উত্তর : পিতা-মাতা যদি অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল থাকেন, তাহলে সন্তানের জন্য তাদের খরচ বহন করা ওয়াজিব নয়। তবে এটা নয় যে তাদের সম্পর্ক ছিন্ন করবে বা তাদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘বাবা-মায়ের সাথে সদ্ব্যবহার কর’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ৮৩)। জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন,
أَنَّ رَجُلًا، قَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّ لِيْ مَالًا وَوَلَدًا وَإِنَّ أَبِيْ يُرِيْدُ أَنْ يَجْتَاحَ مَالِيْ فَقَالَ أَنْتَ وَمَالُكَ لأَبِيْكَ
‘জনৈক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমার সম্পদও আছে, সন্তানও আছে। আমার পিতা আমার সম্পদের মুখাপেক্ষী। তিনি বলেন, তুমি ও তোমার সম্পদ সবই তোমার পিতার’ (ইবনু মাজাহ, হা/২২৯১)। হাদীছ ‘তুমি এবং তোমার সম্পদ তোমার পিতার জন্য’, এখানে ‘লাম (ل)’ মালিকানার জন্য নয়; বরং তা অনুমতির অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
ইবনুল ক্বাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘এই হাদীছে ‘লাম’ কোনভাবেই মালিকানার জন্য নয়। যারা এটিকে ‘অনুমতি’ (ইবাহা) অর্থে গ্রহণ করেন, তারাই হাদীছটির সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। অন্যথা এর উপকারিতা ও নির্দেশনা নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়’ (ই‘লামুল মুওয়াক্কি‘ঈন, ১/১১৬ পৃ.)। আর এটাও প্রমাণ করে যে, এটি মালিকানার জন্য নয়, ছেলের মৃত্যুর পর তার সম্পদ তার সন্তান, স্ত্রী এবং মাতা উত্তরাধিকারসূত্রে পায়। যদি তার সম্পদ প্রকৃতপক্ষে পিতার মালিকানায় থাকত, তাহলে পিতা ছাড়া অন্য কেউ সেই সম্পদ পেত না। ইমাম শাফেঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘কারণ এটি (মালিকানা বোঝানো) প্রমাণিত নয়। কেননা আল্লাহ যখন সন্তানের সম্পদ থেকে পিতার জন্য নির্দিষ্ট অংশ নির্ধারণ করেছেন এবং তাকে অন্যান্য ওয়ারিছদের মতই একজন ওয়ারিছ করেছেন। এমনকি কখনো তিনি অনেক ওয়ারিছের তুলনায় কম অংশও পান, তখন এটি প্রমাণ করে যে সন্তানের সম্পদের মালিক সে নিজেই, পিতা নয়’ (আর-রিসালা, পৃ. ৪৬৮)। সর্বোপরি যে কথা বোঝা যাচ্ছে তাহল- পিতা-মাতা সচ্ছল হলে সন্তান তাদের সার্বিক খোঁজ-খবর সদাচরণ বজায় রাখবে; তবে খরচ দেয়া, আর্থিক সহযোগিতা করা যরূরী নয় যেহেতু তাদের যথেষ্ট সম্পদ রয়েছে। অবশ্যই তারা কমল, নরম ও সুন্দর আচরণের অধিকারী আর সেটা অবশ্যই তাদের সাথে অটুট রাখবে।
প্রশ্নকারী : আবু সাঈদ, দিনাজপুর।