বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন
উত্তর : জিন মানুষের ক্ষতি করতে পারে, এটি বাস্তব ও প্রমাণিত। আর এর থেকে বাঁচার উপায় হল- কুরআন ও শারঈ যিকিরসমূহ’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১০৫১৩)। শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, নিঃসন্দেহে জিনের মানুষের উপর প্রভাব রয়েছে এবং এমন ক্ষতিও রয়েছে, যা হত্যা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। কখনো তারা পাথর নিক্ষেপ করে, কখনো মানুষকে ভয় দেখায়, এ ধরনের অনেক কিছু রয়েছে, যা সুন্নাহ্ দ্বারা প্রমাণিত এবং বাস্তব ঘটনায়ও দেখা যায়। বর্ণিত আছে যে, রাসূল (ﷺ) তাঁর কিছু ছাহাবীকে একটি যুদ্ধে আমার ধারণা সেটা ছিল খন্দকের যুদ্ধ- তাদের পরিবারের কাছে যাওয়ার অনুমতি দেন। তাঁদের একজন ছিলেন নববিবাহিত এক যুবক। তিনি যখন বাড়িতে পৌঁছালেন, দেখলেন তাঁর স্ত্রী দরজায় দাঁড়িয়ে। তিনি তা দেখে আপত্তি জানালেন। স্ত্রী বললেন, ভেতরে আসুন। তিনি ভেতরে প্রবেশ করে দেখলেন, বিছানার উপর একটি সাপ কুণ্ডলী পাকিয়ে বসে আছে। তাঁর সাথে বর্শা ছিল, তিনি সেটি দিয়ে সাপটিকে খোঁচা দিলেন, ফলে সেটি মারা গেল। সঙ্গে সঙ্গে, অর্থাৎ সাপের মৃত্যুর মুহূর্তেই, সেই লোকও মারা গেলেন। বোঝা গেল না, আগে কে মারা গেছে, সাপ না-কি লোকটি। যখন এ খবর নবী (ﷺ)-এর কাছে পৌঁছল, তিনি গৃহস্থালীর মধ্যে থাকা জিনের আকারের সাপ হত্যা করতে নিষেধ করলেন, তবে অপূর্ণ লেজওয়ালা এবং দু’টি দাগওয়ালা সাপ ব্যতিক্রম করলেন’। এটি প্রমাণ করে যে, জিন মানুষকে আক্রমণ করতে পারে এবং ক্ষতি করতে পারে (মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল ইবনু উছাইমীন, ১/২৮৭-২৮৮ পৃ.)

দ্বিতীয়তঃ ক্বারীন জিন মানুষের সঙ্গে থাকে। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেকের সাথেই একটি ক্বারীন শয়তান নির্ধারিত আছে। (অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‏ ‏وَقَدْ وُكِّلَ بِهِ قَرِينُهُ مِنَ الْجِنِّ وَقَرِينُهُ مِنَ الْمَلاَئِكَةِ ‘প্রত্যেক মানুষের সাথে একটি ক্বারীন জিন সঙ্গীরূপে এবং একজন ক্বারীন ফেরেশতা সঙ্গীরূপে নিযুক্ত রয়েছে’। ছাহাবীগণ প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনার সাথেও কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমার সাথেও। তবে তার মুকাবিলায় আল্লাহ আমাকে সাহায্য করেছেন। এখন আমি তার সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ। এখন সে আমাকে কল্যাণকর বিষয় ছাড়া কখনো অন্য কিছুর নির্দেশ দেয় না’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৮১৪)

মোদ্দাকথা হল- কিছু জিন মানুষের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন অসুস্থ করা, ভয় দেখানো, ভুল পথে পরিচালিত করা বা কুমন্ত্রণা দেয়া। এজন্য শিরক, যাদু, কুপ্রথা বা শয়তানী কাজ থেকে বেঁচে থাকা যরূরী। প্রতিটি মানুষের সাথে কারীন জিন থাকে, যা খারাপ প্রেরণা দেয়। আল্লাহর যিকির, কুরআন তিলাওয়াত, পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত ও দু‘আ, এগুলো জিনের ক্ষতি থেকে নিরাপদ থাকার প্রধান উপায়।


প্রশ্নকারী : আব্দুল্লাহ, ঢাকা।





প্রশ্ন (২৫) : হিন্দু ধর্মে পূজায় বা কাপড়ে যে কলকা ডিজাইন করা হয়, সে কলকা ডিজাইনের কাপড় কী ইসলামে পরা জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কল-কারখানায় ছুটি দেয়া এবং বিভিন্ন আলোচনা ও মাহফিলের আয়োজন করা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : জনৈক ইমাম বলেন, ১০ যিলহজ্জের পরের দিনও অর্থাৎ ১১ যিলহজ্জও আল্লাহর কাছে অনেক মর্যাদাপূর্ণ। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : কুরআন তেলাওয়াতের পরে ‘ছাদাক্বাল্লা-হুল ‘আযীম’ বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : সহবাস করার পর যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ফজরের ছালাত দেরিতে পড়া হয়, তাহলে কি ছালাত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : সূদভিত্তিক ব্যাংক থেকে শিক্ষাবৃত্তি গ্রহণ করা কি জায়েয? উল্লেখ্য, আমি সচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থী। উচ্চ মাধ্যমিক রেজাল্টের উপর বৃত্তির জন্য ডাক পেয়েছি। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : কুরবানী করা ওয়াজিব, না সুন্নাত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : প্রতারণা করে টাকা নিয়ে ঐ টাকা গরীব অসহায় মানুষকে দান করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : ফেরেশতাগণের অবস্থানস্থল কোথায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : জামা‘আতের ছালাতে ইমাম সাহেব জোরে তাকবীর বলা এবং মুক্তাদির নিঃশব্দে তাকবীর বলার দলীল কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : প্রচলিত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা এবং ভোট দেয়ার সুযোগ আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : জুমু‘আহ মসজিদে প্রথম জামা‘আতের পর আর জামা‘আত করা যাবে কি? পরের জামা‘আতে ইক্বামত দিতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ