বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ০১:২৩ পূর্বাহ্ন
উত্তর : মুমিনরা দৃঢ় বিশ্বাস রাখে যে, আল্লাহ তা‘আলার বিধানের চেয়ে উত্তম কোন বিধান নেই। আল্লাহর হুকুমের বিরোধী যে কোন বিধানই জাহিলিয়্যাতের বিধান। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তারা কি জাহিলিয়্যাতের বিধান কামনা করে? আর যারা দৃঢ় বিশ্বাসী, তাদের জন্য বিধানদাতা হিসাবে আল্লাহর চেয়ে উত্তম আর কে?’ (সূরা আল-মায়িদা : ৫০)। আল্লাহ তা‘আলা এটিকে বিস্ময়কর বিষয় বলে আখ্যায়িত করেছেন যে, কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের প্রতি ঈমানের দাবি করবে অথচ বিচার-ফায়সালা করবে আল্লাহর শরী‘আত ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে। তিনি বলেন, ‘তুমি কি তাদের দেখনি যারা দাবি করে যে, তারা তোমার প্রতি অবতীর্ণ এবং তোমার পূর্বে অবতীর্ণ কিতাবসমূহে ঈমান এনেছে? অথচ তারা তাগূত্বের কাছে বিচার প্রার্থনা করতে চায়, যদিও তাদেরকে তা অস্বীকার করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে’ (সূরা আন-নিসা : ৬০)। বিখ্যাত মুফাসসির মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানক্বীতী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা স্পষ্ট করেছেন যে, যারা আল্লাহর বিধান ব্যতীত অন্য কিছুর কাছে বিচার নিতে চায়, তাদের ঈমানের দাবির প্রতি বিস্ময় প্রকাশ করা হয়েছে। কারণ তারা মুখে ঈমানের দাবি করছে, অথচ তাগূত্বের কাছে বিচার নেয়ার ইচ্ছা আছে- এ এমন মিথ্যা যা বিস্ময়ের উদ্রেক করে’। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর মহান সত্তার শপথ করে বলেছেন- কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না সে রাসূল (ﷺ)-কে সব বিষয়ে বিচারক হিসাবে মেনে নেয় এবং তাঁর ফায়সালাকে অন্তর ও বাহির উভয়ভাবে সম্পূর্ণরূপে মেনে নেয়। তিনি বলেন, ‘তোমার রবের শপথ! তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদে তোমাকে বিচারক বানায়, তারপর তোমার ফায়সালার ব্যাপারে নিজেদের অন্তরে কোন সংকীর্ণতা অনুভব না করে এবং সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করে’ (সূরা আন-নিসা : ৬৫)।

ইমাম ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর তাফসীরে এ আয়াতের ব্যাখ্যা করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বিবাদপূর্ণ বিষয়সমূহ তাঁর ও তাঁর রাসূলের দিকে প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং এটিকে ঈমানের শর্ত করেছেন। সুতরাং আল্লাহর শরী‘আত ব্যতীত অন্য কিছুর কাছে বিচার নেয়ার সঙ্গে ঈমান সঠিক হতে পারে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘যদি তোমরা কোন বিষয়ে মতভেদ কর, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও- যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতে ঈমান রাখ’ (সূরা আন-নিসা : ৫৯)। ‘যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতে ঈমান রাখ’-এটি প্রমাণ করে যে যে ব্যক্তি বিবাদের ক্ষেত্রে কিতাব ও সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করে না, সে আল্লাহ ও আখিরাতে প্রকৃত ঈমানদার নয়’। এ আলোকে- যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধান অনুযায়ী শাসন করে না, তাকে নির্বাচিত করা হারাম। কারণ এতে ঐ অবৈধ বিষয়ের প্রতি সন্তুষ্টি এবং তাতে সহযোগিতা করা হয় (মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া মাক্বালাতুশ শাইখ ইবনে বায, ২৮/২৭০ পৃ.)। তবে যদি কোন মুসলিমকে ভোট দিতে বাধ্য করা হয়, তাহলে সে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ঐ প্রার্থীকে প্রত্যাখ্যান করতে পারে বা (সম্ভব হলে) তার ভোট নষ্ট করতে পারে। যদি সে তা করতে সক্ষম না হয় এবং ভোট না দিলে নিজের উপর ক্ষতির আশঙ্কা করে, তাহলে আশা করা যায় তার উপর কোন গুনাহ হবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তবে সে ব্যক্তি ব্যতীত, যে বাধ্য হয়েছে অথচ তার অন্তর ঈমানে প্রশান্ত’ (সূরা আন-নাহল : ১০৬)। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ আমার উম্মতের থেকে ভুল, বিস্মৃতি এবং যে কাজে তারা বাধ্য হয়েছে- তা ক্ষমা করে দিয়েছেন’ (ইবনু মাজাহ, হা/২০৪৬; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১০৩০৪০)।


প্রশ্নকারী : রেযওয়ান, গাইবান্ধা।





প্রশ্ন (১৮) : ওশর-যাকাত এগুলো টাকা দিয়ে আদায় করা যাবে কি? না-কি নির্দিষ্ট প্রাণী, শস্য বা বস্তুর যাকাত সেই জিনিস দিয়েই আদায় করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৯) : আযানের পূর্বে ‘বিসমিল্ল­াহ’ বলা, কুরআনের আয়াত পড়া, ইসলামী গযল বলা, বিভিন্ন দু‘আ পড়া, মানুষকে ডাকাডাকি করা, ফজরের আযানের পূর্বে ‘আছ-ছালাতু খায়রুম মিনান্নাঊম’ বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : ই‘তিকাফে কোন্ তারিখে বসবে, আর কখন বের হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : জনৈক বক্তা বলেন, বায়‘আত না করলে জাহেলিয়াতের মৃত্যু হবে। তাই ইসলামী দলের নেতা বা আমীরের হাতে বায়‘আত না করলে জান্নাত পাওয়া যাবে না। আরে হাদীছে এসেছে, যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল এমন অবস্থায় যে, তার গর্দানে বায়‘আত নেই, সে জাহেলী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করল (মুসলিম হা/১৮৫১)। উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : কা‘বা ঘর প্রথম কে নির্মাণ করেছেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : ইজমা ও ক্বিয়াস কি শরী‘আতের দলীল হতে পারে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : সম্মানার্থে ছেলেদের নাম ‘আবূ হুরায়রা’ রাখলে কোন সমস্যা হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : এমপিও ভুক্ত বেসরকারী স্কুলের শিক্ষকদের বেতন থেকে প্রতি মাসে ১০% করে টাকা কেটে রাখা হয় এবং চাকুরি শেষে সর্বশেষ বেতন স্কেলের ১০০ মাসের সমপরিমাণ টাকা দেয়া হয়। উক্ত টাকা কি হালাল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কল-কারখানায় ছুটি দেয়া এবং বিভিন্ন আলোচনা ও মাহফিলের আয়োজন করা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : ঝাড়-ফুঁক করা কি শরী‘আতে জায়েয? কুরআনের আয়াত লিখে গলায় ঝুলিয়ে রাখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : জনৈক আলেম ফৎওয়া দিয়েছেন যে, হানাফী এলাকাতে আছরের ছালাত শেষ ওয়াক্তে হওয়ায় এবং সেই এলাকায় আহলেহাদীছ মসজিদ না থাকলে বাড়িতে ছালাত আদায় করা যাবে। প্রশ্ন হল, এটা কি শরী‘আতসম্মত? আওয়াল ওয়াক্তে একাকী ফরয ছালাত পড়া উত্তম হবে, না-কি শেষ ওয়াক্ত হলেও জামা‘আতে ছালাত আদায় করা উত্তম হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : হায়েয  বা অসুস্থতার কারণে ভঙ্গ হওয়া ছিয়াম কিভাবে আদায় করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ