উত্তর : বর্তমানে উপহার প্রদানের প্রচলনটি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। এটা শরী‘আত সম্মত নয়। কারণ এই দাওয়াতে ধনীদের দাওয়াত দেয়া হয় দামী উপহারের আশায়। আর গরীবদের বঞ্চিত করা হয়। এটা শরী‘আতে নিষিদ্ধ। রাসূল (ﷺ) বলেন, ‘নিকৃষ্ট আহার হল ওয়ালীমার ঐ আহার, যাতে কেবল ধনীদের দাওয়াত দেয়া হয় এবং গরীবদের বাদ দেয়া হয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫১৭৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১৪৩২)। অতএব দামী উপহারের আশায় শুধু ধনীদের দাওয়াত দেয়া নিষিদ্ধ। ওয়ালীমাকে ব্যবসার অনুষ্ঠানে পরিণত করা যাবে না। যেখানে চেয়ার টেবিল নিয়ে উপহার গ্রহণ ও নিবন্ধনের আয়োজন করা হয়, তা ভিক্ষাবৃত্তি ছাড়া কিছুই নয়। তবে আনন্দচিত্তে খুশি উপলক্ষে উপহার দেয়া বৈধ। উপহার বিনিময়ে পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। রাসূল (ﷺ) বলেন, ‘তোমরা হাদিয়া বিনিময় করো ও ভালোবাসা বৃদ্ধি করো’ (ছহীহুল জামি’, হা/৩০০৪)।
সুতরাং কোনরূপ শর্ত, শ্রুতি ও প্রদর্শনী ছাড়াই হাদিয়া দেয়া বা গ্রহণ করা মোটেও দোষনীয় নয়। শাইখ মুহাম্মাদ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘অনেক দেশে মানুষের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী খুশির উপলক্ষে- যেমন কারো বিয়ে হলে, কারো ঘরে সন্তান জন্মালে, কিংবা এ ধরনের অন্য কোন আনন্দঘন অনুষ্ঠানে উপহার প্রদান করা হয়; এতে কোন দোষ নেই; বরং এটি একটি ভালো কাজ। কারণ এতে আর্থিক সহমর্মিতা প্রকাশ পায় এবং এমন সব উপলক্ষে অন্যদের সাহায্য করা হয়, যেখানে সাধারণত ব্যয়ের পরিমাণ বেশি হওয়ার কারণে অর্থের প্রয়োজন বেশি হয় (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১৪২৩১৭)। তাই আত্মীয়-স্বজন আনন্দচিত্তে কিছু উপহার দিলে তা গ্রহণ করা জায়েয ও উত্তম। উল্লেখ্য যে, বন্ধুত্বের খাতিরে কিছু চেয়ে নিলে তাতেও কোন সমস্যা নেই (ছহীহ বুখারী, হা/১২৭৭)। এমনকি অভাবী ব্যক্তির ওয়ালীমাকে সহজ করার জন্য সাহায্য করা মুস্তাহাব। রাসূল (ﷺ)-এর ওয়ালীমায় সাহায্য করার উদ্দেশ্যে রান্না করা গোস্ত-রুটি হাদিয়া স্বরূপ পাঠানো হয়েছিল এবং তিনি সবাইকে ডেকে তা খাইয়েছিলেন (ছহীহ বুখারী, হা/৫১৬৩)।
প্রশ্নকারী : তানভীর আহমাদ, মোমেনশাহী সেনানিবাস।