উত্তর : নিঃসন্দেহে শরী‘আত। কারণ মানবরচিত সংবিধান কখনো হারামকে হালাল, হালালকে হারাম বা ফরযকে বাতিল করতে পারে। মানবরচিত আইন দ্বারা বিচার ব্যবস্থায় অসংখ্য হারাম ও অবৈধ জিনিসের পক্ষে রায় দিতে হয়। আদতে সেগুলো সরকার কর্তৃক আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ না হলেও ইসলামের দৃষ্টিতে জঘন্যতম অপরাধ। যেমন অবৈধ প্রেম, ব্যভিচার, পরকিয়া, সমকামিতা, লিঙ্গ পরিবর্তন, মাদকতা, সূদী মুনাফার বিধান ইত্যাদি। মানবরচিত আইনে ইসলামী শাসনব্যবস্থাকে বাতিল করে ব্যভিচার ও মদ্যপানকে বৈধ করা হয়েছে। বরং এই বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে ইসলাম ও ইসলামপন্থীদেরকে প্রতিহত করা হয়। অথচ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কিতাবে ঘোষণা করেছেন, ‘হুকুম বা শাসনের মালিক একমাত্র তিনি এবং তিনিই হচ্ছেন সমুচ্চ মহান’ (সূরা আল-মুমিন : ১২)। পক্ষান্তরে অন্যকে তাঁর শাসনে অংশীদার করা থেকে নিষেধ করেছেন এবং জানিয়েছেন তাঁর চেয়ে উত্তম বিধানদাতা কেউ নেই। তিনি আরো বলেন, ‘আল্লাহ ছাড়া কারো বিধান দেয়ার অধিকার নেই। তিনি আদেশ দিয়েছেন যে, তিনি ব্যতীত অন্য কারও ইবাদত কর না। এটাই সরল পথ। কিন্তু অধিকাংশ লোক তা জানে না’ (সূরা ইউসুফ : ৪০)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, ‘আল্লাহ কি হুকুমদাতাদের শ্রেষ্ঠ নন?’ (সূরা আত-ত্বীন : ৮)। তিনি আরো বলেন, ‘বলুন, তারা কতকাল অবস্থান করেছে- তা আল্লাহই ভাল জানেন। নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের অদৃশ্যের জ্ঞান তাঁরই কাছে রয়েছে। তিনি কত চমৎকার দেখেন ও শোনেন! তিনি ব্যতীত তাদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই। তিনি নিজ হুকুমে কাউকে অংশীদার করান না’ (সূরা আল-কাহ্ফ : ২৬)। ঈমানদাররা সুদৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, আল্লাহর আইনের চেয়ে উত্তম কোন আইন নেই। আল্লাহর আইন বিরোধী সকল বিধান জাহিলী বিধান। যেমন তিনি বলেন, ‘তারা কি জাহিলিয়্যাতের হুকুম চায়? বিশ্বাসীদের জন্য আল্লাহর চেয়ে উত্তম হুকুমদাতা আর কে?’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ৫০)।
আল্লাহ তা‘আলা সৃষ্টিকুলের স্রষ্টা। তিনি জানেন, কোন্ বিধান তাদের জন্য উপযুক্ত, কোন্ বিধান তাদের জন্য উপযুক্ত নয়। সব মানুষের বিবেক-বুদ্ধি, আচার-আচরণ ও অভ্যাস এক রকম নয়। নিজের জন্য কোন্টা উপযোগী মানুষ সেটাই তো জানে না, তাহলে অন্যের জন্য কোন্টা উপযুক্ত সেটা কী করে জানবে? এ কারণে যে দেশগুলোতে জনগণের প্রণীত আইনে শাসন চলছে, সে দেশগুলোতে বিশৃঙ্খলা, চারিত্রিক অবক্ষয়, সামাজিক বিপর্যয় ছাড়া আর কিছু দেখা যায় না।
প্রশ্নকারী : জুয়েল, উত্তরা, ঢাকা।