উত্তর : ক্বাইলূলা বলতে বুঝায়- দিবানিদ্রা বা দুপুরের বিশ্রাম। এতে ঘুম শর্ত নয় (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৫৪৩২৬৪)। ইমাম বাহুতী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ক্বাইলুলা অর্থাৎ দিনের মাঝামাঝি সময়ে বিশ্রাম নেয়া মুস্তাহাব। আযহারীর মতানুযায়ী যদিও এর সঙ্গে ঘুম না থাকে। দলীল হিসাবে তিনি উল্লেখ করেছেন আল্লাহ তা‘আলার বাণী: اَصْحٰبُ الْجَنَّةِ يَوْمَىِٕذٍ خَيْرٌ مُّسْتَقَرًّا وَّ اَحْسَنُ مَقِيْلًا ‘সেদিন জান্নাতবাসীগণ হবে উত্তম বাসস্থানে এবং উত্তম বিশ্রামের স্থানে’ (সূরা আল-ফুরক্বান : ২৪)। যদিও জান্নাতে ঘুম নেই। সুতরাং বুঝা যাচ্ছে যে, ক্বাইলুলার মধ্যে ঘুম শর্ত নয়, মূল উদ্দেশ্য হল- দীর্ঘ ক্লান্তির পর একটু বিশ্রাম নেয়। (কাশশাফুল ক্বিনা‘, ১/১৭৭ পৃ.)। আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমার পিতা অর্থাৎ ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রাহিমাহুল্লাহ) গ্রীষ্মকাল হোক বা শীতকাল, সর্বদা মধ্যাহ্নে অর্থাৎ দিনের অর্ধেক সময়ে ঘুমাতেন, কখনো তা বাদ দিতেন না, আমাকেও তা করতে বলতেন’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৫৪৩২৬৪)। ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ)-এর তাফসীরে সমর্থিত, وَ حِيْنَ تَضَعُوْنَ ثِيَابَكُمْ مِّنَ الظَّهِيْرَةِ ‘আর যখন তোমরা যোহরের সময় অর্থাৎ দুপুরে পোশাক খুলে রাখো’ (সূরা আন-নূর : ৫৮)। অর্থাৎ ক্বাইলুলার সময়ে (তাফসীরে ইবনে কাছীর, ৬/৮১ পৃ.)।
প্রশ্ন হল- ক্বাইলুলার সঠিক সময় কোনটি, যোহরের পূর্বে না পরে? ইমাম ইবনে মুফলিহ বলেছেন, وحقيقة الغداء والقيلولة: قبل الزوال ‘প্রকৃতপক্ষে মধ্যাহ্নের খাবার এবং ক্বাইলুলার প্রকৃত সময় হল- সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে পড়ার আগে’ (আল-ফুরূঊ, ১১/৩৬; আল-ইক্বনা‘আ, ৪/৩৪৭ পৃ.)। আবূ ইবনু বালবান বলেছেন, وَتُسَنُّ القَائِلَةُ نِصْفَ النَّهارِ، وحقيقتُها قَبْلَ الزَّوالِ ‘দুপুরের মধ্যভাগে ক্বাইলুলা করা সুন্নাত এবং এর প্রকৃত সময় হল- সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে পড়ার পূর্বে’ (মুখতাছারুল ইফাদাত, পৃ. ৪১০)। সুতরাং ক্বাইলুলা বা মধ্যাহ্নের ঘুম বলতে যোহরের ঠিক আগের সময়কে বোঝায় (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৫৪৩২৬৪)।
শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, القائلة التي تكون في منتصف النهار، قبل الظهر ‘ক্বাইলুলা হল- মধ্যাহ্নের ঘুম, যোহরের আগে’ (আশ-শারহুল মুমতি‘, ১৩/৫২৫ পৃ.)। আশ-শারবীনী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ويسن للمتهجد القيلولة، وهو النوم قبل الزوال ‘আর রাতে তাহাজ্জুদ আদায়কারীদের জন্য ক্বাইলুলা করা সুন্নাত, যা হল- যোহরের পূর্বে ঘুমানো’ (মুগনিউল মুহতাজ, ১/৪৬৩ পৃ.)। এটি প্রমাণ করে যে ক্বাইলুলা যোহরের আগে হয়।
আনাস ইবনু মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ও সাহল ইবনু সা‘দ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ‘আমরা আওওয়াল ওয়াক্তেই জুমু‘আর ছালাতে যেতাম এবং জুমু‘আর পরে দুপুরের খাবার খেতাম এবং ক্বাইলুলা করতাম’ (ছহীহ বুখারী, হা/৯০৫, ৬২৭৯; ছহীহ মুসলিম, হা/৮৬০)। হাফিয ইবনু হাজার আসক্বালানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ক্বাইলুলার সাধারণ নিয়ম হল- এটি যাওয়াল অর্থাৎ সূর্য হেলে পড়ার আগে হয়। ছাহাবীরা জানিয়েছেন যে, তারা জুমু‘আর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকার কারণে জুমু‘আর আগে ক্বাইলুলা করতে পারতেন না, বরং জুমু‘আর ছালাতের পর পর্যন্ত তা পিছিয়ে দিতেন। নবী (ﷺ)-এর যুগে লোকেরা জুমু‘আর ছালাত প্রথম ওয়াক্তে আদায় করার জন্য তাড়াতাড়ি মসজিদে যেতেন। জুমু‘আর ছালাতের পর তাঁরা ক্বাইলুলা করতেন। এটি গরমের দিনে যোহরের ছালাতের ক্ষেত্রে তাঁদের অভ্যাসের বিপরীত ছিল। কারণ সে সময় তাঁরা আগে ক্বাইলুলা করতেন তারপর ছালাত পড়তেন। কারণ গরমে যোহরের ছালাত ঠাণ্ডা করে পড়া সুন্নাত। অর্থাৎ সূর্যের তাপ কমে যাওয়া পর্যন্ত যোহরের ছালাত বিলম্ব করে পড়া। আর ক্বাইলুলা হল- দিনের মাঝামাঝি সময়ে বিশ্রাম নেয়া, এমনকি যদি তাতে ঘুম না থাকে তবুও’ (ফাৎহুল বারী, ১/৫৩৬ ও ২/৪২৮ পৃ.)।
এটি নিশ্চিত করে যে, তাঁরা যোহরের আগে ক্বাইলুলা করতেন। ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) উমার ইবনু আবী সাহল ইবনু মালিক থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বের হয়ে জুমু‘আর ছালাতের পর ফিরে এসে দুপুরের ক্বাইলুলা করতেন’ (মুয়াত্তা, ১/৪৫; ইমাম নববী, আল-মাজমূ‘, ৪/৫১২; এবং হাফিয ইবনু হাজার, ফাৎহুল বারীর ২/৩৮৭ পৃষ্ঠায় এর সনদকে ছহীহ বলেছেন)। আবূ ই‘আলা বলেছেন, ‘এটি প্রমাণ করে যে ক্বাইলুলা যাওয়ালের আগে হয়। কারণ তিনি এটিকে দুপুরের সাথে যুক্ত করেছেন’ (আত-তা‘লীকুল কাবীর, ৩/২৯৮ পৃ.)। তবে কিছু আলিমের মতে, ক্বাইলুলা যাওয়ালের আগে বা পরে উভয় সময়ে-ই হতে পারে। মানাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘দিবানিদ্রা হল- দিনের মাঝামাঝি সময়ে ঘুমানো, যাওয়ালের সময় বা তার কাছাকাছি সময়ে, আগে বা পরে’ (ফাইযুল ক্বাদীর, ১/৪৯৪ পৃ.)।
প্রশ্নকারী : আবূ নুবাইর, গোদাগাড়ী, রাজশাহী।