রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৮ পূর্বাহ্ন
উত্তর : হাদীছটি সনদগত একটু ত্রুটি থাকলেও অর্থ ছহীহ। এ মর্মে আরো ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন,

أَعْظَمُ النِّسَاءِ بَرَكَةً أَيْسَرُهُنَّ مَئُوْنَةً وَفيْ لفظ إِنَّ أَعْظَمَ النِّكَاحِ بَرَكَةً أَيْسَرُهُ مَؤُوْنَةً

‘বরকতের দিক থেকে সর্বোত্তম নারী হল তারা যাদের খরচা বা চাহিদা অধিকতর কম’। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘বরকতের দিক থেকে সর্বোত্তম বিবাহ হল সেটি যাতে অধিকতর কম খরচ হয়’ (আহমাদ, হা/২৪৫২৯; আস-সুনানুল কুবরা নিন-নাসাঈ, হা/৯২২৯; মুস্তাদরাক হাকীম, হা/২৭৩২)। উপরিউক্ত হাদীছের একজন বর্ণনাকারী হলেন, ‘ইবনে সাখবারাহ’। তার প্রকৃত নাম কী? সে সম্পর্কে মুহাদ্দিছদের মধ্যে মতপার্থক্য আছে। অনেকে বলেছেন, তার নাম হল- ঈসা বিন মাইমুন আল-ওয়াসিত্বী। ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) তার সম্পর্কে বলেন, ‘মুনকিরুল হাদীছ’ অর্থাৎ সে হাদীছ বিরোধী রাবী। আবার অনেকে তাকে পরিত্যাজ্য রাবী হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। সেই জন্য অনেকেই এই সনদটিকে যঈফ বা দুর্বল বলেছেন (ইমাম শাওকানী (রাহিমাহুল্লাহ), আদ-দারারিয়্যুল মুজিয়্যাতু, পৃ. ২১৫; শাইখ মুহাম্মাদ নাছিরুদ্দীন আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ), সিলসিলা যঈফাহ, হা/১১১৭; হিদায়াতুর রুওয়াত, হা/৩০৩৩; শু‘আইব আল-আরনাউত্ব (রাহিমাহুল্লাহ), তাখরীজুল মুসনাদ, হা/২৪৫২৯; তাখরীজু যাদিল মা‘আদ, ৫/১৬১ পৃ.)। আবার কেউ কেউ তাকে গ্রহণযোগ্য বলেছেন। কারণ তারা মনে করেন যে, এই নামে দু’জন রাবী আছে, একজন গ্রহণযোগ্য আরেকজন পরিত্যাজ্য। যারা এমন বলেছেন, তাদের মধ্যে একজন হলেন ‘ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন’। খাত্বীব আল-বাগদাদী তার মতকে শক্তিশালী মনে করেছেন (মুওয়াজ্জিহু আওহামিল জামঈ ওয়াত-তাফরীক্ব, ১/২৯৮ পৃ.)। অনেকে ‘ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন’-এর মতামতটিকেই রাজিহ অর্থাৎ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মনে করেছেন। তাই হাফিয আল-ইরাক্বী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, إسناده جيد ‘এর সনদ উত্তম’ (আল-মুগনী আন হামলিল আসফার, ১/৩৮৬ পৃ.)।

তবে অর্থগত সমর্থক হিসাবে অনেক হাসান বা ছহীহ হাদীছ রয়েছে। আসলে অধিকতর হালকা বিবাহ বলতে ‘মোহরানা এবং ভরণ-পোষণের ব্যয় কম হওয়াকে’ বুঝানো হয়েছে। যেমন ইমাম ইবনে কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘উত্তম হল, বাড়াবাড়ি করে মোহরানা প্রদান না করা। কেননা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, أَعْظَمُ النِّسَاءِ بَرَكَةً أَيْسَرُهُنَّ مَئُونَةً ‘বরকতের দিক থেকে সর্বোত্তম নারী হল তারা যাদের খরচা বা চাহিদা অধিকতর কম’ (আল-মুগনী, ৭/২১২ পৃ.)। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, সুন্নাত হল, মোহরানা হালকা করা। নবী (ﷺ) তাঁর স্ত্রীদের এবং মেয়েদের জন্য মোহরানা বৃদ্ধি করেননি। কেননা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘বরকতের দিক থেকে সর্বোত্তম নারী হল তারা যাদের খরচা বা চাহিদা অধিকতর কম’ (মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ৩২/১৯২ পৃ.)। মোল্লা আলী ক্বারী বলেন, أَيْسَرُهُ ‘যার খরচা অধিকতর কম এবং সহজ’। مُؤْنَةٌ ‘যার মোহরানা এবং ভরণ-পোষণের ব্যয় কম’ (মিরক্বাতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাছাবীহ, ৫/২০৪৯ পৃ.)।

ইমাম মুনাবী (রাহিমাহুল্লাহ) ও ইমাম ছানা‘আনী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, خيرُ النِّكاحِ أيْسَرُهُ ‘সর্বোত্তম বিবাহ হল সেটি যা অধিকতর সহজ। অর্থাৎ যার মোহরানা এবং ভরণ-পোষণের ব্যয় কম। এবং তাড়াতাড়ি রাজি হয়ে যায়’ (ফাইযুল ক্বাদীর, ৩/৪৮২; আত-তানবীর, ২/৫০৩ পৃ.)। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেন, إِنَّ مِنْ يُمْنِ الْمَرْأَةِ: تَيْسِيرَ خِطْبَتِهَا ، وَتَيْسِيرَ صَدَاقِهَا ، وَتَيْسِيرَ رَحِمِهَا ‘একজন সৌভাগ্যবান মহিলার বৈশিষ্ট্য হল- তার বাগদান সহজ করা, তার মোহরানা সহজ করা এবং তার গর্ভধারণ সহজ করা’ (ছহীহুল জামি‘, হা/২২৩৫; ইরওয়াউল গালীল, ৬/৩৫০ পৃ.; তাখরীজুল মুসনাদ, হা/২৪৪৭৮; মাক্বাসিদুল হাসানা, পৃ. ২৪৪)। উক্ববাহ বিন আমীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, خيرُ النِّكاحِ أيْسَرُهُ ‘সর্বোত্তম বিবাহ হল সেটি যা অধিকতর সহজ বা সহজে সম্পন্ন হয়’ (আবূ দাঊদ, হা/২১১৭, হাদীছটিকে শাইখ আল্লামা নাছিরুদ্দীন আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) ও শাইখ শু‘আইব আল-আরনাউত্ব (রাহিমাহুল্লাহ) ছহীহ বলেছেন। সিলসিলা ছহীহাহ, হা/১৮৪২; তাখরীজু ছহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৪০৭২)। অতএব বিবাহ ও মোহরানা সকল ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় থেকে বিরত থাকা উচিত।


প্রশ্নকারী : আবু নাঈম, মানিকগঞ্জ।





প্রশ্ন (৩) : মৃত ব্যক্তিকে ক্ববর দেয়ার কয়েক মাস পর ধসে নিচু হয়ে গেছে। তাতে বিভিন্ন ধরনের জীবজন্তু বসবাস করে। প্রশ্ন হল, এখন সেই নিচু ক্ববরগুলোকে ভরাট করা যাবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : বদ নযর কী? বদ নযরের প্রভাবে একজন মানুষ কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫): রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যখন আল্লাহ তা‘আলা যমীন সৃষ্টি করলেন তখন তা দুলতে লাগল। অতঃপর পাহাড়গুলো সৃষ্টি করে সেগুলো পৃথিবীর উপর স্থীর করেন। অতঃপর পৃথিবী স্থীর হয়ে গেল। ফেরেশতাগণ পাহাড়ের এ শক্তি দেখে আশ্চর্যান্বিত হলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে পাহাড় অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? আল্লাহ বললেন, হ্যাঁ; আর সেটা লোহা। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করল, হে প্রভু! আপনার সৃষ্টির মধ্যে লোহা অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আগুন। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে আগুন অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ; পানি। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে পানি অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ; বাতাস। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে বাতাস অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ; আদম সন্তান। যে তার ডান হাতে দান করে আর দানকে বাম হাত হতে গোপন রাখে। এ ঘটনাটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : কবরস্থানের ফাঁকা জায়গায় (যেখানে কবর নেই) জানাযার ছালাত পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : ক্বাযা ছালাতের সুন্নাত আদায় করতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : হাদীছে এসেছে, ‘ইমামের সাথে মুছল্লীরাও ‘আমীন’ বললে ফেরেশতারাও ‘আমীন’ বলে। আর উভয়ের ‘আমীন’ একসাথে হলে পূর্বের গুনাহ মাপ হয়ে যায়’। এখন প্রশ্ন হল- হানাফী মসজিদের ইমাম তো উচ্চৈঃস্বরে ‘আমীন’ বলেন না, তাহলে আমি যদি ‘আমীন’ বলি, ইমামের ‘আমীন’ তো শোনা যায় না, এক্ষেত্রে কি আমি ‘আমীন’ বলার ছওয়াব পাব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : আমি অবিবাহিত যুবক। আমি ছোটখাট পরিবহন ব্যবসা ব্যবসায় জড়িত ছিলাম। কিন্তু দুই বছর পরে শয়তানের ধোঁকায় পরে ব্যভিচারে লিপ্ত হই। দুঃখজনক বিষয় হলো এর কিছুদিন পরে আমার গাড়ি চুরি হয়ে যায়। এভাবে আমার ব্যবসা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। আমি খুবই অনুতপ্ত। প্রশ্ন হল- আমি কি আল্লাহর ক্ষমা পাব এবং আমার বিবাহের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : ডাস্টবিনে রুটি ও খাবার ফেলা কি হারাম; অথচ সেগুলো এক রকম খাওয়ার উপযুক্ত নয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : একই আমল একাধিক নিয়তে করা যাবে কি? যেমন আইয়ামে বীযের ছিয়ামের তারিখে মাঝেমধ্যে সোম বা বৃহস্পতিবার পড়ে, এছাড়াও অন্যান্য অনেক আমল রয়েছে, যা আমল দেখতে একই কিন্তু তার ফযীলাত ভিন্ন ভিন্ন। তাহলে  সেই আমল একাধিক ফযীলত লাভের নিয়তে করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : ইসলামে বান্দার হক্ব তথা হাক্বুল ইবাদের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এখন কেউ যদি ঘুষ খায়, তাহলে তো বান্দার হক্ব সরাসরি বিনষ্ট হল। আর বান্দার হক্ব নষ্ট করলে, তা সেই বান্দার নিকট গিয়ে ক্ষমা চাইতে হয়। এখন ঘুষ খেলে তো পুরো দেশবাসীর নিকটই ক্ষমা চাইতে হবে! এমতাবস্থায় সে ব্যক্তির ব্যাপারে ক্বুরআন ও হাদীছের ফায়সালা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : ইসলামকে শুরু থেকে ধারাবাহিকভাবে জানতে চাইলে কোন্ বইগুলো পড়া উচিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭): ন্যায়পরায়ণ মুসলিম শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ