রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৫:০৬ অপরাহ্ন
উত্তর : রুক্বইয়াহ শারইয়্যাহ নিয়ে যারা কাজ করেন তারা কিছু আলামতের কথা উল্লেখ করে থাকেন। তবে এ আলামতগুলো অনুমাননির্ভর। জিনের আছরের আলামতগুলো হল, (১) আযান ও কুরআন তিলাওয়াত শুনা থেকে চরমভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয়া। (২) তার উপরে তিলাওয়াত করা হলে বেহুঁশ হয়ে পড়া, খিঁচুনি দেয়া কিংবা ধরাশায়ী হওয়া। (৩) বেশি বেশি ভয়ানক স্বপ্ন দেখা। (৪) একাকী ও নির্জনে থাকা এবং অদ্ভূত সব আচরণ করা। (৫) তার উপরে তিলাওয়াত করা হলে কখনো কখনো যে শয়তান তাকে আছর করেছে সে কথা বলে উঠা। (৬) উন্মাদের মত আচরণ করা। যেমনটি আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘যারা সূদ খায় তারা তার ন্যায় দাঁড়াবে যাকে শয়তান স্পর্শ দ্বারা পাগল করে’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২৭৫)।

এছাড়াও মাথা ব্যথা যা মাথার এক অংশ থেকে অপর অংশে স্থানান্তরিত হয়। চেহারা হলুদ হয়ে যাওয়া। বেশি বেশি ঘাম হওয়া ও পেশাব হওয়া। রুচি কমে যাওয়া। রাতে ঘুম না হওয়া। নির্জনে ও একাকী থাকতে পসন্দ করা। বিষন্নতা ও অলসতা (আর-রুক্বইয়াহ আশ-শারইয়্যাহ, পৃ. ১০; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-২৪০, ১২৫৫৪৩)।

পরিত্রাণের উপায় : (১) আল্লাহ‌র উপর তাওয়াক্কুল (নির্ভর করা) এবং তাঁর কাছেই ধর্ণা দেয়া। (২) শরী‘আতসম্মত রুক্বইয়াহ করা ও ঝাড়ফুঁক করা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঝাড়ফুঁক হল- সূরা আল-ফালাক্ব ও সূরা আন-নাস দিয়ে। নবী (ﷺ)-কে এগুলো দিয়ে চিকিৎসা করা হয়েছিল। এ দু’টোর সাথে সূরা আল- ইখলাছও যোগ করা যায়। আর সূরা ফাতিহা দিয়ে রুক্বইয়াহ্ করা সফল রুক্বইয়াহ্ যেমনটি হাদীছ থেকে সাব্যস্ত। জাদু থেকে নিরাময়ের ক্ষেত্রে আরেকটি উপায় হল- বরই গাছের সাতটি সবুজ পাতা নিয়ে সেগুলোকে গুঁড়া করবে। এরপর সেগুলোকে একটি বালতিতে রাখবে এবং ঐ গুড়াগুলোর উপর গোসল করার জন্য প্রয়োজনমত পানি ঢালবে। এরপর পাত্রটিতে আয়াতুল কুরসি, সূরা আল-কাফিরুন, সূরা আল-ইখলাছ, সূরা আল-ফালাক্ব ও সূরা আন-নাস এবং জাদুর আয়াতগুলো তথা সূরা আল-বাক্বারাহ : ১০২; সূরা আল-আ‘রাফ : ১১৭-১১৯; সূরা ই্উনুস : ৭৯-৮২ এবং সূরা ত্বোহার ৬৫-৬৯ নং আয়াত পড়বে। এরপর কিছু পানি পান করবে। আর অবশিষ্ট পানি দিয়ে গোসল করবে। কোন কোন সালাফ এভাবে করে উপকার পেয়েছেন। (৩) জাদু কর্মটি খুঁজে বের করে সেটি নষ্ট করে ফেলা, যেভাবে নবী (ﷺ) করেছিলেন, যখন লাবিদ ইবনু আ’সাম আল-ইহুদী তাঁকে যাদু করেছিল। (৪) বৈধ ঔষধগুলো ব্যবহার করা। যেমন খালি পেটে ৭টি আলিয়া বারনি খেজুর (মদীনার এক জাতের খেজুর) খাওয়া। যদি এ খেজুর না-পাওয়া যায় তাহলে যে কোন খেজুর আল্লাহ্‌র ইচ্ছায় উপকারী হবে। (৫) হিজামা বা শিঙ্গা লাগানো। (৬) নিরন্তর দু‘আ করা (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-২৪০)।


প্রশ্নকারী : আব্দুর রশীদ, যশোর।





প্রশ্ন (২) : তাহাজ্জুদ বা তারাবীহর মত নফল ছালাতে কুরআন দেখে দেখে পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : বিভিন্ন স্বর্ণালংকারের দোকানে ব্যবসার উদ্দেশ্যে যে স্বর্ণ গচ্ছিত রাখা হয়, তার যাকাত ফরয কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫): জুমু‘আর দিন সূরা হূদ তেলাওয়াত করার বিশেষ কোন ফযীলত আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : গাযওয়া হিন্দ‌‌ বা হিন্দুদের সাথে মুসলিমদের যুদ্ধ সম্পর্কে অনেক কিছুই শুনা যায়। এগুলো কি হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : বিয়ের পরে একজন মহিলা কিভাবে নিজ রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : লাল ও হলুদ পোশাক পরিধানের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪১) : আহলে কিতাবদের সবাই কাফির হওয়া সত্ত্বেও কেন তাদের কন্যাদের সাথে মুসলিম পুরুষদের বিবাহ জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : কোন নাপাক কাপড়ের সাথে অন্য পাক কাপড় থাকলে কিংবা কাপড় থেকে নাপাকি শুকিয়ে গেলে ঐ কাপড় অন্যান্য পাক কাপড়ের সাথে একসাথে ধোয়া যাবে কিনা? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : জিন এবং মানুষের ইবাদতের পার্থক্য কী? জিন জাতির উপরও কি ছালাত, ছিয়াম, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি ইবাদতগুলো মানুষের মতই ফরয? তাদের ইবাদতের ধরণ কেমন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : আমার মা রক্তের সম্পর্কের বহির্ভূত এক জনের সাথে কথা বলেন। মাকে তিনি ‘ভাবী’ বলেন এবং আমার মা তাকে ‘ভাই’ বলেন। আমাদের বাড়িতে আসেন এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা সামনাসামনি হয়ে কথা বলেন। এখন সন্তান হিসাবে আমার করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধ উন্নয়নে নৈতিক শিক্ষার ভূমিকা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : মেয়ের শ্বশূরবাড়ি আর নিজের বাড়ির লোকের মধ্যে ঝামেলার কারণে প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী যদি নিজের মা আর চাচাদের চাপে পরে, স্বামীর বাড়িতে মোহরানা না জানিয়ে রেখে যায় এবং এর পর কোর্ট থেকে নোটারীর পাবলিকের মাধ্যমে স্বামীর অনুপস্থিতিতে নোটিশ পাঠিয়ে খোলা ত্বালাক্ব দেয়। তাহলে ত্বালাক হবে কিনা? উল্লেখ্য, এখানে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে তেমন কোন জামেলা ছিলো না। আর স্বামী ত্বালাক্ব দিতে বা মানতেও রাজি না। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ