উত্তর : গীবত বা পরনিন্দা একটি মারাত্মক কাবীরা গুনাহ। গীবত থেকে বাঁচতে হলে আগে জানতে হবে গীবত কী। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ذِكْرُكَ أَخَاكَ بِمَا يَكْرَهُ ‘তোমার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার এমন কোন আলোচনা করা যা সে শুনলে অপসন্দ করবে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৮৯)। গীবত করাকে কুরআন মাজীদে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সাথে তুলনা করা হয়েছে (সূরা আল-হুজুরাত : ১২)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মে‘রাজের রাতে এমন কিছু লোক দেখেছিলেন যারা তামার নখ দিয়ে নিজেদের মুখ ও বুক ছিঁড়ছিল; এরা ছিল গীবতকারী (আবূ দাঊদ, হা/৪৮৭৮)।
গীবত হয়ে গেলে এর থেকে পরিত্রাণের পদ্ধতি সম্পর্কে শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘গীবত কাবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত... যদি সেই গীবত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কানে পৌঁছে যায়, তবে তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। আর যদি না পৌঁছে থাকে, তবে এর কাফফারা হলো- তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা (ইস্তিগফার) করা এবং যে মজলিসে তার গীবত করা হয়েছিল, সেখানে তার ভালো গুণগুলো আলোচনা করা’ (শারহু রিয়াদিছ ছালিহীন)। কেউ গীবত শুরু করলে তাকে থামিয়ে দিতে হবে অথবা সেখান থেকে উঠে যেতে হবে। কারণ গীবত শুনাও গুনাহ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৪৭৫)।
প্রশ্নকারী : মুহাম্মাদ শিমুল, ঢাকা।