শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৮ অপরাহ্ন
উত্তর : ঈমানের শাব্দিক অর্থ হলো- স্বীকার করা, সত্যায়ন করা। আর ইসলাম অর্থ আত্মসমর্পণ করা, আনুগত্য করা, মেনে নেয়া ইত্যাদি। শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, ইবনে রজব হাম্বালী, ইমাম ইবনে কাছীর, শায়খ ইবনে বায, শায়খ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আল্লাহর নির্দেশাবলীর সামনে আনুগত্যের মাথা নতকারী প্রত্যেক ব্যক্তিকে মুসলিম বলা হয়। এই দিক দিয়ে প্রত্যেক মুমিনই মুসলিম। তাই প্রথমে তাদের জন্য মুমিন শব্দ ব্যবহার করা হয় এবং পরে আবার তাদেরই জন্য মুসলিম শব্দ ব্যবহার করা হয়। এ থেকে প্রমাণ করা হয়েছে যে, লক্ষ্যার্থে উভয় শব্দের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই, যদিও অনেকে পার্থক্য করে থাকেন। কুরআনে কোথাও মুমিন আবার কোথাও মুসলিম শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। সেটা কিন্তু আরবী অভিধানে যে অর্থগুলো বলা হয়েছে সে দিক থেকে। কাজেই আভিধানিক প্রয়োগের তুলনায় শরী‘আতের পরিভাষাই বেশি প্রযোজ্য। কখনো কখনো ঈমান ও ইসলাম শব্দদ্বয় একই সঙ্গে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো কখনো একে অপর থেকে পৃথকভাবেও ব‌্যবহৃত হয়। যখন ঈমান ও ইসলাম শব্দদ্বয় একই সঙ্গে ব্যবহৃত হয়, তখন কিন্তু এরা পৃথক পৃথক অর্থে ব্যবহৃত হয়। তখন অভ্যন্তরীণ আমলকে ঈমান বলা হয়, আর বাহ্যিক আমলকে ইসলাম বলা হয়। প্রকৃতপক্ষে শারঈ পরিভাষার দিক দিয়ে উভয় শব্দের মধ্যে পার্থক্য শুধু ততটুকুই, যতটুক হাদীছে জিবরীল দ্বারা প্রমাণিত (ছহীহ বুখারী, হা/৫০; ছহীহ মুসলিম, হা/৯)।

সুতরাং এখানে ঈমান ও ইসলামের মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে। ইসলাম বলতে বুঝানো হয়েছে, বাহ্যিক আমল অর্থাৎ মুখের স্বীকারোক্তি ও দৈহিক আমলকে। আর ঈমান বলতে বুঝানো হয়েছে, অভ্যন্তরীণ আমল যথা অন্তরের বিশ্বাসকে। যেমন আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন: ‘বেদুঈনরা বলে, ‘আমারা ঈমান আনলাম’। বলুন, ‘তোমরা ঈমান আননি, বরং তোমারা বল, ‘আমরা আত্মসমর্পণ করেছি’ (অর্থাৎ ইসলাম গ্রহণ করেছি)। কারণ ঈমান এখনো তোমাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি। আর যদি তোমরা আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর তবে তিনি তোমাদের আমলসমূহের ছওয়াব সামান্য পরিমাণও লাঘব করবেন না। নিশ্চয় আল্লাহ‌ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (সূরা আল-হুজুরাত : ১৪)।

এখানে ঈমানকে অন্তরের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এই আয়াত থেকে বুঝা যায়, ইসলামের থেকে ঈমান মর্যাদার দিক দিয়ে অনেক ঊর্ধ্বে। কেননা ইসলাম কখনো কখনো মুমিনদের বৈশিষ্ট্য হয়ে থাকে, আবার কখনো কখনো মুনাফিক্বদেরও বৈশিষ্ট্য হয়ে থাকে। আর যখন ঈমান ও ইসলাম একে অপর থেকে পৃথকভাবে ব‌্যবহৃত হয়, তখন কিন্তু এরা একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। তাই কেউ যদি বলে, ‘আমি মুমিন’ অথবা ‘আমি মুসলিম’ এখানে দু’য়ের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। এই দিক দিয়ে প্রত্যেক মুমিনই মুসলিম এবং প্রত্যেক মুসলিমই হল মুমিন। আর যাঁরা মুমিন ও মুসলিমের মধ্যে পার্থক্য করেন, তাঁরা বলেন যে, এ কথা ঠিকই যে, এখানে কুরআন একই দলের জন্য মুমিন ও মুসলিম শব্দ ব্যবহার করেছে, তবে এর মধ্যে যে পার্থক্য আছে। সেই দিক দিয়ে প্রত্যেক মুমিন হল মুসলিম, কিন্তু প্রত্যেক মুসলিম মুমিন নাও হতে পারে। তাই বলা যেতে পারে, যদি ঈমান ও ইসলাম শব্দদ্বয় একই বাক্যে আসে, তাহলে ‘ইসলাম’ অর্থ হবে প্রকাশ্য আমল। আর ‘ঈমান’ অর্থ হবে আভ্যন্তরীণ বিশ্বাস। অথবা অভ্যন্তরীণ জিনিসগুলোর প্রতি বিশ্বাস রাখার নাম হল ঈমান এবং বিধি-বিধান ও ফরয কার্যাদি পালন করার নাম হল ইসলাম। যাই হোক এটা একটি ইলমী মতভেদ। আর প্রত্যেক দলের কাছে স্ব স্ব মতের পক্ষে দলীলও আছে। (মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ৭/১৩-১৫, ৭/৪২১-৪২৪ ও ৪৭২-৪৭৪; ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ র্দাব ইবনে বায, ৪/১৯৭; মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল ইবনে উছাইমীন, ১/৪৭-৪৯, ৪/৯২ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১৪৮৭৯৩)।


প্রশ্নকারী : মুহাম্মাদ মিনহাজ পারভেজ,  হড়গ্রাম, রাজশাহী।




প্রশ্ন (১) : ক্বিয়ামতের আগে কোন মুমিন থাকবে না এবং কেউ আল্লাহর নাম স্মরণ করবে না। এটি কি ক্বিয়ামতের পূর্বমুহূর্র্তে, না-কি দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের পূর্ববর্তী সময়ে? উল্লেখ্য, ক্বিয়ামতের পূর্বে মুমিনদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং দ্বীনের বিজয় হবে। তাহলে এর ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : আমাদের এলাকায় অনেকেই ফজর ছালাতের পর ১৯ বার ‘বিসমিল্লা-হ’ পাঠ করে থাকে। এটা কতটুকু শরী‘আতসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : গরীব-মিসকীন ছাড়া কুরআনে উল্লেখিত আট শ্রেণীর অন্যদের মাঝে কি ফিতরা বণ্টন করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : হায়েয  বা অসুস্থতার কারণে ভঙ্গ হওয়া ছিয়াম কিভাবে আদায় করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : কুরবানীর চামড়ার টাকা মসজিদ ও মাদরাসায় দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : ‘ইয়া মুহাম্মদ! শাফা‘আত (চাই)’। এ কথাটি কি শিরক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : কোন কারণে গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেলে এবং সিজারের মাধ্যমে সন্তান ভূমিষ্ট হলে ঐ মহিলাদ্বয়ের ইদ্দতকাল কতদিন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : কিভাবে আল্লাহর সাথে শিরক সংঘটিত হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : ‘মসজিদে হারাম, মসজিদে নববী ও মসজিদে আক্বছা ব্যতীত অন্য কোন মসজিদে ই‘তিকাফ করা যাবে না। এ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : বিশেষ ফযীলত মনে করে নির্দিষ্ট করে শুধুই ১৫ই শা‘বান ছিয়াম পালন করা যাবে কি? শা‘বান মাসে ছিয়াম পালনের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : বিবাহিত পুরুষ কুমারী মেয়ের সাথে যেনা করলে ইসলামী শরী‘আতে তার শাস্তি কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : কেমন ব্যক্তি চাঁদ দেখার সাক্ষী দিলে ছিয়াম রাখা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ