রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:৩০ অপরাহ্ন
উত্তর : ত্বাহারাত (الطهارة)-এর আভিধানিক অর্থ : النظافة، والنزاهة، والنقاء، والبراءة ‘পরিচ্ছন্নতা, পবিত্রতা, বিশুদ্ধতা অর্জন করা ও মুক্ত হওয়া ইত্যাদি। আর শরী‘আতের পরিভাষায় ত্বাহারাত হলো- رفع الحدث و زوال الخبث ‘অপবিত্রতা এবং নাপাকী দূর করা’। উক্ত সংজ্ঞার আলোকে পবিত্রতা দু’টি অর্থে ব্যবহৃত হয়। যথাÑ ১- رفع الحدث তথা, ওযূ বা গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা। অর্থাৎ, যে সকল বিষয়গুলো ছালাত আদায়ে বাধা প্রদান করে তা হতে পবিত্রতা অর্জন করা। ২- زوال الخبث তথা শরীর, কাপড় ও ছালাতের স্থান হতে নাপাকী দূর করা। যেমন: পেশাব, পায়খানা ইত্যাদি শরীরে বা কাপড়ে লেগে গেলে পানি দ্বারা ধৌত করে পবিত্রতা অর্জন করা।

যে সকল পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন বৈধ এবং যেগুলো দ্বারা বৈধ নয়Ñ সেগুলো হল: পানি মূলত তিন প্রকার। যথাÑ (১) طَهُوْرٌ (ত্বাহূর) : অর্থাৎ যে পানি নিজে পবিত্র এবং অন্যকে পবিত্র করতে সক্ষম। অর্থাৎ, যে পানি তার আসল অবস্থায় বিদ্যমান আছে এবং তার রং, গন্ধ, স্বাদ কোন কিছুরই পরিবর্তন হয়নি। যেমন- বৃষ্টির পানি, সমুদ্রের পানি, নদীর পানি, ঝরণার পানি, বরফ ও শিলাবৃষ্টির গলিত পানি, কূয়োর পানি, নলকূপের পানি ইত্যাদি। কেবল এই প্রকার পানি দ্বারাই পবিত্রতা অর্জন করা সম্ভব। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ يُنَزِّلُ عَلَيْكُمْ مِّنَ السَّمَآءِ مَآءً لِّيُطَهِّرَكُمْ۠ بِهٖ ‘আর তিনি আকাশ হতে তোমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করেন, তোমাদেরকে তা দিয়ে পবিত্র করার জন্য’ (সূরা আল-আনফাল : ১১)। হাদীছে বর্ণিত হয়েছে, আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন,

سَأَلَ رَجُلٌ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّا نَرْكَبُ الْبَحْرَ وَنَحْمِلُ مَعَنَا الْقَلِيْلَ مِنَ الْمَاءِ فَإِنْ تَوَضَّأْنَا بِهِ عَطِشْنَا أَفَنَتَوَضَّأُ مِنْ مَاءِ الْبَحْرِ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ هُوَ الطَّهُوْرُ مَاؤُهُ الْحِلُّ مَيْتَتُهُ

‘এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটে প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমরা সমুদ্র পথে আসা-যাওয়া করি এবং সাথে করে সামান্য মিঠা পানি নেই। যদি আমরা তা দিয়ে ওযূ করি তাহলে পিপাসার্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এ ক্ষেত্রে আমরা কি সমুদ্রের পানি দিয়ে ওযূ করতে পারি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘তার পানি পবিত্র এবং তার মৃত জীব হালাল’ (আবূ দাঊদ, হা/৮৩; তিরমিযী, হা/৬৯)।

(২) طَاهِرٌ (ত্বাহের): অর্থাৎ যে পানি নিজে পবিত্র। কিন্তু অন্যকে পবিত্র করতে পারে না। যেমন- শরবত, ফলের জুস, কোমল পানীয় ইত্যাদি। এগুলো নিজে পবিত্র কিন্তু কোন অপবিত্রকে পবিত্র করতে পারে না।  পানির সাথে যদি কোন পবিত্র বস্তু মিশ্রিত হয়ে তার রং, গন্ধ ও স্বাদ  এই তিনটি গুণের কোন একটি পরিবর্তন হয়ে যায়, তাহলে সেই পানি طَاهِرٌ তথা নিজে পবিত্র কিন্তু তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ হবে না। আর যদি সবগুলো গুণই ঠিক থাকে তাহলে তা পবিত্র বলে গণ্য হবে এবং তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ হবে। (৩)  نَجِس (নাজিস): অর্থাৎ যে পানি নিজেও পবিত্র নয় এবং অন্যকেও পবিত্র করতে পারে না। এমন পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা জায়েয নয়।

পানির সাথে অপবিত্র বস্তু মিশ্রিত হলে তার বিধান : পানি কম হোক কিংবা বেশী হোক, যদি তার সাথে অপবিত্র বস্তু মিশে তার রং, গন্ধ ও স্বাদ এই তিনটি গুণের কোন একটির পরিবর্তন হয়, তাহলে সেই পানি অপবিত্র বলে গণ্য হবে। এই পানি ব্যবহার করা জায়েয নয় এবং তা অন্যকে পবিত্র করতেও সক্ষম নয়। পক্ষান্তরে যদি অপবিত্র বস্তু মিশ্রিত হওয়া সত্ত্বেও তার রং, গন্ধ ও স্বাদ এই তিনটি গুণের সবগুলো ঠিক থাকে-তবে পানির স্বল্প পরিমাণ হলে তা অপবিত্র হয়ে যাবে এবং তার দ্বারা পবিত্রতা অর্জন বৈধ হবে না। আর বেশি পরিমাণ হলে তা পবিত্র বলে গণ্য হবে এবং তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ হবে। হাদীছে বর্ণিত হয়েছে-

عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قِيْلَ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَنَتَوَضَّأُ مِنْ بِئْرِ بُضَاعَةَ وَهِيَ بِئْرٌ يُلْقَى فِيْهَا الْحِيَضُ وَلُحُوْمُ الْكِلَابِ وَالنَّتْنُ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ‏ إِنَّ الْمَاءَ طَهُوْرٌ لَا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ.‏

আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, প্রশ্ন করা হল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমরা কি বীরে বুযাআহ নামক কূপের পানি দিয়ে ওযূ করতে পারি? এটা এমন একটি কূপ যাতে হয়েযের ন্যাকড়া, (মরা কুকুর) ও আবর্জনা ফেলা হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘পানি পাক, কোন জিনিসই তাকে নাপাক করতে পারে না’ (আবূ দাঊদ, হা/৬৬; তিরমিযী, হা/৬৬; নাসাঈ, হা/৩২৭; দারাকুতনী, হা/৫০-৫৭)।


প্রশ্নকারী : হামীম, ঢাকা।





প্রশ্ন (৬) : ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক রাতে সূরা আল-ওয়াক্বি‘আহ পড়বে, সে কখনো অভাবের মধ্যে পড়বে না। ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) তার মেয়েদেরকে প্রত্যেক রাতে উক্ত সূরা পড়তে বলতেন (বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান, হা/২৪৯৮; মিশকাত, হা/২১৮১)। বর্ণনাটির তাহক্বীক্ব জানতে চাই। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : আমার মায়ের আপন মামার মেয়ে (মায়ের মামাতো বোন) এর সাথে আমার বিবাহ কি জায়েয হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : যদি কেউ তার স্ত্রীকে একসাথে তিন ত্বালাক্ব দেয়, তখন তার জন্য করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : সালাফী মানহাজের আলেমের মুখে শুনেছি হাদীছে এসেছে, নবী (ﷺ) ফজর ছালাত অন্ধকার থাকতেই আদায় করেছেন, ছালাত শেষে একজন আরেকজনকে চিনতে পারত না। ইমাম ছাহেবকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ফজরের ছালাত ফর্সা করে আদায় করলে ছওয়াব বেশি হবে। আমরা কোনটাকে প্রাধান্য দিব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি কবরে কতদিন থাকবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : ‘আল্লাহ ও আপনি যা ইচ্ছা করেন’-এরূপ কথা বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : আমি এবং আমার স্ত্রী নিয়মিত ছালাত আদায় করতাম না। আমি শুধু জুমু‘আহর ছালাত আদায় করতাম। বর্তমানে আমি ৫ ওয়াক্ত ছালাত আদায় করছি এবং ছিয়াম রাখতেছি। কিন্তু আমার স্ত্রী ছালাত আদায় করে না। সেক্ষেত্রে কি স্ত্রী অটো ত্বালাক্ব হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : জনৈক আলেম বলেছেন, ফিরাঊনের স্ত্রী আছিয়া এবং ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর মা মারইয়ামের সাথে জান্নাতে মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিবাহ হবে’। ঘটনা কি সত্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭): গাযওয়াতুল হিন্দ কখন সংঘটিত হবে? না-কি সেটা সংঘটিত হয়ে গিয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : সকাল-সন্ধ্যায় সূরা ইখলাছ, ফালাক্ব ও নাস পাঠের সময় আঊযুবিল্লাহ-সহ বিসমিল্লাহ বলে পাঠ করতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : জনৈক বক্তা বলেছেন, দাজ্জাল ‘জেরুজালেম’ থেকে বের হবে। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : পালক সন্তান কি সম্পদের ওয়ারিছ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ