মারা যাওয়ার পর বিধবা নারীর জন্য নাকফুল, গহনা, মেকআপ বা সৌন্দর্যবর্ধক সাজে থাকা শরী‘আতসম্মত নয়; বরং তা পরিত্যাগ করাই সুন্নাহ ও শরী‘আতের নির্দেশ। রাসূল (ﷺ) বলেছেন,

لَا يَحِلُّ لِامْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ تُحِدَّ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلَاثٍ إِلَّا عَلَى زَوْجٍ فَإِنَّهَا تُحِدُّ عَلَيْهِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا

‘যে নারী আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, তার জন্য কোন মৃত ব্যক্তির ওপর তিন দিনের বেশি শোক পালন বৈধ নয়; তবে স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/১২৮০; ছহীহ মুসলিম, হা/১৪৮৬)। উম্মু আতিয়্যা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, ‘আমাদেরকে নিষেধ করা হত যেন আমরা স্বামীর মৃত্যুর পর ইদ্দতের সময় সুগন্ধি ব্যবহার না করি, রঙিন কাপড় না পরি, অলংকার না পরি এবং সাজসজ্জা না করি’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৩৪১; ছহীহ মুসলিম, হা/৯৩৮)।

নাকফুল যেহেতু অলংকারের অন্তর্ভুক্ত, তাই ইদ্দতের সময় তা পরে সাজসজ্জা করা বৈধ নয়। সঊদী আরবের প্রখ্যাত আলেম  বলেছেন, ‘বিধবা নারীর জন্য ইদ্দতের সময় সব ধরনের অলংকার, যেমন কানের দুল, নেকলেস, বালা, নাকফুল ইত্যাদি বর্জন করা ওয়াজিব। কারণ এগুলো সৌন্দর্য প্রকাশের মাধ্যম। ইদ্দতের উদ্দেশ্য হল, স্বামীর মৃত্যুর শোক প্রকাশ, বৈবাহিক সম্পর্কের মর্যাদা রক্ষা এবং শরী‘আতের নির্দেশের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করা’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবন বায, ২০/৪৩৭-৪৩৮ পৃ.)। বিধবা নারীর জন্য ইদ্দতের সময় এমন সব কিছু বর্জন করা যরূরী, যা সাধারণত সৌন্দর্য ও আকর্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে অলংকার, সুগন্ধি, মেহেদি, সাজসজ্জা এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধিকারী পোশাক অন্তর্ভুক্ত (ফাতওয়া নূরুন আলাদ র্দাব, ২১/২১৬ পৃ.)। অতএব, বয়স্ক হোক বা যুবতী, স্বামীর মৃত্যুর পর ইদ্দতের সময় বিধবা নারীর জন্য নাকফুল পরে সাজসজ্জা করে থাকা শরী‘আতসম্মত নয়।


প্রশ্নকারী : মুহাম্মাদ বিন ফয়েজ, ময়মনসিংহ।





প্রশ্ন (২২) : মসজিদে ইফতার ও দু‘আ মাহফিলের ব্যানার লাগানো যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : ‘দাসী তার মুনিবকে জন্ম দিবে’ হাদীছটির ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ‘আদম সন্তানের সৌভাগ্য তিনটি আর দুর্ভাগ্যও তিনটি। সৌভাগ্য তিনটি হলো, দ্বীনদার-নেককার স্ত্রী, ভালো বাসস্থান, ভালো সওয়ারী বা বাহন। আর দুর্ভাগ্য তিনটি হলো, খারাপ স্ত্রী, খারাপ বাসস্থান ও খারাপ সওয়ারী’ (মুসনাদে আহমাদ)। হাদীছটি কী ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : পবিত্র কুরআনে কখন কিভাবে রুকূ‘ সংযোগ করা হয়? তাছাড়া উপমহাদেশীয় নুসখায় এটা দেখা যায়, কিন্তু আরব বিশ্বের নুসখায় দেখা যায় না কেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : জনৈক মসজিদের ইমাম বলেন, আমাদের রাসূল (ﷺ) মারা যাননি, তিনি কবরে জীবিত আছেন। তিনি মানুষের কথা শুনেন এবং হাজাত পূরণ করেন। রাসূল (ﷺ) সম্পর্কে তার এই ভ্রান্ত বিশ্বাস পোষণের কারণে তার পিছনে ছালাত পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর সময় মা দুধ পানের দু‘আ পাঠ করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : নাভির নিচের পশম কোন্ জায়গা থেকে কাটতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : অনেক মসজিদ বা বাড়ীতে রং-বেরংয়ের জায়নামায দেখা যায়।সেগুলোতে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : নবী-রাসূলদেরকে মু‘জিযা দান করার কারণ কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫): ইসলামী অর্থনীতির ভিত্তি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : তাকবীরে তাহরিমা ও রাফ‘উল ইয়াদাইন করার সময় হাতের আঙ্গুল খোলা খোলা থাকবে, না-কি পরস্পরের সাথে মিলানো থাকবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : গরীব-মিসকীন ছাড়া কুরআনে উল্লেখিত আট শ্রেণীর অন্যদের মাঝে কি ফিতরা বণ্টন করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ