রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:১৭ অপরাহ্ন
উত্তর : ইসলামের দৃষ্টিতে চাঁদাবাজির অপর নাম ‘যুলম’। জোরপূর্বক কারো সম্পদ অধিগ্রহণ করা, হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করা এগুলো মারাত্মক অন্যায় ও যুলমের কাজ, যা হারাম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘সাবধান! আল্লাহ তা‘আলার লা‘নত ও অভিসম্পাত যালিমদের উপরে’ (সূরা হূদ : ১৮; সূরা আল-আ‘রাফ : ৪৪)। অন্যত্র বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে যুলম করবে আমরা তাকে মহাশাস্তি আস্বাদন করাব’ (সূরা আল-ফুরক্বান : ১৯)। আবূ হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘... এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। সে তার উপর অত্যাচার করবে না, তাকে অপদস্ত করবে না এবং হেয় প্রতিপন্ন করবে না।... কোন মুসলিমের উপর প্রত্যেক মুসলিমের জান-মাল ও ইযযত-আবরু হারাম’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৬৪)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, আবূ হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছে, যার জিহ্বা ও হাত থেকে মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে সেই ব্যক্তি-ই প্রকৃত মুসলিম। আর যাকে মানুষ তাদের জান ও মালের জন্য নিরাপদ মনে করে সে-ই প্রকৃত মুমিন’ (তিরমিযী, হা/২৬২৭)। আবূ যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, নবী (ﷺ) বলেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘হে আমার বান্দারা! আমি আমার নিজ সত্তার উপর অত্যাচারকে হারাম করে নিয়েছি এবং তোমাদের মধ্যেও তা হারাম বলে ঘোষণা করছি। অতএব তোমরা একে অপরের উপর অত্যাচার করো না’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৭৭, ৬৪৬৬)। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, তোমরা অত্যাচার করা থেকে বিরত থাক। কেননা কিয়ামাত দিবসে অত্যাচার অন্ধকারে পরিণত হবে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৭৮)

কিন্তু এটি যদি মুহারাবাহ (مُحَارَبَة: অর্থাৎ সশস্ত্র ডাকাতি, সন্ত্রাসী)-এর পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন এর শাস্তিযোগ্য হতে পারে। যদি এর মধ্যে জনসাধারণের জন্য ভয়, অস্ত্র ব্যবহার ও জবরদস্তি থাকে। মূলত যারা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করে, তারা মুহারাবার আওতায় পড়ে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কাজ করে (অশান্তি সৃষ্টি করে বেড়ায়) তাদের শাস্তি এই যে, তাদের হত্যা করা হবে অথবা শূলে চড়ানো হবে অথবা বিপরীত দিক হতে তাদের হাত ও পা কেটে ফেলা হবে অথবা তাদেরকে দেশ হতে নির্বাসিত করা হবে। এটিই তাদের ইহকালের লাঞ্ছনা তবে পরকালে তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ৩৩)। অর্থাৎ যদি অস্ত্র ব্যবহার করে বা রাস্তায় মানুষকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করা হয়, তখন মুহারাবার হাদ্দ হিসাবে এর নির্ধারিত শাস্তিগুলোর মধ্যে কোন একটি হতে পারে। যথা: (১) হত্যা করা (২) শূলে চড়ানো (৩) বিপরীত হাত-পা কেটে ফেলা অথবা (৪) দেশ থেকে নির্বাসন (ছহীহ বুখারী, হা/১৫০১, ৪১৯২)

আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘যে কেউ ইসলামিক সমাজে হাতিয়ার ব্যবহার করবে, যাতায়াতকে ভীতিপ্রদ করে দিবে, (ডাকাতি রাহাজানি করবে), অতঃপর যদি তাদেরকে পাকড়াও করা সম্ভব হয়, তবে মুসলিম শাসকের এ ব্যাপারে ইখতিয়ার থাকবে, তিনি ইচ্ছা করলে তাকে হত্যা করবেন, নতুবা শূলে চড়াবেন, অথবা তার হাত-পা কেটে দিবেন (তাফসীরে ত্বাবারী, সূরা আল-মায়িদার ৩৩ নং আয়াতের ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য)‌। আর যদি অস্ত্র ব্যবহার না হয় এবং কেবল ভয় দেখিয়ে বা প্রভাব খাটিয়ে অর্থ আদায় করা হয়, তবে এটি তা‘যীরযোগ্য অপরাধ, যার শাস্তি শাসক বা বিচারকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হতে পারে। যেমন জেল, অর্থদণ্ড, বেত্রাঘাত অথবা সামাজিকভাবে বয়কট ইত্যাদি। রাসূল (ﷺ) বলেন. ‘তোমাদের রক্ত, সম্পদ, ইযযত ও চামড়া একে অপরের জন্য হারাম’ (ছহীহ বুখারী, হা/১০৫, ১৭৩৯)

প্রশ্নকারী : আলমগীর, উত্তরা, ঢাকা।





প্রশ্ন (২২) : হানাফী মাযহাব ফলো করে বা আক্বীদাগত সমস্যা রয়েছে এমন কোন উস্তাযের থেকে তাজবীদ বিষয়ে জ্ঞান নেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : মৃত ব্যক্তির নামে খাওয়ানো, চার দিন পর দু‘আ অনুষ্ঠান, চল্লিশা উৎযাপন, মৃত্যু বার্ষিকী উৎযাপন ইত্যাদির মাধ্যমে কি মৃত ব্যক্তি শাস্তিপ্রাপ্ত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : বিকাশ-এর মত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : বিবাহ বিচ্ছেদের হালাল উপায় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : জনৈক আলেম বলেন, রাতে ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ার পর যে ব্যক্তি নিম্নের দু‘আটি পাঠ করবে, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। যদি সে দু‘আ করে, তবে তার দু‘আ কবুল হবে। আর সে যদি উঠে ওযয় করে ছালাত আদায় করে, তাহলে তার ছালাত কবুল হবে। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : জনৈক ব্যক্তির হজ্জ করার সামর্থ্য আছে। কিন্তু তার অর্থ অন্যের কাছে ধার দেয়া আছে। এখন সে কি আরেকজনের নিকট থেকে টাকা ধার নিয়ে হজ্জ করতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : ‘তোমরা তিনটি কারণে আরবকে ভালবাসবে। প্রথমত, আমি হলাম আরবী, দ্বিতীয়ত, কুরআন মাজীদের ভাষা হল আরবী এবং তৃতীয়ত, জান্নাতীদের ভাষাও হবে আরবী। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : কোন ইবাদতেই মন বসে না। এখন করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : প্রত্যেক ওয়াক্তে ছালাতের সময় পর পর কয়েকটি আযান শুনতে পাওয়া যায়। এমতাবস্থায় সবক’টি আযানের জবাব দিতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : মৃত ব্যক্তিদের জন্য জীবিতদের করণীয় কী কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : বউ-শাশুড়ীর মাঝে পরস্পর ঝগড়া-বিবাদ লাগলে মীমাংসার জন্য স্বামী যদি কৌশলে মায়ের সাথে স্ত্রীর নামে মিথ্যা কথা বলে এবং স্ত্রীর সাথে মায়ের নামে মিথ্যা কথা বলে, তাহলে বৈধ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : নবী (ﷺ) জনৈক ছাহাবীর দাফন শেষে ফিরে আসছিলেন। তখন উক্ত ‘মাইয়েতের স্ত্রী’ তাঁকে খাওয়ার দাওয়াত দিলেন এবং রাসূল (ﷺ) দাওয়াত গ্রহণপূর্বক উক্ত মহিলার বাড়িতে গিয়েছিলেন। অতঃপর খাবার উপস্থিত করা হলে তিনি এবং উপস্থিত অন্যান্য লোকজন খাবার গ্রহণ করলেন। এর আলোকেই মাইয়েতকে কেন্দ্র করে খাবারের আয়োজন করা হয়। তাই উক্ত বর্ণনাটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ