রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৬ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ইসলামের দৃষ্টিতে চাঁদাবাজির অপর নাম ‘যুলম’। জোরপূর্বক কারো সম্পদ অধিগ্রহণ করা, হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করা এগুলো মারাত্মক অন্যায় ও যুলমের কাজ, যা হারাম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘সাবধান! আল্লাহ তা‘আলার লা‘নত ও অভিসম্পাত যালিমদের উপরে’ (সূরা হূদ : ১৮; সূরা আল-আ‘রাফ : ৪৪)। অন্যত্র বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে যুলম করবে আমরা তাকে মহাশাস্তি আস্বাদন করাব’ (সূরা আল-ফুরক্বান : ১৯)। আবূ হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘... এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। সে তার উপর অত্যাচার করবে না, তাকে অপদস্ত করবে না এবং হেয় প্রতিপন্ন করবে না।... কোন মুসলিমের উপর প্রত্যেক মুসলিমের জান-মাল ও ইযযত-আবরু হারাম’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৬৪)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, আবূ হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছে, যার জিহ্বা ও হাত থেকে মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে সেই ব্যক্তি-ই প্রকৃত মুসলিম। আর যাকে মানুষ তাদের জান ও মালের জন্য নিরাপদ মনে করে সে-ই প্রকৃত মুমিন’ (তিরমিযী, হা/২৬২৭)। আবূ যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, নবী (ﷺ) বলেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘হে আমার বান্দারা! আমি আমার নিজ সত্তার উপর অত্যাচারকে হারাম করে নিয়েছি এবং তোমাদের মধ্যেও তা হারাম বলে ঘোষণা করছি। অতএব তোমরা একে অপরের উপর অত্যাচার করো না’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৭৭, ৬৪৬৬)। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, তোমরা অত্যাচার করা থেকে বিরত থাক। কেননা কিয়ামাত দিবসে অত্যাচার অন্ধকারে পরিণত হবে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৭৮)

কিন্তু এটি যদি মুহারাবাহ (مُحَارَبَة: অর্থাৎ সশস্ত্র ডাকাতি, সন্ত্রাসী)-এর পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন এর শাস্তিযোগ্য হতে পারে। যদি এর মধ্যে জনসাধারণের জন্য ভয়, অস্ত্র ব্যবহার ও জবরদস্তি থাকে। মূলত যারা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করে, তারা মুহারাবার আওতায় পড়ে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কাজ করে (অশান্তি সৃষ্টি করে বেড়ায়) তাদের শাস্তি এই যে, তাদের হত্যা করা হবে অথবা শূলে চড়ানো হবে অথবা বিপরীত দিক হতে তাদের হাত ও পা কেটে ফেলা হবে অথবা তাদেরকে দেশ হতে নির্বাসিত করা হবে। এটিই তাদের ইহকালের লাঞ্ছনা তবে পরকালে তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ৩৩)। অর্থাৎ যদি অস্ত্র ব্যবহার করে বা রাস্তায় মানুষকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করা হয়, তখন মুহারাবার হাদ্দ হিসাবে এর নির্ধারিত শাস্তিগুলোর মধ্যে কোন একটি হতে পারে। যথা: (১) হত্যা করা (২) শূলে চড়ানো (৩) বিপরীত হাত-পা কেটে ফেলা অথবা (৪) দেশ থেকে নির্বাসন (ছহীহ বুখারী, হা/১৫০১, ৪১৯২)

আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘যে কেউ ইসলামিক সমাজে হাতিয়ার ব্যবহার করবে, যাতায়াতকে ভীতিপ্রদ করে দিবে, (ডাকাতি রাহাজানি করবে), অতঃপর যদি তাদেরকে পাকড়াও করা সম্ভব হয়, তবে মুসলিম শাসকের এ ব্যাপারে ইখতিয়ার থাকবে, তিনি ইচ্ছা করলে তাকে হত্যা করবেন, নতুবা শূলে চড়াবেন, অথবা তার হাত-পা কেটে দিবেন (তাফসীরে ত্বাবারী, সূরা আল-মায়িদার ৩৩ নং আয়াতের ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য)‌। আর যদি অস্ত্র ব্যবহার না হয় এবং কেবল ভয় দেখিয়ে বা প্রভাব খাটিয়ে অর্থ আদায় করা হয়, তবে এটি তা‘যীরযোগ্য অপরাধ, যার শাস্তি শাসক বা বিচারকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হতে পারে। যেমন জেল, অর্থদণ্ড, বেত্রাঘাত অথবা সামাজিকভাবে বয়কট ইত্যাদি। রাসূল (ﷺ) বলেন. ‘তোমাদের রক্ত, সম্পদ, ইযযত ও চামড়া একে অপরের জন্য হারাম’ (ছহীহ বুখারী, হা/১০৫, ১৭৩৯)

প্রশ্নকারী : আলমগীর, উত্তরা, ঢাকা।





প্রশ্ন (১৩) : মাইয়েতকে কবর দেয়ার সময় কবরের চার পাশে চারটি খেজুরের ডাল পোঁতা হয় এবং চার কুল পড়া হয়। এর কোন দলীল আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : অপরাধী সন্দেহে গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলা সম্পর্কে ইসলাম কী বলে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : কেউ যদি তার ঘরে বসবাস শুরু করার পর থেকেই রোগে ও মুছীবতে আক্রান্ত হয়, তাহলে উক্ত ঘরে বসবাস করাকে অমঙ্গলের কারণ হিসাবে মনে করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : ফাতেমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে ‘মা’ বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : প্রচলিত আছে যে, সন্তান-সন্ততি জন্মগ্রহণ উপলক্ষে জন্মের সপ্তম দিন অথবা অন্য কোন দিনে গ্রামের মানুষ ও আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে খাবার অনুষ্ঠান করা যায়। যাকে ‘সাথলা’ নামকরণ করা হয়। প্রশ্ন হল, উক্ত অনুষ্ঠান করা এবং তাতে অংশগ্রহণ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : জনৈক বক্তা বলেছেন, দাজ্জালের সাথে যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করুন। দাজ্জাল অচিরেই আগমন করবে। এভাবে বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : মিশকাতের ২৯৯০ নং হাদীছ অনুযায়ী বুঝা যায় যে, কুরআন পড়িয়ে টাকা নেয়া হারাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অথবা ছাহাবীগণ কি কুরআন পড়িয়ে হাদিয়া নিতেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজে তাঁর জীবনে কখনো দাড়িতে খিযাব করেছেন কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : রামাযানের ছিয়াম অবস্থায় ইনজেকশন নিলে কি ছিয়াম নষ্ট হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : কেক ও চকলেটের উপর ‘আল্লাহ’ লেখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) :  হাদীছে এসেছে, নিশ্চয় আল্লাহ মূল্য নির্ধারণকারী। তিনি তা কমান ও বৃদ্ধি করেন এবং তিনিই রিযিক্বদাতা (আবূ দাঊদ, হা/৩৪৫১)। উক্ত হাদীছের সঠিক ব্যাখ্যা কী? বিভিন্ন পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সরকারকে দায়ী করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : হজ্জের সময় নারীরা ঋতুবতী হয়ে পড়লে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ