বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ০১:২৫ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ত্বাহারাত (الطهارة)-এর আভিধানিক অর্থ : النظافة، والنزاهة، والنقاء، والبراءة ‘পরিচ্ছন্নতা, পবিত্রতা, বিশুদ্ধতা অর্জন করা ও মুক্ত হওয়া ইত্যাদি। আর শরী‘আতের পরিভাষায় ত্বাহারাত হলো- رفع الحدث و زوال الخبث ‘অপবিত্রতা এবং নাপাকী দূর করা’। উক্ত সংজ্ঞার আলোকে পবিত্রতা দু’টি অর্থে ব্যবহৃত হয়। যথাÑ ১- رفع الحدث তথা, ওযূ বা গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা। অর্থাৎ, যে সকল বিষয়গুলো ছালাত আদায়ে বাধা প্রদান করে তা হতে পবিত্রতা অর্জন করা। ২- زوال الخبث তথা শরীর, কাপড় ও ছালাতের স্থান হতে নাপাকী দূর করা। যেমন: পেশাব, পায়খানা ইত্যাদি শরীরে বা কাপড়ে লেগে গেলে পানি দ্বারা ধৌত করে পবিত্রতা অর্জন করা।

যে সকল পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন বৈধ এবং যেগুলো দ্বারা বৈধ নয়Ñ সেগুলো হল: পানি মূলত তিন প্রকার। যথাÑ (১) طَهُوْرٌ (ত্বাহূর) : অর্থাৎ যে পানি নিজে পবিত্র এবং অন্যকে পবিত্র করতে সক্ষম। অর্থাৎ, যে পানি তার আসল অবস্থায় বিদ্যমান আছে এবং তার রং, গন্ধ, স্বাদ কোন কিছুরই পরিবর্তন হয়নি। যেমন- বৃষ্টির পানি, সমুদ্রের পানি, নদীর পানি, ঝরণার পানি, বরফ ও শিলাবৃষ্টির গলিত পানি, কূয়োর পানি, নলকূপের পানি ইত্যাদি। কেবল এই প্রকার পানি দ্বারাই পবিত্রতা অর্জন করা সম্ভব। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ يُنَزِّلُ عَلَيْكُمْ مِّنَ السَّمَآءِ مَآءً لِّيُطَهِّرَكُمْ۠ بِهٖ ‘আর তিনি আকাশ হতে তোমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করেন, তোমাদেরকে তা দিয়ে পবিত্র করার জন্য’ (সূরা আল-আনফাল : ১১)। হাদীছে বর্ণিত হয়েছে, আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন,

سَأَلَ رَجُلٌ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّا نَرْكَبُ الْبَحْرَ وَنَحْمِلُ مَعَنَا الْقَلِيْلَ مِنَ الْمَاءِ فَإِنْ تَوَضَّأْنَا بِهِ عَطِشْنَا أَفَنَتَوَضَّأُ مِنْ مَاءِ الْبَحْرِ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ هُوَ الطَّهُوْرُ مَاؤُهُ الْحِلُّ مَيْتَتُهُ

‘এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটে প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমরা সমুদ্র পথে আসা-যাওয়া করি এবং সাথে করে সামান্য মিঠা পানি নেই। যদি আমরা তা দিয়ে ওযূ করি তাহলে পিপাসার্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এ ক্ষেত্রে আমরা কি সমুদ্রের পানি দিয়ে ওযূ করতে পারি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘তার পানি পবিত্র এবং তার মৃত জীব হালাল’ (আবূ দাঊদ, হা/৮৩; তিরমিযী, হা/৬৯)।

(২) طَاهِرٌ (ত্বাহের): অর্থাৎ যে পানি নিজে পবিত্র। কিন্তু অন্যকে পবিত্র করতে পারে না। যেমন- শরবত, ফলের জুস, কোমল পানীয় ইত্যাদি। এগুলো নিজে পবিত্র কিন্তু কোন অপবিত্রকে পবিত্র করতে পারে না।  পানির সাথে যদি কোন পবিত্র বস্তু মিশ্রিত হয়ে তার রং, গন্ধ ও স্বাদ  এই তিনটি গুণের কোন একটি পরিবর্তন হয়ে যায়, তাহলে সেই পানি طَاهِرٌ তথা নিজে পবিত্র কিন্তু তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ হবে না। আর যদি সবগুলো গুণই ঠিক থাকে তাহলে তা পবিত্র বলে গণ্য হবে এবং তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ হবে। (৩)  نَجِس (নাজিস): অর্থাৎ যে পানি নিজেও পবিত্র নয় এবং অন্যকেও পবিত্র করতে পারে না। এমন পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা জায়েয নয়।

পানির সাথে অপবিত্র বস্তু মিশ্রিত হলে তার বিধান : পানি কম হোক কিংবা বেশী হোক, যদি তার সাথে অপবিত্র বস্তু মিশে তার রং, গন্ধ ও স্বাদ এই তিনটি গুণের কোন একটির পরিবর্তন হয়, তাহলে সেই পানি অপবিত্র বলে গণ্য হবে। এই পানি ব্যবহার করা জায়েয নয় এবং তা অন্যকে পবিত্র করতেও সক্ষম নয়। পক্ষান্তরে যদি অপবিত্র বস্তু মিশ্রিত হওয়া সত্ত্বেও তার রং, গন্ধ ও স্বাদ এই তিনটি গুণের সবগুলো ঠিক থাকে-তবে পানির স্বল্প পরিমাণ হলে তা অপবিত্র হয়ে যাবে এবং তার দ্বারা পবিত্রতা অর্জন বৈধ হবে না। আর বেশি পরিমাণ হলে তা পবিত্র বলে গণ্য হবে এবং তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ হবে। হাদীছে বর্ণিত হয়েছে-

عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قِيْلَ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَنَتَوَضَّأُ مِنْ بِئْرِ بُضَاعَةَ وَهِيَ بِئْرٌ يُلْقَى فِيْهَا الْحِيَضُ وَلُحُوْمُ الْكِلَابِ وَالنَّتْنُ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ‏ إِنَّ الْمَاءَ طَهُوْرٌ لَا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ.‏

আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, প্রশ্ন করা হল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমরা কি বীরে বুযাআহ নামক কূপের পানি দিয়ে ওযূ করতে পারি? এটা এমন একটি কূপ যাতে হয়েযের ন্যাকড়া, (মরা কুকুর) ও আবর্জনা ফেলা হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘পানি পাক, কোন জিনিসই তাকে নাপাক করতে পারে না’ (আবূ দাঊদ, হা/৬৬; তিরমিযী, হা/৬৬; নাসাঈ, হা/৩২৭; দারাকুতনী, হা/৫০-৫৭)।


প্রশ্নকারী : হামীম, ঢাকা।





প্রশ্ন (১) : কোন্ সময় সত্য গোপন করা যায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : এক রাকা‘আত বিতর পড়লে তাহাজ্জুদ ছালাত সর্বনিম্ন দুই রাকা‘আত পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : ছালাত অবস্থায় মোবাইলে রিংটোন বাজলে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : সূরা আল-বাক্বারার ২৫৬ নম্বর আয়াতে ত্বাগূত অস্বীকার করার কথা বলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ত্বাগূত অর্থ কি? এবং ত্বাগূতের ফায়ছালা নেয়ার পরিণাম কী হতে পারে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : সূর্যগ্রহণ ও চন্দগ্রহণের সময় গর্ভবতী নারীদের কিছু কাজ থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়। এরকম কোন বিধান ইসলামে আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : অত্যাচারী মুসলিম শাসকের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরা কি জায়েয? এ ব্যাপারে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের আক্বীদা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : মহিলারা বাড়ীতে ই‘তিকাফ করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১): আঙ্গুরের যাকাত সম্পর্কে নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, ইহা অনুমান করা হবে, যেভাবে খেজুর অনুমান করা হয়। অতঃপর আঙ্গুর শুকিয়ে গেলে তার যাকাত আদায় করা হবে। যেভাবে খেজুরের যাকাত আদায় করা হয়। এটা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : ব্যবসার ক্ষেত্রে বা বাড়ী-দোকান বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সমাজে দালালি প্রথা চালু আছে। এটা কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : আল্লাহ চিরস্থায়ী। কিন্তু যেসকল মানুষ শিরক করে মারা যায় তারা তো চিরস্থায়ী জাহান্নামী এবং যারা প্রকৃত মুসলিম তারা চিরস্থায়ী জান্নাতী। তাহলে আল্লাহর চিরস্থায়ীত্বের সাথে মানুষের স্থায়িত্ব তুলনা করা শিরক হবে কি? এখানে স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে কোন পার্থক্য থাকল না। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : জনৈক ইমাম সাহেব, মুছল্লীদের উদ্দেশ্যে জুমু‘আর বয়ানে বলেছিলেন যে, আপনারা হজ্জের জন্য আল্লাহর কাছে খাছ দিলে দু‘আ করুন, আল্লাহ অবশ্যই দু‘আ কবুল করবেন। কেননা পিপিলিকা এবং কবুতর আল্লাহর কাছে কা‘বা ঘর ত্বাওয়াফ করতে চেয়েছিল, আল্লাহ তাদের দু‘আ কবুল করে জিবরীলকে আদেশ দিলেন তাদেরকে কা‘বা ঘরে পৌঁছে দিতে। এ ঘটনাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : সমাজের একশ্রেণীর মানুষ বিশ্বাস করে যে, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবর থেকে সালামের উত্তর দেন। এমনকি কখনো হাত বের করে দেন। উক্ত বিশ্বাস কতটুকু শরী‘আতসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ