শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:০৫ অপরাহ্ন

ধর্মীয় সংস্কারের স্বরূপ ও প্রকৃতি

- ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান*


(শেষ কিস্তি)

(ঙ) ধর্মীয় সংস্কারের ফলাফল (The result of religious reform)

ধর্মীয় সংস্কারের উপর্যুক্ত স্বরূপ যথাযথ বাস্তবায়িত হলে ইসলাম বিজয়ী শক্তি হিসাবে আবির্ভূত হবে। অন্যায়-অনাচার দূরীভূত হবে। ইসলামের বিশুদ্ধ ‘আক্বীদাহ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে, বিলুপ্ত হওয়া ইসলামী আদর্শ পুনর্জীবন লাভ করবে, বিদ‘আত উৎখাত হবে এবং সালাফে ছালিহীনের ‘আক্বীদাহ পুনরুজ্জীবিত হবে। ফলে মানব জীবনের সর্বস্তরে ইসলামের সৌন্দর্য প্রতিফলিত হবে। জান্নাতের শান্তিময় সমীরণ প্রবাহিত হবে ও ইসলামের প্রথম শতাব্দীতে প্রবাহিত ঈমানী প্রবাহ পুনর্বার প্রবাহিত হবে এবং সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপদ এক মুসলিম বিশ্বের আবির্ভাব ঘটবে। তাই এই সংস্কার আন্দোলনের জন্য যেমন দৃঢ় প্রত্যাশা রাখতে হবে, তেমনি এটা প্রাপ্তির জন্যও থাকতে হবে তীব্র আকাক্সক্ষা ও কর্মপ্রচেষ্টা। ইসলামী শরী‘আতে এব্যাপারে অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে। ধর্মীয় সংস্কারের ফলাফলকে আমরা নিম্নোক্ত দু’ভাবে আলোচনা করতে পারি।

(১) আখিরাতের জীবন (The life of the Hereafter)

মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত ‘আমলগুলো যখন ইসলামের আলোকে পরিচালিত হবে, তখন সমাজ সকল সঙ্কট থেকে মুক্ত হবে। নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে মানুষ ধর্মীয় অনুশাসন প্রতিপালন করতে পারবে। মূলত সমাজে উক্ত পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যই ছিল ধর্মীয় সংস্কারের মূল লক্ষ্য। এজন্য আল্লাহ তা‘আলা উক্ত কাজের প্রতিদান হিসেবে তাদেরকে আখিরাতের জীবনে কঠিন আযাব থেকে রক্ষা করবেন, গুনাহসমূহের মার্জনা করবেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাতের উত্তরাধিকারী বানাবেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

يٰۤاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا هَلْ اَدُلُّكُمْ عَلٰى تِجَارَةٍ تُنْجِيْكُمْ مِّنْ عَذَابٍ اَلِيْمٍ۰۰۱۰ تُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَ رَسُوْلِهٖ وَ تُجَاهِدُوْنَ فِيْ سَبِيْلِ اللّٰهِ بِاَمْوَالِكُمْ وَ اَنْفُسِكُمْ١ؕ ذٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَۙ۰۰۱۱ يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوْبَكُمْ وَ يُدْخِلْكُمْ جَنّٰتٍ تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ وَ مَسٰكِنَ طَيِّبَةً فِيْ جَنّٰتِ عَدْنٍ١ؕ ذٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيْمُۙ.


‘হে মুমিনগণ! আমি কি তোমাদেরকে এমন এক ব্যবসার কথা বলে দিব যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি হতে রক্ষা করবে? তা এই যে, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ)-এর প্রতি ঈমান আনয়ন করবে এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও জীবন দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয় যদি তোমরা জানতে! আল্লাহ তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দিবেন এবং তোমাদেরকে দাখিল করাবেন জান্নাতে, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত এবং স্থায়ী জান্নাতের উত্তম বাসগৃহে। এটাই মহা সাফল্য’ (সূরা আছ-ছাফ : ১০-১২)। উল্লেখ্য, উক্ত আয়াতে ‘জিহাদ’ শব্দটি দ্বীন ইসলামের সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।[১]

(২) জাগতিক জীবন (Worldly life)

পৃথিবীতে স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও পরিপূর্ণ ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য একনিষ্ঠ সংগ্রামের মাধ্যমে জাগতিক জীবনেও ফলাফল সুস্পষ্ট। সমাজের সকল স্থান হতে দুর্নীতি, দুরাচার দূরীভূত হবে, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল, মিথ্যা ও প্রতারণার রাজনীতি বিতাড়িত হয়ে আল-কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক বৈষম্যহীন রাজনীতির মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে, ব্যবসায়ে অনৈতিকতা ভুলে গিয়ে সততা ও বিশ্বস্ততার সাথে ব্যবসা পরিচালিত হবে। শিরক-বিদ‘আত মূলোৎপাটন করে ইসলামী জীবন ধারার পুনর্জাগরণ ঘটবে। আল্লাহদ্রোহী নেতৃত্ব উৎখাত হয়ে ইসলামী শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবে। এভাবে গোটা দুনিয়া ইসলামের করতলগত হবে। মুসলিমরাই নেতৃত্বের সুযোগ লাভ করবে। ইসলামের বিজয়ী পতাকা আবারও পতপত করে উড়বে ইনশাআল্লাহ। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা আল-কুরআনে বলেন, هُوَ الَّذِيْۤ اَرْسَلَ رَسُوْلَهٗ بِالْهُدٰى وَ دِيْنِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهٗ عَلَى الدِّيْنِ كُلِّهٖ وَ لَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُوْنَؒ ‘তিনিই (আল্লাহ) তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যেন তিনি তাকে সমস্ত ধর্মের উপর বিজয়ী করতে পারেন। যদিও তা মুশরিকরা অপসন্দ করে’।[২]  ইমাম তাবারী (২২৪-৩১০ হি./৮৩৯-৯২৩ খ্রি.) (রাহিমাহুল্লাহ) উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, لِيُبْطِلَ بِهِ الْمِلَلَ كُلَّهَا حَتَّى لَا يَكُوْنَ دِيْنَ سِوَاهُ ‘তাঁর মাধ্যমে যেন সমস্ত ধর্মকে বাতিল করে দেন, যাতে আল্লাহর দ্বীন ছাড়া অন্য কোন ধর্ম না থাকে’।[৩] শায়খ মুহাম্মাদ নাছিরুদ্দীন আলবানী (১৯১৪-১৯৯৯ খ্রি.) (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,  تُبْشِرُنَا هَذِهِ الْآيَةُ الْكَرِيْمَةُ بِأَنَّ الْمُسْتَقْبِلَ لِلْإِسْلَامِ بِسَيْطُرَتِهِ وَ ظُهُوْرِهِ وَ حُكْمِهِ عَلَى الْأَدْيَانِ كُلِّهَا ‘এ মর্যাদাপূর্ণ আয়াত আমাদেরকে সুসংবাদ প্রদান করে যে, নিশ্চয় আগামীর দিনগুলো ইসলামের জন্য। তার শক্তিতে, প্রকাশে ও সমস্ত ধর্মের উপর কর্তৃত্বে’।[৪] হাদীছে এসেছে, ‘আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে,

لَا يَذْهَبُ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ حَتَّى تُعْبَدَ اللاَّتُ وَالْعُزَّى فَقُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنْ كُنْتُ لأَظُنُّ حِيْنَ أَنْزَلَ اللهُ (هُوَ الَّذِيْۤ اَرْسَلَ رَسُوْلَهٗ بِالْهُدٰى وَ دِيْنِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهٗ عَلَى الدِّيْنِ كُلِّهٖ وَ لَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُوْنَؒ) أَنَّ ذَلِكَ تَامًّا قَالَ إِنَّهُ سَيَكُوْنُ مِنْ ذَلِكَ مَا شَاءَ اللهُ ثُمَّ يَبْعَثُ اللهُ رِيْحًا طَيِّبَةً فَتَوَفَّى كُلَّ مَنْ فِىْ قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةِ خَرْدَلٍ مِنْ إِيْمَانٍ فَيَبْقَى مَنْ لَا خَيْرَ فِيْهِ فَيَرْجِعُوْنَ إِلَى دِيْنِ آبَائِهِمْ

‘কোন রাত এবং দিন লাত ও ‘উয্যার পূজা ছাড়া অতিক্রান্ত হবে না। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! যখন আল্লাহ এই আয়াত নাযিল করেন ‘তিনিই (আল্লাহ) তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যেন তিনি তাকে সমস্ত ধর্মের উপর বিজয়ী করতে পারেন। যদিও তা মুশরিকরা অপসন্দ করে’, তখন আমি ধারণা করেছিলাম যে, উক্ত আয়াতের হুকুম পূর্ণতা লাভ করেছে। তখন রাসূল (ﷺ) বলেন, আল্লাহ চাইলে ভবিষ্যতেও হবে। অতঃপর আল্লাহ পবিত্র বাতাস প্রবাহিত করবেন। ফলে যার হৃদয়ে শরিষা পরিমাণ ঈমানের অংশ আছে এমন প্রত্যেকেই মারা যাবে। যার মধ্যে কোন কল্যাণ নেই সেই কেবল অবশিষ্ট থাকবে। অতঃপর তারা তাদের বাপ-দাদার ধর্মে প্রত্যাবর্তন করবে’।[৫] এ হাদীছের ব্যাখ্যায় শায়খ মুহাম্মাদ নাছিরুদ্দীন আলবানী (১৩৩২-১৪২০ হি./১৯১৪-১৯৯৯ খ্রি.) (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

وقد جاء في بعض بشائر الأحاديث النبوية أن هذه الآية ستتحقق فيما بعد فلكي يتمكن المسلمون من تحقيق هذا النص القرآني والوعد الإلهي فلا بد من سبيل بين وطريق واضح

‘নবী করীম (ﷺ)-এর হাদীছ থেকে বেশ কিছু সুসংবাদ এসেছে যে, নিশ্চয় এ আয়াত অচিরেই বাস্তবায়িত হবে। যাতে করে মুসলিমরা অন্যান্য বিজয় অর্জন করতে পারে, যা কুররআনী দলীল ও ইলাহী প্রতিশ্রুতির আলোকে প্রমাণিত। তবে এটা যে সুস্পষ্ট পথ ও প্রকাশ্য পদ্ধতির আলোকেই কার্যকর হবে, তাতে কোন সন্দেহ নেই’।[৬]

অতএব বিশ্বব্যাপী ইসলামের কর্তৃত্ব ও প্রচার-প্রসার তথা ইসলামের সংস্কার বা পুনর্জাগরণ সম্ভব। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্পষ্ট ঘোষণা তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ বহন করে। হাদীছে এসেছে,

عَنْ ثَوْبَانَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ اللهَ زَوَى لِىَ الْأَرْضَ فَرَأَيْتُ مَشَارِقَهَا وَمَغَارِبَهَا وَإِنَّ أُمَّتِىْ سَيَبْلُغُ مُلْكُهَا مَا زُوِىَ لِى مِنْهَا وَأُعْطِيْتُ الْكَنْزَيْنِ الأَحْمَرَ وَالأَبْيَضَ وَإِنِّىْ سَأَلْتُ رَبِّىْ لأُمَّتِىْ أَنْ لَا يُهْلِكَهَا بِسَنَةٍ بِعَامَّةٍ وَأَنْ لَا يُسَلِّطَ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِنْ سِوَى أَنْفُسِهِمْ فَيَسْتَبِيْحَ بَيْضَتَهُمْ وَإِنَّ رَبِّىْ قَالَ يَا مُحَمَّدُ إِنِّىْ إِذَا قَضَيْتُ قَضَاءً فَإِنَّهُ لَا يُرَدُّ وَإِنِّىْ أَعْطَيْتُكَ لِأُمَّتِكَ أَنْ لَا أُهْلِكَهُمْ بِسَنَةٍ بِعَامَّةٍ وَأَنْ لَا أُسَلِّطَ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِنْ سِوَى أَنْفُسِهِمْ يَسْتَبِيْحُ بَيْضَتَهُمْ وَلَوِ اجْتَمَعَ عَلَيْهِمْ مَنْ بِأَقْطَارِهَا أَوْ قَالَ مَنْ بَيْنَ أَقْطَارِهَا حَتَّى يَكُوْنَ بَعْضُهُمْ يُهْلِكُ بَعْضًا وَيَسْبِىْ بَعْضُهُمْ بَعْضًا

ছাওবান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা গোটা পৃথিবীকে সংকুচিত করে আমার সম্মুখে রেখে দিলেন। অতঃপর আমি এর পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত প্রত্যক্ষ করেছি। পৃথিবীর যে অংশটুকু গুটিয়ে আমার সম্মুখে রাখা হয়েছিল সে পর্যন্ত আমার উম্মাতের কর্তৃত্ব পৌঁছবে। আমাকে লাল (স্বর্ণ) ও সাদা (রৌপ্য) দু’প্রকারের গুপ্তধন দেয়া হয়েছে। আমি আমার উম্মাতের জন্য আমার রবের কাছে এ দু‘আ করেছি, যেন তিনি তাদেরকে সাধারণ দুর্ভিক্ষের দ্বারা ধ্বংস না করেন এবং যেন তিনি তাদের উপর নিজেদের ছাড়া এমন কোন শত্রুকে চাপিয়ে না দেন যারা তাদের দলকে ভেঙ্গে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিবে। এ কথা শুনে আমার পালনকর্তা বললেন, হে মুহাম্মাদ (ﷺ)! আমি যা সিদ্ধান্ত করি তা কখনো পরিবর্তন হয় না। আমি তোমার দু‘আ কবুল করেছি। আমি তোমার উম্মাতকে সাধারণ দুর্ভিক্ষের দ্বারা ধ্বংস করব না এবং তাদের উপর তাদের নিজেদের ছাড়া অন্য এমন কোন শত্রুকে চাপিয়ে দেব না যারা তাদের সমষ্টিকে বিক্ষিপ্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হবে। যদিও পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত হতে লোক একত্রিত হয়ে প্রচেষ্টা করে না কেন। তবে মুসলিমগণ নিজের মধ্যে পরস্পর একে অপরকে হত্যা করবে এবং একে অপরকে বন্দী করবে’।[৭] অন্যত্র মিক্বদাদ ইবনু আসওয়াদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে,

لَا يَبْقَى عَلَى ظَهْرِ الْأَرْضِ بَيْتُ مَدَرٍ وَلَا وَبَرٍ إِلَّا أَدْخَلَهُ اللهُ كَلِمَةَ الْإِسْلاَمِ بِعِزِّ عَزِيْزٍ أَوْ ذُلَّ ذَلِيْلٍ إِمَّا يَعِزُّهُمُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ فَيَجْعَلُهُمْ مِنْ أَهْلِهَا أَوْ يُذِلُّهُمْ فَيَدِيِنُوْنَ لَهَا

‘পৃথিবীর এমন কোন মাটির ঘর ও তাঁবুও অবশিষ্ট থাকবে না, যেখানে ইসলামের কালিমা প্রবেশ করবে না। সম্মানের সাথে হোক বা অসম্মানের সাথে হোক। আল্লাহ তাদের সম্মান দিবেন ফলে তিনি তাদেরকে দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত করে নিবেন। অথবা অপমান করবেন ফলে তারা তার প্রতি বাধ্য হবে’।[৮] অত্র হাদীছ ইসলামের বিশ্বব্যাপী প্রসারের সাথে সাথে তার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামগ্রিক বিজয়ের ইঙ্গিত বহন করে। উক্ত হাদীছের আলোচনায় শায়খ মুহাম্মাদ নাছিরুদ্দীন আলবানী (১৯১৪-১৯৯৯ খ্রি.) (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

لا شك فيه أن تحقيق هذا الانتشار يستلزم أن يعود المسلمون أقوياء في معنوياتهم و مادياتهم و سلاحهم حتى يستطيعوا أن يتغلبوا على قوى الكفر و الطغيان

‘নিঃসন্দেহে ইসলামের বিজয়ের সম্প্রসারণ আবশ্যক করে দেয় এভাবে যে, মুসলিমরা তাদের আত্মবিশ্বাস, জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং সামরিক শক্তি পুনরায় ফিরে পাবে। এমনকি তারা কুফরী ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির উপরও জয় লাভ করতে সক্ষম হবে’।[৯] তামীমুদ দারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে,

لَيَبْلُغَنَّ هَذَا الأَمْرُ مَا بَلَغَ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ وَلَا يَتْرُكُ اللهُ بَيْتَ مَدَرٍ وَلَا وَبَرٍ إِلَّا أَدْخَلَهُ اللهُ هَذَا الدِّيْنَ بِعِزِّ عَزِيْزٍ أَوْ بِذُلِّ ذَلِيْلٍ عِزًّا يُعِزُّ اللهُ بِهِ الإِسْلَامَ وَذُلًّا يُذِلُّ اللهُ بِهِ الْكُفْرَ. وَكَانَ تَمِيْمٌ الدَّارِىُّ يَقُوْلُ قَدْ عَرَفْتُ ذَلِكَ فِىْ أَهْلِ بَيْتِىْ لَقَدْ أَصَابَ مَنْ أَسْلَمَ مِنْهُمُ الْخَيْرُ وَالشَّرَفُ وَالْعِزُّ وَلَقَدْ أَصَابَ مَنْ كَانَ مِنْهُمْ كَافِراً الذُّلُّ وَالصَّغَارُ وَالْجِزْيَةُ

‘যেখানে রাত ও দিন হয় এ শরী‘আত সেখানে অবশ্যই অবশ্যই পৌঁছবে। আল্লাহ কোন মাটির ঘর ও তাঁবুকেও ছাড়বেন না এ দ্বীন সেখানে প্রবেশ না করানো পর্যন্ত। সম্মানের সাথে হোক বা অসম্মানের সাথে হোক। সম্মানের সাথে হলে ইসলাম দ্বারা আল্লাহ সম্মানিত করবেন। অপমানিত হয়ে হলে কুফর দ্বারা অপমানিত করবেন। তামীমুদ দারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি আমার পরিবার দ্বারাই এটি বুঝতে পেরেছি। ইসলাম তার কাছেই পৌঁছেছে, যিনি উত্তম, ভদ্র ও সম্মানিত। আর তাদের মধ্যে যে কাফের তার কাছে পৌঁছেছে, লাঞ্ছনা, হীনতা ও জিযিয়াসহ’।[১০] ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন,

بَيْنَمَا نَحْنُ حَوْلَ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ نَكْتُبُ إِذْ سُئِلَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَىُّ الْمَدِيْنَتَيْنِ تُفْتَحُ أَوَّلاً قُسْطَنْطِيْنِيَّةُ أَوْ رُومِيَّةَُ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ  مَدِيْنَةُ هِرَقْلَ تُفْتَحُ أَوَّلاً  يَعْنِىْ قُسْطَنْطِيْنِيَّةَ

‘আমরা একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পাশে থেকে লিখছিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে প্রশ্ন্ন করা হলো, কনস্টান্টিনোপল ও রূমিয়া দু’টি শহরের মধ্যে কোন্টি আগে বিজিত হবে? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হিরাকেলের শহর আগে বিজিত হবে। অর্থাৎ কনস্টান্টিনোপল’।[১১] উল্লেখ্য, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ভবিষ্যদ্বাণী করার ৮০০ বছরের অধিক সময় পর ২০শে জুমাদাল উলা রোজ মঙ্গলবার ৮৫৭ হিজরী মোতাবেক ২৯শে মে ১৪৫৩ খ্রিষ্টাব্দে ‘উছমানীয় খলীফা, দিগি¦জয়ী বীর মুহাম্মাদ আল-ফাতিহ (শাসনকাল : ৮৫৫-৮৮৬ হি./১৪৫১-১৪৮১ খ্রি.) কনস্টান্টিনোপল (ঈড়হংঃধহঃরহড়ঢ়ষব) বিজয় করেন।[১২] এ প্রসঙ্গে অন্যত্র রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,

وَاللهِ لَيُتِمَّنَّ اللهُ هَذَا الْأَمْرَ حَتَّى يَسِيرَ الرَّاكِبُ مَا بَيْنَ صَنْعَاءَ وَحَضْرَمَوْتَ مَا يَخَافُ إِلَّا اللهَ تَعَالَى وَالذِّئْبَ عَلَى غَنَمِهِ وَلَكِنَّكُمْ تَعْجَلُوْنَ

‘আল্লাহর কসম! নিশ্চয় এ (ইসলামী) শাসন পূর্ণতা লাভ করবে। এমনকি সান‘আ থেকে হাযারামাউত পর্যন্ত একজন সওয়ারী একাকী ভ্রমণ করবে। কিন্তু আল্লাহ ব্যতীত সে কাউকে ভয় পাবে না। তবে ভয় পাবে তার ছাগল পালের উপরে নেকড়ের আক্রমণের। কিন্তু তোমরা খুব ব্যস্ততা প্রকাশ করছ’।[১৩] এছাড়া ইসলামের রাজনৈতিক বিজয়ের ধারা উল্লেখ করতে গিয়ে আল্লাহর রাসূর (ﷺ) বলেছেন,

تَكُوْنُ النُّبُوَّةُ فِيْكُمْ مَا شَاءَ اللهُ أَنْ تَكُوْنَ ثُمَّ يَرْفَعُهَا إِذَا شَاءَ أَنْ يَرْفَعَهَا ثُمَّ تَكُوْنُ خِلَافَةٌ عَلَى مِنْهَاجِ النُّبُوَّةِ فَتَكُوْنُ مَا شَاءَ اللهُ أَنْ تَكُوْنَ ثُمَّ يَرْفَعُهَا إِذَا شَاءَ أَنْ يَرْفَعَهَا ثُمَّ تَكُوْنُ مُلْكاً عَاضًّا فَيَكُوْنُ مَا شَاءَ اللهُ أَنْ يَكُوْنَ ثُمَّ يَرْفَعُهَا إِذَا شَاءَ أَنْ يَرْفَعَهَا ثُمَّ تَكُوْنُ مُلْكاً جَبْرِيَّةً فَيَكُوْنُ مَا شَاءَ اللهُ أَنْ يَكُوْنَ ثُمَّ يَرْفَعُهَا إِذَا شَاءَ أَنْ يَرْفَعَهَا ثُمَّ تَكُوْنُ خِلَافَةٌ عَلَى مِنْهَاجِ نُبُوَّةٍ ثُمَّ سَكَتَ

‘তোমাদের মধ্যে নবুওয়াত থাকবে যতদিন আল্লাহ ইচ্ছা করেন। অতঃপর তা উঠিয়ে নেবেন। এরপর নবুওয়াতের তরীকায় খেলাফত কায়েম হবে। আল্লাহ পাক যতদিন ইচ্ছা তা রেখে দেবেন। অতঃপর উঠিয়ে নেবেন। অতঃপর অত্যাচারী রাজাদের আগমন ঘটবে। আল্লাহ পাক স্বীয় ইচ্ছামত তাদেরকে বহাল রাখবেন। তারপর উঠিয়ে নিবেন। অতঃপর জবরদখলকারী শাসকদের যুগ শুরু হবে। আল্লাহ পাক স্বীয় ইচ্ছামত তাদেরকে বহাল রাখবেন। অতঃপর উঠিয়ে নেবেন। এরপরে নবুওয়াতের তরীকায় পুনরায় খিলাফত কায়িম হবে। এ পর্যন্ত বলার পর আল্লাহর রাসূল (সা.) চুপ হয়ে গেলেন’।[১৪]

উক্ত ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর পর্যালোচনায় যা প্রমাণিত হয় তা হলো, অবশ্যই ধর্মীয় সংস্কার সম্ভব। এখানে সামান্য পরিমাণ সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। কারণ এটা হবে আল্লাহ তা‘আলার প্রতিশ্রুতি ও রাসূল (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণীর ফসল। পাশ্চাত্য জগৎখ্যাত ফরাসী সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বলেন,

"I hope the time is not for off when I shall be able to unite all the wise and educated men of all the countries and establish an uniform regime based on the principles of the Quran which alone are true and which alone can lead men to happiness".

‘আমি আশা করি সে সময় খুব বেশী দূরে নয়, যখন সকল দেশের বিজ্ঞ ও শিক্ষিত ব্যক্তিদের আমি একতাবদ্ধ করতে এবং আল-কুরআনের যে নীতিসমূহ একমাত্র সত্য ও স্বস্তির পথে পরিচালিত করতে পারে, সেসব নীতির উপর ভিত্তি করে এক সমরূপ শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবো’।[১৫]

জাগতিক জীবনে ধর্মীয় সংস্কারের ফলাফল স্বরূপ আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদের হাতে দায়িত্বভার দিবেন বলে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, أَنَّ الْأَرْضَ يَرِثُهَا عِبَادِيَ الصَّالِحُوْنَ ‘নিশ্চয় আমার সৎকর্মশীল বান্দারা পৃথিবীর অধিকারী হবে’।[১৬] অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন, وَأُخْرَى تُحِبُّوْنَهَا نَصْرٌ مِنَ اللهِ وَفَتْحٌ قَرِيْبٌ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِيْنَ ‘আর তিনি দান করবেন তোমাদের প্রত্যাশিত আরো একটি অনুগ্রহ, আল্লাহর সাহায্য ও আসন্ন বিজয়, মুমিনদেরকে এর সুসংবাদ দাও’।[১৭] আল্লাহ আরো ও‘য়াদা করেছেন যে,

وَعَدَ اللهُ الَّذِيْنَ آمَنُوْا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِيْنَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُمْ مِنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا يَعْبُدُوْنَنِيْ لَا يُشْرِكُوْنَ بِيْ شَيْئًا وَمَنْ كَفَرَ بَعْدَ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُوْنَ

‘তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি তাদেরকে পৃথিবীতে খেলাফত (প্রতিনিধিত্ব) অবশ্যই দান করবেন, যেমন তিনি (প্রতিনিধিত্ব) দান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য সুদৃঢ় করবেন তাদের দ্বীনকে যা তিনি তাদের জন্য মনোনীত করেছেন এবং তাদের ভয়Ñভীতির পরিবর্তে তাদেরকে অবশ্যই নিরাপত্তা দান করবেন; তারা শুধু আমার ‘ইবাদত করবে, আমার সাথে কাউকে শরীক করবে না, অতঃপর যারা অকৃতজ্ঞ হবে তারা তো সত্যত্যাগী (ফাসিক)’ (সূরা আন-নূর : ৫৫)। তবে সংস্কার কাজ করতে গিয়ে দুশমনদের মুকাবেলায় সফলতা অর্জন করার জন্য উক্ত ব্যক্তিকে কতিপয় বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হতে হবে। যেমন, দৃঢ়তা, অধিকহারে আল্লাহর যিকির করা, আনুগত্য শৃঙ্খলা, পরস্পর ঝগড়-বিবাদ না করা, ধৈর্যশীল হওয়া এবং আল্লাহর দুশমনদের সাথে কোন রকম আন্তরিক সম্পর্ক না রাখা (সূরা আল-আনফাল : ৪৫-৪৭)।

অতএব উপর্যুক্ত আলোচনায় স্পষ্ট হয়েছে যে, ইসলামের সামগ্রিক বিজয় সাধন করাই হলো ধর্মীয় সংস্কার। আর বিশ্বমানবতার অগ্রগতি ও উন্নতি এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে। তাই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করে যদি তাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়, তবে অবশ্যই ধর্মীয় সংস্কারের স্বরূপ উদ্ঘাটিত হবে। তখনই আল্লাহ তা‘আলার ওয়াদা অনুযায়ী মুসলিমরা কাক্সিক্ষত ফলাফল ভোগ করে ধন্য হবে।


তথ্যসূত্র :
[১]. তাইসীরুল কারীমির রহমান ফী তাফসীরি কালামিল মান্নান, পৃ. ৩৩১।
[২]. সূরাহ আত-তাওবাহ : ৩৩; সূরাহ আস-সফ্ : ৯; সূরাহ আল-ফাত্হ : ২৮।
[৩]. জামি‘ঊল বায়ান ফী তা’বীলিল কুরআন, ১০ম খণ্ড, পৃ. ২৬৩।
[৪]. মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী, সিলসিলাতুল আহাদীছ আস-সহীহাহ ওয়া শাইয়ুন মিন ফিক্বহিহা ওয়া ফাওয়াইদিহা, ১ম খণ্ড (বৈরূত : আল-মাকতাবুল ইসলামী, ৪র্থ প্রকাশ ১৪০৫ হি./১৯৮৫ খ্রি.), পৃ. ৩১, হাদীছ নং-৩, ‘আগামী দিনগুলো ইসলামের জন্য’ অধ্যায়।  
[৫]. ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, পৃ. ৯১৫, হাদীছ নং-২৯০৭, ‘ফিতনা ও ক্বিয়ামতের আলামত সমূহ’ অধ্যায়-৫৫, অনুচ্ছেদ-১৭; ইমাম বায়হাকী, সুনানুল কুবরা, ৯ম খণ্ড, পৃ. ১৮১, হাদীছ নং-১৮৪০১; আল-আহকামুশ শার‘ইয়্যাহ আল-কুবরা, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৫৩৬; মিশকাতুল মাসাবীহ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ১৯৯, হাদীছ নং-৫৫১৯।
[৬]. মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী, ফিতনাতুত তাকফীর, (প্রকাশনা স্থান, সংস্থা, সংস্করণ ও সাল বিহীন), পৃ. ১১।    
[৭]. ইমাম মুসলিম, আছ-ছহীহ, পৃ. ৯০৯-৯১০, হাদীছ নং-২৮৮৯ ‘ফিতনাসমুহ ও কিয়ামতের নিদর্শনাবলী’ অধ্যায়-৫৪, ‘এ উম্মাতের এক অংশ অন্য অংশ দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়া’ অনুচ্ছেদ-৫; ইমাম আবূ দাঊদ, আস-সুনান, পৃ. ৭৫৯, হাদীছ নং-৪২৫২; ইমাম তিরমিযী, আস-সুনান, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৪৭২, হাদীছ নং-২১৭৬; ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বাল, আল-মুসনাদ, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৭৮, হাদীছ নং-২২৪৪৮; ইবন হিব্বান, আছ-ছহীহ, ১৬তম খণ্ড, পৃ. ২২০, হাদীছ নং-৭২৩৮; মিশকাতুল মাসাবীহ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ২৪৯, হাদীছ নং-৫৭৪৯।  
[৮]. ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বাল, আল-মুসনাদ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ৪, হাদীছ নং-২৩৮৬৫; ইমাম ইবন হিব্বান, আছ-ছহীহ, ১৫তম খণ্ড, পৃ. ৯৩, হাদীছ নং-৬৭০১; মিশকাতুল মাসাবীহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ৯, হাদীছ নং-৪২।  
[৯]. সিলসিলাতুল আহাদীছ আস-সহীহাহ ওয়া শাইয়ুন মিন ফিক্বহিহা ওয়া ফাওয়াইদিহা, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩২, হাদীছ নং-৩, ‘আগামী দিনগুলো ইসলামের জন্য’ অধ্যায়।  
[১০]. ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বাল, আল-মুসনাদ, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ১০৩, হাদীছ নং-১৬৯৯৮।  
[১১]. ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বাল, আল-মুসনাদ, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৭৬, হাদীছ নং-৬৬৪৫।
[১২]. ড. আলী মুহাম্মাদ আছ-সাল্লাবী, আদ-দাওলাতুল ‘উছমানিয়্যাহ (মিসর : মুওয়াস্সাসাতু ইকরা, ১ম প্রকাশ, ১৪২৬ হি./২০০৫ খ্রি.), পৃ. ১০০; S.M. Imamuddin, A Modern History of the Middle East and North Africa (Dacca : Najmahsons, 2nd edition, 1970), Vol.1, p.112.
[১৩]. ইমাম আবূ দাঊদ, আস-সুনান, পৃ. ৪৬৫, হাদীছ নং-২৬৪৯ ‘জিহাদ’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ ১০৭; ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বাল, আল-মুসনাদ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ৩৯৫, হাদীছ নং-২৬২৬০; ইমাম তাবারানী, আল-জামি‘উল কাবীর, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৬৩, হাদীছ নং-৩৬৩৯।
[১৪]. ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বাল, আল-মুসনাদ, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ২৭৩, হাদীছ নং-১৮৪৩০; মিশকাতুল মাসাবীহ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ১৬৭, হাদীছ নং-৫৩৭৮; আবুল ফারজ ‘আব্দুর রহমান ইবন আহমাদ ইবন রাজব আল-হাম্বালী, জামি‘উল উলূম ওয়াল হিকাম (বৈরূত : দারুল মা‘আরিফাহ, ১ম সংস্করণ, ১৪০৮ হি.), পৃ. ২৬৪ ।
[১৫]. দৈনিক ইনকিলাব, ১০ মার্চ, ২০০৯, পৃ. ৮।     
[১৬]. সূরাহ আল-আম্বিয়া : ১০৫।     
[১৭]. সূরাহ আস-সাফ্ : ১৩।     




ইমাম মাহদী, দাজ্জাল ও ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর আগমন সংশয় নিরসন - হাসিবুর রহমান বুখারী
সুন্নাহ বিরোধী ও সংশয় উত্থাপনকারীদের চক্রান্তসমূহ ও তার জবাব - হাসিবুর রহমান বুখারী
বিদ‘আত পরিচিতি (১১তম কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
সূদ-ঘুষ ও অবৈধ ব্যবসা (৯ম কিস্তি) - ড. ইমামুদ্দীন বিন আব্দুল বাছীর
মু‘তাযিলা মতবাদ ও তাদের ভ্রান্ত আক্বীদাসমূহ - আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম
ইসলামে কথা বলার নীতি : একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ - ড. মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ
ইসলামে রোগ ও আরোগ্য - ড. মুকাররম বিন মুহসিন মাদানী
মুসলিম উম্মাহর বিভ্রান্তির কারণ ও উত্তররেণর উপায় - হাসিবুর রহমান বুখারী
ইসলামের দৃষ্টিতে প্রেম ও ভালোবাসা - আব্দুল গাফফার মাদানী
কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা (৪র্থ কিস্তি) - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
ইসলামে দারিদ্র্য বিমোচনের কৌশল (২য় কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
তারুণ্যের উপর সন্ত্রাসবাদের  হিংস্র ছোবল : প্রতিকারের উপায় (২য় কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ