শুক্রবার, ০৫ Jun ২০২৬, ০৪:০০ পূর্বাহ্ন
উত্তর : আহলে ইলম্ তথা বিদ্বানগণ বর্ণনা করেছেন যে, খলীফা বা ইমামের উপর তার অধীনস্থদের ব্যাপারে যেসব দায়িত্ব অপরিহার্য, সেগুলোর মধ্যে ইমাম মাওয়ার্দী (রাহিমাহুল্লাহ) যা উল্লেখ করেছেন তা হল- ইমামের উপর সাধারণভাবে দশটি দায়িত্ব আবশ্যক-
প্রথমতঃ দ্বীনকে তার প্রতিষ্ঠিত মূলনীতি ও পূর্বসূরি উম্মাহর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংরক্ষণ করা। যদি কোন বিদ’আতকারী আত্মপ্রকাশ করে বা কেউ সন্দেহে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে, তবে তার কাছে দলীল-প্রমাণ স্পষ্ট করে তুলে ধরা, সঠিক পথ ব্যাখ্যা করা এবং প্রয়োজনীয় হক্ব ও শাস্তির মাধ্যমে তাকে বাধ্য করা- যাতে দ্বীন বিকৃতি থেকে রক্ষিত থাকে এবং উম্মাহ বিভ্রান্তি থেকে নিরাপদ থাকে।
দ্বিতীয়তঃ বিবাদমানদের মধ্যে শরী‘আত অনুযায়ী বিচার কার্যকর করা এবং বিরোধ নিষ্পত্তি করা, যাতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়, কোন যালিম সীমালঙ্ঘন করতে না পারে এবং কোন মাযলূম অসহায় না থাকে।
তৃতীয়তঃ রাষ্ট্র ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভ্রম রক্ষা করা, যাতে মানুষ জীবিকা নির্বাহ ও সফরে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে- জান-মালের ভয় ছাড়া।
চতুর্থতঃ শরী‘আতের নির্ধারিত দণ্ডবিধি (হুদূদ) কার্যকর করা, যাতে আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ লঙ্ঘিত না হয় এবং বান্দাদের অধিকার ধ্বংস বা নষ্ট না হয়।
পঞ্চমতঃ সীমান্তসমূহ শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ ক্ষমতার মাধ্যমে সুরক্ষিত করা, যাতে শত্রুরা সুযোগ পেয়ে কোন শান্তিপূর্ণ বিষয় অশান্ত করতে না পারে বা কোন মুসলিম কিংবা চুক্তিবদ্ধ অমুসলিম ব্যক্তির রক্ত ঝরাতে না পারে।
ষষ্ঠতঃ দাওয়াত পৌঁছানোর পর যারা ইসলামের বিরোধিতা করে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা- যতক্ষণ না তারা ইসলাম গ্রহণ করে অথবা জিম্মীর অধীনে আসে- যাতে আল্লাহর দ্বীনকে সব দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত করা যায়।
সপ্তমতঃ ভয় প্রদর্শন বা যুল্ম ছাড়াই শরী’আত নির্ধারিত পদ্ধতিতে- নাছ (স্পষ্ট দলীল) ও ইজতিহাদের আলোকে মালে ফাই (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) ও যাকাত সংগ্রহ করা এবং প্রকৃত অধিকারীদের মধ্যে বণ্টন করা।
অষ্টমতঃ বাইতুল মাল থেকে প্রাপ্য ভাতা ও অনুদান যথাযথভাবে নির্ধারণ করা- অতিরিক্ত ব্যয় বা কৃপণতা ছাড়া- এবং তা সঠিক সময়ে প্রদান করা; অযথা আগে-পিছে না করা।
নবমতঃ বিশ্বস্ত ও যোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব অর্পণ করা এবং উপদেশদাতাদের নিয়োগ করা- যাতে কাজ দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন হয় এবং সম্পদ বিশ্বস্তদের মাধ্যমে সংরক্ষিত থাকে।
দশমতঃ নিজে সরাসরি রাষ্ট্রীয় বিষয়সমূহ তত্ত্বাবধান করা এবং জনগণের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা- যাতে উম্মাহর সঠিক রাজনীতি পরিচালনা ও দ্বীনের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। কেবল প্রতিনিধিদের উপর নির্ভর করে ভোগবিলাস বা ব্যক্তিগত ইবাদতে মাশগুল হয়ে পড়া উচিত নয়, কারণ আমানতদারও খিয়ানত করতে পারে এবং উপদেশদাতাও প্রতারণা করতে পারে।
আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, ‘হে দাঊদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছি; অতএব তুমি মানুষের মধ্যে ন্যায়ের সাথে বিচার কর এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ কর না, তাহলে তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে’ (সূরা ছোয়াদ : ২৬)।

আল্লাহ তা‘আলা শুধু প্রতিনিধিত্বের উপর সীমাবদ্ধ থাকাকে যথেষ্ট মনে করেননি, বরং নিজে দায়িত্ব পালন করতে বলেছেন এবং প্রবৃত্তির অনুসরণকে ভ্রষ্টতা হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। যদিও এই দায়িত্বসমূহ দ্বীন ও খিলাফতের পদমর্যাদার কারণে অপরিহার্য, তবুও তা প্রত্যেক দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘তোমরা সকলেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই অধীনস্থদের দায়িত্ব সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হবে। ... কর্মচারী তার মনিবের ধন-সম্পদের রক্ষক, তাকেও তার মনিবের ধন-সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। ... তোমরা সকলেই দায়িত্বশীল এবং সকলকেই তাদের অর্পিত দায়িত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৮৯৩, ২৪০৯, ২৫৫৪, ২৫৫৮, ২৭৫১, ৫১৮৮, ৫৬০০, ৭১৩৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১৮২৯; আবূ দাঊদ, হা/২৯২৮; তিরমিযী, হা/১৭০৫)। অতএব, ইমাম যখন উল্লিখিত দায়িত্বসমূহ যথাযথভাবে পালন করেন, তখন তিনি আল্লাহর হক আদায় করেন এবং প্রজাদের প্রতি তার কর্তব্য সম্পন্ন করেন। তখন তার উপর প্রজাদের দু’টি অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়- আনুগত্য ও সহায়তা, যতক্ষণ না তার অবস্থা পরিবর্তিত হয় (আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ, পৃ. ১৯-২০)।


প্রশ্নকারী : হাফেয আশিক, গাজীপুর।





প্রশ্ন (১৫) : কোন্ কোন্ উদ্দেশ্যে দণ্ডায়মান হওয়া যায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : আমার এক বন্ধু বলেছে যে, মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) না-কি নূরের তৈরি এবং তিনি না-কি সবকিছু সৃষ্টির আগে তৈরি হয়েছেন। তার দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : জনৈক বক্তা নিম্নের হাদীছটি পেশ করেন, তোমরা বরকতপূর্ণ জয়তুন গাছের তেল ব্যবহার কর এবং ঔষধ হিসাবে ব্যবহার কর।‌ কারণ তা অর্শ রোগের আরোগ্য দানকারী (ত্বাবরাণী হা/১৪১৯৩)। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ইহুদী-খ্রিষ্টান ও অন্য বিধর্মীরা কি উম্মতে মুহাম্মাদীর দলভুক্ত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : ছালাতে ক্বিরাআত ভুলে গেলে সাহু সিজাদহ দিতে হবে কি? সাহু সিজদাহ দেয়ার সঠিক নিয়ম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : আমি বাংলাদেশ জেলে কারারক্ষী পদে (সৈনিক পদে ভর্তি হয়ে) চাকুরী করি। সাধারণ পদে কিছুদিন ডিউটি পালন করার পর খেলোয়াড় (খেলোয়াড় কোটায়) হিসাবে চাকুরি শুরু করেছি। পেশা হিসাবে এটা করা কি সঠিক হয়েছে? আমি চাইলে অন্য বিভাগেও চাকুরী করতে পারব। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : হতাশা থেকে মুক্তির উপায় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : অনার্স পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে দুপুর ১টা থেকে চার ঘণ্টা। এমতাবস্থায় কিভাবে যোহরের ছালাত আদায় করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : আমার বয়স ২৪ বছর। আমি ছোট থেকে এই পর্যন্ত বহু মানুষের টাকা মেরেছি। আর জুয়া খেলে টাকা খেয়ে ফেলছি। তাদের কাছে টাকা পৌঁছে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তার জন্য আল্লাহর কাছে তাওবা করি। সবার টাকা আল্লাহর রাস্তায় দান করি তাদের জন্য, তাহলে কি আল্লাহ আমাকে মাফ করে দিবেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : তাবলীগ জামাতের জনৈক ব্যক্তি বলেন, হাদীছে এসেছে, ‘সর্বপ্রথম রহমত অবতীর্ণ হয় বাইতুল্লাহ তথা কা‘বা ঘরের উপর। তারপর সেখান থেকে অন্যান্য মসজিদে তা ভাগ করা হয়’। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : সফরে সর্বোচ্চ কতদিন পর্যন্ত ক্বছর করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : যদি কোন সন্তান তার দৈনন্দিন খরচ থেকে দান করে, তাহলে এর ছওয়াব কি বাবা পাবেন, না-কি ছেলে পাবেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ