বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ০১:২৭ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ‘মানব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি করা জায়েয নয়; বরং হারাম (মাজমা‘ আল-ফিক্বহী)। হারাম হওয়ার প্রমাণসমূহ-
(ক) মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তার ব্যক্তিগত মালিকানাভুক্ত নয়। শরী‘আত তাকে এগুলো বিক্রি করার অনুমতি দেয়নি। সুতরাং মানব অঙ্গ বিক্রি করা এমন কিছুর অন্তর্ভুক্ত, সে নিজে যার মালিক নয়। রাসূল (ﷺ) বলেন, لَا تَبِعْ مَا لَيْسَ عِنْدَكَ ‘তোমার কাছে যা নেই তা বিক্রি করো না’ (আবূ দাঊদ, হা/৩৫০৩; তিরমিযী, হা/১২৩২)।
(খ) মানুষের অঙ্গ বিক্রি করার মধ্যে মানুষের অবমাননা রয়েছে। অথচ আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে সম্মানিত করেছেন।
অতএব এই কাজ শরী‘আতের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। এই কারণেই আমরা দেখি যে, অধিকাংশ ফক্বীহ মানব অঙ্গ বিক্রির হারাম হওয়ার কারণ হিসাবে আল্লাহ্র পক্ষ থেকে মানুষের সম্মানিত হওয়াকে উল্লেখ করেছেন। মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আমি তো আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি,... এবং অনেকের উপর তাদেরকে যথেষ্ট শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি’ (সূরা বানী ইসরাঈল : ৭০)।

ইমাম শাত্বিবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘প্রাণ সংরক্ষণ এবং বুদ্ধি ও দেহের পরিপূর্ণতা- এগুলো বান্দাদের উপর আল্লাহ তা‘আলার অধিকার; বান্দাদের নিজস্ব অধিকার নয়। সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা যখন কোন বান্দার জীবন, দেহ ও বুদ্ধিকে পরিপূর্ণ করে দেন- যার মাধ্যমে সে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারে- তখন বান্দার পক্ষে তা বাতিল বা পরিত্যাগ করা ছহীহ নয়’ (আল-মুওয়াফাকাত, ২/৩৭৬ পৃ.)। ‘রাওদাতুত্ব ত্বালিবীন’ গ্রন্থে এসেছে, ‘কারো জন্য বৈধ নয় যে সে নিজের জন্য অন্য কোন নিরাপদ ব্যক্তির অঙ্গ কেটে নেবে; আবার কোন ব্যক্তির জন্যও বৈধ নয় যে সে নিজ অঙ্গ কেটে কোন বিপন্ন ব্যক্তিকে দেবে’ (রাওদাতুত্ব ত্বালিবীন, ৩/২৮৫)।

শাইখ আলাউদ্দীন আল-হাছকাফী (রাহিমাহুল্লাহ) যে জিনিসগুলো বিক্রি করা জায়েয নয়- তার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ‘মানুষের চুল (বিক্রি করা জায়েয নয়), আদম সন্তানের সম্মানের কারণে- যদিও সে কাফির হয়’ (আলাউদ্দীন আল-হাছকাফী, আদ্-দুররুল মুখতার, ২/৬৪ পৃ.)। ‘মুগনী আল-মুহতাজ’ গ্রন্থে এসেছে, ‘নিশ্চিতভাবে হারাম- কোন ব্যক্তির জন্য তার নিজের দেহের কোন অংশ কেটে তা অন্য কোনো বিপন্ন ব্যক্তিকে দেয়া’ (মুগনী আল-মুহতাজ, ৪/৪০০ পৃ.)। ‘মাজাল্লাতুল মাজমা‘ এ এসেছে, ড. আল-বার বলেন, ‘স্বাধীন মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি করা জায়েয নয়- এ বিষয়ে ফক্বীহগণ একমত (মাজাল্লাতুল মাজমা, সংখ্যা ৪, ১ম খণ্ড, পৃ. ১)।


প্রশ্নকারী : গোলাম রাব্বি, বরিশাল।





প্রশ্ন (১৪) : কাফের দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : সিজার করে সন্তান প্রসাব করানো কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইসলাম গ্রহণের সঠিক ঘটনা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : কাউকে শরী‘আত মোতাবেক চলতে বললে বা হাদীছের উপর আমল করতে বললে নানা অজুহাত পেশ করে তা প্রত্যাখ্যান করে। আরো বলে, আমরা সমস্ত হাদীছ মানতে বাধ্য নই। এ ধরনের লোকের পরিণাম কী হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : আল্লাহর নাম কি নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : কতিপয় মানুষ রাসূল (ﷺ)-এর উপর দরূদ পাঠের জন্য اللهم صل على نبينا محمد طب القلوب ودواء العافية এটা পড়ে থাকে। এটা কি শরী‘আতসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : শরী‘আতে হালাল-হারাম ঘোষণা করার অধিকার কার? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : আমি আমার এক বন্ধুকে ব্যবসা করার জন্য ৫ লক্ষ টাকা ঋণ দিয়েছি। শর্ত হল- এই টাকা দিয়ে সে ব্যবসা করবে, তার ব্যবসার মোট মূলধন ১০ লক্ষ এবং আমার ৫ লক্ষ মোট ১৫ লক্ষ টাকা। শর্ত হল- ব্যবসায়ে মাসে যা ইনকাম হবে তার তিন ভাগের দুই ভাগ পরিচালনা খরচ অর্থাৎ কর্মচারীর বেতন, দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ইত্যাদি বাবদ কর্তন হবে। বাকি তিন ভাগের এক ভাগ ১৫ লক্ষ টাকার আনুপাতিক হারে আমার ৫ লক্ষ টাকার মুনাফা পাব। যেমন মাসের লাভ হল ৪৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৩০ হাজার টাকা পরিচালনা খাত অর্থাৎ বেতন, ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ইত্যাদি বাবদ। বাকি ১৫০০০ টাকার ভাগ হবে, তাহলে আমি পাব ৫০০০ টাকা। যেহেতু আমার মূলধন ৫ লক্ষ আর সে পাবে ১০০০০। যেহেতু তার মূলধন ১০ লক্ষ, প্রশ্ন হল- উক্ত পদ্ধতিতে ব্যবসা করা কি হালাল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : জর্দা খাওয়া কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : অবৈধ সন্তানের আক্বীক্বা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : বড় অপবিত্রতা থেকে গোসল করার পদ্ধতি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : ‘যে ব্যক্তি কাতার মিলাবে, আল্লাহও তাকে তাঁর রহমত দ্বারা মিলাবেন। আর যে ব্যক্তি কাতার ভঙ্গ করবে, আল্লাহও তাকে তাঁর রহমত হতে কর্তন করবেন’। উক্ত হাদীছ কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ