রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৫:০৮ অপরাহ্ন
উত্তর : জিন মানুষের ক্ষতি করতে পারে, এটি বাস্তব ও প্রমাণিত। আর এর থেকে বাঁচার উপায় হল- কুরআন ও শারঈ যিকিরসমূহ’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১০৫১৩)। শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, নিঃসন্দেহে জিনের মানুষের উপর প্রভাব রয়েছে এবং এমন ক্ষতিও রয়েছে, যা হত্যা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। কখনো তারা পাথর নিক্ষেপ করে, কখনো মানুষকে ভয় দেখায়, এ ধরনের অনেক কিছু রয়েছে, যা সুন্নাহ্ দ্বারা প্রমাণিত এবং বাস্তব ঘটনায়ও দেখা যায়। বর্ণিত আছে যে, রাসূল (ﷺ) তাঁর কিছু ছাহাবীকে একটি যুদ্ধে আমার ধারণা সেটা ছিল খন্দকের যুদ্ধ- তাদের পরিবারের কাছে যাওয়ার অনুমতি দেন। তাঁদের একজন ছিলেন নববিবাহিত এক যুবক। তিনি যখন বাড়িতে পৌঁছালেন, দেখলেন তাঁর স্ত্রী দরজায় দাঁড়িয়ে। তিনি তা দেখে আপত্তি জানালেন। স্ত্রী বললেন, ভেতরে আসুন। তিনি ভেতরে প্রবেশ করে দেখলেন, বিছানার উপর একটি সাপ কুণ্ডলী পাকিয়ে বসে আছে। তাঁর সাথে বর্শা ছিল, তিনি সেটি দিয়ে সাপটিকে খোঁচা দিলেন, ফলে সেটি মারা গেল। সঙ্গে সঙ্গে, অর্থাৎ সাপের মৃত্যুর মুহূর্তেই, সেই লোকও মারা গেলেন। বোঝা গেল না, আগে কে মারা গেছে, সাপ না-কি লোকটি। যখন এ খবর নবী (ﷺ)-এর কাছে পৌঁছল, তিনি গৃহস্থালীর মধ্যে থাকা জিনের আকারের সাপ হত্যা করতে নিষেধ করলেন, তবে অপূর্ণ লেজওয়ালা এবং দু’টি দাগওয়ালা সাপ ব্যতিক্রম করলেন’। এটি প্রমাণ করে যে, জিন মানুষকে আক্রমণ করতে পারে এবং ক্ষতি করতে পারে (মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল ইবনু উছাইমীন, ১/২৮৭-২৮৮ পৃ.)

দ্বিতীয়তঃ ক্বারীন জিন মানুষের সঙ্গে থাকে। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেকের সাথেই একটি ক্বারীন শয়তান নির্ধারিত আছে। (অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‏ ‏وَقَدْ وُكِّلَ بِهِ قَرِينُهُ مِنَ الْجِنِّ وَقَرِينُهُ مِنَ الْمَلاَئِكَةِ ‘প্রত্যেক মানুষের সাথে একটি ক্বারীন জিন সঙ্গীরূপে এবং একজন ক্বারীন ফেরেশতা সঙ্গীরূপে নিযুক্ত রয়েছে’। ছাহাবীগণ প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনার সাথেও কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমার সাথেও। তবে তার মুকাবিলায় আল্লাহ আমাকে সাহায্য করেছেন। এখন আমি তার সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ। এখন সে আমাকে কল্যাণকর বিষয় ছাড়া কখনো অন্য কিছুর নির্দেশ দেয় না’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৮১৪)

মোদ্দাকথা হল- কিছু জিন মানুষের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন অসুস্থ করা, ভয় দেখানো, ভুল পথে পরিচালিত করা বা কুমন্ত্রণা দেয়া। এজন্য শিরক, যাদু, কুপ্রথা বা শয়তানী কাজ থেকে বেঁচে থাকা যরূরী। প্রতিটি মানুষের সাথে কারীন জিন থাকে, যা খারাপ প্রেরণা দেয়। আল্লাহর যিকির, কুরআন তিলাওয়াত, পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত ও দু‘আ, এগুলো জিনের ক্ষতি থেকে নিরাপদ থাকার প্রধান উপায়।


প্রশ্নকারী : আব্দুল্লাহ, ঢাকা।





প্রশ্ন (৩৪) : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর মায়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আল্লাহ অনুমতি দেননি। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর সময় মা দুধ পানের দু‘আ পাঠ করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : আমার বয়স ২৪ বছর। আমি ছোট থেকে এই পর্যন্ত বহু মানুষের টাকা মেরেছি। আর জুয়া খেলে টাকা খেয়ে ফেলছি। তাদের কাছে টাকা পৌঁছে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তার জন্য আল্লাহর কাছে তাওবা করি। সবার টাকা আল্লাহর রাস্তায় দান করি তাদের জন্য, তাহলে কি আল্লাহ আমাকে মাফ করে দিবেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : জুম‘আর খুতবা ও ছালাতের সময় এবং অন্যান্য ছালাতের সময় সামনে, পিছনে কিংবা উপর থেকে ভিডিও করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : রাসূল (ﷺ)-কে ইমানদার বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : ছিয়াম পালনকারীর রক্ত পরীক্ষা ও স্বেচ্ছায় রক্তদান করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : পালিত পুত্র-কন্যা কি পালক পিতা-মাতার জন্য এবং তাদের প্রকৃত সন্তানদের ক্ষেত্রে মাহরাম হিসাবে গণ্য হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৯) : যাকাতের অর্থ দ্বারা মসজিদ নির্মাণ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : সব শী‘আ কি কাফের? অনেক আলেমও বলে থাকেন যে, শী‘আরা কাফের। কিন্তু সালাফী আলেমগণ ঐভাবে বলতে নিষেধ করেন, কারণ অনেক শী‘আ আছে যারা কাফের নয়। প্রকৃত বিষয়টি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : তাজা মাছ কাটার সময় কি যব্হ করার দু‘আ বলতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৬) : গ্রামে বা মহল্লায় জুমু‘আর ছালাত হবে না সন্দেহ করে অনেক মুছল্লী জুমু‘আর ছালাতের পর চার রাক‘আত যোহর ছালাত আদায় করে থাকে। এটা কি শরী‘আতসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : বৃষ্টির কারণে মসজিদে ঈদের জামা‘আত হয়েছে এবং যত টাকা আদায় হয়েছে, পুরোটা ইমামকে দিয়েছে। এখন এই টাকা কি ইমামের নেয়া জায়েয হবে? একইভাবে সাপ্তাহিক শুক্রবারের কৌটার টাকা ইমামকে দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ