উত্তর : এটি এক প্রকারের প্রতারণা। চাকরী, পরীক্ষায় নকল করা বা চিট করা, স্কলারশিপ, ক্রয়-বিক্রয় বা অন্য যে কোন বিষয়ে ধোঁকা দেয়া হারাম। এর ফলে দেশের লক্ষ লক্ষ মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, مَنْ غَشَّ فَلَيْسَ مِنِّي ‘যে ব্যক্তি ধোঁকাবাজি ও প্রতারণা করে, সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১০১-১০২)। শাইখ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,
الغش محرم في الاختبارات ، كما أنه محرم في المعاملات ، فليس لأحد أن يغش في الاختبارات في أي مادة ، وإذا رضي الأستاذ بذلك فهو شريكه في الإثم والخيانة
‘পরীক্ষায় নকল করা বা ধোঁকা দেয়া হারাম, যেরকম তা হারাম ব্যবসা-বাণিজ্যে, পরীক্ষায় কারোর জন্য কোন বিষয়ে নকল করা বা টুকলি করা বৈধ নয়। যখন কোন শিক্ষক তাতে সহযোগিতা করে, তখন সেও গুনাহ এবং খিয়ানতে অংশীদার হয়ে যায়’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ৬/৩৯৭ পৃ.)। শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, الغش في الامتحانات محرم ، بل من كبائر الذنوب ‘পরীক্ষায় নকল করা হারাম, বরং এটা কাবীরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত’ (ফাতাওয়া নূরু ‘আলাদ-দারব, ২/২৪ পৃ.)। এখন ভুল বুঝতে পারার পর যেহেতু সংশোধনের সুযোগ নেই। সেক্ষেত্রে আপনি কী করবেন? শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) ও ইমাম শাত্বিবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এক্ষেত্রে আপনাকে আল্লাহ তা‘আলার নিকট খালেছ অন্তরে তাওবাহ করতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা খালিছ তাওবাহর মাধ্যমে শিরকের মত ধ্বংসাত্মক, হত্যার মত মারাত্মক ও ব্যভিচারের মত জঘন্য গুনাহকেও ক্ষমা করার ঘোষণা করেছেন। যে ব্যক্তি স্বচ্ছ ও পবিত্র অন্তরে একনিষ্ঠ ও একাগ্রতার সহিত খালিছ তাওবাহ করে আল্লাহ তার তাওবাহ ক্ববুল করেন’ (গিযাউল আলবাব, ২/৫৮১; আল-ই’তিছাম, ২/২৮১; মাজাল্লাতুল বুহূছিল ইসলামিয়্যাহ, ১৪/১৮৩-১৮৫ পৃ.)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তবে যারা তাওবাহ করে, বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকাজ করে আল্লাহ তাদের পাপকর্মগুলোকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আর আল্লাহ্ চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (সূরা ফুরক্বান : ৬৮-৭)। অতএব আপনাকে বেশি-বেশি তাওবাহ, ইস্তিগফার, আমলে ছালিহ, ছালাত আদায়, ছাদাক্বা ইত্যাদি করতে হবে।
দ্বিতীয়তঃ পরীক্ষায় নকল করে বা চিট করে অর্জিত সার্টিফিকেট দেখিয়ে চাকুরী করে প্রাপ্ত বেতনের অর্থ হালাল হবে কি-না? এর উত্তরে শাইখ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘সর্ব প্রথমে পূর্বের পাপের জন্য তার উপর তাওবাহ করা অপরিহার্য। অতঃপর উক্ত সার্টিফিকেট দেখিয়ে হালাল চাকুরী করা তার জন্য বৈধ’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-২৭৯১২৯)। শাইখ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, একজন ব্যক্তি একটি সনদের ভিত্তিতে চাকরি করছে, অথচ এই সনদের পরীক্ষায় সে প্রতারণা করেছিল। এখন তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, সে এই কাজ ভালোভাবেই করছে। তার বেতনের হুকুম কী হবে, হালাল না হারাম? উত্তরে তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ কোনো দোষ নেই। তবে পরীক্ষায় প্রতারণা করার কারণে তার উচিত আল্লাহর নিকট তাওবাহ করা। আর যদি সে কাজটি যথাযথভাবে সম্পাদন করে থাকে, তাহলে তার উপার্জনের দিক থেকে কোন সমস্যা নেই, তবে সে পূর্বে যে প্রতারণা করেছে সেটি ভুল ছিল, আর তার উচিত সে ব্যাপারে আল্লাহর নিকট কঠোরভাবে তাওবাহ করা’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১৯/৩১ পৃ.)। এমন প্রশ্নের উত্তরে সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির আলেমগণ বলেন, এই কাজের বিনিময় স্বরূপ আপনি যে অর্থ উপার্জন করবেন, তার দ্বারা আপনার লাভবান বা উপকৃত হওয়া দোষনীয় নয়, কারণ আপনি যে বেতন নিয়েছেন তা পাঠদানের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করেছেন, এটি জায়েয’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১২/১৫৬ পৃ.)।
প্রশ্নকারী : সাবরিনা আমীন নীলা, চট্টগ্রাম।