বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন
উত্তর : অন্য সব রাষ্ট্রের তুলনায় খিলাফতে রাশিদার রাষ্ট্রকে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছে, তা হল-  যে মৌলিক ভিত্তি ও দৃঢ় স্তম্ভের উপর এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এসব ভিত্তির কারণে এ রাষ্ট্র জাতিসমূহের তুলনায় অগ্রগামী ও সভ্যতাগুলোর চেয়ে উন্নত ছিল। ফলে এটি এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, যা গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নবী (ﷺ)-এর ইন্তেকালের পর খুলাফায়ে রাশিদীন ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনা করেন, আবূ বকর ছিদ্দীক্ব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে শুরু করে ‘আলী ইবনু আবী তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) পর্যন্ত। তাঁদের শাসনকাল ছিল ত্রিশ বছর, যেমনটি নবী (ﷺ)-এর হাদীছে এসেছে, الخلافةُ في أمَّتي ثلاثونَ سَنةً ‘আমার উম্মতের মধ্যে খিলাফত থাকবে ত্রিশ বছর’ (তিরমিযী, হা/২২২৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/২১৯২৮)। নবী (ﷺ) তাঁদের আদর্শ অনুসরণের নির্দেশ দিয়ে বলেন, তোমরা আমার সুন্নাহ এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহ আঁকড়ে ধরবে। তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে এবং দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে রাখবে (আবূ দাঊদ, হা/৪৬০৭; ইবনু মাজাহ, হা/৪২; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭১৪৫)। তাঁদের যুগ ছিল দ্বীনের উপর দৃঢ় প্রতিষ্ঠা ও সঠিক পথের অনুসরণে অনন্য। শাসনব্যবস্থায় তারা দৃঢ় ও সুপ্রতিষ্ঠিত ভিত্তির উপর নির্ভর করেছিলেন। এর ফলস্বরূপ এক উজ্জ্বল সভ্যতার বিকাশ ঘটে, যার আলো সমগ্র মানবজাতির উপর বিচ্ছুরিত হয়েছিল। তাই তাঁদের যুগ গবেষকদের বিশেষ আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে। এখানে খিলাফতে রাশিদার সময়ে রাষ্ট্র যে কয়েকটি মৌলিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল, তার কিছু আলোচনা করা হল:

প্রথম ভিত্তি : শূরা বা পরামর্শভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা

খুলাফায়ে রাশিদীনের শাসনামলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শূরার বাস্তব প্রয়োগ স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো হল :

(ক) শাসনভার গ্রহণ : খিলাফতে রাশিদার শাসনব্যবস্থা পরামর্শের ভিত্তিতেই ক্ষমতা গ্রহণের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। এই নীতি শাসনের প্রতিটি পর্যায়ে বিদ্যমান ছিল। আবূ বকর ছিদ্দীক্ব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফত গ্রহণের ক্ষেত্রে মুহাজির ও আনছার ছাহাবীগণের মতামত তাঁর পক্ষে স্থির হয় (আল-ইবানাহ আন উসূলিদ দিয়ানাহ, পৃ. ৬৬)। এ প্রক্রিয়া দু’টি বাই’আতের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছিল- প্রথমটি ছিল সাক্বীফায় উপস্থিত বিশিষ্ট আনছার ও মুহাজির ছাহাবীদের বিশেষ বাই’আত, দ্বিতীয়টি ছিল মসজিদে সাধারণ মানুষের সমাবেশে সর্বসাধারণের বাই’আত (ছহীহ বুখারী, ৯/১০০ পৃ.)। আবূ বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন নিজের ইন্তেকাল ঘনিয়ে আসা অনুভব করলেন, তখন তিনি বিশিষ্ট ছাহাবীদের সাথে পরামর্শ করে এবং মুসলিম জনমতের সমর্থন দেখে উমার ফারুক্ব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে তাঁর পরবর্তী খলীফা হিসাবে মনোনীত করেন। এরপর তিনি উছমান ইবনু আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে সেই অঙ্গীকারনামা লিখে দিতে নির্দেশ দেন (ইবনে সা‘দ, আত্ব-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা, ৩/১৯৯ পৃ.)‌। উছমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতও দুই পর্যায়ে সম্পন্ন হয়েছিল- প্রথমতঃ উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মনোনীত ছয়জনের মধ্য থেকে তাঁকে নির্বাচন করা হয়, দ্বিতীয়তঃ মাদীনাবাসী ছাহাবীদের সঙ্গে ব্যাপক পরামর্শের পর জনগণের বাই’আতের মাধ্যমে তিনি খলীফা হন (ইবনু হাজার, ফাতহুল বারী, ১৩/১৯৩ পৃ.)। আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ক্ষেত্রেও অধিকাংশ মুসলিম তাঁর হাতে বাই’আত করেন। অল্প কিছু লোক উছমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হত্যাকারীদের কিসাসের বিষয়ে মতভেদের কারণে বিরোধিতা করলেও তাঁর খিলাফতের বৈধতা নিয়ে তাদের আপত্তি ছিল না (আবূ দাঊদ, ৫/৩৬ পৃ.)। শাসন বৈধ হয় সংখ্যাগরিষ্ঠের বাই’আতের মাধ্যমে, সকলের বাই’আত শর্ত নয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা এখানে সম্ভব নয়।
ইমাম গাজ্জালী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘প্রত্যেক যুগের গণ্যমান্য অধিকাংশ মানুষের সমর্থন ছাড়া শক্তি প্রতিষ্ঠিত হয় না’ (ফাযাইহুল বাতিনিয়্যাহ, ১/১৭৭ পৃ.)। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, আবূ বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ইমাম হয়েছিলেন ছাহাবীদের সংখ্যাগরিষ্ঠের বাই‘আতের মাধ্যমে, যারা ছিলেন ক্ষমতা ও প্রভাবের অধিকারী। সা‘দ ইবনু উবাদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বিরত থাকা এতে ক্ষতিকর হয়নি, কারণ ইমামতের উদ্দেশ্য হল ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা, যার মাধ্যমে ইমামতের কল্যাণ সাধিত হয়, আর তা সংখ্যাগরিষ্ঠের সম্মতিতে অর্জিত হয়েছিল (মিনহাজুস সুন্নাহ, ১/৫৩০ পৃ.)‌। শূরা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে, জনগণকে শাসনে অংশগ্রহণ ও শাসকের জবাবদিহিতায় সম্পৃক্ত করে এবং উম্মাহর কল্যাণ ও নিরাপত্তা রক্ষা করে। আবূ বকর ছিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এ নীতির ভিত্তি সুদৃঢ়ভাবে স্থাপন করেন। খলীফা নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর প্রথম বক্তব্য ছিল, ‘আমি সঠিক কাজ করলে আমাকে সাহায্য করবে, আর ভুল করলে আমাকে সংশোধন করবে’ (তাখরীজু মুসনাদে আবী বাকর, ১/১৫৯; ইবন হিশাম, আস-সীরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ, ৪/৬৬; আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, ৫/২৮০ পৃ.)। এরপর হাসান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছেও তাঁর পিতার অনুগত আমীর ও সাধারণ মানুষ বাই’আত নেন। পরে তিনি ৪১ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসে মু‘আবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে শাসনভার অর্পণ করেন। এভাবে দেখা যায় যে, শূরার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরই ছিল খুলাফায়ে রাশিদীনের যুগের বৈশিষ্ট্য।

(খ) রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে শূরার কার্যকারিতা প্রয়োগ করা : খুলাফায়ে রাশিদীন (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) কুরআন ও সুন্নাহতে সরাসরি নির্দেশ না থাকা রাষ্ট্রের সকল বিষয়ে শূরার উপর নির্ভর করতেন আল্লাহ তা‘আলার বাণী অনুসরণ করে, ‘আর তাদের কাজকর্ম পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়’ (সূরা আশ-শূরা : ৩৮)। এই নীতিতে তারা পরবর্তী বহু শতাব্দীর যুগের চেয়েও অগ্রগামী ছিলেন। কারণ শূরা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনে, জনগণকে শাসনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়, শাসকের উপর নজরদারি নিশ্চিত করে এবং উম্মাহর স্বার্থ সংরক্ষণ করে। সেই কারণে আবূ বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) জনগণকে পরামর্শ ও সমালোচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন (ছহীহ বুখারী, কিতাবুল ই‘তিসাম, باب وأمرهم شورى بينهم, ৯/১১৩ পৃ.)। তিনি এমন বিষয়ে, যার ব্যাপারে কুরআন বা সুন্নাহতে স্পষ্ট নির্দেশ নেই, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও আলিমদের একত্র করতেন এবং তাদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন (ইবনু রজব, ফাৎহুল বারী, ১৩/৩৪২ পৃ.)। উমার ফারুক্ব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)ও রাষ্ট্রের সব বিষয়ে একই নীতি অনুসরণ করতেন। তিনি গভর্নর ও সামরিক নেতাদের নির্দেশ দিতেন যেন তারা ছাহাবীদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। তিনি আবূ উবাইদা সাক্বাফীকে বলেছিলেন, ‘নবী (ﷺ)-এর ছাহাবীদের কথা শুনবে, তাদেরকে পরামর্শে শরীক করবে এবং বিষয় পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেবে না’ (তারীখুল উমাম, তাবারী, ২/৩৬১ পৃ.)। এমনকি তিনি নারীদের সঙ্গেও পরামর্শ করতেন, এটিও ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত (বাইহাক্বী, আস-সুনান, ১০/১১৩ পৃ.; আব্দুর রাযযাক, আল-মুছান্নাফ, ৭/১৫২ পৃ.)।
উছমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ক্ষেত্রেও একই অবস্থা দেখা যায়। তিনি কুরআনের একক মুছহাফে সংকলনের বিষয়ে ছাহাবীদের সঙ্গে পরামর্শ করেছিলেন। আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, ‘হে লোকসকল! তোমরা উছমান সম্পর্কে বাড়াবাড়ি করো না এবং কুরআনের কপিসমূহ সংকলন ও পোড়ানোর ব্যাপারে তার সম্পর্কে ভালো ছাড়া কিছু বলো না। আল্লাহর কসম! তিনি যা করেছেন, তা আমাদের সবার পরামর্শেই করেছেন’ (আবূ দাঊদ, কিতাবুল মাছাহিফ, পৃ. ৯৭)। এমনকি কঠিন অবরোধের সময়ও তিনি পরামর্শ ত্যাগ করেননি। যখন অবরোধ তীব্র হয়, তখন তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে ডেকে তাঁদের দাবির বিষয়ে মতামত চান। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ তোমাকে যে খিলাফতের পোশাক পরিয়েছেন, তা তুমি তাদের চাপে খুলে ফেলো না’ (ইবনু শাব্বাহ, তারীখুল মাদীনাহ, ৪/১২২৬ পৃ.)। তিনি এ পরামর্শ মেনে শেষ পর্যন্ত ধৈর্যসহকারে শাহাদাত বরণ করেন। আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)ও পূর্বসূরীদের নীতি অনুসরণ করেন। তিনি বিশিষ্ট ছাহাবীদের সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ করতেন। এমনকি তিনি যুবাইর ও তালহা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে তাঁর কাছে রাখতেন এবং বলতেন, ‘তোমরা আমার কাছে থাকবে, যাতে আমি তোমাদের সান্নিধ্যে স্বস্তি পাই’ (আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, ৭/২০৭ পৃ.)। খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে শূরার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল। তা হল: মত প্রকাশের স্বাধীনতা, আলোচনা-সমালোচনার সুযোগ এবং সত্য কথা বলার সাহস।

দ্বিতীয় ভিত্তি : শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা (নিয়াম)।

এটি প্রধানত দু’টি বিষয়ে প্রকাশ পেয়েছিল। প্রথমতঃ প্রশাসনিকভাবে প্রদেশসমূহের সংগঠন- খুলাফায়ে রাশিদীন প্রশাসনিকভাবে অঞ্চলসমূহকে সুসংগঠিত করেন। তাঁরা গভর্নর (ওয়ালী) নিয়োগ করতেন যোগ্যতা, কর্মদক্ষতা, তাক্বওয়া ও পরহেযগারিতার ভিত্তিতে। যখন উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আবূ উবাইদাহ ও আমির ইবনুল জাররাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন, তাঁর দুনিয়াবিমুখতা দেখে বলেন, ‘আমার ছাহাবীদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যে দুনিয়া থেকে কিছু পায়নি বা দুনিয়া তার থেকে কিছু নেয়নি- তুমি ছাড়া’ (আল-আযদি, ফুতূহুশ শাম, পৃ. ২৫৫)। উমার ফারুক্ব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর এক ভাষণে গভর্নরদের দায়িত্ব নির্ধারণ করে বলেন, ‘হে মানুষ! আমি আমার কর্মচারীদের তোমাদের উপর ন্যায়ের ভিত্তিতে শাসক হিসাবে পাঠিয়েছি। তাদেরকে তোমাদের চামড়া, রক্ত বা সম্পদ ভোগ করার জন্য নিয়োগ করিনি; বরং তাদেরকে পাঠিয়েছি যেন তারা তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীনের বিষয়ে ও ছহীহ সুন্নাহর শিক্ষা দেয়’ (ইবনুল জাওযী, মানাক্বিব উমার, পৃ. ৯৪)। গভর্নরদের প্রচেষ্টায় বহু নগর প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীতে উন্নতি ও সমৃদ্ধির কারণে বিশ্বসভ্যতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। তারা উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন, সেতু নির্মাণ করেন, খাল-নদী খনন করেন এবং যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলেন। প্রকৃতপক্ষে তারা মানবসমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, যা ইসলামী শরী‘আতের অন্যতম উদ্দেশ্য (তারিখু তাবারী, ৫/১৪৭-১৪৮ পৃ.)।

দ্বিতীয়তঃ বিচারব্যবস্থার সংগঠন ও একে শাসনক্ষমতা থেকে স্বাধীন রাখা- খুলাফায়ে রাশিদীনের যুগে বিচারব্যবস্থা ছিল শরী‘আতের বিধান বাস্তবায়নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। বিচারকার্য ছিল শাসনক্ষমতা থেকে স্বাধীন, ন্যায়নিষ্ঠ ও সৎ চরিত্রভিত্তিক। (অমুসলিমদের মধ্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ধারণা খ্রিস্টীয় অষ্টাদশ শতাব্দীর আগে পরিচিত ছিল না)। উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বিচারসংক্রান্ত নির্দেশনাগুলো যুগে যুগে অনুসরণীয় সংবিধানের মত বিবেচিত হয়েছে। তাঁর আবূ মূসা আল-আশ‘আরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উদ্দেশ্যে লেখা চিঠিতে তিনি বলেন, ‘তোমার চেহারায়, বসার আসনে ও বিচারে মানুষের মধ্যে সমতা বজায় রাখবে; যেন দুর্বল ব্যক্তি তোমার ন্যায়বিচার থেকে নিরাশ না হয় এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি তোমার পক্ষপাতের আশায় লোভী না হয়। দাবি উপস্থাপনকারীর উপর প্রমাণের দায়িত্ব এবং অস্বীকারকারীর উপর শপথ। মুসলিমদের মধ্যে আপস বৈধ তবে এমন আপস নয় যা হারামকে হালাল করে বা হালালকে হারাম করে। গতকাল তুমি যে রায় দিয়েছিলে, পরে যদি তা পুনর্বিবেচনায় সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাও, তবে সত্যে ফিরে আসতে দ্বিধা করবে না; কারণ সত্য প্রাচীন (চিরস্থায়ী), মুসলিমরা পরস্পরের ব্যাপারে ন্যায়পরায়ণ সাক্ষ্যদাতা- তবে সে ব্যক্তি ব্যতীত যে শরী‘আতী শাস্তি প্রাপ্ত, মিথ্যা সাক্ষ্যে অভ্যস্ত, বা পক্ষপাতদুষ্ট। মানুষের কারণে অস্থিরতা, বিরক্তি বা বিরূপ আচরণ থেকে বিরত থাকবে; কারণ ন্যায়ের স্থানে সঠিক আচরণ আল্লাহর নিকট প্রতিদান ও সঞ্চিত ছওয়াবের কারণ’ (দারাকুতনী, আস-সুনান, উমারের চিঠি আবূ মূসা আল-আশ‘আরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট, হা/৪৪৭১)।

উছমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর চিন্তাগত নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার নীতি অত্যন্ত প্রশংসনীয় ছিল। কুরআনকে একক মুছহাফে সংকলন করে বিভিন্ন প্রদেশে পাঠানোর মাধ্যমে তিনি মুসলিম সমাজের ঐক্য সংরক্ষণ করেন এবং বিভক্তি ও মতভেদের পথ রুদ্ধ করেন। আলী ইবনু আবী তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর বছরার গভর্নর আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর কাছে লিখেছিলেন, ‘আমি তোমাকে মহান আল্লাহর তাক্বওয়ার উপদেশ দিচ্ছি এবং যাদের উপর আল্লাহ তোমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন তাদের প্রতি ন্যায়বিচার করার নির্দেশ দিচ্ছি। তোমার চেহারা, জ্ঞান ও ফয়সালার মাধ্যমে মানুষের জন্য প্রশস্ত হও (অর্থাৎ সদাচরণ ও ন্যায়পরায়ণতার মাধ্যমে তাদের জন্য সহজ ও অনুকূল হও’ (ইবনু কুতাইবা আদ দীনাওয়ারী, আল-ইমামাহ ওয়াস সিয়াসাহ, ৫/৭৯ পৃ.)। সে যুগের বিচারব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও প্রভাবমুক্ত। বিচারকার্যে হস্তক্ষেপ বা পক্ষপাতের সুযোগ ছিল না। বাদী ও বিবাদী- উভয়েই আইনের দৃষ্টিতে সমান ছিলেন, এমনকি খলীফা ও গভর্নররাও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না, সকলেই আইনের চোখে সমান ছিলেন। এ প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে, আলী ইবনু আবী তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর একটি বর্ম নিয়ে এক আহলে যিম্মির সঙ্গে বিরোধে জড়ান। তিনি বিষয়টি তাঁর নিযুক্ত কাযী শুরাইহ আল-কাযী-এর কাছে উপস্থাপন করেন। কাযী শুরাইহ রায় দেন সেই যিম্মির পক্ষে (সুয়ূত্বী, তারীখুল খুলাফা, পৃ. ১৪২)।

তৃতীয় ভিত্তি : নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা

খুলাফায়ে রাশিদীন রাষ্ট্র পরিচালনায় সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নীতিকে দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করেছিলেন। এ বিষয়ে আলোচনা বিস্তৃত; তবে এখানে আমরা নিরাপত্তার একটি বিশেষ দিক, ‘চিন্তাগত নিরাপত্তা’ (বুদ্ধিবৃত্তিক নিরাপত্তা)- নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করব। আল্লাহ্ তা‘আলা মানবজাতিকে ইসলামের রিসালাতের মাধ্যমে কুফর ও ভ্রান্ত চিন্তার অন্ধকার থেকে মুক্তি দিয়েছেন। মানুষের দ্বীন ও চিন্তাকে সংরক্ষণের জন্য বহু বিধান ও আইন প্রণয়ন করেছেন। খুলাফায়ে রাশিদীন নবী (ﷺ)-এর আদর্শ অনুসরণ করে মানুষকে দ্বীনের দাওয়াত দেয়ার জন্য দূত পাঠিয়েছেন, শিক্ষাদানের জন্য শিক্ষক নিয়োগ করেছেন, মানুষকে ছালাতে ইমামতি ও দ্বীনের অন্যান্য বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁরা বিদ‘আত ও ভ্রান্ত মতবাদের মোকাবিলা করেছেন- প্রথমে ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণের মাধ্যমে, তারপর বিচ্যুতি ও বিভ্রান্তির কারণ দূর করার মাধ্যমে। আবূ বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রিদ্দাহ (ধর্মত্যাগ) আন্দোলনের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেন। এটি ছিল ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক হুমকিগুলোর একটি। তিনি কঠোরভাবে তা দমন করেন, যাতে মানুষ ইসলামী রাষ্ট্রের ছায়ায় নিজেদের জীবন, ঈমান, সম্পদ ও সম্মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে (আল-কামিল, ইবনুল আছির, ২/২৭; ইবনে খালদূন, আল-মুকাদ্দিমাহ, ২/৮৫৯; আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, ৬/২৮৮ পৃ.)।

উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সাবীগা ইবনু ‘ইসল আত-তামীমীকে নির্বাসিত করেন, কারণ সে কুরআনের মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট) আয়াত নিয়ে ফিতনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তুলছিল। তার তাওবাহ প্রকাশের পরও এক বছর পর্যন্ত মুসলিমদের তাকে বর্জন করতে নির্দেশ দেন। পরে তার তাওবা নিশ্চিত হলে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের অনুমতি দেন (ইবনুল জাওযী, মানাক্বীব উমার ইবনুল খাত্তাব, পৃ. ১১০; এ ঘটনা বিভিন্ন সনদে একাধিক ছাহাবী ও তাবিঈ থেকে বর্ণিত)। উছমান (রাহিমাহুল্লাহ) চিন্তাগত নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত প্রশংসনীয় নীতি গ্রহণ করেন। কুরআনকে একক মুছহাফে সংকলন করে বিভিন্ন প্রদেশে প্রেরণের মাধ্যমে তিনি মুসলিম সমাজের ঐক্য সংরক্ষণ করেন এবং বিভক্তি ও মতভেদের পথ বন্ধ করেন। এ কারণে ছাহাবীগণ তাঁর প্রশংসা করেন। এমনকি আলী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আল্লাহর ক্বসম! যদি আমি সেই দায়িত্বে থাকতাম, যা তিনি পালন করেছেন, তবে আমিও তাঁর মতই করতাম’ (ইবনু খালদুন, আল-মুকাদ্দিমাহ, ২/১০১৯; ইবনে শাব্বাহ, তারীখুল মদীনাহ, ৩/৯৯৬ পৃ.)। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, উছমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) লোকদেরকে সাতটি কিরআতের মধ্যে একটি হরফের উপর একত্র করেছিলেন, যেগুলোতে রাসূল (ﷺ) পড়ার অনুমতি দিয়েছিলেন- কারণ তাতে ছিল কল্যাণ। যখন ছাহাবীগণ আশঙ্কা করলেন যে, কুরআন নিয়ে উম্মাহ বিভক্ত হয়ে পড়তে পারে, তখন তারা দেখলেন যে একটি হরফে একত্র করা অধিক নিরাপদ ও মতভেদ থেকে দূরে রাখবে। তাই তারা তা কার্যকর করেন এবং উম্মাহর স্বার্থে অন্য পদ্ধতিতে পাঠ করা থেকে বিরত রাখেন’ (ইবনুল ক্বাইয়িম, আত-তুরুকুল হুকমিয়্যাহ, ১/১৯ পৃ.)।

চতুর্থ ভিত্তি : ন্যায়বিচার

খুলাফায়ে রাশিদীন তাদের কথা ও কাজে এই ভিত্তির প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। জনগণের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত খুতবায় তারা এই মূলনীতির উপর জোর দিয়েছেন এবং তাদের নিয়োজিত শাসনকর্তাদেরও এর প্রতি বাধ্য করেছেন। এই ভিত্তি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রকাশ পেয়েছিল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-

প্রথমতঃ সকল মুসলিমের জন্য ন্যায়বিচারের সর্বজনীনতা: সকল মানুষের মাঝে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে তাদের আন্তরিকতা স্পষ্ট ছিল। তারা এমন গভর্নর (ওয়ালী) নির্বাচন করতেন, যারা সৎ চরিত্র ও উত্তম আচরণের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তারা শাসকদের অন্যায়ভাবে মানুষের ওপর কর্তৃত্ব ফলাতে দিতেন না, বরং তাদের তদারকি করতেন এবং সীমালঙ্ঘন করলে জবাবদিহির আওতায় আনতেন। তাওউস (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, ‘তোমরা বল তো, যদি আমি তোমাদের উপর এমন একজনকে নিয়োগ করি যাকে আমি সর্বোত্তম জানি, তারপর তাকে ন্যায়বিচারের নির্দেশ দিই, তাহলে কি আমার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়? লোকেরা বলল, ‘হ্যাঁ’। তিনি বললেন, ‘না, যতক্ষণ না আমি তার কাজ পর্যবেক্ষণ করি- সে আমার নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করছে কী না’ (বাইহাক্বী, শু‘আবুল ঈমান, “ন্যায়পরায়ণ ইমামের ফাযীলাত ও শাসকদের যুলুম প্রসঙ্গে’, হা/৭৩৯৫)। এছাড়া উছমান ইবনে আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর গভর্নরদেরকে জনগণের প্রতি ন্যায়বিচার করতে এবং তাদের প্রাপ্য হক্ব আদায় করে দিতে ও তাদের উপর অযথা যুল্ম না করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি তার কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে প্রথম যে পত্র লিখেছিলেন, তাতে বলেন, ‘সর্বোত্তম ন্যায়নিষ্ঠ নীতি হল- তোমরা মুসলিমদের ব্যাপারে লক্ষ্য রাখবে; তাদের প্রাপ্য হক্ব তাদের দেবে এবং তাদের উপর যা কর্তব্য, তা আদায় করবে’ (তাবারাী, তারীখুল উমাম, ২/৫৯০ পৃ.)।

দ্বিতীয়তঃ অমুসলিম ও চুক্তিবদ্ধদের সাথে ন্যায়বিচার। এই ক্ষেত্রে আবূ বকর ছিদ্দীক্ব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আহলে কিতাবদের প্রতি সংযম প্রদর্শনের নির্দেশ দেন এবং তাঁর সেনাপতি যায়িদ ইবনু ছাবিতকে (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কিছু উপদেশ দেন, যার মধ্যে ছিল: ‘তোমরা এমন এক সম্প্রদায়ের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে যারা নিজেদেরকে উপাসনালয়ে নিবেদিত করেছে, তাদের এবং তারা যে কাজে নিবেদিত হয়েছে, তা ছেড়ে দিও’ (তাবারী, তারীখুল উমাম, ৩/২২৭ পৃ.)। আর উছমান ইবনে আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমদের প্রতি যুল্ম ও অবিচার থেকে সতর্ক করে বলেন, ‘ওয়াদা পূর্ণ করো, ওয়াদা পূর্ণ করো। ইয়াতীম ও চুক্তিবদ্ধদের উপর যুল্ম করো না; কারণ আল্লাহ তাদের প্রতি যুল্মকারীর বিরুদ্ধে নিজেই প্রতিপক্ষ’ (তাবারী, তারীখুল উমাম, ২/৫৯১ পৃ.)। তৃতীয়তঃ আহলে যিম্মার সাথে ন্যায়বিচার: খিলাফতে রাশিদার যুগে আহলে যিম্মার প্রতিও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত ছিল। এ সংক্রান্ত বহু বর্ণনা রয়েছে। যেমন,

উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এক আনছারী ছাহাবীকে একটি অঞ্চলের কোন দায়িত্বে নিয়োগ করেছিলেন। তিনি হীরা নগরের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি- আব্দুল মাসীহ ইবনে বাক্বিলা-এর আতিথ্যে অবতরণ করেন। গৃহস্বামী তাঁর জন্য খাবার-দাবারের যে ব্যবস্থা চাওয়া হয়েছিল, তা উদারভাবে পরিবেশন করেন। কিন্তু সেই আমীল (কর্মকর্তা) হালকা রসিকতা করতে গিয়ে তাকে কিছুক্ষণ আটকে রাখেন এবং ডেকে এনে তার দাড়িতে হাত বুলিয়ে দেন (অর্থাৎ অপমানজনক আচরণ করেন)। তখন সে ব্যক্তি উমার ইবনে খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে এসে বলল, ‘হে আমীরুল মুমিনীন! আমি কিসরা ও কায়সারের দরবারেও কাজ করেছি, কিন্তু তাদের শাসনামলেও আপনার শাসনের মত এমন আচরণের শিকার হইনি’। উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, ‘কী ঘটনা’? সে বলল, ‘আপনার অমুক কর্মচারী আমার অতিথি হয়েছিল। আমরা তার জন্য তার চাওয়া অনুযায়ী খাবার ও পানীয় পরিবেশন করেছি। তারপর সে আমাকে ডেকে এনে আমার দাড়িতে হাত বুলিয়েছে’। তখন উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সেই কর্মচারীকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন, এই যে! সে কি তোমার জন্য চাওয়া অনুযায়ী খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা করেনি? তারপর তুমি তার দাড়িতে হাত দিলে? আল্লাহর কসম! যদি এটা কোন প্রচলিত রীতি (বা কিসাসের বিধান) না হত, তবে আমি তোমার দাড়ির একটি লোমও অবশিষ্ট রাখতাম না- সব উপড়ে ফেলতাম। কিন্তু যাও, আল্লাহর কসম! তুমি আর কখনো আমার পক্ষ থেকে কোন দায়িত্ব পাবে না’ (ইবনু শাব্বাহ, তারীখুল মাদীনাহ, ৩/৮১৩ পৃ.)।

এছাড়া আলী ইবনু আবী তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মা‘কিল ইবনু ইয়াসারকে বনু নাজিয়ার বিরুদ্ধে প্রেরণের সময় উপদেশ দেন, ‘ক্বিবলামুখী (মুসলিমদের) বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ি করো না এবং আহলে যিম্মার উপর যুল্ম করো না’ (তাবারী, তারীখুল উমাম, ৩/১৪৩; ইবনুল আছীর, আল-কামিল, ৩/২৩৮ পৃ.)। যে ব্যক্তি খুলাফায়ে রাশিদীনের শাসনব্যবস্থার ভিত্তিগুলো গভীরভাবে চিন্তা করবে, সে দেখতে পাবে- এসব ছিল ধর্মীয় ফরয ও আল্লাহপ্রদত্ত বিধান। পরবর্তীকালে এই উম্মাহ যে স্বৈরাচার ও শাসকদের অত্যাচারের শিকার হয়েছে, তা ইসলামের অংশ নয়, বরং এসবই নীতিমালা থেকে দূরে সরে যাওয়ার ফল।


প্রশ্নকারী : নাহিদ, সাতক্ষীরা।





প্রশ্ন (৪) : হার্টের এমন কিছু রোগী আছে, যাদের কোন ট্যাবলেট জিহ্বার নিচে রেখে ব্যবহার করতে হয়, গিলে ফেলা হয় না। শরীর সেটাকে চুষে নেয়। এতে ছিয়াম ভেঙ্গে যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : প্রচলিত রয়েছে যে, শু‘আইব (আলাইহিস সালাম) মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর শ্বশুর ছিলেন। কথাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : বিধর্মীরা কত ভাগে বিভক্ত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : ভুল করে বুকের দুধ খেলে কি দুধমাতা সাব্যস্ত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ তা‘আলাকে মুসলিম ও কাফির সবাই কি দেখতে পাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : কুরআন মাজীদ পড়ার সুন্নাতী আদবগুলো কী কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : গাছে, পাথর, পশুপাখির দেহে ইত্যাদি জায়গায় ‘আল্লাহ’ লেখা দেখতে পাওয়া যায়। এগুলো অনেকে ফেসবুকে প্রচার করে থাকে। এগুলো সম্পর্কে ইসলামের বক্তব্য কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : অত্যাচারী মুসলিম শাসকের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরা কি জায়েয? এ ব্যাপারে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের আক্বীদা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : ছালাতে রুকূ থেকে উঠে দুই হাত উত্তোলন করার পর হাত ছেড়ে দিতে হবে, না-কি আবার বুকে হাত বাঁধতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : বিতর ছালাতে কুনূত পড়তে ভুলে গেলে এবং সিজাদায় গিয়ে মনে পড়লে করণীয় কী? দু‘আ কুনূত ছাড়াই বিতর ছালাত পড়ার পদ্ধতি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ভালবাসা বৃদ্ধির জন্য তাবীয-কবয করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : পায়ের লোম অতিরিক্ত বড় হলে কেটে ফেলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ