শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:০৫ অপরাহ্ন

বিদ্রোহ, বিক্ষোভ ও সন্ত্রাসবাদ থেকে তরুণদের সতর্কীকরণ

-মুহাম্মাদ ইবনু নাছির আল-উরাইনি (রাহিমাহুল্লাহ)
-অনুবাদ : মাসঊদুর রহমান*


ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার জন্য, যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক, অতঃপর মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর পরিবার, ছাহাবী এবং যারা তাঁর নির্দেশনা ও সুন্নাহ অনুসরণ করেন, তাদের ওপর ক্বিয়ামত পর্যন্ত দরূদ ও শান্তি বর্ষিত হোক।

অতঃপর জ্ঞানী ও বিচক্ষণ ব্যক্তিগণ এটা বিশ্বাস করেন যে, সত্য ও মিথ্যার দ্বন্দ্ব ক্বিয়ামত পর্যন্ত  থাকবে এবং প্রত্যেকের নিজস্ব সমর্থক ও সাহায্যকারীও রয়েছে। সত্যবাদীরা যখন উম্মাহকে সঠিক পথ দেখাতে চায়, মিথ্যাবাদীরা তখন তাদেরকে বিভ্রান্ত করতে চায়। যে কোন চিন্তাশীল ব্যক্তি আজ পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের মুসলিমের অবস্থার দিকে খেয়াল করলে, সে আশ্চর্যজনক কিছু দেখতে পাবে। তাদের বিভেদ ও বিভক্তির ফলে উম্মাহ ভেঙে পড়েছে এবং শক্তি হ্রাস পেয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি শত্রুদের বিদ্বেষী চক্রান্তের ফল, যারা মুসলিমদের বিশ্বাসকে দুর্বল করার এবং তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার জন্য কোন ধরণের প্রচেষ্টা হাত ছাড়া করে না। সাম্প্রতিক সময়ে, তারা মুসলিম সন্তানদের মধ্যে এমন কিছু খুঁজে পেয়েছে, যা তাদের চাহিদা পূরণ করতে পারে। যা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য। তারা স্পষ্টভাবে বলেছে, ‘ধর্মকে ধর্মের তরবারি ছাড়া হত্যা করা যায় না’ এবং ‘একটি গাছকে তার আরেকটি শাখা ছাড়া কাটা যায় না’। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,

أَلَا لَا يَمْنَعَنَّ أَحَدَكُمْ رَهْبَةُ النَّاسِ أَنْ يَقُوْلَ بِحَقٍّ إِذَا رَآهُ أَوْ شَهِدَهُ فَإِنَّهُ لَا يُقَرِّبُ مِنْ أَجَلٍ وَلَا يُبَاعِدُ مِنْ رِزْقٍ أَنْ يَقُوْلَ بِحَقٍّ أَوْ يُذَكِّرَ بِعَظِيْمٍ

‘মানুষের ভয়-ভীতি তোমাদের কাউকে যেন তাক সত্য কথা বলা থেকে বিরত না রাখে, যখন সে তা দেখে বা প্রত্যক্ষ করে। নিশ্চয় সত্য বলা কারও মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করে না এবং জীবিকার দূরত্বও বাড়ায় না। তাই সে যেন সত্য বলে অথবা মহান (আল্লাহ)-এর কথা স্মরণ করায়’।[১]

জনৈক ইমাম বলেন, ‘একজন মুমিনের উচিত তার ঈমান বা বিশ্বাস প্রকাশ্যে ঘোষণা করা। কেননা যদি তা সঠিক হয় তাহলে জনগণ তার এই ঈমানের ব্যাপারে সাক্ষী দেবে। আর যদি তার ঈমান সঠিক না হয়, তাহলে জনগণ তার বাতিল ঈমানের ব্যাপারটি বর্ণনা করবে, যাতে করে সে তা থেকে তাওবা করতে পারে’।

যারা তাদের ব্যক্তি মর্যাদা এবং ধর্মীয় শিক্ষাগত যোগ্যতার দ্বারা নিজেদের আলাদা করেছেন, তাদের নিকটে ময়দানে সংঘটিত এসব অগ্রহণ যোগ্য আচরণ অজানা নয়। যা কেবল শত্রুর সেবা করে। এছাড়া ইসলাম ও মানবতার সাথে এর কোন সম্পর্কও নেই। তারা এর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেন না- এই ভয়ে যে, এটি তাদের মর্যাদা হ্রাস করবে। এটা দ্বীনের উপর দুনিয়াকে প্রাধান্য দেয়ার এবং সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য গোপন করার শামিল। তাদের ধর্মবিশ্বাসের পাপ থেকে তারা রেহাই পাবে না।

কোন ব্যক্তি বা নীতির প্রতি ধর্মান্ধতা, তা ভালো হোক বা খারাপ, তা দায়িত্ব থেকে মুক্তি দেয় না। যে ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলা এবং তাঁর রাসূল (ﷺ)-এর প্রতি একনিষ্ঠ, তাঁর ধর্মের  প্রতি আন্তরিক, সে কখনোই ধর্মান্ধ হতে পারে না, তবে সেই পথের অনুসরণ ব্যতীত যা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর মাধ্যমে এসেছে, তিনি বলেন,

يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّىْ قَدْ تَرَكْتُ فِيْكُمْ مَا إِنِ اعْتَصَمْتُمْ بِهِ فَلَنْ تَضِلُّوْا أبَدًا كِتَابَ اللهِ وَ سُنَّةَ نَبِيِّهِ ﷺ

‘হে মানবমণ্ডলী! আমি তোমাদের মধ্যে যা ছেড়ে যাচ্ছি, তা যদি তোমরা শক্ত করে আঁকড়ে ধরে থাক, তবে কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না। আর তাহল- আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবী (ﷺ)-এর সুন্নাত’।[২]

আমাদের উচিত সত্যকে গ্রহণ করা, তা যেখানেই  যার সাথেই থাকুক না কেন। সত্য হল মুমিনদের হারানো সম্পত্তি। সে যেখানেই তা পাবে  গ্রহণ করবে, সমর্থন করবে এবং সেদিকেই মানুষদেরকে আহ্বান করবে। কেননা তা হলো নিরাপত্তার চাদর এবং প্রকৃত সত্য ও  একমাত্র অনুসরণ যোগ্য।

কিছু প্রভাবিত বন্দীর সাথে আলোচনার মাধ্যমে আমি যা শুনেছি এবং প্রত্যক্ষ করেছি, সেই বিষয়টি এই গ্রন্থ লেখার ব্যাপারে আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। এই দেশে কিছু বিপথগামী ব্যক্তির ভুল চিন্তা ও পদ্ধতি দ্বারা কিছু ব্যক্তি প্রভাবিত হয়েছিল। যা, কিছু লোক ছড়িয়ে দিয়েছিল এমন ব্যক্তিদের নিকটে যারা কোন উপকৃত হয়নি। ফলে তরুণরা এমন বোকামিপূর্ণ কাজে লিপ্ত হয়েছেÑ যা দ্বীন-ধর্ম, রাষ্ট্র কোন কিছুর জন্যই উপকারী নয়। যার পরিণতি সকলের কাছে স্পষ্ট, দেশ এবং দেশের জনগণের জন্য তা কতটা ক্ষতিকর! কেননা তা অনিষ্ঠ এবং ফেতনার দরজা খুলে দিয়েছে। কত শোকাহত বাবা-মা এই কলহের যন্ত্রণা ভোগ করছেন, যা তাদের প্রিয় সন্তানদের এবং তাদের জীবনের আশা আকাক্সক্ষাকে ধ্বংস করে দিয়েছে।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ এদের শিকার হয়ে লজ্জা ও অপমান ছাড়া আর কিছুই পায়নি, আবার কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়েছে। যার ফলে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ওপর আবশ্যক হয়েছে  তাদের রক্ষা করতে,  পথ দেখাতে, পরামর্শ দিতে এবং সঠিক পথে পরিচালিত করতে। পাশাপাশি খারাপ সঙ্গী, প্রবৃত্তির অনুসরণকারী ও বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সতর্ক করা। (সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য)

তবে আশার কথা হলো- ভ্রান্ত চিন্তাধারার প্রবক্তাদের দ্বারা ছড়ানো সন্দেহ ও মিথ্যা দাবিগুলো উদ্ঘাটনের মাধ্যমে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আল্লাহর অনুগ্রহে, তাদের অনেকেই আলোর পথে ফিরে এসেছে। তারা তাদের অসদাচরণের জন্য গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করেছে, অনুতপ্ত হয়েছে এবং সঠিক পদ্ধতি গ্রহণ ও  দ্বীনের যাবতীয় সন্দেহ পূর্ণ বিষয়ে ধার্মিক ও আল্লাহভীরু আলেমগণের নিকটে প্রত্যাবর্তন করার ব্যাপারে অঙ্গীকার করেছে।

এটা মহান আল্লাহর অনুগ্রহে, অতঃপর সেই দায়িত্বশীল নেতাদের যারা এই যুবকদের পথ সংশোধন এবং সংস্কার করার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ মনোযোগ এবং যত্ন নিবেদিত করেছেন। আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা, এই জন্য যে, তারা ব্যক্তিগত উপদেশ, ইসলামী প্রশিক্ষণ কর্মশালা, শরী‘আহ ভিত্তিক বইসমূহ এবং মহা মূল্যবান চিঠি পত্রের মাধ্যমে এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছে যে, এখন তারা শরী‘আতের জ্ঞানের বিষয়ে পারদর্শী হয়ে উঠেছে। অতঃপর তারা এমন অনেক বিষয় বুঝতে পেরেছে, যা আগে তাদের কল্পনাতেও আসেনি, যদিও একসময় তারা ছিল অন্ধ অনুসারী, যার ইচ্ছা সে তাদের পরিচালনা করত এবং টেনে নিয়ে যেত। এখনও এমন কিছু লোক আছে, যারা ভুল-বিভ্রান্তিতে রয়েছে। তবে তারা সংখ্যায় খুবই সীমিত। আমরা মহান আল্লাহর নিকটে আমাদের এবং তাদের জন্য হেদায়াত প্রার্থনা করি!

বর্তমানে কিছু দেশে যে বিপ্লবী উত্তেজনা এবং এক দেশ থেকে আরেক দেশে বিক্ষোভের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে, সে প্রেক্ষাপটে এবং আল্লাহর জন্য পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব বন্ধন ও ধর্মীয় উপদেশ প্রদানের দৃষ্টিকোণ থেকে আমি তরুণদের এবং অন্যান্যের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যে, তারা যেন প্রকাশ্য শত্রু ভণ্ড প্রতারক অথবা যারা তাদের মিথ্যা আশা ও প্রতিশ্রুতি দ্বারা প্রতারিত করে, তাদের মিথ্যা দাবি, স্লোগান এবং বিদ্বেষপূর্ণ গুজবে প্রলুব্ধ না হন। তাদের সতর্ক থাকা উচিত, কারণ যারাই সত্যবাদী দাবি করে, তাদের সবাই সত্যবাদী নয়। এর প্রমাণ, দৃষ্টিসম্পন্ন সকলের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে। সম্প্রতি মুসলিম দেশগুলোতে ফিতনা উস্কে দেয়ার জন্য নিকট ও  দূর থেকে অনেক কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে। এই বিক্ষোভগুলোকে সমর্থন করার জন্য সব ধরনের বিক্ষোভ, বিদ্রোহ ও প্রতিবাদকে সমর্থন করা হয়ে থাকে, যার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা, লক্ষাধিক অবৈধ রক্তপাত, সম্মান লঙ্ঘন এবং সম্পত্তি ও সম্পদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড।

এই পুস্তকে আমি জিহাদ, অবিশ্বাসী বা কাফের বলে ঘোষণা করা, আত্মহত্যা, বিক্ষোভ, হত্যা, বোমা হামলা, শাসকদের আনুগত্য, চুক্তি ও চুক্তি পূরণ এবং ন্যায়সঙ্গত কারণ ব্যতীত মহান আল্লাহ যাদেরকে হত্যা করতে নিষেধ করেছেন, তাদেরকে হত্যা করলে তার বিধান, পাশাপাশি আমাদের সম্মানিত শায়েখদের নিকট থেকে এই জাতীয় অন্যান্য বিধানসমূহ সংকলন করেছি। আমি যা উপযুক্ত ও সঠিক বলে মনে করেছি তা যোগ করেছি, আশা করি মহান আল্লাহ যাদের কাছে এই বইটি পৌঁছাবেন তাদের উপকার হবে এবং তারা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এই আমলগুলো করবেন। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের দেশ এবং মুসলিম দেশগুলোকে সমস্ত ক্ষতি এবং দুর্ভোগ থেকে রক্ষা করুন এবং আমাদের সকলকে সেই দিকে পরিচালিত করুন, যা তিনি ভালোবাসেন এবং সন্তুষ্ট হন। আমাদের নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) এবং তাঁর সমস্ত পরিবার এবং সকল ছাহাবীদের উপর আল্লাহ তা‘আলার শান্তি বর্ষিত হোক।

লেখক শায়খ মুহাম্মদ বিন নাছির আল-আরিনী চতুর্থ সংস্করণের ভূমিকায় লিখেছেন যে, সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য। অতঃপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর উপর। এই পুস্তিকাটির প্রশংসা আমার পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ নয়, কেননা এটা একটি অসহায় বান্দার পক্ষ হতে তার রবের প্রতি সাধনার ফল। যাইহোক, এটাকে সমর্থন করে আমি বিভিন্ন সরকারী উৎস, কিছু আলেম সমাজ  এবং জ্ঞান পিপাসু ইত্যাদি পেয়েছি-আলহামদুলিল্লাহ ছুম্মা আলহামদুলিল্লাহ। এমনিভাবে দেশের বাইরে থাকা সম্মানিত আলেমদের থেকে মূল্যবান শারঈ বিধিমালা এবং গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাগুলো পেয়েছিÑ যা অজ্ঞ, সাধারণ মানুষ এবং অন্যদের উপকার করেছে। এটিই আমাকে এর মুদ্রণ পুনরাবৃত্তি করতে উৎসাহিত করেছিল, যাতে করে মহান আল্লাহ এর কল্যাণগুলোকে ব্যাপকতা দান  করেন।

আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহে অতঃপর দেশের সৎ লোকদের সহযোগিতায় সেটাই হয়েছে। যারা তাদের দেশের জন্য করণীয় বিষয়াদি এবং শিক্ষিত ও অশিক্ষিত ব্যক্তিদের দ্বারা এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের  বিষয় উপলব্ধি করেছিলেন।

আর যে ব্যক্তি এখনও এই চিত্রটি স্পষ্টভাবে দেখেননি এবং এই ফিতনার পরিণাম উপলব্ধি করতে পারেননি, সে যেন দেখে এবং চিন্তা করে আমাদের চারপাশে কী ঘটছে এবং তারা কীভাবে নানা ধরনের অকল্যাণ ও বিস্ময়কর ঘটনাবলীর মধ্যে পৌঁছে গেছে! সে কি চাইলেই তার অবস্থা তাদের মত হবে এবং এই বরকতময় দেশে তার যে নিরাপত্তা এবং ব্যাপক কল্যাণ রয়েছে এই ক্ষেত্রে সে কি তার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে? মহান আল্লাহ বলেন, وَ اللّٰہُ غَالِبٌ عَلٰۤی اَمۡرِہٖ وَ لٰکِنَّ اَکۡثَرَ النَّاسِ لَا  یَعۡلَمُوۡنَ ‘আর আল্লাহ তাঁর কাজের উপর প্রাধান্য বিস্তার করেন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না’ (সূরা ইউসুফ : ২১)। আমলযোগ্য একটি হাদীছ

عن حُذَيْفَةَ بْنَ الْيَمَانِ يَقُوْلُ كَانَ النَّاسُ يَسْأَلُوْنَ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ عَنْ الْخَيْرِ وَكُنْتُ أَسْأَلُهُ عَنْ الشَّرِّ مَخَافَةَ أَنْ يُدْرِكَنِيْ فَقُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّا كُنَّا فِيْ جَاهِلِيَّةٍ وَشَرٍّ فَجَاءَنَا اللهُ بِهَذَا الْخَيْرِ فَهَلْ بَعْدَ هَذَا الْخَيْرِ مِنْ شَرٍّ قَالَ نَعَمْ قُلْتُ وَهَلْ بَعْدَ ذَلِكَ الشَّرِّ مِنْ خَيْرٍ قَالَ نَعَمْ وَفِيْهِ دَخَنٌ قُلْتُ وَمَا دَخَنُهُ قَالَ قَوْمٌ يَهْدُوْنَ بِغَيْرِ هَدْيِيْ تَعْرِفُ مِنْهُمْ وَتُنْكِرُ قُلْتُ فَهَلْ بَعْدَ ذَلِكَ الْخَيْرِ مِنْ شَرٍّ قَالَ نَعَمْ دُعَاةٌ إِلَى أَبْوَابِ جَهَنَّمَ مَنْ أَجَابَهُمْ إِلَيْهَا قَذَفُوْهُ فِيْهَا قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ صِفْهُمْ لَنَا فَقَالَ هُمْ مِنْ جِلْدَتِنَا وَيَتَكَلَّمُوْنَ بِأَلْسِنَتِنَا قُلْتُ فَمَا تَأْمُرُنِيْ إِنْ أَدْرَكَنِيْ ذَلِكَ قَالَ تَلْزَمُ جَمَاعَةَ الْمُسْلِمِيْنَ وَإِمَامَهُمْ قُلْتُ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُمْ جَمَاعَةٌ وَلَا إِمَامٌ قَالَ فَاعْتَزِلْ تِلْكَ الْفِرَقَ كُلَّهَا وَلَوْ أَنْ تَعَضَّ بِأَصْلِ شَجَرَةٍ حَتَّى يُدْرِكَكَ الْمَوْتُ وَأَنْتَ عَلَى ذَلِكَ

হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকজন নবী (ﷺ)-কে কল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেন, আর আমি তাঁকে অকল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতাম; এই ভয়ে যেন আমি ঐ সবের মধ্যে পড়ে না যাই। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমরা জাহিলিয়্যাতে অকল্যাণকর অবস্থায় জীবন যাপন করতাম।  অতঃপর আল্লাহ আমাদের এ কল্যাণ দান করেছেন। এ কল্যাণকর অবস্থার পর আবার কোন অকল্যাণের আশঙ্কা আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ঐ অকল্যাণের পর কোন কল্যাণ আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আছে। তবে তা মন্দ মেশানো। আমি বললাম, মন্দ মেশানো কী? তিনি বললেন, এমন একদল লোক যারা আমার সুন্নাত ত্যাগ করে অন্যপথে পরিচালিত হবে। তাদের কাজে ভাল-মন্দ সবই থাকবে। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, অতঃপর কি আরো অকল্যাণ আছে? তিনি বললেন হ্যাঁ, তখন জাহান্নামের দিকে আহ্বানকারীদের উদ্ভব ঘটবে। যারা তাদের ডাকে সাড়া দিবে তাকেই তারা জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! এদের পরিচয় বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, তারা আমাদেরই সম্প্রদায়ভুক্ত এবং কথা বলবে আমাদেরই ভাষায়। আমি বললাম, আমি যদি এ অবস্থায় পড়ে যাই, তাহলে আপনি আমাকে কী করতে আদেশ দেন? তিনি বললেন, মুসলিমদের দল ও তাঁদের ইমামকে আঁকড়ে ধরবে। আমি বললাম, যদি মুসলিমদের এহেন দল ও ইমাম না থাকে? তিনি বলেন, তখন তুমি তাদের সকল দল উপদলের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করবে এবং মৃত্যু না আসা পর্যন্ত বৃক্ষমূল দাঁতে আঁকড়ে ধরে হলেও তোমার দ্বীনের উপর থাকবে।[৩]

আমরা পুস্তিকারটির মূলে প্রবেশ করার পূর্বে মানুষদেরকে এমন একটি মহান বিষয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়ার ইচ্ছা পোষণ করছি যার ওজন হালকা এবং তার মূল্য আল্লাহর বান্দাদের নিকটে খুবই কম। আর সেটা হলÑ উত্তম চরিত্র, যা আমাদের নবী মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে অন্য সকল মানুষের থেকে আলাদা করেছে।

এই পুস্তকটি মহান আল্লাহর বাণী অনুযায়ী দয়া ও হেদায়াতের নবীর এই মহান গুণকে শিরোনাম করে প্রকাশ করার সুযোগ এসেছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘এবং স্মরণ করিয়ে দাও, কারণ প্রকৃতপক্ষে, স্মরণ করিয়ে দেয়া বিশ্বাসীদের উপকার করে’ (সূরা আয-যারিয়াত : ৫৫)।

(ইনশাআল্লাহ চলবে)


* শিক্ষক, দারুল হুদা ইসলামী কমপ্লেক্স, বাঘা, রাজশাহী।

তথ্যসূত্র :
[১].  মুসননাদে আহমাদ, হা/১১৪৯২।
[২]. বায়হাক্বী, সুনানুল কুবরা, হা/২০৩৩৬, পৃ. ১৯৪; আল-মুস্তাদরাক ‘আলাস সহীহাইন, হা/৩১৮।
[৩]. ছহীহ বুখারী, হা/৩৬০৬।




প্রসঙ্গসমূহ »: নীতি-নৈতিকতা
আল-কুরআন তেলাওয়াতের ফযীলত - আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম
ইখলাছই পরকালের জীবনতরী - আব্দুল গাফফার মাদানী
সচ্চরিত্রই মানব উন্নতির চাবিকাঠি - ড. ইমামুদ্দীন বিন আব্দুল বাছীর
কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা (৩য় কিস্তি) - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে ইসলাম শিক্ষার আবশ্যকতা - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
ভ্রান্ত ফের্কাসমূহের ঈমান বনাম আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের ঈমান : একটি পর্যালোচনা - ড. আব্দুল্লাহিল কাফী বিন লুৎফর রহমান মাদানী
ইসলাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠায় যুবসমাজ - ড. মেসবাহুল ইসলাম
জঙ্গিবাদ বনাম ইসলাম (শেষ কিস্তি) - আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম
আল-কুরআন তেলাওয়াতের ফযীলত (৭ম কিস্তি) - আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম
ফিতনা পরিচিতি ও আমাদের করণীয় (শেষ কিস্তি) - আব্দুল হাকীম বিন আব্দুল হাফীজ
রামাযানের ফাযায়েল ও মাসায়েল - আল-ইখলাছ ডেস্ক
ইসলামে ব্যবসায়িক মূলনীতি - ড. সাদীক মাহমূদ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ