শুক্রবার, ০৫ Jun ২০২৬, ০১:৩১ পূর্বাহ্ন
উত্তর :  কুরআন তিলাওয়াত করা নিঃসন্দেহে মহৎ ইবাদত। খতম দেয়া একটি সুন্নতসম্মত আমল। কিন্তু এটিকে অবশ্যক মনে করা ঠিক নয়। বরং কুরআনের আসল উদ্দেশ্য হল হিদায়াত গ্রহণ, বুঝে পড়া এবং সেই অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা। শুধু না বুঝে বারবার খতম দেয়া যদি মানুষের আমল-আখলাক্বকে পরিবর্তন না করে, তাহলে কুরআনের মূল উদ্দেশ্য অপূর্ণই থেকে যায়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতসমূহ গভীরভাবে চিন্তা করে (তাদাব্বুর করে) এবং বোধশক্তিসম্পন্নরা উপদেশ গ্রহণ করে’ (সূরা ছোয়াদ : ২৯)। আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন, ‘তারা কি কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে না? না-কি তাদের অন্তর তালাবদ্ধ? (সূরা মুহাম্মাদ : ২৪)। এই আয়াতগুলো স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে, কুরআনের উদ্দেশ্য শুধু পড়া নয়, বরং বোঝা, চিন্তা করা এবং আমল করা। রাসূল (ﷺ) বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে কুরআন শিখে এবং শিক্ষা দেয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫০২৭)। এখানে ‘শেখা’ বলতে শুধু তিলাওয়াত শেখা নয়, বরং অর্থ, হুকুম ও জীবনব্যবস্থাও বোঝা অন্তর্ভুক্ত। আরেকটি হাদীছে এসেছে, ‘কুরআন ক্বিয়ামতের দিন তার পাঠকের জন্য সুপারিশ করবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৮০৪)। তবে আলেমগণ ব্যাখ্যা করেছেন, এই সুপারিশ তাদের জন্য, যারা কুরআনের উপর আমল করেছে।

সঊদী আরবের প্রসিদ্ধ আলেম ইমাম ও শাইখ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘মুমিনের জন্য উচিত কুরআন তিলাওয়াত করা, তা নিয়ে চিন্তা করা (তাদাব্বুর) এবং তাতে যা এসেছে সে অনুযায়ী আমল করা। শুধু দ্রুত খতম দেয়া লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবন বায, ৯/৩৩৩ পৃ.)। ইমাম ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘কুরআন ধীরে, বুঝে পড়াÑ এটা দ্রুত অনেক খতম দেয়ার চেয়ে উত্তম, যদি সেই ধীরে পড়া মানুষকে বুঝতে ও আমল করতে সাহায্য করে’ (ফাতাওয়া নূর ‘আলাদ দারব, ১/৩২৯ পৃ.)। শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘কুরআন নাযিল হয়েছে এর উপর আমল করার জন্য, শুধু তিলাওয়াতের জন্য নয়। তিলাওয়াত হল একটি মাধ্যম, লক্ষ্য নয়’ (আল-ইজাবাত আল-মুহিম্মাহ, পৃ. ৩০)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘কুরআন তিলাওয়াতের উদ্দেশ্য শুধু শেষ করা নয়; বরং তা বুঝা, চিন্তা করা ও বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা’ (আল-মুলাখখাছ ফী শারহি কিতাব আত-তাওহীদ, পৃ. ১৮)।

সালাফদের অবস্থা ছিল ভিন্ন। তারা অল্প আয়াত পড়তেন, কিন্তু গভীরভাবে বুঝতেন এবং তা বাস্তবে প্রয়োগ করতেন। ছাহবী ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘আমরা যখন দশটি আয়াত শিখতাম, তা ভালোভাবে না বুঝা এবং আমল না করা পর্যন্ত পরবর্তী দশ আয়াতে যেতাম না’ (তাফসীর ইবনু কাছীর, ১/১৪ পৃ.)। অতএব বোঝা গেল, খতম দেয়া ভালো, এতে ছাওয়াব আছে কিন্তু যদি কুরআনের অর্থ, নির্দেশনা, হালাল-হারাম, আদেশ-নিষেধ জীবনে না আসে, তাহলে কুরআন পড়ার আসল উদ্দেশ্য পূরণ হয় না। কুরআন কেবল ঠোঁটে থাকলে যথেষ্ট নয়। এটা হৃদয়ে নামতে হবে, চরিত্রে ফুটে উঠতে হবে, জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হতে হবে। কত মানুষ আছে, যারা বছরে বহুবার খতম দেয়। কিন্তু তাদের ছালাতে খুশূ‘ নেই, লেনদেনে সততা নেই, আখলাক্বে কুরআনের ছাপ নেই। আবার কেউ হয়তো অল্প পড়ে, কিন্তু প্রতিটি আয়াত হৃদয়ে গেঁথে নেয়। তার জীবন বদলে যায়। আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্যতা সংখ্যা দিয়ে নয়, আন্তরিকতা ও সৎ আমল দিয়ে নির্ধারিত হয়। এই কিতাব ক্বিয়ামতের দিন হয়তো কারো পক্ষে সাক্ষী হবে, আবার কারো বিরুদ্ধে দলীল হবে (ছহীহ মুসলিম, হা/২২৩)। যে ব্যক্তি এটাকে পড়েও অবহেলা করেছে, বুঝেনি, আমল করেনি, তার জন্য কুরআনই হবে অভিযোগকারী। তাই প্রয়োজন ভারসাম্য: তিলাওয়াত থাকবে, খতমও থাকবে। কিন্তু তার সাথে থাকবে তাদাব্বুর, ফাহম (বোঝা) এবং আমলে বাস্তবায়ন। অল্প পড়লেও গভীরভাবে পড়া, একটি আয়াত বুঝে জীবন বদলানো। এটাই কুরআনের প্রকৃত সম্মান।


প্রশ্নকারী : শামিমা, বাংলাবাজার, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।





প্রশ্ন (২৯) : অফিস চলাকালীন জামা‘আত ছুটে গেলে, পরবর্তীতে ছোট ছোট জামা‘আত হয়। এমন সময় যে ব্যক্তি টাখনুর নিচে প্যান্ট ঝুলিয়ে পরে কিন্তু ছালাতে গুটিয়ে নেয়, এমন ব্যক্তি ইমামতিতে দাঁড়িয়ে গেলে সে জামা‘আতে অংশগ্রহণ করা কি ঠিক হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : ছালাতের মধ্যে হাসির শব্দ যদি নিজের কানে শুনি কিন্তু অন্য কেউ না শুনে, তাহলে কি উক্ত ছালাত নষ্ট হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : অনেকে বাম হাতে পানাহার করে। বাম হাতে পানাহারের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর শর্তগুলো জানা কি প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরয? না জানলে কি ব্যক্তি কাফের হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : বর্তমানে বহু ঈদগাহে ছালাতের পূর্বেই মুছল্লীদের নিকট হতে ছাদাক্বাহ ও দানের টাকা কালেকশন করা হয়। এটা শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : যাদুবিদ্যা শেখার পরিণাম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : অনেকে হজ্জ করতে কিংবা উমরাহ হজ্জ করতে যান। তাদের নিয়ত কেমন জানি না, কিন্তু সেখানে গিয়ে সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকে বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের ছবি তুলতে এবং এই সমস্ত ছবি তারা সব সময় ফেসবুকে বা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করতে থাকে সমাজে নিজেদেরকে দেখানোর জন্য। এটা কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : ঔষধের মাধ্যমে কোন মহিলা তার ঋতুস্রাব  বন্ধ করে ছিয়াম পালন করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : প্রচলিত আছে যে, কেউ যদি জুমু‘আহ বা অন্য কোন ছালাতের আযান দেয়, তাহলে ঐ ব্যক্তি আর ছালাতের ইমামতি করতে পারবে না। এটা কি হাদীছসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : কুরআন তিলাওয়াত, কুরআন মুখস্থ, ইসলামী জ্ঞান চর্চা বা দ্বীনি কাজে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা এবং আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিজয়ীদের পুরস্কার গ্রহণের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : অধিকাংশ মসজিদে ফরয ছালাতের কাতারে ৪/৬ ইঞ্চি ফাঁক রেখে দাঁড়ায় এতে ছালাতের কোন ঘাটতি হবে কি? কাতারের ফাঁক রাখার কোন হাদীছ আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : ইসলামী রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য কী? ক্ষমতা অর্জন, না-কি দ্বীন প্রতিষ্ঠা? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ