মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫২ অপরাহ্ন
উত্তর : কিতাব ও সুন্নাহর আলোকে চুরি করা হারাম। আল্লাহ তা‘আলা এই নিকৃষ্ট কাজের নিন্দা করে বলেন, ‘আর পুরুষ চোর ও নারী চোর, তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও, তাদের কৃতকর্মের ফল ও আল্লাহর পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসাবে। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ৩৮)। এখানে সাধারণভাবে চুরি করলেই চোরের হাত কাটার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু চুরির এই বিধান সকল প্রকার চুরির জন্য ব্যাপক নয়, বরং চুরির পরিমাণ অল্প হলে চোরের হাত কাটা যাবে না। সেই সঙ্গে কারোর ব্যাপারে তার নিজস্ব স্বীকারোক্তি অথবা গ্রহণযোগ্য যে কোনো দু’জন সাক্ষীর মাধ্যমে চৌর্যবৃত্তি প্রমাণিত হতে হবে। চোরা বস্তুটি যথাযোগ্য হিফাযতে থাকাবস্থায় চুরি হয়েছে এবং বস্তুটি তার মালিকানাধীন হওয়ার ব্যাপারে তার কোন সন্দেহ থাকবে না। উপরে বর্ণিত শর্তসাপেক্ষে চোরের ডান হাত কব্জি পর্যন্ত কেটে ফেলা হবে, আবার চুরি করলে তার বাম পা, আবার চুরি করলে তার বাম হাত এবং আবার চুরি করলে তার ডান পা কেটে ফেলা হবে। যেমন হাদীছের মধ্যে রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘এক চতুর্থাংশ স্বর্ণমুদ্রা (দীনার) বা ততধিক চুরি করলে তবেই হাত কাটা যাবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৭৮৯, ৬৭৯০, ৬৭৯১; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬৮৪)। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত, ‘নবী (ﷺ)-এর যামানায় কোন চামড়া নির্মিত ঢাল (যার মূল্য ছিল তিন দিরহাম) বা সাধারণ ঢালের সমান মূল্যের জিনিস চুরি করা ব্যতীত হাত কাটা হত না’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৭৯২,৬৭৯৩)।

চুরি বা ব্যভিচারের মত ধ্বংসাত্মক পাপে লিপ্ত ব্যক্তিকে ইসলামী শরী‘আহ অনুযায়ী মুসলিম শাসকের নির্দেশে কার্যকর করতে হবে। কিন্তু ইসলামী শাসকের অনুমতি ব্যতীত কোন পাপের শাস্তি স্বরূপ কাউকে হত্যা করা বা কারোর হাত কাটা নিষিদ্ধ। সঊদী স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি সহ অন্যান্য আলেম বলেন, ‘হাদ্দ (মৃত্যুদণ্ড, সাজা, শাস্তি) প্রতিষ্ঠিত করার বিষয়টি মুসলিম ইমাম, সুলতান, শাসক অথবা তার স্থলাভিষিক্ত বা প্রতিনিধির উপর নির্ভরশীল। মুসলিম শাসক ও তাঁর প্রতিনিধি ব্যতীত অন্য কারোর জন্য ‘হাদ্দ’ ক্বায়েম করা অনুমোদিত নয়। কোন মুসলিম ব্যক্তি বা সমাজের জন্য হাদ্দ ক্বায়েম করা জায়েয নয়। কারণ এর ফলে যে বিশৃঙ্খলা, গোলযোগ, অস্থিরতা, অরাজকতা, নৈরাজ্য ও অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি হবে তাকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা কোন ব্যক্তি বা সমাজের নেই (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ২২/৫-১০; মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ৯/৩০৩ পৃ.; লিক্বাউল বাব আল-মাফতূহ্, লিক্বা নং-৩১)। যেহেতু আমাদের দেশে ইসলামী শাসক নেই তাই ব্যক্তিগতভাবে বা সামাজিকভাবে হাদ্দ (মৃত্যুদণ্ড, সাজা, শাস্তি) প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভবপর নয়। এক্ষেত্রে গুনাহগার ব্যক্তি দুনিয়াবী তুচ্ছ শাস্তি থেকে পরিত্রাণ পেলেও কিন্তু পরকালের ভয়াবহ শাস্তি থেকে রক্ষা পাবে না। তাই পরকালের শাস্তি থেকে মুক্তি প্রাপ্তির জন্য আল্লাহ তা‘আলার নিকট কঠোরভাবে তাওবাহ ও ক্ষমাপ্রার্থনা করতে হবে।


প্রশ্নকারী : জাকীর হোসেন, চাঁদপুর।





প্রশ্ন (২) : ইসলামে বায়ে মুয়াজ্জালের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : যে ব্যক্তি রাসূলের উপর দরূদ পাঠ করতে ভুলে যাবে, সে জান্নাতের পথ ভুলে যাবে’। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : কোনটি  আগে- খিলাফত প্রতিষ্ঠা না-কি দ্বীনের শিক্ষা? বর্তমান সময়ে যখন কোন খলীফা নেই, তখন আমাদের অগ্রাধিকার কী হওয়া উচিত? আমরা কি আগে মানুষকে ইসলাম শিক্ষা দেব, তারপর ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করব? না-কি আগে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করব? না-কি উভয় কাজ একসঙ্গে করা উচিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : সমকামী অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চাইলে ক্ষমা পাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : অমুসলিমদের সাথে ব্যবসা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আমি একজন অমুসলিম প্রার্থীকে ভোট দিয়েছি, অথচ তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে একজন মুসলিম প্রার্থীও ছিলেন। আমার এ কাজ কি ইসলামী শিক্ষার পরিপন্থী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : কেউ কসম করে বলল, ‘আমি তাকে বিয়ে করব না। অতঃপর সে তাকে বিয়ে করে নিল’। তার জন্য করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : কেউ যদি কোন ছালাতের জামা‘আতে এক রাক‘আত পেয়ে যায়, তাহলে সে উক্ত ছালাত পেয়ে গেল; এমনকি সে পুরো ছালাতই পেয়ে গেল (ছহীহ বুখারী, হা/৫৮০; ছহীহ মুসলিম, হা/৬০৭; মিশকাত, হা/১৪১২)। প্রশ্ন হল- ২, ৩ অথবা ৪ রাক‘আত বিশিষ্ট ছালাতের বাকী রাক‘আতগুলো কি পড়তে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : দীর্ঘ ৪/৫ বছর ধরে দুই বোনের মধ্যে কোন সম্পর্ক নেই। কারণ এক বোনের ছেলেরা তার মাকে তাদের খালার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে নিষেধ করেছিল। কিন্তু বর্তমানে তারা আবার সম্পর্ক রাখতে চায়। কিন্তু সমস্যা হল- অন্য বোনের মেয়েরা তার মাকে বলছে যে, খালা তার ছেলেদের কথায় আমাদের সাথে সম্পর্ক রাখেননি এখন তুমিও খালার সাথে সম্পর্ক রাখবে না। কিন্তু তিনি তার বোনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাচ্ছেন না। তখন তার মেয়েরা বলছে, হয় খালার সাথে সম্পর্ক রাখতে হবে, না হয় মেয়েদের সাথে। এই বলে মেয়েরা মায়ের উপর রাগ করে দীর্ঘদিন কথা বলে না। প্রশ্ন হল- মেয়েরা কী ধরনের গুনাহ করছে? এই ক্ষেত্রে মায়ের করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : ঈদের খুৎবা চলা কালে টাকা-পয়সা আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : জামা‘আতে আমার কোন রাক‘আত ছুটে গেলে জামা‘আত শেষে সেটা পূরণ করব। সেক্ষেত্রে ইমাম যখন শেষ বৈঠকে তাশাহ্হুদ, দরূদ এবং ছানা পড়বে, তখন আমি কি শুধু তাশাহ্হুদ পড়ে চুপ থাকব, না-কি আমিও দরূদ ও ছানা পড়ব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : নারীর ব্যবসায়ী হওয়ার বিধান কী? সে সফরে থাকুক বা নিজ এলাকায় থাকুক, উভয় অবস্থায় কি ব্যবসা করতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ