উত্তর : হজ্জ বা উমরাহ-এর মত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতকে ব্যবসায় পরিণত করা উচিত নয়। শুধু ব্যবসার নিয়তে হলে নেকীর পরিবর্তে গুনাহ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে জন্য অধিক মুনাফা কামানোর উদ্দেশ্যে প্যাকেজ মূল্য বৃদ্ধি করে সাধারণ মানুষের সামনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে, কল্যাণকর কাজে সহযোগী হওয়া। যেমন- আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাক্বওয়ায় পরস্পরকে সহযোগিতা কর এবং মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে একে অন্যের সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি প্রদানে অত্যধিক কঠোর’ (নূরা আল-মায়িদাহ : ২)। উপরিউক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) ও ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এখানে আল্লাহ তা‘আলা মুমিন ব্যক্তিদেরকে ভালো কাজে সহযোগিতা করতে আদেশ করেছেন এবং অন্যায়, অসৎ ও হারাম কাজে সাহায্য, সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছেন’ (তাফসীর ইবনু কাছীর, ২/১২; তাফসীরে কুরতুবী, ৬/৪৬-৪৭ পৃ.)। আবূ মাসঊদ আল-আনছারী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূল (ﷺ) বললেন, مَنْ دَلَّ عَلَى خَيْرٍ فَلَهُ مِثْلُ أَجْرِ فَاعِلِهِ ‘যে ব্যক্তি কল্যাণের দিকে পথ দেখায় তার জন্য কল্যাণকর কাজ সম্পাদনকারীর সমপরিমাণ পুরস্কার রয়েছে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৮৯৩; আবূ দাঊদ, হা/৫১২৭; তিরমিযী, হা/২৬৭১)। পরিতাপের বিষয় হল- কমিশন ভাগাভাগির কারণে এদেশের অসহায় হজ্জ যাত্রীদের প্রায় দ্বিগুণ অর্থ প্রদান করতে হচ্ছে। বেশি হজ্জ যাত্রী পাওয়ার আশায় অধিক হারে কমিশন প্রদান করে অনেক নিম্নমানের ট্রাভেল এজেন্সি প্রতিনিয়ত গজিয়ে উঠছে। পক্ষান্তরে দালালদের কমিশন না দেয়ার কারণে অনেক ভালো মানের ট্রাভেল এজেন্সি আজ বন্ধের মুখে। তাই সহযোগিতার উদ্দেশ্যে নেকীর কাজ হিসাবে করা যাবে এবং সম্মানীও নেয়া যাবে (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১৩/১২৫-১৩১ পৃ.)।
প্রশ্নকারী : সালমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।