বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ইসলামের দৃষ্টিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করা হালাল বা হারাম হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে মূলত এর উদ্দেশ্য, ব্যবহার পদ্ধতি এবং ফলাফলের উপর। শরী‘আতের সাধারণ নীতিমালা হল- الأصل في الأشياء الإباحة حتى يدل الدليل على التحريم ‘বস্তুর ক্ষেত্রে মূলনীতি হল সবকিছুই বৈধ, যতক্ষণ না হারাম হওয়ার দলীল দ্বারা হারাম প্রমাণিত হয়’ (ড. মুহাম্মাদ মুস্বত্বাফা আয-যুহাইলি, আল-ক্বাওয়ায়িদুল ফিক্বহিয়্যাহ ওয়া তাত্ববীক্বাতুহা ফিল-মাযাহিবিল আরবা‘আহ, ১/১৯০ পৃ.)। শাইখ মুহাম্মাদ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘এই নীতির অর্থ হল- পৃথিবীতে যা কিছু উপকারী বস্তু রয়েছে এবং মানুষ যা কিছু সেখান থেকে আহরণ করেছে, সে সব থেকে উপকৃত হওয়া বৈধ, যতক্ষণ না তা হারাম হওয়ার কোন প্রমাণ পাওয়া যায়’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-২৩১২৬১)। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘জেনে রাখুন! সকল বিদ্যমান বস্তুর ক্ষেত্রে, তাদের ধরণ যতই ভিন্ন হোক এবং বৈশিষ্ট্য যতই আলাদা হোক না কেন, মূলনীতি হল- তা মানুষের জন্য সম্পূর্ণভাবে হালাল, তা পবিত্র এবং নিষিদ্ধ নয় তাদের জন্য তা ব্যবহার, স্পর্শ করা বা সরাসরি সম্পর্ক রাখা। এটি একটি সর্বজনীন বাণী, ব্যাপক বক্তব্য, একটি উৎকৃষ্ট নীতি, যা অনেক উপকারে আসে, বিপুল বরকতময়। শরী‘আতের ধারক-বাহকরা মানুষের অসংখ্য কাজ ও নতুন নতুন ঘটনার ক্ষেত্রে এ নীতির দিকে ফিরে আসে। এর পক্ষে শরী‘আতের যে দশটি প্রমাণ আমার স্মরণে এসেছে, সেগুলো হল- আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূল (ﷺ)-এর সুন্নাহ এবং মুমিনদের পথ অনুসরণ, যা আল্লাহর এ বাণীতে সংকলিত হয়েছে, ‘আল্লাহর আনুগত্য কর, রাসূলের আনুগত্য কর, আর তোমাদের মধ্যকার কর্তৃপক্ষেরও...’ (সূরা আন-নিসা : ৫৯) এবং তাঁর এ বাণীতে, ‘নিশ্চয় তোমাদের অভিভাবক তো আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল এবং যারা ঈমান এনেছে...’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ৫৫)। এরপর রয়েছে ক্বিয়াস, তুলনা, মতামত, ও দূরদর্শিতার পথসমূহ (মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ২১/৫৩৫ পৃ.)

খাদ্য, পানীয়, পোশাক, পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীর ক্ষেত্রে, যেখানে কোন শারঈ দলীল নেই, সেখানে এই নীতিই (মূলত সবকিছুই বৈধ) প্রয়োগ হবে। তবে এর দু’টি ব্যতিক্রম রয়েছে। যথা: প্রথমতঃ যেসব জিনিসে গুরুতর ও প্রভাবশালী ক্ষতি রয়েছে। কারণ ক্ষতিকর পদার্থের মূলনীতি হল- হারাম হওয়া আর এগুলো ‘মূলত সবকিছু বৈধ’ নীতির অন্তর্ভুক্ত নয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ করো না’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৯৫)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করো না, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু’ (সূরা আন-নিসা : ২৯)। আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَار ‘নিজের কোন অনিষ্টতা বা ক্ষতি এবং পরস্পরে কারোর ক্ষতি করা যাবে না’ (ইবনু মাজাহ, হা/২৩৪০-২৩৪১; ছহীহুল জামি‘, হা/৭৫১৭; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/২৫০)

শাইখ ও মুফাসসির মুহাম্মদ আমীন আশ-শানক্বিত্বী (রাহিমাহুল্লাহ) এই বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘যদি কোন জিনিসে এমন ক্ষতি থাকে, যার সাথে কোন উপকার মিশ্রিত নেই, তাহলে তা হারাম হবে। কারণ নবী (ﷺ) বলেছেন, ‘কোন ক্ষতি করো না এবং ক্ষতির প্রতিশোধ নিও না’। আর যদি কোন জিনিসে এক দিক থেকে উপকার থাকে এবং অন্য দিক থেকে ক্ষতি থাকে, তাহলে এর তিনটি অবস্থা হতে পারে। যথা :
(১) উপকার ক্ষতির চেয়ে বেশি।
(২) ক্ষতি উপকারের চেয়ে বেশি।
(৩) উপকার ও ক্ষতি সমান সমান।

যদি ক্ষতি উপকারের চেয়ে বেশি হয় বা সমান হয়, তাহলে তা নিষিদ্ধ। কারণ হাদীছে এসেছে, ‘কোন ক্ষতি করো না এবং ক্ষতির প্রতিশোধ নিও না’ এবং শরী‘আতের নীতি হল- درء المفاسد مقدم على جلب المصالح ‘অপকার দূর করা উপকার অর্জনের চেয়ে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত’। কিন্তু যদি উপকার ক্ষতির চেয়ে বেশি হয়, তাহলে সঠিক মত হল- এর জায়েয হওয়া। কারণ উছূলের নীতিমালায় নির্ধারিত আছে- أن المصلحة الراجحة تقدم على المفسدة المرجوحة  ‘প্রধান উপকারিতা গৌণ ক্ষতির উপর অগ্রাধিকার পায়’ (আযওয়াউল বায়ান, ৭/৭৯৩-৭৯৪ পৃ.)

দ্বিতীয়তঃ গোশত ও যব্হকৃত প্রাণীর ক্ষেত্রে মূলনীতি হল- হারাম। কারণ গোশত ও যব্হকৃত প্রাণী তখনই খাওয়া বৈধ হবে, যখন নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হবে যে তা শরী‘আতের শর্ত অনুযায়ী যব্হ করা হয়েছে। ইমাম আল-খাত্তাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘যেসব জিনিসের মূলনীতি নিষিদ্ধ এবং কেবল নির্দিষ্ট শর্ত ও পরিচিত পদ্ধতি পূরণ হলে তা বৈধ হয়Ñযেমন নারীর যৌনাঙ্গ কেবল বিবাহ বা মালিকানাধীন দাসী হওয়ার মাধ্যমে হালাল হয় এবং ছাগলের গোশশত কেবল যব্হের মাধ্যমে হালাল হয়। সুতরাং যখনই এসব শর্তের উপস্থিতি বা পূরণ নিয়ে সন্দেহ হবে এবং নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হবে না যে তা বৈধতার নিদর্শন অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে কি-না? তখন তা মূল নিষেধাজ্ঞা ও হারামের অবস্থায় বহাল থাকবে’ (মা‘আলিমুস সুনান, ৩/৫৭ পৃ.)। সুতরাং এমন প্রত্যেক জিনিস যা মানুষের সুবিধার্থে কল্যাণকর কাজে ব্যবহৃত হয়, তা ব্যবহার করা নিশ্চিতরূপে বৈধ। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘তিনি পৃথিবীর সব কিছুই তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২৯)। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, احْرِصْ عَلَى مَا يَنْفَعُكَ ‘যা তোমার জন্য কল্যাণকর তা অর্জনে তুমি আগ্রহী হও’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৬৪; ইবনু মাজাহ, হা/৭৯, ৪১৬৮)


প্রশ্নকারী : আরীফুল ইসলাম, টাঙ্গাইল।





প্রশ্ন (৭) : বিতরের কুনূতে নিজ মাতৃভাষায় দু‘আ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৩) : কোন্ কোন্ সময় সালাম দেয়া নিষিদ্ধ এবং অপসন্দনীয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : মসজিদের মধ্যে দু’স্তম্ভের মধ্যবর্তী স্থানে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : মুরতাদ কাকে বলে? ইসলামে মুরতাদের শাস্তি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : ওয়াক্তিয়া মসজিদের চেয়ে জুম‘আ মসজিদে ছালাত আদায় করলে বেশী নেকী হয়। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : ‘ফাজায়েলে দরূদ শরীফ’ নামক বইয়ের ৬৪ নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ ফ বলেছেন, আমার উপর দরূদ পাঠকারীর জন্য পুলসিরাতে নূর হবে। আর যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন ৮০ বার দরূদ শরীফ পাঠ করবে, তার ৮০ বছরে গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে’ মর্মে বর্ণিত কথা কি সত্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪২) : শরীরের অবয়ব প্রকাশ পায় এমন পাতলা কাপড় পরিধান করে নারী-পুরুষ ছালাত আদায় করলে ছালাত হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : অনেকে বলে থাকে সূরা আহযাব লিখে ঘরে রাখলে নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে বিয়ে হয়। এমন কোন আমল আদৌ আছে কি? না থাকলে কী কাজ করলে দ্রুত বিয়ে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : সিজদায় কুরআনে বর্ণিত দু‘আ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : সকালে বরকত নাযিল হয়। এই কথার কোন দলীল আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : একজন নিকটাত্মীয় অসৎ পথে টাকা অর্জন করে। এখন তিনি যদি কোন উপহার দেন তাহলে তা কি গ্রহণ করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : কিছু ব্লগ বা ফোরামে মিউজিক ব্যাকগ্রাউন্ড সহ ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করা কি বৈধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ