রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৫:১০ অপরাহ্ন
উত্তর : ত্বাহারাত (الطهارة)-এর আভিধানিক অর্থ : النظافة، والنزاهة، والنقاء، والبراءة ‘পরিচ্ছন্নতা, পবিত্রতা, বিশুদ্ধতা অর্জন করা ও মুক্ত হওয়া ইত্যাদি। আর শরী‘আতের পরিভাষায় ত্বাহারাত হলো- رفع الحدث و زوال الخبث ‘অপবিত্রতা এবং নাপাকী দূর করা’। উক্ত সংজ্ঞার আলোকে পবিত্রতা দু’টি অর্থে ব্যবহৃত হয়। যথাÑ ১- رفع الحدث তথা, ওযূ বা গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা। অর্থাৎ, যে সকল বিষয়গুলো ছালাত আদায়ে বাধা প্রদান করে তা হতে পবিত্রতা অর্জন করা। ২- زوال الخبث তথা শরীর, কাপড় ও ছালাতের স্থান হতে নাপাকী দূর করা। যেমন: পেশাব, পায়খানা ইত্যাদি শরীরে বা কাপড়ে লেগে গেলে পানি দ্বারা ধৌত করে পবিত্রতা অর্জন করা।

যে সকল পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন বৈধ এবং যেগুলো দ্বারা বৈধ নয়Ñ সেগুলো হল: পানি মূলত তিন প্রকার। যথাÑ (১) طَهُوْرٌ (ত্বাহূর) : অর্থাৎ যে পানি নিজে পবিত্র এবং অন্যকে পবিত্র করতে সক্ষম। অর্থাৎ, যে পানি তার আসল অবস্থায় বিদ্যমান আছে এবং তার রং, গন্ধ, স্বাদ কোন কিছুরই পরিবর্তন হয়নি। যেমন- বৃষ্টির পানি, সমুদ্রের পানি, নদীর পানি, ঝরণার পানি, বরফ ও শিলাবৃষ্টির গলিত পানি, কূয়োর পানি, নলকূপের পানি ইত্যাদি। কেবল এই প্রকার পানি দ্বারাই পবিত্রতা অর্জন করা সম্ভব। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ يُنَزِّلُ عَلَيْكُمْ مِّنَ السَّمَآءِ مَآءً لِّيُطَهِّرَكُمْ۠ بِهٖ ‘আর তিনি আকাশ হতে তোমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করেন, তোমাদেরকে তা দিয়ে পবিত্র করার জন্য’ (সূরা আল-আনফাল : ১১)। হাদীছে বর্ণিত হয়েছে, আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন,

سَأَلَ رَجُلٌ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّا نَرْكَبُ الْبَحْرَ وَنَحْمِلُ مَعَنَا الْقَلِيْلَ مِنَ الْمَاءِ فَإِنْ تَوَضَّأْنَا بِهِ عَطِشْنَا أَفَنَتَوَضَّأُ مِنْ مَاءِ الْبَحْرِ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ هُوَ الطَّهُوْرُ مَاؤُهُ الْحِلُّ مَيْتَتُهُ

‘এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটে প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমরা সমুদ্র পথে আসা-যাওয়া করি এবং সাথে করে সামান্য মিঠা পানি নেই। যদি আমরা তা দিয়ে ওযূ করি তাহলে পিপাসার্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এ ক্ষেত্রে আমরা কি সমুদ্রের পানি দিয়ে ওযূ করতে পারি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘তার পানি পবিত্র এবং তার মৃত জীব হালাল’ (আবূ দাঊদ, হা/৮৩; তিরমিযী, হা/৬৯)।

(২) طَاهِرٌ (ত্বাহের): অর্থাৎ যে পানি নিজে পবিত্র। কিন্তু অন্যকে পবিত্র করতে পারে না। যেমন- শরবত, ফলের জুস, কোমল পানীয় ইত্যাদি। এগুলো নিজে পবিত্র কিন্তু কোন অপবিত্রকে পবিত্র করতে পারে না।  পানির সাথে যদি কোন পবিত্র বস্তু মিশ্রিত হয়ে তার রং, গন্ধ ও স্বাদ  এই তিনটি গুণের কোন একটি পরিবর্তন হয়ে যায়, তাহলে সেই পানি طَاهِرٌ তথা নিজে পবিত্র কিন্তু তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ হবে না। আর যদি সবগুলো গুণই ঠিক থাকে তাহলে তা পবিত্র বলে গণ্য হবে এবং তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ হবে। (৩)  نَجِس (নাজিস): অর্থাৎ যে পানি নিজেও পবিত্র নয় এবং অন্যকেও পবিত্র করতে পারে না। এমন পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা জায়েয নয়।

পানির সাথে অপবিত্র বস্তু মিশ্রিত হলে তার বিধান : পানি কম হোক কিংবা বেশী হোক, যদি তার সাথে অপবিত্র বস্তু মিশে তার রং, গন্ধ ও স্বাদ এই তিনটি গুণের কোন একটির পরিবর্তন হয়, তাহলে সেই পানি অপবিত্র বলে গণ্য হবে। এই পানি ব্যবহার করা জায়েয নয় এবং তা অন্যকে পবিত্র করতেও সক্ষম নয়। পক্ষান্তরে যদি অপবিত্র বস্তু মিশ্রিত হওয়া সত্ত্বেও তার রং, গন্ধ ও স্বাদ এই তিনটি গুণের সবগুলো ঠিক থাকে-তবে পানির স্বল্প পরিমাণ হলে তা অপবিত্র হয়ে যাবে এবং তার দ্বারা পবিত্রতা অর্জন বৈধ হবে না। আর বেশি পরিমাণ হলে তা পবিত্র বলে গণ্য হবে এবং তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ হবে। হাদীছে বর্ণিত হয়েছে-

عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قِيْلَ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَنَتَوَضَّأُ مِنْ بِئْرِ بُضَاعَةَ وَهِيَ بِئْرٌ يُلْقَى فِيْهَا الْحِيَضُ وَلُحُوْمُ الْكِلَابِ وَالنَّتْنُ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ‏ إِنَّ الْمَاءَ طَهُوْرٌ لَا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ.‏

আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, প্রশ্ন করা হল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমরা কি বীরে বুযাআহ নামক কূপের পানি দিয়ে ওযূ করতে পারি? এটা এমন একটি কূপ যাতে হয়েযের ন্যাকড়া, (মরা কুকুর) ও আবর্জনা ফেলা হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘পানি পাক, কোন জিনিসই তাকে নাপাক করতে পারে না’ (আবূ দাঊদ, হা/৬৬; তিরমিযী, হা/৬৬; নাসাঈ, হা/৩২৭; দারাকুতনী, হা/৫০-৫৭)।


প্রশ্নকারী : হামীম, ঢাকা।





প্রশ্ন (১৯) : হিজড়া ব্যক্তি মসজিদে টাকা দান করলে সেই টাকা নেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : আমি সুইডেনের প্রবাসী। রাষ্ট্র থেকে ভাতা পেয়ে থাকি। বাড়ি স্কুল ও বাজার থেকে অনেক দূরে হওয়ায় গাড়ি কিনতে হয়েছে। আমার কিছু প্রতিবেশী গাড়িতে করে তাদের নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাকে টাকা দেয়। অথচ সুইডেনের শ্রম আইন অনুযায়ী এই কাজটি অবৈধ। আমার এখনও রেসিডেন্স পারমিট না থাকায় আমি এখানে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ করতে পারি না। প্রশ্ন হলো, আমার এই কাজটি কি ইসলামে হারাম? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : জুমু‘আর দিন অনেকে মুছল্লীদের খিচুড়ি খাওয়ায়। এর ফলে মসজিদে অনেক হৈচৈ হয়। মসজিদে এরূপ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : ছালাতে তাশাহ্হুদের সময় দৃষ্টি কোন্ দিকে রাখতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : সালাফী মানহাজ মতে, আশ‘আরী আক্বীদা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের অন্তর্ভুক্ত নয় অর্থাৎ বাতিল আক্বীদা। কিন্তু বাংলা উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুসারে আশ‘আরীর মধ্যে অন্যতম- ইমাম বায়হাক্বী, ইবনু হাজার আসক্বালানী, ইমাম দারাকুৎনী, খত্বীব বাগদাদী, ইমাম নববী, জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী প্রমুখ। তাদের বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে ইলম নেয়ার ক্ষেত্রে সালাফী মানহাজের উছূল কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : দুনিয়াতে আপন ভাই-বোনের মাঝে সম্পর্কই নাকি শেষ। পরকালে পরস্পরের মাঝে আর নাকি কখনো দেখা হবে না। এটা কি সত্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : কোন মুসাফির ব্যক্তির এমন হতে পারে যে, তার ছিয়াম পালন অবস্থায় বিমান উড্ডয়নের পূর্বে সূর্য অস্ত গেল। ফলে সে ইফতার করল। কিন্তু বিমান উড্ডয়নের পরে সে সূর্য দেখতে পেল। এমতাবস্থায় তার হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫): রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যখন আল্লাহ তা‘আলা যমীন সৃষ্টি করলেন তখন তা দুলতে লাগল। অতঃপর পাহাড়গুলো সৃষ্টি করে সেগুলো পৃথিবীর উপর স্থীর করেন। অতঃপর পৃথিবী স্থীর হয়ে গেল। ফেরেশতাগণ পাহাড়ের এ শক্তি দেখে আশ্চর্যান্বিত হলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে পাহাড় অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? আল্লাহ বললেন, হ্যাঁ; আর সেটা লোহা। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করল, হে প্রভু! আপনার সৃষ্টির মধ্যে লোহা অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আগুন। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে আগুন অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ; পানি। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে পানি অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ; বাতাস। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে বাতাস অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ; আদম সন্তান। যে তার ডান হাতে দান করে আর দানকে বাম হাত হতে গোপন রাখে। এ ঘটনাটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : ‘মদ পান করলে ৪০ দিন ছালাত কবুল হয় না’  মর্মে বর্ণিত কথার সত্যতা কতটুকু? আর এ কথা কি ঠিক যে, ‘মদ-গাঁজা সেবন করলে চল্লিশ দিন শরীর অপবিত্র থাকে’?  - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : মোট সম্পদ ৪৮ শতাংশ। মৃতের ২ মেয়ে, স্ত্রী আছে, কোন ছেলে নেই। আর তার আপন ২ ভাই ১ বোন আছে। ১ ভাই মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর পূর্বেই মারা গেছে। উনার দুই সন্তান আছে। কে কতটুকু সম্পদ পাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৯) : ছিয়াম অবস্থায় ওযূ করার পর স্ত্রীকে স্পর্শ করলে ছিয়াম ও ওযূ ভঙ্গ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : হায়েয  বা অসুস্থতার কারণে ভঙ্গ হওয়া ছিয়াম কিভাবে আদায় করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ