বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ইসলাম ও মুসলিমের সঙ্গে শত্রুতায় লিপ্ত নয় এমন সেক্যুলারদের সঙ্গে স্বাভাবিক সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখার অনুমতি ইসলামী শরী‘আত দিয়েছে। যেমন, সুখে-দুঃখে তাদের পাশে থাকা, দুর্দিনে সহযোগিতা করা ইত্যাদি। আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, এক ইহুদি বালক নবী (ﷺ)-এর খিদমত করত। সে একবার অসুস্থ হয়ে পড়লে নবী (ﷺ) তাকে দেখতে এলেন। তিনি তার মাথার কাছে বসে তাকে বললেন, তুমি ইসলাম গ্রহণ করো। সে তখন তার পিতার দিকে তাকাল। তিনি তার নিকটেই ছিলেন। পিতা বললেন, আবুল কাসেমের কথা মেনে নাও। অতঃপর সে ইসলাম গ্রহণ করল। নবী (ﷺ) সেখান থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় বললেন, যাবতীয় প্রশংসা সে আল্লাহর, যিনি তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিলেন (ছহীহ বুখারী, হা/১৩৫৬)। উল্লিখিত হাদীছের আলোকে আলেমগণ বলেন, অমুসলিমদের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্কের ভিত্তি দ্বীনি কল্যাণ হওয়া উত্তম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অমুসলিমদের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক রক্ষা করেননি; বরং বহু ক্ষেত্রে তিনি ধৈর্য, শালীনতা ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। শরী‘আতের গণ্ডির মধ্যে থেকে অমুসলিমদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করার অনুমতিও দিয়েছে ইসলাম। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একজন ইহুদীর কাছ থেকে বাকিতে খাবার কিনেছিলেন এবং লোহার বর্ম তার কাছে বন্ধক রেখেছিলেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/২২৫১)।

রাসূল (ﷺ) স্বয়ং অমুসলিমদের সাথেও সম্পর্ক ভালো রেখেছেন। চলাফেরা, লেনদেন করেছেন। এমনকি ছাহাবায়ে কেরামও লেনদেন, চলাফেরা করেছেন। তবে তাদের সাথে সম্পর্ক রাখতে গিয়ে যদি দ্বীনের ক্ষতি হয়, তাহলে তাদের সাথে সম্পর্ক রাখা যাবে না। তাহলে মুসলিমদের সাথে মুসলিমকে তো অবশ্যই ভালো সম্পর্ক রাখতে হবে। মুসলিম দেশে থেকেও যে সমস্ত মুসলিমরা সেক্যুলার রাজনীতির সমর্থন করে, তাদের সাথে চলাফেরা করে- আহলুল হাদীছ মুসলিমগণ মুসলিম ভাই হিসাবে তাদের সাথে সাথে চলাফেরা করবে। রাসূল (ﷺ) বলেন, ‘একজন মুসলিম আরেকজন মুসলিমের ভাই’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৪৪২; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৮০)। সেই হিসাবে সেক্যুলার রাজনীতির সমর্থক বা তাদের সাথে চলাফেরা করে এমন মুসলিম ভাইদেরকে আমরা সঠিক বিষয়টি বুঝাবো। তাদেরকে দ্বীনের সঠিক বুঝটা তাবলীগ করবো। তাদের সাথে সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একজন মুসলিমের যতটুকু অধিকার থাকে ততটুকুই তাদেরকে দিতে হবে। যদি প্রতিবেশী হয় তাহলে প্রতিবেশীর যে হক আছে সেটা দিতে হবে। তাদের ভুলগুলো সংশোধনের নছীহত করতে হবে।


প্রশ্নকারী : সাপায়েত, মিরপুর-২, ঢাকা।





প্রশ্ন (৪৪) : জ্যোতির্বিদ্যা শিক্ষা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : ভুল করে বুকের দুধ খেলে কি দুধমাতা সাব্যস্ত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : পৃথিবীতে যা কিছু আছে আল্লাহর কাছে মাছির ডানা সমতুল্য নয়, তাহলে আল্লাহর  শাস্তি এত কঠোর কেন? মাথায় এমন প্রশ্ন আসলে কি ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : জনৈক যুবক ভাই ফাসেকী জীবন ছেড়ে দ্বীনের পথ অবলম্বন করেছেন। প্রশ্ন হল- দ্বীনের পথে অবিচল থাকার জন্য ঐ যুবকের প্রতি কী উপদেশ দেয়া যেতে পারে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : আবূ দাঊদের ৬৬৬ নং হাদীছ দেখিয়ে জনৈক ব্যক্তি বলেন, যে জামা‘আতে পায়ে পা কাঁধে কাঁধ মিলানো হয় না, সে জামা‘আতে ছালাত পড়া যাবে না। এছাড়াও তিনি বলেন কাতার না মিলালে নাকি আল্লাহর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হয়। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : মিশনারী স্কুলে পড়ালেখা করা কি জায়েয? খ্রিস্টানদের চিহ্ন সম্বলিত ইউনিফর্ম পরিধান করার বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : কুরআন পুরাতন হওয়ায় অনেক পৃষ্ঠা ছিঁড়ে গেছে। এখন করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : জনৈক বক্তা বলেন, আহলেহাদীছ আলেমরা কুরআনের ব্যাখ্যা কুরআনে খুঁজে পান না, সেজন্য তারা হাদীছের সন্ধান করেন। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : মুসলিমরা আল্লাহ মানে এবং রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অনুসরণ করে। ইয়াহুদীরা কাকে মানে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : আক্বীক্বার পশু কুরবানীর পশুর ন্যায় মুসিন্নাহ হওয়া যরূরী কি? আর আক্বীক্বার গোশত কয়ভাগে ভাগ করতে হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : আমাদের এলাকায় প্রায় প্রতিটা মসজিদে ইফতারের চার্ট ভিত্তিক সময় থেকে ১৫ মিনিট পরে ছালাত শুরু হয়। এ অবস্থায় আমাদের ছালাতের কোন ক্ষতি হচ্ছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : পাপ কাজের জন্য কি মানুষ রিযিক থেকে বঞ্চিত হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ