রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন
উত্তর : ইসলাম ও মুসলিমের সঙ্গে শত্রুতায় লিপ্ত নয় এমন সেক্যুলারদের সঙ্গে স্বাভাবিক সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখার অনুমতি ইসলামী শরী‘আত দিয়েছে। যেমন, সুখে-দুঃখে তাদের পাশে থাকা, দুর্দিনে সহযোগিতা করা ইত্যাদি। আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, এক ইহুদি বালক নবী (ﷺ)-এর খিদমত করত। সে একবার অসুস্থ হয়ে পড়লে নবী (ﷺ) তাকে দেখতে এলেন। তিনি তার মাথার কাছে বসে তাকে বললেন, তুমি ইসলাম গ্রহণ করো। সে তখন তার পিতার দিকে তাকাল। তিনি তার নিকটেই ছিলেন। পিতা বললেন, আবুল কাসেমের কথা মেনে নাও। অতঃপর সে ইসলাম গ্রহণ করল। নবী (ﷺ) সেখান থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় বললেন, যাবতীয় প্রশংসা সে আল্লাহর, যিনি তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিলেন (ছহীহ বুখারী, হা/১৩৫৬)। উল্লিখিত হাদীছের আলোকে আলেমগণ বলেন, অমুসলিমদের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্কের ভিত্তি দ্বীনি কল্যাণ হওয়া উত্তম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অমুসলিমদের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক রক্ষা করেননি; বরং বহু ক্ষেত্রে তিনি ধৈর্য, শালীনতা ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। শরী‘আতের গণ্ডির মধ্যে থেকে অমুসলিমদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করার অনুমতিও দিয়েছে ইসলাম। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একজন ইহুদীর কাছ থেকে বাকিতে খাবার কিনেছিলেন এবং লোহার বর্ম তার কাছে বন্ধক রেখেছিলেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/২২৫১)।

রাসূল (ﷺ) স্বয়ং অমুসলিমদের সাথেও সম্পর্ক ভালো রেখেছেন। চলাফেরা, লেনদেন করেছেন। এমনকি ছাহাবায়ে কেরামও লেনদেন, চলাফেরা করেছেন। তবে তাদের সাথে সম্পর্ক রাখতে গিয়ে যদি দ্বীনের ক্ষতি হয়, তাহলে তাদের সাথে সম্পর্ক রাখা যাবে না। তাহলে মুসলিমদের সাথে মুসলিমকে তো অবশ্যই ভালো সম্পর্ক রাখতে হবে। মুসলিম দেশে থেকেও যে সমস্ত মুসলিমরা সেক্যুলার রাজনীতির সমর্থন করে, তাদের সাথে চলাফেরা করে- আহলুল হাদীছ মুসলিমগণ মুসলিম ভাই হিসাবে তাদের সাথে সাথে চলাফেরা করবে। রাসূল (ﷺ) বলেন, ‘একজন মুসলিম আরেকজন মুসলিমের ভাই’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৪৪২; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৮০)। সেই হিসাবে সেক্যুলার রাজনীতির সমর্থক বা তাদের সাথে চলাফেরা করে এমন মুসলিম ভাইদেরকে আমরা সঠিক বিষয়টি বুঝাবো। তাদেরকে দ্বীনের সঠিক বুঝটা তাবলীগ করবো। তাদের সাথে সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একজন মুসলিমের যতটুকু অধিকার থাকে ততটুকুই তাদেরকে দিতে হবে। যদি প্রতিবেশী হয় তাহলে প্রতিবেশীর যে হক আছে সেটা দিতে হবে। তাদের ভুলগুলো সংশোধনের নছীহত করতে হবে।


প্রশ্নকারী : সাপায়েত, মিরপুর-২, ঢাকা।





প্রশ্ন (২২): ‘দাতা ব্যক্তি আল্লাহর নিকটবর্তী, জান্নাতের নিকটবর্তী, মানুষেরও নিকটবর্তী, জাহান্নাম হতে দূরবর্তী। আর কৃপণ ব্যক্তি আল্লাহ হতে দূরবর্তী, জান্নাত হতে দূরবর্তী, মানুষ হতেও দূরবর্তী, নিকটবর্তী। নিশ্চয় মূর্খ দানশীল কৃপণ জ্ঞানী অপেক্ষা আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়’- মর্মে বর্ণনাটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : ওয়াহদাতুল উজূদ কাদের বিশ্বাস? ওলী বলতে কি শুধু পীরদের বুঝায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : মোবাইল ব্যবসা করা কি হালাল হবে? কারণ বর্তমান সময়ে অধিকাংশ মানুষ মোবাইল অপব্যবহার করে, যেমন গান, বাজনা, গেম খেলা ইত্যাদি। বলা বাহুল্য, কিছু কাস্টমার দোকানদারকে বলে আমাকে গেমিং ফোন দেন। এই থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় ছেলেটা হয়ত গেম খেলবে। শরী‘আতের দৃষ্টিতে এর সমাধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : বিকাশ, রকেট, নগদ বা এ ধরনের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এইচ.আর কিংবা এজেন্ট হিসাবে কাজ করা জায়েয কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : জিন এবং ফেরেশতার মধ্যে পার্থক্য কী? কেউ কেউ বলে থাকে যে, ইবলীস শয়তান জিন ছিল; ফেরেশতা নয়। এটা কতটুকু সত্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০): রামাযানের দিনের বেলায় কোন্ আমলটি উত্তম- কুরআন তেলাওয়াত, না-কি নফল ছালাত আদায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : আমাদের মসজিদের ইমাম ছাহেব বলেছেন, ‘কুরআনের হাফেযদের পিতা-মাতাকে ক্বিয়ামতের দিন নূরের তাজ পরিধান করানো হবে’। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : মসজিদে হারাম বা মসজিদে নববীর চত্বরে ছালাত আদায় করলে কি মূল মসজিদে ছালাত আদায় করার সমান ছাওয়াব পাওয়া যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : পাত্রী দেখে টাকা বা স্বর্ণালঙ্কার দেয়া কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : জনৈকা মহিলার বাসায় প্রত্যেক জুমু‘আর দিন ৭০ বছর বয়স্ক একজন মসজিদের ইমাম ছাহেব এসে কুরআনের আলোচনা পেশ করেন। এভাবে মহিলার ইমাম আলোচনা করতে পারবেন কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : পুরুষদের ফেয়ারনেস ক্রিম মাখা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : ফুযাইল ইবনু ই‘যায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, لَوْ أَنَّ لُوْطِيًّا اغْتَسَلَ بِكُلِّ قَطْرَةٍ مِّنَ السَّمَاءِ لَقِيَ اللهَ غَيْرَ طَاهِرٍ ‘সমকামী ব্যক্তি যদি আকাশের সমস্ত পানি দিয়ে গোসল করে তারপরও সে অপবিত্র অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে’ (যাম্মুল লিওয়াত্ব, দুরী, পৃ. ১৪২; ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-২৪৩৬৭৩)। প্রশ্ন হল- কোন সমকামী ব্যক্তি ভুল বোঝার পরে অনুতপ্ত হয়ে যদি ইখলাছের সাথে তওবাহ করে, তাহলে কি তার সমকামের পাপ ক্ষমা হবে এবং সে কি অপবিত্র অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ