রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:০৫ অপরাহ্ন
উত্তর : এটি সূদী কারবারের অন্তর্ভুক্ত। কারণ এটি নির্ধারিত লভ্যাংশের উপর ঋণ দেয়া নেয়া। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যখন ব্যাপারী বা বিনিয়োগকারীর নিয়ত হয়, ‘একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টাকার বিনিময়ে টাকা উপার্জন করা...তাহলে তা সূদ’ (মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ২৯/৪৩২-৪৩৩ পৃ.)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আল্লাহ তা‘আলা ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল করেছেন এবং সূদকে হারাম করেছেন। আল্লাহ্‌ সূদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দানকে বর্ধিত করেন’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২৭৫-২৭৯)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা বহুগুণ বৃদ্ধি করে চক্রবৃদ্ধি হারে সূদ খাবে না। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফল হও’ (সূরা আলে ইমরান : ১৩০)। সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি বলেন, ‘প্রভিডেন্ট ফান্ড (Provident Fund) একটি সূদী কর্মপদ্ধতি। আসলে চাকরীজীবীরা শতকরা হারে যে অর্থ ফান্ডে জমা করেন তা মূলত ঋণ স্বরূপ এই কোম্পানীকে দেয়া হয়ে থাকে। আর ঋণ দিয়ে বেশি নেয়া স্পষ্ট সূদ। এই অর্থকে চক্রবৃদ্ধিকারে কাজে লাগিয়ে অবসর গ্রহণকালে কর্মচারীকে বিশাল অঙ্কের টাকা প্রদান করা হয় (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১৩/৫২০ পৃ.)।

সে জন্য যদি জমা করার বিষয়টি স্বেচ্ছাধীন হয়, তবে জমা করা যাবে না। আর যদি বাধ্যতামূলক হয়, সেক্ষেত্রে জমাকৃত অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব রাখতে হবে এবং এককালীন টাকাটা পাওয়ার পর মূলধন থেকে সূদটা বিয়োগ করতে হবে। কেননা ইসলাম সকল প্রকারের সূদকে হারাম করেছে। অনেকে বলেন যে, এটা তো কতৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি অবসর উপহার (Retirement gift), যা উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পাথেয় স্বরূপ দেয়া হয়ে থাকে। যদি তাই হয়, তাহলে যে সমস্ত কর্মচারীরা প্রভিডেন্ট ফান্ডে অর্থ জমা করেন না, তাদের কেন দেয়া হয় না, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোম্পানী কেন ভাবে না। মোটকথা এগুলো হারামকে হালাল করার একটা ঘৃনিত অপচেষ্টা মাত্র। সর্বোপরি কর্মচারী চাইলে তার এ্যাকাউন্টকে পুরোপুরি সূদমুক্ত রাখার আবেদনও করতে পারে। বিধায় ইচ্ছা করলে সে সূদের একটি টাকাও ভক্ষণ করতে বাধ্য নয়। তাই কোন যুক্তিতে প্রভিডেন্ট ফান্ডের সূদকে হালাল বলার উপায় নেই। সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি অন্যত্র বলেন, ‘যেহেতু এটা শুধু তাদেরই দেয়া হয়, যারা প্রভিডেন্ট ফান্ডে অর্থ জমা করে, তাই একে উপহার বলা যাবে না’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১৩/৫১০-৫১৫ পৃ.)।

প্রশ্নকারী : নাহিদ, চারঘাট।





প্রশ্ন (২৬) : আমাদের এলাকায় অনেকেই ফজর ছালাতের পর ১৯ বার ‘বিসমিল্লা-হ’ পাঠ করে থাকে। এটা কতটুকু শরী‘আতসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : গর্ভবতী মহিলার ২ বা ৩ মাসের বাচ্চা নষ্ট হলে তাকে কি ছালাত-ছিয়াম পালন করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : শাসক, লেখক অথবা সরদার না হয়ে মৃত্যুবরণ করলে সফলকাম হওয়া যায়। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : মাঝে মাঝে অনেক হতাশা ও দুশ্চিন্তা চেপে বসে। করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : ইসলামী শরী‘আতে বিবাহের পদ্ধতি কেমন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : মসজিদ, ওয়ায মাহফিলের সভাপতি ও প্রধান অতিথি হওয়ার শর্তে দান করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : ‘মাযহাব’ শব্দটি কোন্ ভাষার, এর অর্থ কী? মাযহাব না মানলে কি কাফের হয়ে যাবে? মাযহাবের সংখ্যা কত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : দীর্ঘ মেয়াদী ঋণী ব্যক্তি কি হজ্জ করতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : আল্লাহ সৎআমলের ছওয়াব বিশ লক্ষগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেন। বর্ণনাটি কী ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : বাড়িতে কয়েকদিন পরপর মাকড়সা জাল বুনে। মাকড়সার জাল পরিষ্কার করার সময় যদি মাকড়সাকেও মেরে ফেলা হয়, তাহলে কি গুনাহ হবে? ঘরে মাকড়সার জাল থাকলে অভাব অনটন দেখা দেয়এ এটা কি সঠিক কথা? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : অনেকে রামাযান মাস আসলে তওবা করে, ছালাত আদায় করে এবং ছিয়াম পালন করে। কিন্তু রামাযানের পর সব ছেড়ে দেয়। এদের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : আমার মা-বাবার সাথে আমার স্ত্রীর ঝগড়া হওয়ার কারণে কয়েক বছর আগে সে বাপের বাড়ি চলে যায়। আমি তখন বিদেশে ছিলাম। আমি বলেছিলাম, যদি আমাকে নিয়ে সুখী হতে না পার তবে অন্য কাউকে বিয়ে করে সুখী হও। কিন্তু সে তা করেনি। এখন পর্যন্ত আমরা সংসার করে আসছি। আর সমস্যা হয়নি। প্রশ্ন হল, এভাবে বললে কি ত্বালাক্ব হয়ে যায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ