রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৫:০৪ অপরাহ্ন
উত্তর : যে ব্যক্তি নিয়মিত ছালাত আদায় করে কিন্তু অলসতা, প্রবৃত্তির তাড়নায় মাঝে মধ্যে দুই এক ওয়াক্ত ছুটে যায় বা ক্বাযা করে আদায় করে, এরূপ ব্যক্তির বিধান সম্পর্কে আলেমদের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে। ইসহাক্ব ইবনু রাহওয়াই (রাহিমাহুল্লাহ), সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি ও শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, যে ব্যক্তি কোন শারঈ কারণ ছাড়া সজ্ঞানে এক ওয়াক্তের ছালাত ছেড়ে দেয় এবং তার সময় অতিবাহিত হয়ে যায়, তাহলে সে কাফির (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমা, ৫/৪১ ও ৬/৪০, ৫০; মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ২৯/১৭৯ পৃ.)। তবে কিছু কিছু বিদ্বানগণের মতানুযায়ী কুফরীর বিধান ঐ ব্যক্তির উপর আপতিত হয়, যে সম্পূর্ণরূপে স্বালাত ত্যাগ করে। কিন্তু যে মাঝে মধ্যে আদায় করে আবার মাঝে মধ্যে ছেড়ে দেয়, সে ইসলাম থেকে বহিস্কৃত কাফির নয়, বরং সে মহাপাপী। চুরি করা, মদ পান করা এমনকি ব্যভিচার করার চাইতেও বড় গুনাহ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১১৪৪২৬)। শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘অনেক শহরে অসংখ্য এমন মানুষ আছে যারা পাঁচ ওয়াক্তের ছালাত নিয়মিতভাবে কঠোরতার সঙ্গে সঙ্গে আদায় করে না। আবার তারা ছালাতকে সম্পূর্ণরূপে ছেড়েও দেয় না। বরং তারা কখনো কখনো পড়ে আবার কখনো কখনো ছেড়ে দেয়। এরাই তারা যাদের মধ্যে ঈমান ও নিফাক্ব দু’টোই বিদ্যমান। এদের উপর মিরাছের ও অন্যান্য বিষয়ের প্রকাশ্য ইসলামিক বিধি-বিধান জারি হবে (মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ৭/৬১৭ ও ২২/৪৯ পৃ.; শারহুল উমদাহ, ২/৯৪ পৃ.)।

শায়খ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি একথা বিশ্বাস করে যে, ছালাত ইসলামের দ্বিতীয় অপরিহার্য রুকন বা স্তম্ভ এবং সে নিয়মিত ছালাত আদায় করে কিন্তু মাঝে মধ্যে দুই এক ওয়াক্ত ছুটে যায় কিংবা অলসতার কারণে ক্বাযা করে ফেলে এবং পরে আদায় করে। এই ব্যক্তি সম্পর্কে আলেমদের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে, কারো কারো মতে এটিও কুফরি। তবে অধিকাংশ আলেমদের মতে এই ব্যক্তি কাফির নয় বরং সে কাবীরা গুনাহগার, ফাসিক্ব মুসলিম’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১৮৫৬১৯)।

সুতরাং যে ব্যক্তি মাঝে মধ্যে দুই এক ওয়াক্তের ছালাত ছেড়ে দেয়, তার উচিত দ্রুত এর জন্য কঠোরভাবে তাওবাহ করা এবং নিয়মিত ছালাত আদায় করা। কারণ যে ব্যক্তি ছালাত অস্বীকার করে এবং অবজ্ঞাবশত, অবহেলা করে বা অমনোযোগী ছালাত ত্যাগ করে সে কাফির ও মুশরিক এবং সে দ্বীন ইসলাম থেকে বহির্ভূত। এ বিষয়ে সবাই একমত। (১) আব্দুল্লাহ ইবনু শাক্বীক্ব আল-উক্বাইলী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর ছাহাবীগণ ছালাত ব্যতীত অন্য কোন আমাল ছেড়ে দেয়াকে কুফুরী মনে করতেন না। (অর্থাৎ ছালাত ত্যাগ করাকে কুফরী মনে করতেন) (তিরমিযী, হা/২৬২২; সনদ ছহীহ, ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ১/২২৭-৫৬৪)। (২) আনাস ইবনু মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেন, ‘মুমিন বান্দা ও শিরকের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে ছালাত ত্যাগ করা। অতএব যে ব্যক্তি ছালাত ত্যাগ করল, সে অবশ্যই শিরক করল’ (ইবনু মাজাহ, হা/১০৮০, ৮৯২; সনদ ছহীহ)।  (৩) বুরাইদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘আমাদের ও তাদের (অর্থাৎ কাফিরদের) মধ্যে যে অঙ্গীকার রয়েছে তা হল ছালাত। অতএব যে ব্যক্তি ছালাত ত্যাগ করল, সে কুফরী করল’ (তিরমিযী, হা/২৬২১; ইবনু মাজাহ, হা/১০৭৯; মিশকাত, হা/৫৭৪, সনদ ছহীহ)। (৪) জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, বান্দা (অর্থাৎ মুমিন ব্যক্তি) এবং শিরক ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে ছালাত ত্যাগ করা’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৮২)।

ছালাত ত্যাগকারীর শাস্তি হত্যা, মৃত্যুর পর তাকে গোসল দেয়া যাবে না, তার উপর জানাযার ছালাত আদায় করা যাবে না এবং তাকে মুসলিমদের কবরে দাফন করা যাবে না। হাম্বালী মাযহাবের মতানুযায়ী ছালাত ত্যাগকারীকে তিনদিন দাওয়াত দিতে হবে এবং বলতে হবে যে, ‘ছালাত আদায় না করলে তোমাকে হত্যা করা হবে’। এরপরেও যদি সে ছালাত আদায় না করে, তাহলে তাকে তিনদিন বন্দি করে রাখতে হবে, এর পরেও যদি তাওবাহ না করে তবে তাকে স্বধর্মত্যাগী হিসাবে হত্যা করতে হবে। হানাফী মাযহাবের মতানুযায়ীও তাকে স্বধর্মত্যাগী হিসাবে হত্যা করতে হবে’ (আল-মাউসূ‘আতুল ফিক্বহিয়্যাহ্ বা ফিক্বাহ বিশ্বকোষ, ২৭/৫৩-৫৪; মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ২০/৯৭; মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল ইবনে উছাইমীন, ১২/৫১ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : মুহাম্মাদ, রায়ের বাজার, ঢাকা।





প্রশ্ন (৩৪) : মেয়েরা লিপস্টিক ব্যবহার করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : মসজিদের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ঝাড়বাতি ঝুলানো যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : মানুষ বিপদে পতিত হলে হতাশা প্রকাশ করে চিন্তিত হয়ে পড়ে। অনেকেই অসন্তুষ্টি প্রকাশও করে। প্রশ্ন হল- বিপদে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করলে তার হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : কারো সাথে আলাপ করার পর বিদায়ের সময় ‘আল্লাহ হাফেয’ বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : ‘নাহনু খালিদাতু ফালা নাবীদু’ মর্মে জান্নাতে হূরদের গান সম্পর্কিত হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৪) : বিনা ওযূতে আযান দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : যিলহজ্জ মাসের প্রতিটি দিনের ছিয়াম এক বছরের ছিয়ামের সমতুল্য। এর প্রতিটি রাতের ইবাদত লায়লাতুল ক্বদরের ইবাদতের সমতুল্য। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) নির্দিষ্ট করে শুধু মহিলাদের জন্য মসজিদ তৈরি করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : আমার মা-বাবার সাথে আমার স্ত্রীর ঝগড়া হওয়ার কারণে কয়েক বছর আগে সে বাপের বাড়ি চলে যায়। আমি তখন বিদেশে ছিলাম। আমি বলেছিলাম, যদি আমাকে নিয়ে সুখী হতে না পার তবে অন্য কাউকে বিয়ে করে সুখী হও। কিন্তু সে তা করেনি। এখন পর্যন্ত আমরা সংসার করে আসছি। আর সমস্যা হয়নি। প্রশ্ন হল, এভাবে বললে কি ত্বালাক্ব হয়ে যায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : জনৈক ব্যক্তি ভাড়া বাসায় থাকে। সেখানে একজন হিন্দু ও আরেকজন মুসলিম থাকে। মুসলিম নিয়মিত ছালাত আদায় করে না এবং দ্বীন সম্পর্কে কিছুটা জানলেও আমল করে না। এদের সাথে থাকা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : শী‘আ মতবাদ কোথা থেকে শুরু হয় এবং তারা কি মুসলিম? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : যে ব্যক্তি রাসূলের উপর দরূদ পাঠ করতে ভুলে যাবে, সে জান্নাতের পথ ভুলে যাবে’। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ