শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৯ অপরাহ্ন
উত্তর : জিন মানুষের ক্ষতি করতে পারে, এটি বাস্তব ও প্রমাণিত। আর এর থেকে বাঁচার উপায় হল- কুরআন ও শারঈ যিকিরসমূহ’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১০৫১৩)। শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, নিঃসন্দেহে জিনের মানুষের উপর প্রভাব রয়েছে এবং এমন ক্ষতিও রয়েছে, যা হত্যা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। কখনো তারা পাথর নিক্ষেপ করে, কখনো মানুষকে ভয় দেখায়, এ ধরনের অনেক কিছু রয়েছে, যা সুন্নাহ্ দ্বারা প্রমাণিত এবং বাস্তব ঘটনায়ও দেখা যায়। বর্ণিত আছে যে, রাসূল (ﷺ) তাঁর কিছু ছাহাবীকে একটি যুদ্ধে আমার ধারণা সেটা ছিল খন্দকের যুদ্ধ- তাদের পরিবারের কাছে যাওয়ার অনুমতি দেন। তাঁদের একজন ছিলেন নববিবাহিত এক যুবক। তিনি যখন বাড়িতে পৌঁছালেন, দেখলেন তাঁর স্ত্রী দরজায় দাঁড়িয়ে। তিনি তা দেখে আপত্তি জানালেন। স্ত্রী বললেন, ভেতরে আসুন। তিনি ভেতরে প্রবেশ করে দেখলেন, বিছানার উপর একটি সাপ কুণ্ডলী পাকিয়ে বসে আছে। তাঁর সাথে বর্শা ছিল, তিনি সেটি দিয়ে সাপটিকে খোঁচা দিলেন, ফলে সেটি মারা গেল। সঙ্গে সঙ্গে, অর্থাৎ সাপের মৃত্যুর মুহূর্তেই, সেই লোকও মারা গেলেন। বোঝা গেল না, আগে কে মারা গেছে, সাপ না-কি লোকটি। যখন এ খবর নবী (ﷺ)-এর কাছে পৌঁছল, তিনি গৃহস্থালীর মধ্যে থাকা জিনের আকারের সাপ হত্যা করতে নিষেধ করলেন, তবে অপূর্ণ লেজওয়ালা এবং দু’টি দাগওয়ালা সাপ ব্যতিক্রম করলেন’। এটি প্রমাণ করে যে, জিন মানুষকে আক্রমণ করতে পারে এবং ক্ষতি করতে পারে (মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল ইবনু উছাইমীন, ১/২৮৭-২৮৮ পৃ.)

দ্বিতীয়তঃ ক্বারীন জিন মানুষের সঙ্গে থাকে। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেকের সাথেই একটি ক্বারীন শয়তান নির্ধারিত আছে। (অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‏ ‏وَقَدْ وُكِّلَ بِهِ قَرِينُهُ مِنَ الْجِنِّ وَقَرِينُهُ مِنَ الْمَلاَئِكَةِ ‘প্রত্যেক মানুষের সাথে একটি ক্বারীন জিন সঙ্গীরূপে এবং একজন ক্বারীন ফেরেশতা সঙ্গীরূপে নিযুক্ত রয়েছে’। ছাহাবীগণ প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনার সাথেও কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমার সাথেও। তবে তার মুকাবিলায় আল্লাহ আমাকে সাহায্য করেছেন। এখন আমি তার সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ। এখন সে আমাকে কল্যাণকর বিষয় ছাড়া কখনো অন্য কিছুর নির্দেশ দেয় না’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৮১৪)

মোদ্দাকথা হল- কিছু জিন মানুষের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন অসুস্থ করা, ভয় দেখানো, ভুল পথে পরিচালিত করা বা কুমন্ত্রণা দেয়া। এজন্য শিরক, যাদু, কুপ্রথা বা শয়তানী কাজ থেকে বেঁচে থাকা যরূরী। প্রতিটি মানুষের সাথে কারীন জিন থাকে, যা খারাপ প্রেরণা দেয়। আল্লাহর যিকির, কুরআন তিলাওয়াত, পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত ও দু‘আ, এগুলো জিনের ক্ষতি থেকে নিরাপদ থাকার প্রধান উপায়।


প্রশ্নকারী : আব্দুল্লাহ, ঢাকা।





প্রশ্ন (১) : এমপিও ভুক্ত বেসরকারী স্কুলের শিক্ষকদের বেতন থেকে প্রতি মাসে ১০% করে টাকা কেটে রাখা হয় এবং চাকুরি শেষে সর্বশেষ বেতন স্কেলের ১০০ মাসের সমপরিমাণ টাকা দেয়া হয়। উক্ত টাকা কি হালাল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : পাগড়ী পরিধানের কোন বিশেষ ফযীলত আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৯) : জনৈক বক্তা বলেন, যে বান্দা রামাযানের ছিয়াম পালন করে তার সাথে প্রত্যেক দিন তাঁবুতে সুরক্ষিত হুরদের মধ্য হতে একজনকে বিবাহ দিয়ে দেন। প্রত্যেক স্ত্রীর সাথে ৭০টি দামী কাপড় থাকবে। প্রত্যেকটির রং হবে পৃথক পৃথক। তাকে ৭০ প্রকারের সুগন্ধিযুক্ত রং দেয়া হবে। এক রঙের সাথে অন্য রঙ মিলবে না। প্রত্যেকেই বসে থাকবে হীরার খাটে, যাতে মুক্তা দ্বারা বিন্যস্ত করা থাকবে ৭০টি বিছানা, যার আস্তর থাকবে রেশমের। ৭০টি বিছানার উপর থাকবে ৭০টি পালঙ্ক। প্রত্যের স্ত্রীর জন্য থাকবে ৭০ জন্য সেবিকা, যারা তার সেবা করবে। আর ৭০ জন সেবিকা থাকবে তার সাথে মুলাক্বাতের জন্য। আর প্রত্যেক সহচরের সাথে থাকবে অনেক সম্ভ্রান্ত সাথী। জান্নাতে স্বর্ণের পাত্র থাকবে তাতে বিভিন্ন রঙের খাবার থাকবে। প্রথম যে স্বাদ পাওয়া যাবে শেষেও সে স্বাদ পাওয়া যাবে। আর তার স্বামীকেও অনুরূপ লাল হীরার খাট দেয়া হবে, যার উপর দু’টি স্বর্ণের বালা থাকবে, যা বিন্যস্ত থাকবে লাল হীরা দ্বারা। এটা রামাযানের প্রত্যেক দিন ছিয়াম পালনকারীর জন্য, অন্য নেক আমলের জন্য নয় (ত্বাবারাণী, আল-মু‘জামুল কাবীর হা/৯৬৭)। উক্ত বর্ণনা কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : আমাদের মসজিদের ইমাম ছাহেব বলেছেন, ‘কুরআনের হাফেযদের পিতা-মাতাকে ক্বিয়ামতের দিন নূরের তাজ পরিধান করানো হবে’। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : এনজিও থেকে লোন নিয়ে ব্যবসা শুরু করি। পরবর্তীতে বিষয়টি বুঝতে পেরে খুবই অনুতপ্ত হই। এখন পিতার সম্পদ বিক্রয় করে যদি ‘এনজিও’-এর টাকা পরিশোধ করি, তাহলে কি ঐ ব্যবসা থেকে অর্জিত টাকা হালাল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ক্বিয়ামতের আগে কোন মুমিন থাকবে না এবং কেউ আল্লাহর নাম স্মরণ করবে না। এটি কি ক্বিয়ামতের পূর্বমুহূর্র্তে, না-কি দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের পূর্ববর্তী সময়ে? উল্লেখ্য, ক্বিয়ামতের পূর্বে মুমিনদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং দ্বীনের বিজয় হবে। তাহলে এর ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : ‘সূরা ফাতেহা সকল রোগের ঔষধ’ কথাটি কি ঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : শপথ ভঙ্গের কাফ্‌ফারা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : স্বামী থাকা সত্ত্বেও স্ত্রী যদি অন্যজনের সাথে মেলা-মেশা করে, তাহলে ইসলামী শরী‘আতে তার বিধান কী হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : হিন্দুর সাথে পাটনার ব্যবসা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : অমুসলিম ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করলে সে কিভাবে পবিত্রতা অর্জন করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : কিছু কিছু এলাকায় সাহারীতে মানুষ ডাকার জন্য মাইকে বিভিন্ন ইসলামী গযল ও কুরআন তেলাওয়াত বাজানো হয়। এটা কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ