রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২০ পূর্বাহ্ন
উত্তর : মুমিনরা দৃঢ় বিশ্বাস রাখে যে, আল্লাহ তা‘আলার বিধানের চেয়ে উত্তম কোন বিধান নেই। আল্লাহর হুকুমের বিরোধী যে কোন বিধানই জাহিলিয়্যাতের বিধান। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তারা কি জাহিলিয়্যাতের বিধান কামনা করে? আর যারা দৃঢ় বিশ্বাসী, তাদের জন্য বিধানদাতা হিসাবে আল্লাহর চেয়ে উত্তম আর কে?’ (সূরা আল-মায়িদা : ৫০)। আল্লাহ তা‘আলা এটিকে বিস্ময়কর বিষয় বলে আখ্যায়িত করেছেন যে, কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের প্রতি ঈমানের দাবি করবে অথচ বিচার-ফায়সালা করবে আল্লাহর শরী‘আত ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে। তিনি বলেন, ‘তুমি কি তাদের দেখনি যারা দাবি করে যে, তারা তোমার প্রতি অবতীর্ণ এবং তোমার পূর্বে অবতীর্ণ কিতাবসমূহে ঈমান এনেছে? অথচ তারা তাগূত্বের কাছে বিচার প্রার্থনা করতে চায়, যদিও তাদেরকে তা অস্বীকার করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে’ (সূরা আন-নিসা : ৬০)। বিখ্যাত মুফাসসির মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানক্বীতী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা স্পষ্ট করেছেন যে, যারা আল্লাহর বিধান ব্যতীত অন্য কিছুর কাছে বিচার নিতে চায়, তাদের ঈমানের দাবির প্রতি বিস্ময় প্রকাশ করা হয়েছে। কারণ তারা মুখে ঈমানের দাবি করছে, অথচ তাগূত্বের কাছে বিচার নেয়ার ইচ্ছা আছে- এ এমন মিথ্যা যা বিস্ময়ের উদ্রেক করে’। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর মহান সত্তার শপথ করে বলেছেন- কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না সে রাসূল (ﷺ)-কে সব বিষয়ে বিচারক হিসাবে মেনে নেয় এবং তাঁর ফায়সালাকে অন্তর ও বাহির উভয়ভাবে সম্পূর্ণরূপে মেনে নেয়। তিনি বলেন, ‘তোমার রবের শপথ! তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদে তোমাকে বিচারক বানায়, তারপর তোমার ফায়সালার ব্যাপারে নিজেদের অন্তরে কোন সংকীর্ণতা অনুভব না করে এবং সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করে’ (সূরা আন-নিসা : ৬৫)।

ইমাম ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর তাফসীরে এ আয়াতের ব্যাখ্যা করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বিবাদপূর্ণ বিষয়সমূহ তাঁর ও তাঁর রাসূলের দিকে প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং এটিকে ঈমানের শর্ত করেছেন। সুতরাং আল্লাহর শরী‘আত ব্যতীত অন্য কিছুর কাছে বিচার নেয়ার সঙ্গে ঈমান সঠিক হতে পারে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘যদি তোমরা কোন বিষয়ে মতভেদ কর, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও- যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতে ঈমান রাখ’ (সূরা আন-নিসা : ৫৯)। ‘যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতে ঈমান রাখ’-এটি প্রমাণ করে যে যে ব্যক্তি বিবাদের ক্ষেত্রে কিতাব ও সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করে না, সে আল্লাহ ও আখিরাতে প্রকৃত ঈমানদার নয়’। এ আলোকে- যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধান অনুযায়ী শাসন করে না, তাকে নির্বাচিত করা হারাম। কারণ এতে ঐ অবৈধ বিষয়ের প্রতি সন্তুষ্টি এবং তাতে সহযোগিতা করা হয় (মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া মাক্বালাতুশ শাইখ ইবনে বায, ২৮/২৭০ পৃ.)। তবে যদি কোন মুসলিমকে ভোট দিতে বাধ্য করা হয়, তাহলে সে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ঐ প্রার্থীকে প্রত্যাখ্যান করতে পারে বা (সম্ভব হলে) তার ভোট নষ্ট করতে পারে। যদি সে তা করতে সক্ষম না হয় এবং ভোট না দিলে নিজের উপর ক্ষতির আশঙ্কা করে, তাহলে আশা করা যায় তার উপর কোন গুনাহ হবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তবে সে ব্যক্তি ব্যতীত, যে বাধ্য হয়েছে অথচ তার অন্তর ঈমানে প্রশান্ত’ (সূরা আন-নাহল : ১০৬)। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ আমার উম্মতের থেকে ভুল, বিস্মৃতি এবং যে কাজে তারা বাধ্য হয়েছে- তা ক্ষমা করে দিয়েছেন’ (ইবনু মাজাহ, হা/২০৪৬; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১০৩০৪০)।


প্রশ্নকারী : রেযওয়ান, গাইবান্ধা।





প্রশ্ন (১১) : আমরা বন্ধুরা মিলে এক হোটেলে খাওয়ার পর কম বিল দিতাম আর হোটেল বয়কে ঘুষ দিতাম। বিষয়টি ভুল হয়েছে বুঝার পরে হোটেল মালিকের সাথে কথা বলায় ওনি আমাদের মাফ করে দিয়েছেন। এক্ষণে ঐ পরিমাণ টাকা কি পরিশোধ করতে হবে? না মাফ নেয়াই যথেষ্ট হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : মোবাইল সার্ভিসিংয়ের কাজ করা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭): সিজারিয়ান পদ্ধতিতে বাচ্চা প্রসবের পরে প্রসবোত্তর সময় তথা বাচ্চা প্রসবের ৪০ দিন পর্যন্ত ঐ মহিলার কি ছালাত আদায় করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : বেশি নেকীর আশায় বড় মসজিদে গমন করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : কার সাথে আমার বিয়ে হবে এটা কি পরিবর্তনশীল, না-কি নির্ধারিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : আমার বয়স ২৪ বছর। আমি ছোট থেকে এই পর্যন্ত বহু মানুষের টাকা মেরেছি। আর জুয়া খেলে টাকা খেয়ে ফেলছি। তাদের কাছে টাকা পৌঁছে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তার জন্য আল্লাহর কাছে তাওবা করি। সবার টাকা আল্লাহর রাস্তায় দান করি তাদের জন্য, তাহলে কি আল্লাহ আমাকে মাফ করে দিবেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : কারো জন্য দু‘আ করার পর তাকে জানানো যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : ঘরে সূরা বাক্বারা পাঠ করা এবং এ সূরার পঠন শয়তানকে তাড়ানো: সূরাটি উচ্চৈঃস্বরে পড়া কি আবশ্যকীয়? ক্যাসেট-প্লেয়ার ব্যবহারের মাধ্যমে কি এ উদ্দেশ্য হাছিল হতে পারে? সূরাটি ভাগ ভাগ করে পড়লে কি যথেষ্ট হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : ছালাতে সূরা ফাতিহা কিংবা অন্য কোন দু‘আ পড়ার সময় যদি মাখরাজ বা তাজবীদে ভুল হয়, তাহলে কি সাহু সিজদাহ দিতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : জনৈক খত্বীব বলেছেন, আব্দুল কাদের জিলানীর কারণে বাগদাদ শহরের সব কবরের আযাব মাফ হয়ে গেছে। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : মূসা (আলাইহিস সালাম) যখন আল্লাহ্র সাথে সাক্ষাৎ করলেন তখন তিনি প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহ! আমি আপনার যত নিকটবর্তী হয়েছি আর কেউ কি এতো নিকটবর্তী হতে পারবে। আল্লাহ বললেন, মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উম্মত ইফতারের সময় এর চেয়েও বেশী নিকটবর্তী হবে। উক্ত ঘটনা কোন হাদীছ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন : (৭) জঙ্গলে বা জনবসতিহীন এলাকায় উৎপন্ন ফল বা সবজি খাওয়া যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ