রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:২৯ অপরাহ্ন
উত্তর : সালাফে ছালেহীনের বিরোধিতাকারীদের হুকুম বর্ণনায় افتراق الأمة তথা ‘উম্মতের বিভক্তি’ সংক্রান্ত হাদীছে অতিরিক্তি কিছু বলা হয়নি। সুতরাং সালাফে ছালেহীনের নিকটে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কথা كُلُّهَا فِى النَّارِ إِلَّا وَاحِدَةً দ্বারা এ কথা বুঝানো হয়নি যে, যারাই সালাফে ছালেহীনদের বিরোধিতা করবে, তারই জাহান্নামী হবে বা শাস্তি ভোগ করবে। এটি একটি সাধারণ ধমক সম্বলিত হাদীছ। মহান আল্লাহ বলেন, وَ مَنْ يَّعْصِ اللّٰهَ وَ رَسُوْلَهٗ وَ يَتَعَدَّ حُدُوْدَهٗ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيْهَا ‘আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করে এবং তার নির্দিষ্ট সীমাসমূহ অতিক্রম করে, তিনি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন, যেখানে সে চিরকাল অবস্থান করবে’ (সূরা আন-নিসা : ১৪)। তিনি আরো বলেন, اِنَّ الَّذِيْنَ يَاْكُلُوْنَ اَمْوَالَ الْيَتٰمٰى ظُلْمًا اِنَّمَا يَاْكُلُوْنَ فِيْ بُطُوْنِهِمْ نَارًا١ؕ وَ سَيَصْلَوْنَ سَعِيْرًاؒ ‘যারা অন্যায়ভাবে ইয়াতীমদের ধন-সম্পত্তি গ্রাস করে, নিশ্চয় তারা স্বীয় উদরে অগ্নি ব্যতীত কিছুই ভক্ষণ করে না এবং সত্বরই তারা অগ্নি শিখায় উপনীত হবে’ (সূরা আন-নিসা : ১০)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, مَنِ اقْتَطَعَ حَقَّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ بِيَمِينِهِ فَقَدْ أَوْجَبَ اللهُ لَهُ النَّارَ وَحَرَّمَ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ ‘যে ব্যক্তি কসমের মাধ্যমে কোন মুসলিমের হক দখল করে, আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য জাহান্নাম নির্ধারণ করে রেখেছেন’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৩৭)। অন্যত্র ইবনু মাসঊদের (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হাদীছে বর্ণিত হয়েছে, لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِىْ قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ كِبْرٍ ‘যার অন্তরে সরিষা পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৯১; মিশকাত, হা/৫১০৮)। এ জাতীয় অর্থাৎ সাধারণ ধমকের ব্যাপারে আরো অনেক দলীল রয়েছে।
সুতরাং এই হাদীছের মধ্যে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত হতে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ব্যাপারে শাস্তির আবশ্যকতা বর্ণনা করা হয়েছে। কেননা যে ব্যক্তি আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত হতে বিচ্ছিন্ন হয় এটা দ্বারা অবশ্যই তার শৈথিল্যতা প্রমাণিত হয়। আর এতে কোন সন্দেহ নেই যে, নিশ্চয় শৈথিল্যবাদী বিভিন্ন ওয়াজিব কার্যাদির মধ্যে হতে কোন একটি পরিত্যাগ করে। আর যে ব্যক্তি কোন ওয়াজিব ছেড়ে দিবে অথবা তার মধ্যে সংকুচিত করবে তবে সে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার শাস্তির সম্মুখীন হবে (ইবনু তায়মিয়্যাহ, শারহু হাদীছিল ইফতিরাক্ব, পৃ. ৩৩-৩৫)।


প্রশ্নকারী : আব্দুল আযীয, খুলনা।





প্রশ্ন (৪) : যে ব্যক্তির জানাযা হয়েছে তার গায়েবানা জানাযা পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : আশূরার দিনে সংঘটিত হওয়া কোন্ কোন্ ঘটনা ছহীহ ও প্রমাণিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : ‘যে ব্যক্তি কাতার মিলাবে, আল্লাহও তাকে তাঁর রহমত দ্বারা মিলাবেন। আর যে ব্যক্তি কাতার ভঙ্গ করবে, আল্লাহও তাকে তাঁর রহমত হতে কর্তন করবেন’। উক্ত হাদীছ কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : যারা ছিয়াম পালন করে না তাদেরকে ফিতরা আদায় করতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : জানাযার ছালাতে দাঁড়ানোর সময় পায়ে পায়ে মিলিয়ে দাঁড়াতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : কোর্ট ম্যারেজ এবং কোর্টের মাধ্যমে ত্বালাক্ব দেয়া সম্পর্কে ইসলামের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৮) : মানুষ মারা গেলে চল্লিশা করা কি ঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : আল্লাহর নাম কি নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : রাসূল (ﷺ) ফরয গোসলের ওযূর পর আর ছালাতের জন্য ওযূ করতেন না (তিরমিযী, হা/১০৭; আবূ দাঊদ, হা/২৫০; নাসাঈ, হা/২৫২; ইবনু মাজাহ, হা/৫৭৯)। প্রশ্ন হল- আমি তো ফরয গোসলের নিয়তে এই ওযূ করি কিন্তু ছালাত পড়ার নিয়তে ওযূ করি না। এখন আমি কি পুনরায় ছালাতের নিয়তে ওযূ করব, না-কি ফরয গোসলের নিয়তে যে ওযূ করেছি তাতেই হয়ে যাবে। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৯) : জনৈক বক্তা বলেন, যে বান্দা রামাযানের ছিয়াম পালন করে তার সাথে প্রত্যেক দিন তাঁবুতে সুরক্ষিত হুরদের মধ্য হতে একজনকে বিবাহ দিয়ে দেন। প্রত্যেক স্ত্রীর সাথে ৭০টি দামী কাপড় থাকবে। প্রত্যেকটির রং হবে পৃথক পৃথক। তাকে ৭০ প্রকারের সুগন্ধিযুক্ত রং দেয়া হবে। এক রঙের সাথে অন্য রঙ মিলবে না। প্রত্যেকেই বসে থাকবে হীরার খাটে, যাতে মুক্তা দ্বারা বিন্যস্ত করা থাকবে ৭০টি বিছানা, যার আস্তর থাকবে রেশমের। ৭০টি বিছানার উপর থাকবে ৭০টি পালঙ্ক। প্রত্যের স্ত্রীর জন্য থাকবে ৭০ জন্য সেবিকা, যারা তার সেবা করবে। আর ৭০ জন সেবিকা থাকবে তার সাথে মুলাক্বাতের জন্য। আর প্রত্যেক সহচরের সাথে থাকবে অনেক সম্ভ্রান্ত সাথী। জান্নাতে স্বর্ণের পাত্র থাকবে তাতে বিভিন্ন রঙের খাবার থাকবে। প্রথম যে স্বাদ পাওয়া যাবে শেষেও সে স্বাদ পাওয়া যাবে। আর তার স্বামীকেও অনুরূপ লাল হীরার খাট দেয়া হবে, যার উপর দু’টি স্বর্ণের বালা থাকবে, যা বিন্যস্ত থাকবে লাল হীরা দ্বারা। এটা রামাযানের প্রত্যেক দিন ছিয়াম পালনকারীর জন্য, অন্য নেক আমলের জন্য নয় (ত্বাবারাণী, আল-মু‘জামুল কাবীর হা/৯৬৭)। উক্ত বর্ণনা কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : রামাযান মাসের ছিয়ামের ক্বাযা বাকি রেখে, শাওয়াল মাসের ছয়টি ছিয়াম পালন করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : যিনাকারীর শাস্তি কি দুনিয়ার জীবনে কার্যকর করতে হবে, না-কি খালিছ অন্তরে তাওবা করলে মাফ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ