বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ‘মানব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি করা জায়েয নয়; বরং হারাম (মাজমা‘ আল-ফিক্বহী)। হারাম হওয়ার প্রমাণসমূহ-
(ক) মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তার ব্যক্তিগত মালিকানাভুক্ত নয়। শরী‘আত তাকে এগুলো বিক্রি করার অনুমতি দেয়নি। সুতরাং মানব অঙ্গ বিক্রি করা এমন কিছুর অন্তর্ভুক্ত, সে নিজে যার মালিক নয়। রাসূল (ﷺ) বলেন, لَا تَبِعْ مَا لَيْسَ عِنْدَكَ ‘তোমার কাছে যা নেই তা বিক্রি করো না’ (আবূ দাঊদ, হা/৩৫০৩; তিরমিযী, হা/১২৩২)।
(খ) মানুষের অঙ্গ বিক্রি করার মধ্যে মানুষের অবমাননা রয়েছে। অথচ আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে সম্মানিত করেছেন।
অতএব এই কাজ শরী‘আতের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। এই কারণেই আমরা দেখি যে, অধিকাংশ ফক্বীহ মানব অঙ্গ বিক্রির হারাম হওয়ার কারণ হিসাবে আল্লাহ্র পক্ষ থেকে মানুষের সম্মানিত হওয়াকে উল্লেখ করেছেন। মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আমি তো আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি,... এবং অনেকের উপর তাদেরকে যথেষ্ট শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি’ (সূরা বানী ইসরাঈল : ৭০)।

ইমাম শাত্বিবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘প্রাণ সংরক্ষণ এবং বুদ্ধি ও দেহের পরিপূর্ণতা- এগুলো বান্দাদের উপর আল্লাহ তা‘আলার অধিকার; বান্দাদের নিজস্ব অধিকার নয়। সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা যখন কোন বান্দার জীবন, দেহ ও বুদ্ধিকে পরিপূর্ণ করে দেন- যার মাধ্যমে সে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারে- তখন বান্দার পক্ষে তা বাতিল বা পরিত্যাগ করা ছহীহ নয়’ (আল-মুওয়াফাকাত, ২/৩৭৬ পৃ.)। ‘রাওদাতুত্ব ত্বালিবীন’ গ্রন্থে এসেছে, ‘কারো জন্য বৈধ নয় যে সে নিজের জন্য অন্য কোন নিরাপদ ব্যক্তির অঙ্গ কেটে নেবে; আবার কোন ব্যক্তির জন্যও বৈধ নয় যে সে নিজ অঙ্গ কেটে কোন বিপন্ন ব্যক্তিকে দেবে’ (রাওদাতুত্ব ত্বালিবীন, ৩/২৮৫)।

শাইখ আলাউদ্দীন আল-হাছকাফী (রাহিমাহুল্লাহ) যে জিনিসগুলো বিক্রি করা জায়েয নয়- তার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ‘মানুষের চুল (বিক্রি করা জায়েয নয়), আদম সন্তানের সম্মানের কারণে- যদিও সে কাফির হয়’ (আলাউদ্দীন আল-হাছকাফী, আদ্-দুররুল মুখতার, ২/৬৪ পৃ.)। ‘মুগনী আল-মুহতাজ’ গ্রন্থে এসেছে, ‘নিশ্চিতভাবে হারাম- কোন ব্যক্তির জন্য তার নিজের দেহের কোন অংশ কেটে তা অন্য কোনো বিপন্ন ব্যক্তিকে দেয়া’ (মুগনী আল-মুহতাজ, ৪/৪০০ পৃ.)। ‘মাজাল্লাতুল মাজমা‘ এ এসেছে, ড. আল-বার বলেন, ‘স্বাধীন মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি করা জায়েয নয়- এ বিষয়ে ফক্বীহগণ একমত (মাজাল্লাতুল মাজমা, সংখ্যা ৪, ১ম খণ্ড, পৃ. ১)।


প্রশ্নকারী : গোলাম রাব্বি, বরিশাল।





প্রশ্ন (২৪) : তারাবীহর ছালাত চলছে। এমতাবস্থায় এশার ফরয ছালাত আদায়ের নিয়ত করে তারাবীহর জামা‘আতে শরীক হওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : আল্লাহকে ‘খোদা’ বলে ডাকা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : ইমামের কুরআন তেলওয়াত শুদ্ধ না হলে, মুক্তাদির ছালাত হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : কুরবানীর চামড়ার টাকা কিভাবে বণ্টন করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : কারো বিরুদ্ধে বদদু‘আ করা বৈধ কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৪) : কোন ব্যক্তির মেহমানের সঙ্গে বাড়ীর দরজা পর্যন্ত বের হওয়া কি সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : কেউ কোন নারীকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার জন্য করণীয় কী? সে কি অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : সন্তানের নাম রাফি, রাব্বি, আবুল কাশেম, মীম, নুন, আলিফ, বাদশা রাখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : আল্লাহ তা‘আলা যে আমাদের রিযিক্ব লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন, সেটা কি আমাদের চেষ্টা বা কৃতকর্মের উপরে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন, না-কি আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছা অনুযায়ী লিপিবদ্ধ রেখেছেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪): ‘চুরি হওয়া মাল ছাদাক্বাহস্বরূপ’- কথাটি কি ইসলামসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : স্বামী যদি বলে ‘I divorced you' অর্থাৎ ‘আমি তোমাকে ত্বালাক্ব দিলাম’। অতঃপর স্ত্রী যদি বলে বিষয়টি ক্লিয়ার করে দাও। স্বামী যদি বলে দিলামই তো। এভাবে বললে কি ত্বালাক্ব হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : টাখনুর নীচে কাপড় পরিধান করা অহংকারের লক্ষণ। প্রশ্ন হল- কেউ অহংকার না করে টাখনুর নীচে কাপড় ঝুলিয়ে পরতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ