বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন
উত্তর : সালাফীদের মূল ভিত্তি হল- কুরঅন ও ছহীহ সুন্নাহর ইলমের উপর। দাওয়াত ও ইবাদতে কেবল কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহ অনুসরণ করা, ছাহাবী ও সালাফে সালেহীনের বুঝ অনুযায়ী হওয়া সালাফী মানহাজের মূলনীতি। সুতরাং, জুমু‘আর খুতবা, দাওয়াত কিংবা যে কোনো ইলমী কাজের ক্ষেত্রে সালাফীরা সবসময় কুরঅন ও ছহীহ সুন্নাহর পদ্ধতি অবলম্বন করে। তাই জুমুআর খুতবা যে কেউ দিতে পারে না। খতীব হতে হলে ইলম, আক্বীদা ও মানহাজে ছহীহ থাকা আবশ্যক। অর্থাৎ তাওহীদ ও আক্বীদায় সঠিক হতে হবে। বিদ‘আত থেকে দূরে থাকতে হবে। ছহীহ হাদীছ অনুযায়ী আমল করতে হবে। ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘যদি মানুষ দ্বীনের বিষয়ে কাউকে অনুসরণ করে, তবে সে যেন দেখে, সেই ব্যক্তি কাকে অনুসরণ করছে’ (ইবনু আব্দিল বার্র, জামি‘ বায়ানুল ইলম, ২/১২৮ পৃ.)।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সর্বদা দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জুমু‘আর দিনে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন, তারপর বসতেন, তারপর আবার দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন (ছহীহ মুসলিম, হা/৮৬২)। তাই দাঁড়িয়ে খুতবা দেয়া সুন্নাহ, বসে খুৎবা দেয়া বিদ‘আত।

আপনি বলেছেন যে মসজিদে কখনো সালাফী, কখনো দেওবন্দী, কখনো জামা‘আতী আলেম খুতবা দেন। সালাফী নীতিতে এটা সমস্যা তৈরি করে। কারণ, ইলম ও আক্বীদায় ভিন্নতা থাকলে সালাফীরা দাওয়াত ও ইমামতের ক্ষেত্রে খুব সতর্ক থাকে। যাদের আক্বীদা, মানহাজ ও ফিকহ সুন্নাহর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, তাদের মাধ্যমে দ্বীনি দাওয়াত বা খুৎবা দেওয়ানোকে সালাফীরা বিভ্রান্তিকর ও ক্ষতিকর মনে করে। কারণ, মিম্বারে দাঁড়িয়ে মানুষকে যা বলা হয়, তা ‘দ্বীনের প্রচার’ হিসাবে ধরা হয়। যদি সেখানে দুর্বল হাদীছ, বিদ‘আত বা আক্বীদাগত ভুল শেখানো হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়। সালাফী মানহাজ অনুযায়ী, দাওয়াত ও ইলমের ক্ষেত্রে সবার থেকে কিছু নেয়া সঠিক নয়। ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘প্রত্যেকের কথা গ্রহণ করা হবে এবং প্রত্যাখ্যাত হবে, কেবল রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ছাড়া’ (জামি‘ বায়ানুল ইলম, ২/৯১ পৃ.)। সালাফীরা দাওয়াতের ক্ষেত্রে হিকমাহ (কৌশল) মেনে চলে, তবে হিকমাহর নামে সত্য গোপন বা ভুলকে প্রমোট করা সঠিক নয়। কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমার প্রভুর পথে আহ্বান কর হিকমাহ এবং উত্তম উপদেশের মাধ্যমে’ (সূরা আন-নাহল: ১২৫)। সুতরাং, হিকমাহর মানে হলো ছহীহ কথা সঠিকভাবে বলা, ভুলের সাথে আপস করা নয়।


প্রশ্নকারী : নোবেল সালাফী, কুমিল্লা।





প্রশ্ন (৭) : এক সাথে তিন ত্বালাক্ব দিলে বিবাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : ‘তাক্বিয়া’ করা কোন্ ক্ষেত্রে হারাম? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : নাভির নিচের পশম কোন্ জায়গা থেকে কাটতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : ঈদুল আযহার চাঁদ দেখা দিলে, আক্বীক্বার জন্য পশু যব্হ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : হজ্জ বা ওমরা আদায় করার জন্য কাউকে দায়িত্ব প্রদান করার বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : কারো মেয়ের নাম ‘আনাবিয়া’ ও ‘আব্দিয়া’ রাখা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : মসজিদে বা মসজিদের আঙ্গিনায় ফুটবল, ক্রিকেট, বলিবল ইত্যাদি খেলা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪২) : আমি একটি মেয়েকে ভালোবাসতাম। কিছু দিন শুধু কথা বলেছি। যখন জানতে পেরেছি এই সম্পর্ক হারাম  তখন ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু কথা বলার সময় কিছু ওয়াদা করেছিলাম। এখন কি সেই ওয়াদা পালন করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : ইমাম সূরা ফাতিহা শুরু করার পর ছালাতে দাঁড়ালে ছানা পড়তে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : মৃতের গোসল করানোর ছহীহ পদ্ধতি কেমন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : কুরআন তেলাওয়াতের সময় সিজদার আয়াত আসলে কিভাবে সিজদা দিতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : মসজিদের মধ্যে দু’স্তম্ভের মধ্যবর্তী স্থানে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ