ধর্মীয় সংস্কারের স্বরূপ ও প্রকৃতি
- ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
(৬ষ্ঠ কিস্তি)
(ঘ) সংস্কারকের শর্তাবলী (Terms of the Reformer)
দ্বীনের সংস্কারকগণ নবীগণের উত্তরসূরী। যারা আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত বিষয়গুলোর প্রচার-প্রসারে সর্বদা প্রস্তুত থাকেন। তারা এমন সাহায্যকারী দল যে, ক্বিয়ামতের দিন পর্যন্ত তারা তাদের সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করবে কিন্তু কোন ষড়যন্ত্রকারীর ষড়যন্ত্র এবং কোন নিন্দুকের নিন্দাবাদকে তারা পরোয়া করে না। তারা অন্ধকারে আলোর প্রদীপ জ্বালাবেন, দ্বীনকে পুনরুজ্জীবিত করবেন, শিরক-বিদ‘আতে নিমজ্জিত জনগোষ্ঠীকে তাওহীদ ও সুন্নাহর পতাকাতলে সমবেত করতে সংগ্রাম করবেন এবং মানুষকে হিদায়াতের রাস্তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রকাশ করবেন। এজন্য আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ‘হাদীছুত তাজদীদ’[১]-এর আলোকে মুজাদ্দিদ তথা সংস্কারকের কিছু শর্তাবলী আলোকপাত করার চেষ্টা করবো।
(ক) আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত হওয়া (To be ordained by Allah)
প্রতি এক শতাব্দীর মাথায় আল্লাহ তা‘আলা একজন করে মুজাদ্দিদ বা সংস্কারক প্রেরণ করেন, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর ভেঙ্গে যাওয়া দ্বীনকে সংস্কার করেন। মূলত মুজাদ্দিদ বা সংস্কারককে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর দ্বীনের বাগানে তত্ত্বাবধায়ক করে থাকেন, যিনি উক্ত বাগানের পরিচর্যা করেন। আল্লাহ তা‘আলাই সংস্কারককে মনোনীত করেন ও প্রস্তুত করেন। যিনি সংস্কারমূলক কাজের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করেন এবং আল্লাহর শরী‘আতকে সাহায্য করার ব্যাপারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করেন।[২] হাদীছে এসেছে,
عَنْ أَبِيْ عِنَبَةَ الْخَوْلَانِيَّ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ يَقُوْلُ سَمِعْتُ النَّبِيَّ ﷺ يَقُوْلُ لَا يَزَالُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ يَغْرِسُ فِيْ هَذَا الدِّيْنِ بِغَرْسٍ يَسْتَعْمِلُهُمْ فِيْ طَاعَتِهِ
‘আবূ ‘ইনাবাহ আল-খাওলানী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আল্লাহ সর্বদা এই দ্বীনের মধ্যে একটি গাছ রোপণ করতে থাকবেন (এমন লোক সৃষ্টি করতে থাকবেন), যাদেরকে তিনি তাঁর আনুগত্যে নিয়োজিত রাখবেন’।[৩] উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যায় নূরুদ্দীন আস-সানাদী (মৃ. ১১৩৮ হি./১৭২৬ খ্রি.) বলেন,
يُوْجَدُ فِيْ أَهْلِ هَذِهِ الدِّيْنِ وَلِذَا يُسْتَعْمَلُ أَهْلُ الدِّيْنِ فِيْ طَاعَتِهِ وَلَعَلَّ هَذَا هُوَ الْمُجَدِّدُ لِلدِّيْنِ عَلَى رَأْسِ كُلِّ مِائَةِ سَنَةٍ وَيَحْتَمِلُ أَنَّهُ أَعَمُّ فَيَشْمَلُ كُلَّ مَنْ يَدْعُو النَّاسَ إِلَى إِقَامَةِ دِيْنِ اللهِ وَطَاعَتِهِ وَسُنَّةِ نَبِيِّهِ
‘এ দ্বীনের অধিবাসীদের মধ্যে পাওয়া যাবে এমন কাউকে, যিনি দ্বীনের অনুসারীদের জন্য আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্যের ব্যাপারে কাজ করবেন। সম্ভবতঃ তিনিই হবেন দ্বীনের সেই মুজাদ্দিদ বা সংস্কারক, যাকে আল্লাহ প্রত্যেক এক শতাব্দীর মাথায় প্রেরণ করেন। এটা সম্ভব যে, তিনি অনেক সাধারণ হবেন কিন্তু তার মধ্যে ঐসকল বিষয় অন্তর্ভুক্ত হবে যে, যিনি আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য, তাঁর ও তাঁর নবী (ﷺ)-এর আনুগত্য করার জন্য মানুষকে আহ্বান করবেন’।[৪]
(খ) ইজতিহাদের স্তরে পৌঁছানো (Reaching the level of Ijtihad)
মুজাদ্দিদ বা সংস্কারককের অন্যতম শর্ত হলো- তাকে অবশ্যই ইজতিহাদের স্তরে পৌঁছতে হবে। আর ইজতিহাদ হলো- بذل الجهد لإدراك حكم شرعي من أدلته الشرعية ‘শরী‘আতের হুকুমসমূহের মধ্য হতে কোন হুকুম অনুসন্ধানের জন্য প্রচেষ্টা ব্যয় করা। আর যিনি উক্ত প্রচেষ্টা করে থাকেন তাকে মুজতাহিদ বলে’।[৫] এই ইজতিহাদ করার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে। এ সম্পর্কে মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ ইবনু মুহাম্মাদ আল-‘উছায়মীন (১৩৪৭-১৪২১ হি./১৯২৮-২০০১ খ্রি.) বলেন,
الاجتهاد له شروط منها: ১- أن يعلم من الأدلة الشرعية ما يحتاج إليه في اجتهاده كآيات الأحكام وأحاديثها. ২- أن يعرف ما يتعلق بصحة الحديث وضعفه كمعرفة الإسناد ورجاله وغير ذلك. ৩- أن يعرف الناسخ والمنسوخ ومواقع الإجماع حتى لا يحكم بمنسوخ أو مخالف للإجماع . ৪- أن يعرف من الأدلة ما يختلف به الحكم من تخصيص أو تقييد أو نحوه حتى لا يحكم بما يخالف ذلك . ৫- أن يعرف من اللغة وأصول الفقه ما يتعلق بدلالات الألفاظ كالعام والخاص والمطلق والمقيد والمجمل والمبين ونحو ذلك ليحكم بما تقتضيه تلك الدلالات . ৬- أن يكون عنده قدرة يتمكن بها من استنباط الأحكام من أدلتها . والاجتهاد قد يتجزأ فيكون في باب واحد من أبواب العلم أو في مسألة من مسائله
‘ইজতিহাদ করার শর্তগুলো হলো- (১) শরী‘আতের দলীল প্রমাণাদির ব্যাপারে ইজতিহাদের জন্য আল-কুরআনের আয়াত ও হাদীছমূহের বিধান সম্পর্কে জ্ঞান থাকা। (২) হাদীছ ছহীহ, না-কি যঈফ সে সম্পর্ক জ্ঞান থাকা। যেমন সনদসমূহ, বর্ণনাকারীদের পরিচয় ইত্যাদি। (৩) নাসিখ, মানসূখ, ইজমা‘ সম্পর্কে জ্ঞান রাখা, যে মানসূখ হুকুম সাব্যস্ত করে না এবং ইজমা‘র বিরোধিতাও করে না। (৪) শরী‘আতের বিধানগত দলীলের মধ্যে তাখছীছ বা বিশেষ, মুক্বাইয়িদ বা সীমাবদ্ধ কিংবা অনুরূপ বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান থাকা, এমনকি উভয়ের মাঝে মতবিরোধ হলে হুকুম সাব্যস্ত না করার ব্যাপারে জ্ঞান থাকা। (৫) অভিধান বা শব্দ ভাণ্ডার এবং উছূলুল ফিক্বহের সাথে সম্পর্কিত শব্দাবলী যেমন ‘আম বা সাধারণ, খাছ বা বিশেষ, মুত্বলাক্ব বা সম্পূর্ণ ও মুক্বাইয়িদ বা সীমাবদ্ধ, মুজমাল বা সংক্ষিপ্ত, মুবীন বা স্পষ্ট ইত্যাদি দ্বারা যে শরী‘আতের হুকুম সাব্যস্ত হয় সে সম্পর্কে জ্ঞান থাকা। (৬) উদ্ভূত বিভিন্ন সমস্যার ব্যাপারে দলীলের ভিত্তিতে শরী‘আতের বিধানসমূহ উদ্ভাবনের ক্ষমতা থাকা। এভাবেই বিভিন্ন শরী‘আতের ‘ইলম ও মাসআলার ব্যাপারে ইজতিহাদ করার ইখতিয়ার রয়েছে’।[৬]
ইসলামী শরী‘আত তথা আল-কুরআন ও সুন্নাহ সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলীর উপর একজন মুজতাহিদকে প্রভূত ‘ইলম অর্জন করতে হবে। সুতরাং যখনই আল-কুরআন ও হাদীছের স্পষ্ট দলীল অবগত হবে, তখনই ইজতিহাদ বাতিল হবে[৭] এবং দলীলের অনুসরণ ওয়াজিব হবে। তবে এ সর্বাত্মক অনুসন্ধান প্রচেষ্টা করার জন্য মুজতাহিদ বিদ্বান অবশ্যই ছাওয়াবের অধিকারী হবেন (যদি নিয়ত খালিছ থাকে)। ইজতিহাদ সঠিক হলে তিনি দু’গুণ নেকী পাবেন আর বেঠিক হলে একগুণ নেকীর অধিকারী হবেন। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,
إِذَا حَكَمَ الْحَاكِمُ فَاجْتَهَدَ ثُمَّ أَصَابَ فَلَهُ أَجْرَانِ وَإِذَا حَكَمَ فَاجْتَهَدَ ثُمَّ أَخْطَأَ فَلَهُ أَجْرٌ
‘যখন কোন বিদ্বান কোন বিষয়ে ইজতিহাদ করে অতঃপর তার অভিষ্ট লক্ষ্যে উপনীত হয়, তাহলে তার জন্য দু’টি নেকী। আর যদি কোন বিদ্বান ইজতিহাদ করে অতঃপর সে যদি ভুলও করে, তবুও তার জন্য একটি নেকী’।[৮] আর যদি হুকুম প্রকাশ না পায়, তাহলে এ ব্যাপারে বিরত থাকা ওয়াজিব বরং তখন যরূরী প্রয়োজনে তাকলীদ করা জায়েয’।[৯]
এজন্য দ্বীনের যিনি সংস্কার কাজ করবেন, তাকে আল-কুরআন ও সুন্নাহ এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়ের যোগ্য ‘আলিম হতে হবে। কেননা ‘আলিমরাই দ্বীনের গুরুত্ব বুঝেন এবং দ্বীনের জন্য ক্ষতিকর দিকগুলোর ব্যাপারে অবগত থাকেন। তাই তো শামসুল হক ‘আযীমাবাদী (মৃ. ১৩১০ হি./১৮৯২ খ্রি.) বলেন,
اَلْمُجَدِّدُ لِلدِّيْنِ لَا بُدَّ أَنْ يَكُوْنَ عَالِمًا بِالْعُلُوْمِ الدِّيْنِيَّةِ الظَّاهِرَةِ وَالْبَاطِنَةِ قَاصِرًا لِلسُّنَّةِ قَامِعًا لِلْبِدْعَةِ
‘মুজাদ্দিদুদ দ্বীন তথা দ্বীনের সংস্কারক অবশ্যই ‘আলিম হবেন, যিনি ‘ইলমে দ্বীনের মাধ্যমে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সুন্নাতকে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং বিদ‘আতকে প্রতিরোধ করেন’।[১০] মোল্লা ‘আলী কারী হানাফী (মৃ. ১০১৪ হি./১৬০৬ খ্রি.) বলেন,
يُبَيِّنُ السُّنَّةَ مِنَ الْبِدْعَةِ وَيُكْثِرُ الْعِلْمَ وَيُعِزُّ أَهْلَهُ وَيَقْمَعُ الْبِدْعَةَ وَيَكْسِرُ أَهْلَهَا.
‘(সংস্কারকের কাজ হলো) বিদ‘আত থেকে সুন্নাহকে স্স্পুষ্ট করা, দ্বীনি ‘ইলমের প্রাধান্য প্রদান করা ও তার অনুসারীদেরকে সম্মান করা। আর বিদ‘আতকে প্রতিরোধ করা এবং তার অনুসারীদেরকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়া’।[১১]
(গ) আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের অন্তর্ভুক্ত হওয়া (To be included in Ahlus Sunnah & Jama`ha)
যিনি সংস্কারক হবেন তাকে অবশ্যই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের অনুসারী না হলে তার মাধ্যমে সংস্কার কাজ সম্ভব নয়। বরং সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা আরো বৃদ্ধি পাবে। এজন্য প্রথমে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের পরিচয় উল্লেখ করা প্রয়োজন। যেমন, শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবন তায়মিয়্যাহ (৬৬১-৭২৮ হি./১২৬৩-১৩২৮ খ্রি.) বলেন,
وَمِنْ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ مَذْهَبٌ قَدِيْمٌ مَعْرُوْفٌ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ اللهُ أَبَا حَنِيْفَةَ وَمَالِكًا وَالشَّافِعِىَّ وَأَحْمَدَ فَإِنَّهُ مَذْهَبُ الصَّحَابَةِ الَّذِيْنَ تَلَقَّوْهُ عَنْ نَبِيِّهِمْ
‘আবূ হানীফা, মালিক, শাফি‘ঈ ও আহমাদের জন্মের বহু পূর্ব হতে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের প্রাচীন একটি মাযহাব সুপরিচিত ছিল। সেটি হলো ছাহাবায়ে কিরামের মাযহাব, যাঁরা তাঁদের নবীর কাছ থেকে সরাসরি ‘ইল্ম হাসিল করেছিলেন’।[১২] প্রখ্যাত সমাজ সংস্কারক মুহাম্মাদ ইবন ‘আব্দুল ওয়াহহাব (মৃ. ১১১৫-১২০৬ হি.)-এর পুত্র ‘আব্দুল্লাহ (১৭৫১-১৮২৮ খ্রি.) বলেন,
أن أهل السنة والجماعة هم الذين اقتفوا ما عليه رسول الله ﷺ وأصحابه والتابعون لهم بإحسان، ومعلوم أن أهل الحديث هم أعظم طوائف الأمة بحثا ومعرفة بسنة رسول الله ﷺ وذلك لأنهم قد اشتغلوا بذلك، وأفنوا أعمارهم في طلب ذلك ومعرفته، واعتنوا بضبط ذلك وجمعه وتنقيته؛ حتى بيَّنُوا صحيح ذلك من ضعيفه من كذبه، ولا ينازع في ذلك إلا عدو لله ولرسوله ﷺ ولعباده المؤمنين
‘আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত তারাই, যারা সৎভাবে আল্লাহর রাসূল (ﷺ), তাঁর ছাহাবীগণ এবং তাবি‘ঈগণের পথ অনুসরণ করেন। এটা জ্ঞাত বিষয় যে, হাদীছের অনুসারী তারাই, যারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাহর জ্ঞান নিয়ে গবেষণাকারী উম্মাতের বড় একটি দল। তারা সর্বদা একাজেই ব্যস্ত থাকেন এবং গবেষণার মাধ্যমে তাদের জীবন অতিবাহিত করেন। আর তারা যত্নসহকারে হাদীছ মুখস্থ, সংকলন এবং বাছাই করে থাকেন। এমনকি তারা যঈফ এবং মিথ্যা হাদীছ থেকে ছহীহ হাদীছকে স্পষ্ট করে তোলেন। এ ব্যাপারে কেবল তাদেরকে তারাই বিরোধিতা করে, যারা আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং তাঁর মুমিনবান্দাগণের শত্রু’।[১৩] শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) (১৩৩০-১৪২০ হি./১৯১২-১৯৯৯ খ্রি.) বলেন,
هم من كان على مثل ما كان عليه النبي ﷺ وأصحابُه، وهم المتمسكون بسنة النبي ﷺ ، وهم الصحابة، والتابعون، وأئمة الهدى المُتَّبِعون لَهُم، وهم الذين استقاموا على الاتِّباع وابتعدوا عن الابتداع في أي مكان وفي أيِّ زمان، وهم باقون منصورون إلى يوم القيامة، وسمُّوا بذلك لانتسابهم لسنة النبي ﷺ ، واجتماعهم على الأخذ بها: ظاهرًا وباطنًا، في القول، والعمل، والاعتقاد
‘তারা হলো- নবী করীম (ﷺ) এবং তাঁর ছাহাবীগণ যার উপরে ছিলেন তাঁরা অনুসারী। তাঁরা নবী করীম (ﷺ)-এর সুন্নাত শক্তভাবে ধারণকারী, তাঁরা হলেন ছাহাবীগণ, তাবিঈগণ এবং যারা তাদের অনুসরণ করে। যেকোন স্থানে ও যেকোন সময়ে যারা (সুন্নাহর) অনুসরণের ক্ষেত্রে দৃঢ়পদ থাকেন এবং বিদ‘আত থেকে দূরে থাকেন। তারা দ্বীনের সাহায্যকারী হিসাবে ক্বিয়ামত পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবে। নবী (ﷺ)-এর সুন্নাতের দিকে সম্পৃক্ত থাকার কারণে এবং প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে এবং কথায়, আমলে ও বিশ্বাসে জামা‘আতবদ্ধভাবে আঁকড়ে ধরে থাকার কারণে তাদেরকে এনামে নামকরণ করা হয়েছে’।[১৪]
উক্ত আলোচনায় আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের পরিচয় সুস্পষ্টরূপে প্রতিভাত হয়েছে। তাই দ্বীনের সংস্কারককে অবশ্যই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। কারণ আল্লাহ তা‘আলা যাকে তাঁর দ্বীনের সংস্কারের জন্য প্রেরণ করবেন তিনি তো কোন ভ্রান্ত ‘আকীদায় বিশ্বাসী হতে পারেন না। যদিও কেউ কেউ সংস্কারককে শুধু আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের সাথে নির্দিষ্ট করাটা ‘অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি’ (غلو في التعصب) এবং ‘ঘৃণ্য বাড়াবাড়ি’ (التعصب الممقوت) বলতে চেয়েছেন। কিন্তু এটা তার ব্যক্তিগত চিন্তার বহিঃপ্রকাশ মাত্র। কেননা সংস্কারকের বিষয়টি আহলুল সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের সাথে নির্দিষ্ট করার ব্যাপারে কোন বিবাদ নেই।[১৫] প্রকৃতপক্ষে আহলুস সুন্নাহ ও শী‘আদের মধ্যে শরী‘আতের কোন শাখা-প্রশাখাগত মাসআলার ব্যাপারে মতবিরোধ নয় বরং ইসলামের তাওহীদী মূলনীতির সাথে মতবিরোধ। কেননা কোন মুজাদ্দিদের জন্য এটা যুক্তিসঙ্গত নয় যে, সে আল-কুরআন, খুলাফায়ে রাশিদীন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্ত্রীদেরকে আঘাত করবে, তাদের ইমামদের নিয়ে অতিরঞ্জিত করবে এবং তাদের নিষ্পাপ হওয়া ও তারা গায়েবের খবর জানেন বলে দাবী করবে। অথচ ভ্রান্ত ফিরকা শী‘আরা এরূপ বিশ্বাস করে থাকে।[১৬] হাদীছে এসেছে,
عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ افْتَرَقَتِ الْيَهُوْدُ عَلَى إِحْدَى وَسَبْعِيْنَ فِرْقَةً فَوَاحِدَةٌ فِى الْجَنَّةِ وَسَبْعُوْنَ فِى النَّارِ وَافْتَرَقَتِ النَّصَارَى عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِيْنَ فِرْقَةً فَإِحْدَى وَسَبْعُوْنَ فِى النَّارِ وَوَاحِدَةٌ فِى الْجَنَّةِ وَالَّذِىْ نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَتَفْتَرِقَنَّ أُمَّتِىْ عَلَى ثَلاَثٍ وَسَبْعِيْنَ فِرْقَةً فَوَاحِدَةٌ فِى الْجَنَّةِ وَثِنْتَانِ وَسَبْعُوْنَ فِى النَّارِ. قِيْلَ يَا رَسُوْلَ اللهِ مَنْ هُمْ قَالَ الْجَمَاعَةُ
‘আওফ ইবনু মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ইহূদী জাতি একাত্তর ফিরকায় বিভক্ত হয়েছে। তার মধ্যে একটি ফিরকা জান্নাতী এবং অবশিষ্ট সত্তর ফিরকা জাহান্নামী। খ্রিষ্টানরা বাহাত্তর ফিরকায় বিভক্ত হয়েছে। তার মধ্যে একাত্তর ফিরকা জাহান্নামী এবং একটি ফিরকা জান্নাতী। সেই মহান সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! অবশ্যই আমার উম্মাত তিয়াত্তর ফিরকায় বিভক্ত হবে। তার মধ্যে একটি মাত্র ফিরকা হবে জান্নাতী এবং অবশিষ্ট বাহাত্তরটি হবে জাহান্নামী। বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! কোন্ দলটি জান্নাতী। তিনি বলেন, জামা‘আত’।[১৭] অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِى ‘(মুক্তিপ্রাপ্ত দল হচ্ছে) আমি ও আমার ছাহাবীগণ যার উপর আছি (সেই পথে অনুসারী)’।[১৮]
(ঘ) ন্যায়পরায়ণতার অধিকারী হওয়া (To have the honesty)
‘আদল বা ন্যায়পরায়ণতার অধিকারী হওয়া একজন সংস্কারকের অন্যতম শর্ত। আর ‘আদল হলো- عبارة عن الاستقامة على طريق الحقّ بالاجتناب ممّا هو محظور دينا ‘আমাদের দ্বীনের মধ্যে যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে তা থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে সর্বদা হক বা সত্য রাস্তার উপর অটল থাকা’।[১৯] আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
اِنَّ اللّٰهَ يَاْمُرُ بِالْعَدْلِ وَ الْاِحْسَانِ وَ اِيْتَآئِ ذِي الْقُرْبٰى وَ يَنْهٰى عَنِ الْفَحْشَآءِ وَ الْمُنْكَرِ وَ الْبَغْيِ١ۚ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُوْنَ
‘নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ ও আত্মীয়-স্বজনকে দানের নির্দেশ দেন এবং তিনি নিষেধ করেন অশ্লীলতা, অসৎকার্য ও সীমালঙ্ঘন; তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর’।[২০] উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ‘আব্দুর রহমান ইবন নাছির আস-সা‘দী[২১] (১৩০৭-১৩৭৬ হি.) বলেন, ‘ন্যায়পরায়ণতার ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহর অধিকার ও তাঁর বান্দার অধিকার অক্ষুণ্ন রাখাও ন্যায়পরায়ণতার মধ্যে শামিল। এ ব্যাপারে ন্যায়পরায়ণতা হলো- তাদের অধিকারগুলো পরিপূর্ণ ও পর্যাপ্তভাবে আদায় করবে। সুতরাং বান্দা সেটাই আদায় করবে, যা আল্লাহ তা‘আলা বান্দার জন্য আবশ্যক করেছেন। সাথে সাথে তার অর্থ-সম্পদ, শরীর ও যানবাহনের অধিকারগুলোর ব্যাপারেও আল্লাহ ও তাঁর বান্দার অধিকারগুলো পরিপূর্ণ ন্যায়পরায়ণতার সাথে বাস্তবায়ন করার। এমনকি প্রত্যেক দায়িত্বশীল অর্থাৎ ইমামুল কুবরা তথা খলীফা, বিচারক, খলীফার স্থলাভিষিক্ত এবং বিচারকের স্থলাভিষিক্ত নেতৃবৃন্দের হুকুমের অধীনস্থদের অধিকারগুলো সমানভাবে আদায় করবে (এ সবগুলো ন্যায়পরায়ণতার অন্তর্ভুক্ত)’।[২২]
এজন্য একজন সংস্কারককে অবশ্যই তাঁর বিশ্বাস, কথা ও কাজের ক্ষেত্রে দ্বীনের অনুগামী হতে হবে। তাঁর মাধ্যমে কখনো শরী‘আতের অবমূল্যায়ন হবে না, তিনি শরী‘আত থেকে কখনো বের হবেন না। তাঁকে সহনশীল আচরণের অধিকারী হতে হবে এবং বাড়াবাড়ি ও শিথিলতা পরিত্যাগ করে মধ্যমপন্থী হতে হবে।[২৩]
(ঙ) জনগণের উপকারী হওয়া এবং গোটা উম্মাহর মাঝে প্রসিদ্ধ হওয়া (To benefit the people & To gain fame among the whole Ummah)
মুজাদ্দিদের জন্য মানুষের মাঝে প্রভাব থাকা বাঞ্ছনীয়। তবে সে প্রভাব যেন মানুষদেরকে পূর্ণ আচ্ছন্ন না করে ফেলে। বরং বিশ্বব্যাপী খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। সাথে সাথে তার প্রভাব সাধারণ মানুষের উপকারের আলামত বহন করবে। তবে একজন মুজাদ্দিদের উক্ত প্রভাব কোন দল বা পৃথিবীর কোন ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা ঠিক হবে না। কেননা তিনি গোটা উম্মাহর জন্য প্রেরিত হবেন। যদি এরূপ হয়, তাহলে মুজাদ্দিদের কার্যের বিপরীত হয়ে যাবে।[২৪] যুগের পরম্পরায় যারাই মুজাদ্দিদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন তারাই তাদের সমকালীন যুগে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। যেমন প্রথম শতাব্দীতে ‘উমার ইবনু ‘আব্দিল ‘আযীয, দ্বিতীয় শতাব্দীতে ইমাম শাফি‘ঈ, তৃতীয় শতাব্দীতে ইবনু সুরাইজ (ابن سريج), চতুর্থ শতাব্দীতে আবু হামিদ আল-ইসপারাবিনী, পঞ্চম শতাব্দীতে ইমাম গাজ্জালী।[২৫] এভাবে বিভিন্ন সময়ে অনেক রাষ্ট্র প্রধান খলীফা ও বাদশাহরাও সংস্কার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিলেন। আমীন আল-খুওয়ালী বলেন, ‘তারা (খলীফারা) বিধান আরোপের ব্যাপারে সংস্কার করেছিলেন, মানুষের অবস্থার পর্যবেক্ষণ করতেন, সকলের মাঝে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতেন, সমাজের রক্তপাত বন্ধ করেছিলেন এবং সকল স্তরে শরী‘আতের রীতি-নীতির বাস্তবায়ন করেছিলেন’।[২৬] ইমাম সুয়ূত্বী (৮৪৯-৯১১ হি./১৪৪৫-১৫০৫ খ্রি.) বলেন,
أما الرجل القائم بتجديد الدين فلابد أن يكون ظاهرا؛ حتى يتبين تجديده للناس، ليحصل به المقصود
‘যে ব্যক্তি দ্বীনের সংস্কার কাজে প্রতিষ্ঠিত থাকতে চায়, তাকে অবশ্যই প্রকাশ্য হতে হবে এবং মানুষের মাঝে সংস্কারের মৌলিক উদ্দেশ্য সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে’।[২৭] তিনি আরো বলেন, ‘অনুরূপভাবে তাকে অবশ্যই প্রত্যেক শতাব্দীর মাথায় প্রেরিত হতে হবে, যার মাধ্যমে পৃথিবীতে মানুষেরা উপকার লাভ করতে পারে’।[২৮]
(চ) উম্মাহর বাস্তবতা সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান থাকা (To have precise knowledge of the reality of the Ummah)
মুজাদ্দিদ বা সংস্কারককে সুদূরপ্রসারী ও সূক্ষ্ম জ্ঞানের অধিকারী হতে হবে। অনেক সময় উম্মাহর বাস্তবতা থেকে অনুপস্থিত অচিন্তনীয় বিষয়গুলো নিয়েও তাকে ভাবতে হবে এবং সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হবে। এজন্য তাকে উম্মাহর বর্তমান পরিস্থিতির কারণগুলো সম্পর্কে জ্ঞান রাখতে হবে। তার চারপাশের বৈশ্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কেও সচেতন হতে হবে এবং তার স্থান পরিবর্তন না করে তার উম্মাহর সাথে সংশ্লিষ্ট থেকে জীবন অতিবাহিত করতে হবে।[২৯] আধুনিক যুগের প্রখ্যাত পণ্ডিত সাইয়িদ আবুল হাসান ‘আলী নদবী (১৯১৩-১৯৯৯ খ্রি.) যথার্থই বলেছেন, ‘সংস্কারককে তার আহ্বান তথা দাওয়াতের উপর অটল ও স্থির থাকতে হবে। ...মুসলিমবিশ্ব যদি মনুষ্য জগতে নবতর রূহ ও নতুন জীবন সৃষ্ট করতে চায় এবং দুনিয়ার বর্তমানের বস্তুবাদিতা এবং সন্দেহ-সংশয় ও অস্থিরতার উপর জয়লাভ করতে চায়, তাহলে তাকে তার ভেতর নতুন ঈমানী রূহ, জীবন ইয়াকীন ও নতুন উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে হবে’।[৩০]
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
তথ্যসূত্র :
[১]. হাদীছটি হলো : إِنَّ اللهَ يَبْعَثُ لِهَذِهِ الْأُمَّةِ عَلَى رَأْسِ كُلِّ مِائَةِ سَنَةٍ مَنْ يُجَدِّدُ لَهَا دِيْنَهَا ‘নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা এই উম্মাতের জন্য প্রত্যেক শতাব্দীর ক্রান্তিলগ্নে একজন ব্যক্তিকে প্রেরণ করে থাকেন, যিনি তাঁর দ্বীনকে সংস্কার করেন’। দ্রষ্টব্য : ইমাম আবূ দাঊদ, আস-সুনান, পৃ. ৭৬৮, হাদীছ নং-৪২৯১, ‘যুদ্ধবিগ্রহ’ অধ্যায়, ‘এক শতাব্দীকালের বিবরণ’ অনুচ্ছেদ-১; আল-মুসতাদরাকু ‘আলাস সহীহাইন, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৫৬৭, হাদীছ নং-৮৫৯২; আল-মু‘জামুল আওসাত, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ৩২৪, হাদীছ নং-৬৫২৭; মিশকাতুল মাসাবীহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ৫৩. হাদীছ নং-২৪৭।
[২]. তাজদীদুদ দ্বীন : মাফহূমুহ ওয়া যাওয়াবিতুহু ও আছারুহু, পৃ. ৩৭।
[৩]. ইমাম ইবন মাজাহ, আস-সুনান, ১ম খণ্ড, পৃ. ৫, হাদীছ নং-৮; ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বাল, আল-মুসনাদ, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ২০০, হাদীছ নং-১৭৮২২; ইমাম ইবন হিব্বান, আস-সহীহ, ২য় খণ্ড, পৃ. ৩২, হাদীছ নং-৩২৬।
[৪]. মুহাম্মাদ ইবন ‘আব্দিল হাদী নূরুদ্দীন আস-সানাদী, হাশিয়া আস-সানাদী ‘আলা সুনানি ইবনি মাজাহ, ১ম খণ্ড (বৈরূত : দারুল জাইল, তা.বি.), পৃ. ৭।
[৫]. মুহাম্মাদ ইবন সালিহ ইবন মুহাম্মাদ আল-‘উসায়মীন, মাজমূ‘ঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল, ২৬তম খণ্ড (প্রকাশনা স্থান বিহীন : দারুল ওয়াতান, ১৪১৩ হি.), পৃ. ৪২৬, ১১তম খণ্ড, পৃ. ৪৩ ও ৮০।
[৬]. মুহাম্মাদ ইবন সালিহ ইবন মুহাম্মাদ আল-‘উছায়মীন, আল-উসূলূ মিন ‘ইলমিল ‘উসূল (প্রকাশনা স্থান বিহীন : দারু ইবনিল জাওযী, ১৪২৬ হি.), পৃ. ৮৫-৮৬; মাজমূ‘ঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল, ৭ম খণ্ড, পৃ. ১৪৬, ১১তম খণ্ড, পৃ. ৪৩ ও ৮০।
[৭]. ইমাম শাফিঈ, আর-রিসালাহ (বৈরূত : দারুল কুতুবিল ‘ইলমিয়্যাহ, তা.বি.), পৃ. ৫৯৯ ।
[৮]. ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, পৃ. ১১৭৬, হাদীছ নং-৭৩৫২; ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, পৃ. ৫৬১, হাদীছ নং-১৭১৬; ইমাম আবূ দাঊদ, আস-সুনান, পৃ. ৬৪১, হাদীছ নং-৩৫৭৪; মিশকাতুল মাসাবীহ, ২য় খণ্ড, পৃ. ৩৪৯, হাদীছ নং-৩৭৩২।
[৯]. মাজমূ‘ঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল, ৭ম খণ্ড, পৃ. ১৪৬-১৪৭।
[১০]. ‘আওনুল মা‘বূদ শারহু সুনানি আবী দাঊদ, ১১তম খণ্ড, পৃ. ২৬৩।
[১১]. মিরকাতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবীহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩২১; ‘আওনুল মা‘বূদ শারহু সুনানি আবী দাঊদ, ১১তম খণ্ড, পৃ. ২৬৩।
[১২]. শায়খুল ইসলাম আহমাদ ইবন তাইমিয়্যাহ, মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (তাহকীক : ড. মুহাম্মাদ রাশাদ সালিম), ২য় খণ্ড (কায়রো : মুওয়াস্সাসাতু কুরতুবা, ১ম সংস্করণ, তা.বি.), পৃ. ৩৬৩।
[১৩]. শায়খুল ইমাম ‘আব্দিল্লাহ ইবন শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবন ‘আব্দিল ওয়াহহাব, জাওয়াবু আহলিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ ফী নাকযি কালামিশ শী‘আ ওয়ায যিয়াদিয়্যাহ, ২য় খণ্ড (রিয়াদ : দারুল ‘আসিমাহ, ৩য় সংস্করণ, ১৪১২ হি.), পৃ. ৩৪।
[১৪]. শাইখ ‘আব্দুল ‘আযীয ইবন ‘আব্দিল্লাহ ইবন বায, বায়ানু ‘আক্বীদাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা‘আতি ওয়া লুযূমি ইত্তিবা‘ইহা (প্রকাশ স্থান, প্রকাশক, সংস্করণ, তারিখ বিহীন), পৃ. ৪-৫।
[১৫]. ‘আব্দুল মুতা‘আলা আস-সা‘ঈদী, আল-মুজাদ্দিদূনা ফিল ইসলাম মিনাল কারনিল আওয়ালি ইলাল কারনিল রাবি‘ই ‘আশার (কায়রো : মাকতাবাতুল আদাব, ১৪১৬ হি.), পৃ. ১৪; তাজদীদুদ দ্বীন : মাফহূমুহু ওয়া যাওয়াবুতুহু ওয়া আছারুহু, পৃ. ৪০।
[১৬]. প্রাগুক্ত, পৃ. ৪১; সাইয়িদ হুসাইন আল-মূসীইয়ু, লিল্লাহি সুম্মা লিত তারীখ (কায়রো : মাকতাবাতুল ইমামিল বুখারী, ২০০২ খ্রি.), পৃ. ৮৭-৮৮।
[১৭]. ইমাম ইবন মাজাহ, আস-সুনান, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৩২২, হাদীছ নং-৩৯৯২ ‘কলহ-বিপর্যয়’ অধ্যায়, ‘উম্মাতের বিচ্ছিন্নতা ও বিভেদ’ অনুচ্ছেদ।
[১৮]. ইমাম তিরমিযী, আস-সুনান, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৬, হাদীছ নং-২৬৪১ ‘ঈমান’ অধ্যায়, ‘এই উম্মাতের অনৈক্য’ অনুচ্ছেদ; আল-আহকামুশ শার‘ইয়্যাহ আল-কুবরা, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩০৬; মিশকাতুল মাসাবীহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩৭, হাদীছ নং-১৭১।
[১৯]. ‘আলী ইবন মুহাম্মাদ ইবন ‘আলী আল-জুরজানী, আত-তা‘রীফাত (বৈরূত : দারুল কিতাবিল ‘আরাবী, ১ম সংস্করণ ১৪০৫ হি.), পৃ. ১৯১।
[২০]. সূরাহ আন-নাহল : ৯০।
[২১]. ‘আব্দুর রহমান ইবন নাসির ইবন ‘আব্দিল্লাহ ইবন নাসির ইবন হাম্দ ইবন মুহাম্মাদ হাম্দ আস-সা‘আদী একজন প্রখ্যাত ‘আলিম, মুহাক্কিক লেখক, মুফাসসির ও মুহাদ্দিছ ছিলেন। তিনি সঊদী আরবে ‘উনাইযা শহরের কাসীম এলাকায় ১৩০৭ হিজরীর ১২ই মুহাররমে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ‘আকীদাহ, কুরআনের তাফসীর, হাদীছের ব্যাখ্যা গ্রন্থ, ফিকহ, ইসলামী সভ্যতা-সংস্কৃতি সহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন। যেমন, তাইসীরুল কারীমির রহমান ফী তাফসীরি কালামিল মান্নান, মানজাহুস সালিকীন ওয়া হাওযীহুল ফিকহি ফিদ দ্বীন, আদ-দ্বীনুস সহীহ, আল-কাওলুস সাদীদ ফী মাকাসিদিত তাওহীদ, তানযীহুদ দ্বীন, আল-কাওয়াঈদু ওয়াল উসূলুল জামি‘আহ ওয়াল ফুরূকু তাকাসীমু আল-বাদী‘আতুন নাফি‘আহ, আদ-দুররাতুল বাহিয়্যাহ ইত্যাদি। এ মহান মনীষী ১৩৭৬ হিজরীর জুমাদিউল আখিরাহ মাসের ২৩ তারিখে রোজ বৃহস্পতিবার রাত্রিতে ‘উনায়যা এলাকায় ইন্তিকাল করেন। দ্রষ্টব্য : মুসা‘ইদ ‘আব্দুল্লাহ আস-সা‘আদী, মাওয়াকিফু ইজতিমা‘ইয়্যাহ মিন হায়াতিশ শায়খ আল্লামা ‘আব্দুর রহমান ইবন নাছির আস-সা‘আদী (রিয়াদ : দারুল মায়মান, ২য় সংস্করণ, ১৪২৮ হি./২০০৭ খ্রি.), পৃ. ১৯, ২৭, ১৬৭-১৬৮।
[২২]. ‘আব্দুর রহমান ইবন নাসির ইবন ‘আব্দিল্লাহ আস-সা‘আদী, তাইসীরুল কারীমির রহমান ফী তাফসীরী কালামিল মান্নান (বৈরূত : মুওয়াসসাসাতুর রিসালাহ, ১ম সংস্করণ ১৪২০ হি./২০০০ খ্রি.), পৃ. ৪৪৭।
[২৩]. মুহাম্মাদ ইবন শাকির আশ-শারীফ, তাজদীদুল খিতাবিদ দ্বীনি বাইনাল তা’সীলি ওয়াত তাহরীফ (রিয়াদ : মাজাল্লাতুল বায়ান, ১ম সংস্করণ, ২০০৪ হি.), পৃ. ১৮।
[২৪]. আল-হাসান আল-‘আলামী, তাজদীদুল ফিকরিল ইসলামী (প্রকাশনা স্থান বিহীন : মাকতাবাতুত তুরাছিল ইসলামিয়্যাহ, ১ম সংস্করণ, ১৯৯৩ খ্রি.), পৃ. ১৯।
[২৫]. তাজদীদুদ দ্বীন : মাফহূমুহু ওয়া যাওয়াবুতুহু ওয়া আছারুহু, পৃ. ৪৪।
[২৬]. আমীন আল-খুওয়ালী, আল-মুজাদ্দিদূনা ফিল ইসলাম, ১ম খণ্ড (কায়রো : আল-হাইয়াতুল মিসরিয়্যাহ আল-‘আম্মাতুন লিল কিতাব, ২০০০ খ্রি.), পৃ. ১৭।
[২৭]. আল-ইমাম জালালুদ্দীন ‘আব্দির রহমান ইবন আবী বাকর আস-সুয়ূত্বী, আত-তাম্বিয়াতু বিমান ইয়াব‘আছাহুল্লাহ ‘আলা রা’সি কুল্লা মিইয়াতি ‘আমিন (তাহকীক : ‘আব্দুল কারীম আল-কুরদী) (কায়রো : দারুল কুতুবি ওয়াল ওয়াছাইকিল কাওমিয়্যাহ, ২০০৪ খ্রি.), হেরিটেজ পত্রিকা, ৩য় সংখ্যা, পৃ. ৯৯।
[২৮]. প্রাগুক্ত, পৃ. ১১৪।
[২৯]. তাজদীদুল খিতাবিদ দ্বীনি বাইনাল তা’সীলি ওয়াত তাহরীফ, পৃ. ১৯।
[৩০]. সাইয়িদ আবুল হাসান ‘আলী নদবী, মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?, (অনূদিত : আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী) (ঢাকা : মাকতাবাতুল হেরা, ২০১৯ খ্রি.), পৃ. ৩১৬-৩১৭।
প্রসঙ্গসমূহ »:
সমাজ-সংস্কার