রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ত্বাহারাত (الطهارة)-এর আভিধানিক অর্থ : النظافة، والنزاهة، والنقاء، والبراءة ‘পরিচ্ছন্নতা, পবিত্রতা, বিশুদ্ধতা অর্জন করা ও মুক্ত হওয়া ইত্যাদি। আর শরী‘আতের পরিভাষায় ত্বাহারাত হলো- رفع الحدث و زوال الخبث ‘অপবিত্রতা এবং নাপাকী দূর করা’। উক্ত সংজ্ঞার আলোকে পবিত্রতা দু’টি অর্থে ব্যবহৃত হয়। যথাÑ ১- رفع الحدث তথা, ওযূ বা গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা। অর্থাৎ, যে সকল বিষয়গুলো ছালাত আদায়ে বাধা প্রদান করে তা হতে পবিত্রতা অর্জন করা। ২- زوال الخبث তথা শরীর, কাপড় ও ছালাতের স্থান হতে নাপাকী দূর করা। যেমন: পেশাব, পায়খানা ইত্যাদি শরীরে বা কাপড়ে লেগে গেলে পানি দ্বারা ধৌত করে পবিত্রতা অর্জন করা।

যে সকল পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন বৈধ এবং যেগুলো দ্বারা বৈধ নয়Ñ সেগুলো হল: পানি মূলত তিন প্রকার। যথাÑ (১) طَهُوْرٌ (ত্বাহূর) : অর্থাৎ যে পানি নিজে পবিত্র এবং অন্যকে পবিত্র করতে সক্ষম। অর্থাৎ, যে পানি তার আসল অবস্থায় বিদ্যমান আছে এবং তার রং, গন্ধ, স্বাদ কোন কিছুরই পরিবর্তন হয়নি। যেমন- বৃষ্টির পানি, সমুদ্রের পানি, নদীর পানি, ঝরণার পানি, বরফ ও শিলাবৃষ্টির গলিত পানি, কূয়োর পানি, নলকূপের পানি ইত্যাদি। কেবল এই প্রকার পানি দ্বারাই পবিত্রতা অর্জন করা সম্ভব। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ يُنَزِّلُ عَلَيْكُمْ مِّنَ السَّمَآءِ مَآءً لِّيُطَهِّرَكُمْ۠ بِهٖ ‘আর তিনি আকাশ হতে তোমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করেন, তোমাদেরকে তা দিয়ে পবিত্র করার জন্য’ (সূরা আল-আনফাল : ১১)। হাদীছে বর্ণিত হয়েছে, আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন,

سَأَلَ رَجُلٌ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّا نَرْكَبُ الْبَحْرَ وَنَحْمِلُ مَعَنَا الْقَلِيْلَ مِنَ الْمَاءِ فَإِنْ تَوَضَّأْنَا بِهِ عَطِشْنَا أَفَنَتَوَضَّأُ مِنْ مَاءِ الْبَحْرِ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ هُوَ الطَّهُوْرُ مَاؤُهُ الْحِلُّ مَيْتَتُهُ

‘এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটে প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমরা সমুদ্র পথে আসা-যাওয়া করি এবং সাথে করে সামান্য মিঠা পানি নেই। যদি আমরা তা দিয়ে ওযূ করি তাহলে পিপাসার্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এ ক্ষেত্রে আমরা কি সমুদ্রের পানি দিয়ে ওযূ করতে পারি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘তার পানি পবিত্র এবং তার মৃত জীব হালাল’ (আবূ দাঊদ, হা/৮৩; তিরমিযী, হা/৬৯)।

(২) طَاهِرٌ (ত্বাহের): অর্থাৎ যে পানি নিজে পবিত্র। কিন্তু অন্যকে পবিত্র করতে পারে না। যেমন- শরবত, ফলের জুস, কোমল পানীয় ইত্যাদি। এগুলো নিজে পবিত্র কিন্তু কোন অপবিত্রকে পবিত্র করতে পারে না।  পানির সাথে যদি কোন পবিত্র বস্তু মিশ্রিত হয়ে তার রং, গন্ধ ও স্বাদ  এই তিনটি গুণের কোন একটি পরিবর্তন হয়ে যায়, তাহলে সেই পানি طَاهِرٌ তথা নিজে পবিত্র কিন্তু তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ হবে না। আর যদি সবগুলো গুণই ঠিক থাকে তাহলে তা পবিত্র বলে গণ্য হবে এবং তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ হবে। (৩)  نَجِس (নাজিস): অর্থাৎ যে পানি নিজেও পবিত্র নয় এবং অন্যকেও পবিত্র করতে পারে না। এমন পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা জায়েয নয়।

পানির সাথে অপবিত্র বস্তু মিশ্রিত হলে তার বিধান : পানি কম হোক কিংবা বেশী হোক, যদি তার সাথে অপবিত্র বস্তু মিশে তার রং, গন্ধ ও স্বাদ এই তিনটি গুণের কোন একটির পরিবর্তন হয়, তাহলে সেই পানি অপবিত্র বলে গণ্য হবে। এই পানি ব্যবহার করা জায়েয নয় এবং তা অন্যকে পবিত্র করতেও সক্ষম নয়। পক্ষান্তরে যদি অপবিত্র বস্তু মিশ্রিত হওয়া সত্ত্বেও তার রং, গন্ধ ও স্বাদ এই তিনটি গুণের সবগুলো ঠিক থাকে-তবে পানির স্বল্প পরিমাণ হলে তা অপবিত্র হয়ে যাবে এবং তার দ্বারা পবিত্রতা অর্জন বৈধ হবে না। আর বেশি পরিমাণ হলে তা পবিত্র বলে গণ্য হবে এবং তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ হবে। হাদীছে বর্ণিত হয়েছে-

عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قِيْلَ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَنَتَوَضَّأُ مِنْ بِئْرِ بُضَاعَةَ وَهِيَ بِئْرٌ يُلْقَى فِيْهَا الْحِيَضُ وَلُحُوْمُ الْكِلَابِ وَالنَّتْنُ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ‏ إِنَّ الْمَاءَ طَهُوْرٌ لَا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ.‏

আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, প্রশ্ন করা হল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমরা কি বীরে বুযাআহ নামক কূপের পানি দিয়ে ওযূ করতে পারি? এটা এমন একটি কূপ যাতে হয়েযের ন্যাকড়া, (মরা কুকুর) ও আবর্জনা ফেলা হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘পানি পাক, কোন জিনিসই তাকে নাপাক করতে পারে না’ (আবূ দাঊদ, হা/৬৬; তিরমিযী, হা/৬৬; নাসাঈ, হা/৩২৭; দারাকুতনী, হা/৫০-৫৭)।


প্রশ্নকারী : হামীম, ঢাকা।





প্রশ্ন (২৮) : বিবাহের জন্য একাধিক মেয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেয়া জায়েয হবে, না-কি সরাসরি দেখার ক্ষেত্রে একজনের বেশি দেখা যাবে না? মেয়ে দেখার ক্ষেত্রে শরী‘আতের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : মাহরাম নয় এমন কোন মহিলাকে ব্যক্তিগতভাবে দ্বীনের দাওয়াত দেয়া কি বৈধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫): আমি কোন এক লোকের কাছে শুনেছি যে, কোন নারীর জন্য সারাক্ষণ তার চুল খুলে রাখা ভালো নয়; এমনকি সে যদি তার নিজের বাসায় একাকী হয় তবুও। কারণ হলো চুল বাঁধা না থাকলে শয়তান তার চুল নিয়ে তামাশা করে। এর গূঢ়রহস্য কী? এ কথা শুনার পর থেকে আমি সারাক্ষণ আমার চুল বেঁধে রাখি; এমনকি যদি আমার চুল ভেজা থাকে তবুও। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : স্বভাবে অভ্যস্ত হয়ে পড়ার সমস্যা সমাধান করার কোন উপায় আছে কি? অর্থাৎ আমি যখন নির্দিষ্ট কোন সূরা খুব খুশুর (মনোযোগের) সাথে পড়ি কিছুদিন গত হওয়ার পর আমি অনুভব করি যে, আমার সেই খুশু দুর্বল হয়ে গেছে। যেন আমার অন্তর অর্থ বুঝা ও অনুবাধন করার বিষয়ে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং এটাকেই যথেষ্ট হিসাবে গ্রহণ করেছে। অনুরূপ অবস্থা অন্য দু‘আগুলো পড়ার ক্ষেত্রেও ঘটে। এর কোন সমাধান আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : সন্তান নেশার সাথে জড়িত হলে করণীয় কী? শাসনের জন্য সামাজিক বা প্রশাসনিক সাহায্য নেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) :  জনৈক ব্যক্তি ইলিয়াসী তাবলীগ জামা‘আতের সাথে ১ চিল্লা সময় দিয়েছে। তারপর সালাফী আক্বীদার অনুসারী হয়েছে। কিন্তু তারা এখনো তাকে নিয়ে যেতে চায়। এক্ষেত্রে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : জানাযা ছালাত, না-কি দু‘আ? যদি ছালাত হয়, তাহলে রুকূ নেই কেন? সূরা ফাতিহা ব্যতীত জানাযার ছালাত কি শুদ্ধ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : দু‘আ কুনূত পড়ার সময় হাত তুলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : রজব মাসের নির্দিষ্ট কোন ইবাদত আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : হজ্জের সময় নারীরা ঋতুবতী হয়ে পড়লে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : বিশেষ প্রয়োজনে কুরবানী দাতা কি কুরবানী করার আগে নখ, চুল ইত্যাদি কাটতে পারে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : হুমায়ন আহমেদ রচিত উপন্যাস পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ