বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ০১:২৬ পূর্বাহ্ন
উত্তর : হাদীছটি সনদগত একটু ত্রুটি থাকলেও অর্থ ছহীহ। এ মর্মে আরো ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন,

أَعْظَمُ النِّسَاءِ بَرَكَةً أَيْسَرُهُنَّ مَئُوْنَةً وَفيْ لفظ إِنَّ أَعْظَمَ النِّكَاحِ بَرَكَةً أَيْسَرُهُ مَؤُوْنَةً

‘বরকতের দিক থেকে সর্বোত্তম নারী হল তারা যাদের খরচা বা চাহিদা অধিকতর কম’। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘বরকতের দিক থেকে সর্বোত্তম বিবাহ হল সেটি যাতে অধিকতর কম খরচ হয়’ (আহমাদ, হা/২৪৫২৯; আস-সুনানুল কুবরা নিন-নাসাঈ, হা/৯২২৯; মুস্তাদরাক হাকীম, হা/২৭৩২)। উপরিউক্ত হাদীছের একজন বর্ণনাকারী হলেন, ‘ইবনে সাখবারাহ’। তার প্রকৃত নাম কী? সে সম্পর্কে মুহাদ্দিছদের মধ্যে মতপার্থক্য আছে। অনেকে বলেছেন, তার নাম হল- ঈসা বিন মাইমুন আল-ওয়াসিত্বী। ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) তার সম্পর্কে বলেন, ‘মুনকিরুল হাদীছ’ অর্থাৎ সে হাদীছ বিরোধী রাবী। আবার অনেকে তাকে পরিত্যাজ্য রাবী হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। সেই জন্য অনেকেই এই সনদটিকে যঈফ বা দুর্বল বলেছেন (ইমাম শাওকানী (রাহিমাহুল্লাহ), আদ-দারারিয়্যুল মুজিয়্যাতু, পৃ. ২১৫; শাইখ মুহাম্মাদ নাছিরুদ্দীন আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ), সিলসিলা যঈফাহ, হা/১১১৭; হিদায়াতুর রুওয়াত, হা/৩০৩৩; শু‘আইব আল-আরনাউত্ব (রাহিমাহুল্লাহ), তাখরীজুল মুসনাদ, হা/২৪৫২৯; তাখরীজু যাদিল মা‘আদ, ৫/১৬১ পৃ.)। আবার কেউ কেউ তাকে গ্রহণযোগ্য বলেছেন। কারণ তারা মনে করেন যে, এই নামে দু’জন রাবী আছে, একজন গ্রহণযোগ্য আরেকজন পরিত্যাজ্য। যারা এমন বলেছেন, তাদের মধ্যে একজন হলেন ‘ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন’। খাত্বীব আল-বাগদাদী তার মতকে শক্তিশালী মনে করেছেন (মুওয়াজ্জিহু আওহামিল জামঈ ওয়াত-তাফরীক্ব, ১/২৯৮ পৃ.)। অনেকে ‘ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন’-এর মতামতটিকেই রাজিহ অর্থাৎ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মনে করেছেন। তাই হাফিয আল-ইরাক্বী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, إسناده جيد ‘এর সনদ উত্তম’ (আল-মুগনী আন হামলিল আসফার, ১/৩৮৬ পৃ.)।

তবে অর্থগত সমর্থক হিসাবে অনেক হাসান বা ছহীহ হাদীছ রয়েছে। আসলে অধিকতর হালকা বিবাহ বলতে ‘মোহরানা এবং ভরণ-পোষণের ব্যয় কম হওয়াকে’ বুঝানো হয়েছে। যেমন ইমাম ইবনে কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘উত্তম হল, বাড়াবাড়ি করে মোহরানা প্রদান না করা। কেননা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, أَعْظَمُ النِّسَاءِ بَرَكَةً أَيْسَرُهُنَّ مَئُونَةً ‘বরকতের দিক থেকে সর্বোত্তম নারী হল তারা যাদের খরচা বা চাহিদা অধিকতর কম’ (আল-মুগনী, ৭/২১২ পৃ.)। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, সুন্নাত হল, মোহরানা হালকা করা। নবী (ﷺ) তাঁর স্ত্রীদের এবং মেয়েদের জন্য মোহরানা বৃদ্ধি করেননি। কেননা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘বরকতের দিক থেকে সর্বোত্তম নারী হল তারা যাদের খরচা বা চাহিদা অধিকতর কম’ (মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ৩২/১৯২ পৃ.)। মোল্লা আলী ক্বারী বলেন, أَيْسَرُهُ ‘যার খরচা অধিকতর কম এবং সহজ’। مُؤْنَةٌ ‘যার মোহরানা এবং ভরণ-পোষণের ব্যয় কম’ (মিরক্বাতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাছাবীহ, ৫/২০৪৯ পৃ.)।

ইমাম মুনাবী (রাহিমাহুল্লাহ) ও ইমাম ছানা‘আনী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, خيرُ النِّكاحِ أيْسَرُهُ ‘সর্বোত্তম বিবাহ হল সেটি যা অধিকতর সহজ। অর্থাৎ যার মোহরানা এবং ভরণ-পোষণের ব্যয় কম। এবং তাড়াতাড়ি রাজি হয়ে যায়’ (ফাইযুল ক্বাদীর, ৩/৪৮২; আত-তানবীর, ২/৫০৩ পৃ.)। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেন, إِنَّ مِنْ يُمْنِ الْمَرْأَةِ: تَيْسِيرَ خِطْبَتِهَا ، وَتَيْسِيرَ صَدَاقِهَا ، وَتَيْسِيرَ رَحِمِهَا ‘একজন সৌভাগ্যবান মহিলার বৈশিষ্ট্য হল- তার বাগদান সহজ করা, তার মোহরানা সহজ করা এবং তার গর্ভধারণ সহজ করা’ (ছহীহুল জামি‘, হা/২২৩৫; ইরওয়াউল গালীল, ৬/৩৫০ পৃ.; তাখরীজুল মুসনাদ, হা/২৪৪৭৮; মাক্বাসিদুল হাসানা, পৃ. ২৪৪)। উক্ববাহ বিন আমীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, خيرُ النِّكاحِ أيْسَرُهُ ‘সর্বোত্তম বিবাহ হল সেটি যা অধিকতর সহজ বা সহজে সম্পন্ন হয়’ (আবূ দাঊদ, হা/২১১৭, হাদীছটিকে শাইখ আল্লামা নাছিরুদ্দীন আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) ও শাইখ শু‘আইব আল-আরনাউত্ব (রাহিমাহুল্লাহ) ছহীহ বলেছেন। সিলসিলা ছহীহাহ, হা/১৮৪২; তাখরীজু ছহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৪০৭২)। অতএব বিবাহ ও মোহরানা সকল ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় থেকে বিরত থাকা উচিত।


প্রশ্নকারী : আবু নাঈম, মানিকগঞ্জ।





প্রশ্ন (৩৬) : পাঁচটি রাত জেগে ইবাদত করলে তার জন্য জান্নাত যরূরী হয়ে যাবে। (১) তারবিয়ার রাত বা যিলহজ্জের ৮ তারিখের রাত (২) ‘আরাফার রাত (৩) কুরবানীর রাত (৪) ঈদুল ফিতরের রাত ও (৫) ১৫ শা‘বানের রাত। উক্ত হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : ইসলামী বইপুস্তক যেমন- ফিক্বহ, আক্বীদা, তাফসীর ইত্যাদি বিষয়ক বইপুস্তকের উপর অন্য কোন জিনিসপত্র রাখা কিংবা ইসলামী বইপুস্তক একটার উপর আরেকটি রাখার ব্যাপারে আলেমগণের বক্তব্য কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : যে ব্যক্তি প্রত্যেক জুম‘আর দিন আমার উপর ৪০ বার দরূদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার ৪০ বছরের পাপ ক্ষমা করে দিবেন। আর যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করবে তার পক্ষ থেকে তা গ্রহণযোগ্য হবে এবং তার ৮০ বছরের পাপ আল্লাহ মাফ করে দিবেন (তাযকিরাতুল মাওযূ‘আত, পৃ. ৯০)। বর্ণনাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : যাকাত ওয়াজিব হওয়ার পর তা আদায়ের পূর্বে মালিক মৃত্যুবরণ করলে তার হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : আমার বয়স ২৪ বছর। আমি ছোট থেকে এই পর্যন্ত বহু মানুষের টাকা মেরেছি। আর জুয়া খেলে টাকা খেয়ে ফেলছি। তাদের কাছে টাকা পৌঁছে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তার জন্য আল্লাহর কাছে তাওবা করি। সবার টাকা আল্লাহর রাস্তায় দান করি তাদের জন্য, তাহলে কি আল্লাহ আমাকে মাফ করে দিবেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : আমার তৃতীয় স্ত্রীর আগের স্বামীর একটি সন্তান ছিল, সেই সন্তান এখন আমার সংসারে থাকে। তার ভরণ-পোষণ, যাবতীয় সকল খরচ আমাকে বহন করতে হচ্ছে। আমাকে প্রতি বছর যাকাত দিতে হয়। আমার স্ত্রীর আগের সন্তানের যে খরচ আমাকে বহন করতে হচ্ছে, সেই খরচ কি আমি যাকাত হিসাবে গণ্য করতে পারবো? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫): আমি একজন প্রবাসী। প্রবাসেই  রামাযানের ছিয়াম রাখি। প্রশ্ন হল- আমাকে কি আমার ফিতরা প্রবাসেই আদায় করতে হবে, না-কি দেশে আমার পরিবারকে আমার ফিতরা আদায় করার দায়িত্ব দিতে পারব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : ব্যাংকে টাকা থাকায় সেখান থেকে কিছু সূদের টাকা হয়েছে, সে টাকা কাদেরকে দিতে হবে? নিজ ভাগিনা ঋণগ্রস্ত হওয়ায় তার ঋণ পরিশোধ করার জন্য উক্ত টাকা দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : যাকাতের খাত কী কী? বিস্তারিত জানতে চাই। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : ইসলামী উপায়ে হিকমাহ বা প্রজ্ঞা বৃদ্ধির উপায় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : ঋণ দেয়ার সঠিক পদ্ধতি কী? ঋণ দেয়ার সময় যদি কেউ কাউকে সাক্ষী না রাখে, তাহলে কি সে গুনাহগার হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : হাদীছে এসেছে, ‘যা তোমার হাতে নেই তা বিক্রি করো না’ (আবূ দাঊদ, হা/৩৫০৩)। এই হাদীছের সঠিক ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ