শুক্রবার, ০৫ Jun ২০২৬, ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন
উত্তর : আহলে ইলম্ তথা বিদ্বানগণ বর্ণনা করেছেন যে, খলীফা বা ইমামের উপর তার অধীনস্থদের ব্যাপারে যেসব দায়িত্ব অপরিহার্য, সেগুলোর মধ্যে ইমাম মাওয়ার্দী (রাহিমাহুল্লাহ) যা উল্লেখ করেছেন তা হল- ইমামের উপর সাধারণভাবে দশটি দায়িত্ব আবশ্যক-
প্রথমতঃ দ্বীনকে তার প্রতিষ্ঠিত মূলনীতি ও পূর্বসূরি উম্মাহর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংরক্ষণ করা। যদি কোন বিদ’আতকারী আত্মপ্রকাশ করে বা কেউ সন্দেহে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে, তবে তার কাছে দলীল-প্রমাণ স্পষ্ট করে তুলে ধরা, সঠিক পথ ব্যাখ্যা করা এবং প্রয়োজনীয় হক্ব ও শাস্তির মাধ্যমে তাকে বাধ্য করা- যাতে দ্বীন বিকৃতি থেকে রক্ষিত থাকে এবং উম্মাহ বিভ্রান্তি থেকে নিরাপদ থাকে।
দ্বিতীয়তঃ বিবাদমানদের মধ্যে শরী‘আত অনুযায়ী বিচার কার্যকর করা এবং বিরোধ নিষ্পত্তি করা, যাতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়, কোন যালিম সীমালঙ্ঘন করতে না পারে এবং কোন মাযলূম অসহায় না থাকে।
তৃতীয়তঃ রাষ্ট্র ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভ্রম রক্ষা করা, যাতে মানুষ জীবিকা নির্বাহ ও সফরে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে- জান-মালের ভয় ছাড়া।
চতুর্থতঃ শরী‘আতের নির্ধারিত দণ্ডবিধি (হুদূদ) কার্যকর করা, যাতে আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ লঙ্ঘিত না হয় এবং বান্দাদের অধিকার ধ্বংস বা নষ্ট না হয়।
পঞ্চমতঃ সীমান্তসমূহ শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ ক্ষমতার মাধ্যমে সুরক্ষিত করা, যাতে শত্রুরা সুযোগ পেয়ে কোন শান্তিপূর্ণ বিষয় অশান্ত করতে না পারে বা কোন মুসলিম কিংবা চুক্তিবদ্ধ অমুসলিম ব্যক্তির রক্ত ঝরাতে না পারে।
ষষ্ঠতঃ দাওয়াত পৌঁছানোর পর যারা ইসলামের বিরোধিতা করে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা- যতক্ষণ না তারা ইসলাম গ্রহণ করে অথবা জিম্মীর অধীনে আসে- যাতে আল্লাহর দ্বীনকে সব দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত করা যায়।
সপ্তমতঃ ভয় প্রদর্শন বা যুল্ম ছাড়াই শরী’আত নির্ধারিত পদ্ধতিতে- নাছ (স্পষ্ট দলীল) ও ইজতিহাদের আলোকে মালে ফাই (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) ও যাকাত সংগ্রহ করা এবং প্রকৃত অধিকারীদের মধ্যে বণ্টন করা।
অষ্টমতঃ বাইতুল মাল থেকে প্রাপ্য ভাতা ও অনুদান যথাযথভাবে নির্ধারণ করা- অতিরিক্ত ব্যয় বা কৃপণতা ছাড়া- এবং তা সঠিক সময়ে প্রদান করা; অযথা আগে-পিছে না করা।
নবমতঃ বিশ্বস্ত ও যোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব অর্পণ করা এবং উপদেশদাতাদের নিয়োগ করা- যাতে কাজ দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন হয় এবং সম্পদ বিশ্বস্তদের মাধ্যমে সংরক্ষিত থাকে।
দশমতঃ নিজে সরাসরি রাষ্ট্রীয় বিষয়সমূহ তত্ত্বাবধান করা এবং জনগণের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা- যাতে উম্মাহর সঠিক রাজনীতি পরিচালনা ও দ্বীনের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। কেবল প্রতিনিধিদের উপর নির্ভর করে ভোগবিলাস বা ব্যক্তিগত ইবাদতে মাশগুল হয়ে পড়া উচিত নয়, কারণ আমানতদারও খিয়ানত করতে পারে এবং উপদেশদাতাও প্রতারণা করতে পারে।
আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, ‘হে দাঊদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছি; অতএব তুমি মানুষের মধ্যে ন্যায়ের সাথে বিচার কর এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ কর না, তাহলে তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে’ (সূরা ছোয়াদ : ২৬)।

আল্লাহ তা‘আলা শুধু প্রতিনিধিত্বের উপর সীমাবদ্ধ থাকাকে যথেষ্ট মনে করেননি, বরং নিজে দায়িত্ব পালন করতে বলেছেন এবং প্রবৃত্তির অনুসরণকে ভ্রষ্টতা হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। যদিও এই দায়িত্বসমূহ দ্বীন ও খিলাফতের পদমর্যাদার কারণে অপরিহার্য, তবুও তা প্রত্যেক দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘তোমরা সকলেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই অধীনস্থদের দায়িত্ব সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হবে। ... কর্মচারী তার মনিবের ধন-সম্পদের রক্ষক, তাকেও তার মনিবের ধন-সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। ... তোমরা সকলেই দায়িত্বশীল এবং সকলকেই তাদের অর্পিত দায়িত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৮৯৩, ২৪০৯, ২৫৫৪, ২৫৫৮, ২৭৫১, ৫১৮৮, ৫৬০০, ৭১৩৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১৮২৯; আবূ দাঊদ, হা/২৯২৮; তিরমিযী, হা/১৭০৫)। অতএব, ইমাম যখন উল্লিখিত দায়িত্বসমূহ যথাযথভাবে পালন করেন, তখন তিনি আল্লাহর হক আদায় করেন এবং প্রজাদের প্রতি তার কর্তব্য সম্পন্ন করেন। তখন তার উপর প্রজাদের দু’টি অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়- আনুগত্য ও সহায়তা, যতক্ষণ না তার অবস্থা পরিবর্তিত হয় (আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ, পৃ. ১৯-২০)।


প্রশ্নকারী : হাফেয আশিক, গাজীপুর।





প্রশ্ন (৩৫) : ফরয ছালাতের পর সম্মিলিত দু‘আ না করে কেউ যদি নির্ধারিত যিকির-আযকার মুখস্থ না থাকায় মোবাইল থেকে দেখে দেখে পাঠ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : আলেম বা সম্মানী ব্যক্তিদের হাতে চুম্বন করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : গালি নির্দেশ করে এমন কথাকে রসিকতা করে বলা; সিরিয়াসলি নয়। এ ব্যক্তিও কি কুফুরী করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : তায়াম্মুমের সঠিক পদ্ধতি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : লোকমুখে শুনা যায়, একজন ছাহাবীর মাত্র একটি দাড়ি ছিল, একদা তা দেখে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাসলেন। ফলে ঐ ছাহাবী দাড়িটি কেটে ফেললেন। পরে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে দেখে বললেন, তুমি দাড়িটি কেটে ফেললে কেন? তোমার দাড়িতে অনেক ফেরেশতা ঝুলছিল। উক্ত হাদীছ কোন্ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : মসজিদে হারাম বা মসজিদে নববীর চত্বরে ছালাত আদায় করলে কি মূল মসজিদে ছালাত আদায় করার সমান ছাওয়াব পাওয়া যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : যে রুমে কুরআনের মাছহাফ রাখা আছে সে রুমে স্ত্রী সহবাস করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : প্রচলিত আছে যে, বিলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আযান সঠিকভাবে দিতে না পারার জন্য তাকে বাদ দিয়ে নতুন মুয়াযিযন নিয়োগ দেয়। তখন বিলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহর কাছে অভিযোগ করে আল্লাহ তুমি আমাকে তোতলা বানিয়েছ। এটার জন্য দায়ী তুমি। আর আমার মুয়াযিযন না থাকার দায়ী তুমি। নতুন মুয়াযিযন ফজরের আযান দিল, তখন জিবরীল (আলাইহিস সালাম) এসে বলেন, আজ কি আযান হয়নি? তখন লোকজন বলল, হ্যাঁ, অনেক সুন্দর হয়েছে। তখন জিবরীল (আলাইহিস সালাম) বলেন, বিলাল আযান না দিলে সকাল হবে না এবং সূর্যও উঠবে না। প্রশ্ন হল- উক্ত ঘটনার কি কোন দলীল আছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : ছালাত শেষে ইমাম যখন সালাম ফিরাবে, তখন মুছল্লীদেরকে কি উক্ত সালামের জবাব প্রদান করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : আমার বড় বোনের সাথে আমার খালাতো ভাইয়ের বিয়ে হয়েছে। এখন জানা যাচ্ছে, ছোট বেলায় আমার খালা আমাকে দুধ পান করিয়েছেন। এখন তাদের বিয়ে কি জায়েয হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : কুরবানীর পশুর গলায় লাল ফিতা বেঁধে দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : ‘সিদরাতুল মুনতাহা’-এর পরিচয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ