বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন
উত্তর : হাদীছটি সনদগত একটু ত্রুটি থাকলেও অর্থ ছহীহ। এ মর্মে আরো ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন,

أَعْظَمُ النِّسَاءِ بَرَكَةً أَيْسَرُهُنَّ مَئُوْنَةً وَفيْ لفظ إِنَّ أَعْظَمَ النِّكَاحِ بَرَكَةً أَيْسَرُهُ مَؤُوْنَةً

‘বরকতের দিক থেকে সর্বোত্তম নারী হল তারা যাদের খরচা বা চাহিদা অধিকতর কম’। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘বরকতের দিক থেকে সর্বোত্তম বিবাহ হল সেটি যাতে অধিকতর কম খরচ হয়’ (আহমাদ, হা/২৪৫২৯; আস-সুনানুল কুবরা নিন-নাসাঈ, হা/৯২২৯; মুস্তাদরাক হাকীম, হা/২৭৩২)। উপরিউক্ত হাদীছের একজন বর্ণনাকারী হলেন, ‘ইবনে সাখবারাহ’। তার প্রকৃত নাম কী? সে সম্পর্কে মুহাদ্দিছদের মধ্যে মতপার্থক্য আছে। অনেকে বলেছেন, তার নাম হল- ঈসা বিন মাইমুন আল-ওয়াসিত্বী। ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) তার সম্পর্কে বলেন, ‘মুনকিরুল হাদীছ’ অর্থাৎ সে হাদীছ বিরোধী রাবী। আবার অনেকে তাকে পরিত্যাজ্য রাবী হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। সেই জন্য অনেকেই এই সনদটিকে যঈফ বা দুর্বল বলেছেন (ইমাম শাওকানী (রাহিমাহুল্লাহ), আদ-দারারিয়্যুল মুজিয়্যাতু, পৃ. ২১৫; শাইখ মুহাম্মাদ নাছিরুদ্দীন আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ), সিলসিলা যঈফাহ, হা/১১১৭; হিদায়াতুর রুওয়াত, হা/৩০৩৩; শু‘আইব আল-আরনাউত্ব (রাহিমাহুল্লাহ), তাখরীজুল মুসনাদ, হা/২৪৫২৯; তাখরীজু যাদিল মা‘আদ, ৫/১৬১ পৃ.)। আবার কেউ কেউ তাকে গ্রহণযোগ্য বলেছেন। কারণ তারা মনে করেন যে, এই নামে দু’জন রাবী আছে, একজন গ্রহণযোগ্য আরেকজন পরিত্যাজ্য। যারা এমন বলেছেন, তাদের মধ্যে একজন হলেন ‘ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন’। খাত্বীব আল-বাগদাদী তার মতকে শক্তিশালী মনে করেছেন (মুওয়াজ্জিহু আওহামিল জামঈ ওয়াত-তাফরীক্ব, ১/২৯৮ পৃ.)। অনেকে ‘ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন’-এর মতামতটিকেই রাজিহ অর্থাৎ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মনে করেছেন। তাই হাফিয আল-ইরাক্বী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, إسناده جيد ‘এর সনদ উত্তম’ (আল-মুগনী আন হামলিল আসফার, ১/৩৮৬ পৃ.)।

তবে অর্থগত সমর্থক হিসাবে অনেক হাসান বা ছহীহ হাদীছ রয়েছে। আসলে অধিকতর হালকা বিবাহ বলতে ‘মোহরানা এবং ভরণ-পোষণের ব্যয় কম হওয়াকে’ বুঝানো হয়েছে। যেমন ইমাম ইবনে কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘উত্তম হল, বাড়াবাড়ি করে মোহরানা প্রদান না করা। কেননা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, أَعْظَمُ النِّسَاءِ بَرَكَةً أَيْسَرُهُنَّ مَئُونَةً ‘বরকতের দিক থেকে সর্বোত্তম নারী হল তারা যাদের খরচা বা চাহিদা অধিকতর কম’ (আল-মুগনী, ৭/২১২ পৃ.)। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, সুন্নাত হল, মোহরানা হালকা করা। নবী (ﷺ) তাঁর স্ত্রীদের এবং মেয়েদের জন্য মোহরানা বৃদ্ধি করেননি। কেননা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘বরকতের দিক থেকে সর্বোত্তম নারী হল তারা যাদের খরচা বা চাহিদা অধিকতর কম’ (মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ৩২/১৯২ পৃ.)। মোল্লা আলী ক্বারী বলেন, أَيْسَرُهُ ‘যার খরচা অধিকতর কম এবং সহজ’। مُؤْنَةٌ ‘যার মোহরানা এবং ভরণ-পোষণের ব্যয় কম’ (মিরক্বাতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাছাবীহ, ৫/২০৪৯ পৃ.)।

ইমাম মুনাবী (রাহিমাহুল্লাহ) ও ইমাম ছানা‘আনী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, خيرُ النِّكاحِ أيْسَرُهُ ‘সর্বোত্তম বিবাহ হল সেটি যা অধিকতর সহজ। অর্থাৎ যার মোহরানা এবং ভরণ-পোষণের ব্যয় কম। এবং তাড়াতাড়ি রাজি হয়ে যায়’ (ফাইযুল ক্বাদীর, ৩/৪৮২; আত-তানবীর, ২/৫০৩ পৃ.)। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেন, إِنَّ مِنْ يُمْنِ الْمَرْأَةِ: تَيْسِيرَ خِطْبَتِهَا ، وَتَيْسِيرَ صَدَاقِهَا ، وَتَيْسِيرَ رَحِمِهَا ‘একজন সৌভাগ্যবান মহিলার বৈশিষ্ট্য হল- তার বাগদান সহজ করা, তার মোহরানা সহজ করা এবং তার গর্ভধারণ সহজ করা’ (ছহীহুল জামি‘, হা/২২৩৫; ইরওয়াউল গালীল, ৬/৩৫০ পৃ.; তাখরীজুল মুসনাদ, হা/২৪৪৭৮; মাক্বাসিদুল হাসানা, পৃ. ২৪৪)। উক্ববাহ বিন আমীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, خيرُ النِّكاحِ أيْسَرُهُ ‘সর্বোত্তম বিবাহ হল সেটি যা অধিকতর সহজ বা সহজে সম্পন্ন হয়’ (আবূ দাঊদ, হা/২১১৭, হাদীছটিকে শাইখ আল্লামা নাছিরুদ্দীন আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) ও শাইখ শু‘আইব আল-আরনাউত্ব (রাহিমাহুল্লাহ) ছহীহ বলেছেন। সিলসিলা ছহীহাহ, হা/১৮৪২; তাখরীজু ছহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৪০৭২)। অতএব বিবাহ ও মোহরানা সকল ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় থেকে বিরত থাকা উচিত।


প্রশ্নকারী : আবু নাঈম, মানিকগঞ্জ।





প্রশ্ন (২১) : কোন ছেলে সন্তান না থাকায় পিতা কি তার জীবদ্দশায় সব সম্পত্তি মেয়ের নামে লিখে দিতে পারবে?   - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : ওযূ না করে আযান দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যখন আল্লাহ তা‘আলা যমীন সৃষ্টি করলেন তখন তা দুলতে লাগল। অতঃপর পাহাড়গুলো সৃষ্টি করে সেগুলো পৃথিবীর উপর স্থীর করেন। অতঃপর পৃথিবী স্থীর হয়ে গেল। ফেরেশতাগণ পাহাড়ের এ শক্তি দেখে আশ্চর্যান্বিত হলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে পাহাড় অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? আল্লাহ বললেন, হ্যাঁ; আর সেটা লোহা। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করল, হে প্রভু! আপনার সৃষ্টির মধ্যে লোহা অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আগুন। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে আগুন অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ; পানি। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে পানি অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ; বাতাস। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে বাতাস অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ; আদম সন্তান। যে তার ডান হাতে দান করে আর দানকে বাম হাত হতে গোপন রাখে। এ ঘটনাটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : গীবত করা যেনার চেয়ে বড় পাপ। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : আমি আগে হানাফী মাযহাবের অনুসারী ছিলাম। কয়েক বছর থেকে আহলেহাদীছের মাসলাক অনুসরণ করে থাকি আলহামদুলিল্লাহ। আগে থেকেই আমার বাসায় অনেক বিদ‘আতী কিতাব আছে। যেমন বেহেস্তি জেওর, নেয়ামুল কোরআন, ফাজায়েলে আমল ইত্যাদি ইত্যাদি রয়েছে। এখন এগুলো পুড়িয়ে ফেলা বা নষ্ট করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : মসজিদ কে কি masque বলা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : গরীব-মিসকীন ছাড়া কুরআনে উল্লেখিত আট শ্রেণীর অন্যদের মাঝে কি ফিতরা বণ্টন করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : বিয়েতে মেয়েকে কবুল বলাতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : মানুষের হাত, পা বা কোন অঙ্গ কেটে পড়ে গেলে সেটার কি গোসল, জানাযা ও দাফন করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : প্রচলিত চার মাযহাব কি স্ব স্ব ইমাম সৃষ্টি করেছেন, না-কি তাঁদের মৃত্যুর পরে তৈরি হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : আমরা জানি, দাদার আগে যদি বাবা মারা যান তাহলে নাতি/নাতনিরা দাদার সম্পত্তির অংশ পাবে না, সেক্ষেত্রে দাদা ওসিয়ত করতে পারবেন। আমার প্রশ্ন দাদা যদি ওসিয়ত করে না যান সেক্ষেত্রে নাতি/নাতনিরা কি কিছুই পাবে না? আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, ওসিয়ত যে করা যায় এই বিষয়টা অনেকে জানেন না। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : মেয়েদের বাচ্চা প্রসবের পর সাধারণত ৪০ দিন নাপাক থাকে এবং ছালাত, ছিয়াম ও কুরআন পড়া থেকে বিরত থাকে। প্রশ্ন হল- এই সময় তারা কিভাবে আল্লাহর ইবাদত বা স্মরণ করবে? সরাসরি কুরআন না পড়ে মোবাইল ধরে তাতে কুরআন পড়তে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ