উত্তর : যদি সূদী অর্থনীতি অধ্যয়নের উদ্দেশ্য হয় সূদের কার্যক্রম সম্পর্কে জানা এবং এ ব্যাপারে আল্লাহর বিধান স্পষ্ট করা, তাহলে এতে কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু যদি অধ্যয়নের উদ্দেশ্য এমনটি না হলে তা বৈধ হবে না। অনুরূপভাবে সূদভিত্তিক ব্যাংকে চাকরি করাও জায়েয নয়, কারণ এটি পাপ কাজে সহযোগিতা করার অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাক্বওয়ার কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা কর এবং মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে একে অন্যের সহযোগিতা কর না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি প্রদানে অত্যধিক কঠোর’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ২)।
উপরিউক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) ও ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এখানে আল্লাহ তা‘আলা মুমিন ব্যক্তিদেরকে ভালো কাজে সহযোগিতা করতে আদেশ করেছেন এবং অন্যায়, অসৎ ও হারাম কাজে সাহায্য, সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছেন’ (তাফসীর ইবনু কাছীর, ২/১২; তাফসীরে কুরতুবী, ৬/৪৬-৪৭; মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া মাক্বালাতুশ শাইখ ইবনু বায ১৯/২৩৯)।
সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির আলিমগণ বলেন, ‘সূদী কোম্পানিতে চাকরি করা, যেখানে সূদের ভিত্তিতে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করে এবং সেই ঋণসংক্রান্ত হিসাব কোম্পানির খাতায় লিপিবদ্ধ করা জায়েয নয়। কারণ এটি সূদের লেনদেন লেখার অন্তর্ভুক্ত। নবী করীম (ﷺ) সূদখোর, সূদদাতা, তার সাক্ষীদাতা ও তার লেখককে অভিসাম্পত করেছেন এবং বলেছেন, ওরা সবাই সমান’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৭-১৫৯৮)। সুতরাং আপনার উচিত অন্য কোন কাজের সন্ধান করা। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ আপনার জন্য সহজ পথ বের করে দেবেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ সৃষ্টি করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিয্ক্ব দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না’ (সূরা আত-ত্বালাক্ব : ২-৩)। আল্লাহ আপনার বিষয় সহজ করে দিন এবং সকলের অবস্থা সংশোধন করে দিন (ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ, ১৫/২৭-২৯ পৃ.)।
শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘সূদভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা জায়েয নয়, যদিও ব্যক্তি সেখানে ড্রাইভার বা প্রহরী (গার্ড) হিসাবেই কাজ করুক। কারণ সূদী প্রতিষ্ঠানে চাকরি গ্রহণ করা সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করার শামিল। কারণ যে ব্যক্তি কোন বিষয়কে মন্দ মনে করে, সে তার স্বার্থে কাজ করতে পারে না। সুতরাং যখন সে তার স্বার্থে কাজ করে, তখন তা ঐ বিষয়ের প্রতি তার সন্তুষ্টিরই প্রমাণ। আর হারাম বিষয়ে সন্তুষ্ট ব্যক্তি তার পাপের অংশীদার হয়। আর যে ব্যক্তি হিসাব-নিকাশ, লেখালেখি, প্রেরণ, জমা করা ইত্যাদি কাজ সরাসরি সম্পাদন করে, সে নিঃসন্দেহে হারাম কাজে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ, ২/৪০১ পৃ.)।
প্রশ্নকারী : গোলাম রাব্বী, বরিশাল।