উত্তর : সালাফীদের মূল ভিত্তি হল- কুরঅন ও ছহীহ সুন্নাহর ইলমের উপর। দাওয়াত ও ইবাদতে কেবল কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহ অনুসরণ করা, ছাহাবী ও সালাফে সালেহীনের বুঝ অনুযায়ী হওয়া সালাফী মানহাজের মূলনীতি। সুতরাং, জুমু‘আর খুতবা, দাওয়াত কিংবা যে কোনো ইলমী কাজের ক্ষেত্রে সালাফীরা সবসময় কুরঅন ও ছহীহ সুন্নাহর পদ্ধতি অবলম্বন করে। তাই জুমুআর খুতবা যে কেউ দিতে পারে না। খতীব হতে হলে ইলম, আক্বীদা ও মানহাজে ছহীহ থাকা আবশ্যক। অর্থাৎ তাওহীদ ও আক্বীদায় সঠিক হতে হবে। বিদ‘আত থেকে দূরে থাকতে হবে। ছহীহ হাদীছ অনুযায়ী আমল করতে হবে। ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘যদি মানুষ দ্বীনের বিষয়ে কাউকে অনুসরণ করে, তবে সে যেন দেখে, সেই ব্যক্তি কাকে অনুসরণ করছে’ (ইবনু আব্দিল বার্র, জামি‘ বায়ানুল ইলম, ২/১২৮ পৃ.)।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সর্বদা দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জুমু‘আর দিনে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন, তারপর বসতেন, তারপর আবার দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন (ছহীহ মুসলিম, হা/৮৬২)। তাই দাঁড়িয়ে খুতবা দেয়া সুন্নাহ, বসে খুৎবা দেয়া বিদ‘আত।
আপনি বলেছেন যে মসজিদে কখনো সালাফী, কখনো দেওবন্দী, কখনো জামা‘আতী আলেম খুতবা দেন। সালাফী নীতিতে এটা সমস্যা তৈরি করে। কারণ, ইলম ও আক্বীদায় ভিন্নতা থাকলে সালাফীরা দাওয়াত ও ইমামতের ক্ষেত্রে খুব সতর্ক থাকে। যাদের আক্বীদা, মানহাজ ও ফিকহ সুন্নাহর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, তাদের মাধ্যমে দ্বীনি দাওয়াত বা খুৎবা দেওয়ানোকে সালাফীরা বিভ্রান্তিকর ও ক্ষতিকর মনে করে। কারণ, মিম্বারে দাঁড়িয়ে মানুষকে যা বলা হয়, তা ‘দ্বীনের প্রচার’ হিসাবে ধরা হয়। যদি সেখানে দুর্বল হাদীছ, বিদ‘আত বা আক্বীদাগত ভুল শেখানো হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়। সালাফী মানহাজ অনুযায়ী, দাওয়াত ও ইলমের ক্ষেত্রে সবার থেকে কিছু নেয়া সঠিক নয়। ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘প্রত্যেকের কথা গ্রহণ করা হবে এবং প্রত্যাখ্যাত হবে, কেবল রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ছাড়া’ (জামি‘ বায়ানুল ইলম, ২/৯১ পৃ.)। সালাফীরা দাওয়াতের ক্ষেত্রে হিকমাহ (কৌশল) মেনে চলে, তবে হিকমাহর নামে সত্য গোপন বা ভুলকে প্রমোট করা সঠিক নয়। কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমার প্রভুর পথে আহ্বান কর হিকমাহ এবং উত্তম উপদেশের মাধ্যমে’ (সূরা আন-নাহল: ১২৫)। সুতরাং, হিকমাহর মানে হলো ছহীহ কথা সঠিকভাবে বলা, ভুলের সাথে আপস করা নয়।
প্রশ্নকারী : নোবেল সালাফী, কুমিল্লা।