শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ‘মানব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি করা জায়েয নয়; বরং হারাম (মাজমা‘ আল-ফিক্বহী)। হারাম হওয়ার প্রমাণসমূহ-
(ক) মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তার ব্যক্তিগত মালিকানাভুক্ত নয়। শরী‘আত তাকে এগুলো বিক্রি করার অনুমতি দেয়নি। সুতরাং মানব অঙ্গ বিক্রি করা এমন কিছুর অন্তর্ভুক্ত, সে নিজে যার মালিক নয়। রাসূল (ﷺ) বলেন, لَا تَبِعْ مَا لَيْسَ عِنْدَكَ ‘তোমার কাছে যা নেই তা বিক্রি করো না’ (আবূ দাঊদ, হা/৩৫০৩; তিরমিযী, হা/১২৩২)।
(খ) মানুষের অঙ্গ বিক্রি করার মধ্যে মানুষের অবমাননা রয়েছে। অথচ আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে সম্মানিত করেছেন।
অতএব এই কাজ শরী‘আতের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। এই কারণেই আমরা দেখি যে, অধিকাংশ ফক্বীহ মানব অঙ্গ বিক্রির হারাম হওয়ার কারণ হিসাবে আল্লাহ্র পক্ষ থেকে মানুষের সম্মানিত হওয়াকে উল্লেখ করেছেন। মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আমি তো আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি,... এবং অনেকের উপর তাদেরকে যথেষ্ট শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি’ (সূরা বানী ইসরাঈল : ৭০)।

ইমাম শাত্বিবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘প্রাণ সংরক্ষণ এবং বুদ্ধি ও দেহের পরিপূর্ণতা- এগুলো বান্দাদের উপর আল্লাহ তা‘আলার অধিকার; বান্দাদের নিজস্ব অধিকার নয়। সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা যখন কোন বান্দার জীবন, দেহ ও বুদ্ধিকে পরিপূর্ণ করে দেন- যার মাধ্যমে সে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারে- তখন বান্দার পক্ষে তা বাতিল বা পরিত্যাগ করা ছহীহ নয়’ (আল-মুওয়াফাকাত, ২/৩৭৬ পৃ.)। ‘রাওদাতুত্ব ত্বালিবীন’ গ্রন্থে এসেছে, ‘কারো জন্য বৈধ নয় যে সে নিজের জন্য অন্য কোন নিরাপদ ব্যক্তির অঙ্গ কেটে নেবে; আবার কোন ব্যক্তির জন্যও বৈধ নয় যে সে নিজ অঙ্গ কেটে কোন বিপন্ন ব্যক্তিকে দেবে’ (রাওদাতুত্ব ত্বালিবীন, ৩/২৮৫)।

শাইখ আলাউদ্দীন আল-হাছকাফী (রাহিমাহুল্লাহ) যে জিনিসগুলো বিক্রি করা জায়েয নয়- তার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ‘মানুষের চুল (বিক্রি করা জায়েয নয়), আদম সন্তানের সম্মানের কারণে- যদিও সে কাফির হয়’ (আলাউদ্দীন আল-হাছকাফী, আদ্-দুররুল মুখতার, ২/৬৪ পৃ.)। ‘মুগনী আল-মুহতাজ’ গ্রন্থে এসেছে, ‘নিশ্চিতভাবে হারাম- কোন ব্যক্তির জন্য তার নিজের দেহের কোন অংশ কেটে তা অন্য কোনো বিপন্ন ব্যক্তিকে দেয়া’ (মুগনী আল-মুহতাজ, ৪/৪০০ পৃ.)। ‘মাজাল্লাতুল মাজমা‘ এ এসেছে, ড. আল-বার বলেন, ‘স্বাধীন মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি করা জায়েয নয়- এ বিষয়ে ফক্বীহগণ একমত (মাজাল্লাতুল মাজমা, সংখ্যা ৪, ১ম খণ্ড, পৃ. ১)।


প্রশ্নকারী : গোলাম রাব্বি, বরিশাল।





প্রশ্ন (৩) : নখে রঙ লাগিয়ে তথা নেইল পলিশ লাগিয়ে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) কি নির্দিষ্ট কোন মাযহাবের অনুসরণ করতেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : সকাল-সন্ধ্যায় সূরা ইখলাছ, ফালাক্ব ও নাস পাঠের সময় আঊযুবিল্লাহ-সহ বিসমিল্লাহ বলে পাঠ করতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : ‘যে ব্যক্তি সব মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীর জন্য দু‘আ করবে আল্লাহ তাকে প্রতিটি মুমিন পুরুষ ও নারীর পরিবর্তে একটি করে পুণ্য দেবেন’। হাদীছটি কী ছহীহ? ছহীহ হলে কোন্ দু‘আটি পড়তে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : ব্যভিচার বৃদ্ধি পেলে দরিদ্রতা আসে। এ কথা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : আমার স্ত্রী ছালাতের ওয়াক্ত হওয়ার সাথে সাথেই ছালাত আদায় করার চেষ্টা করে। ঢাকাতে যোহরের ওয়াক্ত শুরু হয় ১২.০৪ মিনিটে। এর পরপরই সে ছালাত পড়ে নেয়। সেক্ষেত্রে কোন অসুবিধা আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : জামা‘আতে ছালাত আদায়ের সময় ইমাম যদি মেহেরাব ছেড়ে দাঁড়ান, তাহলে প্রথম রাক‘আতের ছাওয়াব  পাওয়া যাবে কি এবং এভাবে কি ছালাত আদায় করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : কেউ যদি কারো গীবত, নিন্দা, সমালোচনা করে ফেলে এবং পরে যদি সে অনুতপ্ত হয় যে, আমি ঠিক করিনি। তখন যার গীবত করা হয়েছে তার কাছে যদি সে ক্ষমা চাইতে চায়, কিন্তু যার গীবত করেছে তাকে যদি না পায়, তাহলে আল্লাহর কাছে সে কিভাবে ক্ষমা চাইবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : একদিন মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে তার নাতি হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি বড় না আপনি বড়? তখন নবী (ﷺ) বললেন যে, ‘তিনি বড়’। তখন হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলল, ‘না, আমি বড়’। তখন নবী (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, কীভাবে? তিনি বললেন, ‘আপনার পিতার নাম কী?’ নবী (ﷺ) বললেন, আব্দুল্লাহ। হোসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলল, ‘আমার বাবা আলী, যাকে আল্লাহর সিংহ বলা হয়েছে’। ...পরিশেষে নবী (ﷺ) বলেন, ‘হোসাইন তুমিই বড়’। উক্ত ঘটনাটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : কুরবানীর পশুর বয়স কত হতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : অনেকে মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রাহিমাহুল্লাহ)-কে শয়তানের শিং বলে অভিহিত করে থাকে। এটা কি ঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : ঈমানদার জিনরা কি ঈমানদার মানুষের সাথে বিবাহ করতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ