ধর্মীয় সংস্কারের স্বরূপ ও প্রকৃতি
-ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান*
(৫ম কিস্তি)
(খ) স্বামীর প্রতি স্ত্রীর কর্তব্য। যেমন, শরী‘আতসম্মত কাজে স্বামীর আনুগত্য করা[১], স্বামীর বাড়ীতে অবস্থান করা[২], স্বামীর ঘর ও সন্তানদের প্রতি খেয়াল রাখা[৩], স্বামীর শুকরিয়া আদায় করা[৪] এবং স্বামীর অপছন্দনীয় এমন কাউকে তার ঘরে প্রবেশ করতে না দেয়া।[৫]
(গ) সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার কর্তব্য। যেমন, নবজাত শিশুর জন্য তাহনীক করা[৬], বিসমিল্লাহ বলে শিশুকে দুধ পান করানো[৭], সন্ধ্যার সময় শিশুকে বাড়ির বাইরে না নিয়ে যাওয়া[৮], শিশুর সুন্দর অর্থপূর্ণ নাম রাখা[৯], সপ্তম দিনে আক্বীকা করা[১০], চুলের ওযন পরিমাণ রূপা সাদাকাহ করা ভাল[১১], খাৎনা করা[১২], সন্তানের কল্যাণের জন্য দু‘আ করা[১৩] এবং সুন্দর শিক্ষা ও উত্তম আদর্শ শিক্ষা দেয়া।[১৪]
(ঘ) পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য। যেমন, উত্তম ব্যবহার করা[১৫], অবাধ্যাচরণ না করা[১৬], উপযুক্ত খেদমত করা[১৭], অভিশাপ ও গালিগালাজ না করা[১৮], পিতা-মাতার মৃত্যুর পর তাদের জন্য দু‘আ করা[১৯], পিতা-মাতার জন্য দান করা[২০], পিতা-মাতার বন্ধুদের সাথে সদ্ব্যবহার করা[২১] এবং ঋণ থাকলে তা পরিশোধ করা।[২২]
(ঙ) পরিবারের অভিভাবকের কর্তব্য। যেমন, গৃহে ঈমান পরিবেশ সৃষ্টি করা অর্থাৎ আল্লাহর স্মরণের জায়গা বানোনা[২৩], বাড়িকে আল্লাহর ‘ইবাদতের জায়গা হিসেবে নির্ধারণ করা[২৪], সদস্যদের ঈমানী শিক্ষায় প্রতিপালন করা[২৫], শার‘ঈ যিকির ও বাড়ির সুন্নাহ কাজগুলো আদায়ের প্রতি গুরত্বারোপ করা[২৬], বাড়ী থেকে শয়তান বিতাড়নের জন্য কুরআন তেলাওয়াত করা।[২৭] গৃহে শার‘ঈ চর্চা করা অর্থাৎ বাড়ীর লোকদের দ্বীনের তা‘লীম দেয়া[২৮], ইসলামী বইপত্রের একটি সুন্দর লাইব্রেরী তৈরি করা, বাড়িতে সৎ ও নেককার ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো[২৯], পরিবারকে শারঈ বিধি-বিধান শিক্ষা দেয়া[৩০], গৃহে সকলের একত্র হওয়া ও সবার সাথে পরামর্শ করা[৩১], সন্তানদের সামনে পারিবারিক ঝগড়া-বিাবদ প্রদর্শন না করা, অসৎ ব্যক্তিদের বাড়ীতে প্রবেশ করতে না দেয়া[৩২], গভীরভাবে পারিবারিক বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা[৩৩], নারীর বাড়ীর বাইরের কাজকে সুবিন্যস্ত করা[৩৪], বাড়ীর গোপনীয়তা রক্ষাকরা।[৩৫] গৃহের চারিত্রিক বিষয় অক্ষুণ্ন রাখা অর্থাৎ পরিবারে নম্র আচরণের প্রসার ঘটানো[৩৬], বাড়ীতে মন্দ চরিত্র প্রতিরোধ করা[৩৭], শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়ার জন্য শাসন করা[৩৮], পরিবারের সদস্যদের সুস্থ রাখা এবং তাদের জন্য সঠিক পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়া।[৩৯]
(ছয়) সামাজিক সংস্কার (Socialreforms)
মানুষ সামাজিক জীব। মানুষ তার ব্যক্তিগত জীবনকে সুন্দর, সুখময় এবং শান্তিপূর্ণ করে তোলার জন্য সামাজিক জীবনযাপন করে থাকে। তাই মানুষ একাকী থাকতে পারে না বরং সমাজবদ্ধ হয়েই থাকতে হয়। আদম (আলাইহিস সালাম)-কে প্রথম মানব হিসেবে সৃষ্টি করার পর হাওয়া (আলাইহিস সালাম)-কেও সৃষ্টি করা হয়েছিল, যাতে আদমকে নিঃসঙ্গ হয়ে থাকতে না হয়। অতঃপর তাঁদের একসঙ্গে জান্নাতে থাকতে বলা হয়।[৪০] এখানেই সামাজিক জীবনের গুরুত্ব ফুটে উঠে। জাহিলী যুগে মক্কায় চরম বিশৃঙ্খলা ও বিপর্যয় বিরাজ করছিল। ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা, ভ্রাতৃত্ববোধ, সৌহার্দ-ভালবাসা, পারস্পরিক সহযোগিতাসহ মানবিকতা হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু ইসলাম এসে সমাজকে নতুনভাবে সাজাতে থাকে। ইসলামের সুশীতল ছায়ায় এসে মানুষ পরিণত হয় সোনার মানুষে। সবাইকে নিয়ে বসবাস করা এবং সংঘবদ্ধ হয়ে সুষ্ঠু-সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করাই ইসলামের মূল লক্ষ্য। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَ اعۡتَصِمُوۡا بِحَبۡلِ اللّٰہِ جَمِیۡعًا وَّ لَا تَفَرَّقُوۡا ۪ وَ اذۡکُرُوۡا نِعۡمَتَ اللّٰہِ عَلَیۡکُمۡ اِذۡ کُنۡتُمۡ اَعۡدَآءً فَاَلَّفَ بَیۡنَ قُلُوۡبِکُمۡ فَاَصۡبَحۡتُمۡ بِنِعۡمَتِہٖۤ اِخۡوَانًا ۚ وَ کُنۡتُمۡ عَلٰی شَفَا حُفۡرَۃٍ مِّنَ النَّارِ فَاَنۡقَذَکُمۡ مِّنۡہَا ؕ کَذٰلِکَ یُبَیِّنُ اللّٰہُ لَکُمۡ اٰیٰتِہٖ لَعَلَّکُمۡ تَہۡتَدُوۡنَ
‘তোমরা ঐক্যবোধ্যভাবে আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ়রূপে ধারণ কর ও বিভক্ত হয়ে যেয়ো না এবং তোমাদের প্রতি আল্লাহর যে অনুগ্রহ রয়েছে তা স্মরণ কর, যখন তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে তখন তিনিই তোমাদের অন্তঃকরণে প্রীতি স্থাপন করেছিলেন, তৎপরে তোমরা তাঁর অনুগ্রহে ভ্রাতৃত্বে আবদ্ধ হলে এবং তোমরা অগ্নিকুণ্ডের নিকটে ছিলে অনন্তর তিনিই তোমাদেরকে ওটা হতে উদ্ধার করেছেন; এরূপে আল্লাহ তোমাদের জন্য স্বীয় নিদর্শনাবলী ব্যক্ত করেন যেন তোমরা সুপথ প্রাপ্ত হও’ (সূরাহ আলি ‘ইমরান : ১০৩)। অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন,
يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوْا رَبَّكُمُ الَّذِيْ خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًْا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللهَ الَّذِيْ تَسَاءَلُوْنَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيْبًا
‘হে মানবমণ্ডলী! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর যিনি তোমাদেরকে একই ব্যক্তি হতে সৃষ্টি করেছেন ও তা হতে তদীয় সহধর্মিণী সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় হতে বহু নর ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং সে আল্লাহকে ভয় কর যাঁর নামের মাধ্যমে তোমরা একে অপরকে তাগাদা কর এবং আত্মীয়তাকেও ভয় কর, নিশ্চয় আল্লাহই তোমাদের তত্ত্বাবধানকারী’ (সূরা আন-নিসা : ১)।
সামাজিক সংস্কারের স্বরূপ
ইসলাম বাস্তবায়নের ক্ষেত্র হিসেবে পরিবারের পরেই সমাজের অবস্থান। কেননা সমাজে মাতা-পিতা, আত্মীয়-অনাত্মীয়, শিক্ষক, ইয়াতীম, অভাবগ্রস্ত, নিকট প্রতিবেশী, দূর প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথী, মুসাফির, অধিকারভুক্ত দাস-দাসী ইত্যাদি মানুষর বসবাস করে থাকে। চিন্তাশক্তির বৈপরীত্ব, মানসিকতার পরিবর্তন এবং দায়িত্বানুভূতির স্বল্পতা সহ বিভিন্ন কারণে সমাজ বিষয়ময় হয়ে উঠে। অবিচার, যুল্ম, অধিকারহরণ, আত্মসাৎ, হত্যা, চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই, ব্যভিচার ও নানারকম খারাপ আচরণ সামাজিক জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে।[৪১] তাই সামাজিক ক্ষেত্রও সংস্কারের দাবি রাখে। নিম্নোক্ত উপায়ে সামাজিক সংস্কার হতে পারে। যেমন,
(ক) সামাজিক দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথ প্রতিপালন করা। যেমন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা[৪২], পারস্পরিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণ করা[৪৩], সার্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণ করা[৪৪], কারো সম্পদ আত্মসাৎ না করা[৪৫], কাউকে হত্যা না করা[৪৬], চুরি প্রতিরোধ করা[৪৭], ব্যভিচার প্রতিরোধ করা[৪৮], আত্মীয়তা রক্ষা করা[৪৯], ইয়াতীমের সাথে সদাচরণ করা[৫০], অভাবগ্রস্তদের সাথে সদাচরণ করা[৫১], প্রতিবেশীর সাথে সদাচরণ করা[৫২], বন্ধু-সাথীর সাথে সদাচরণ করা[৫৩], মুসাফিরের সাথে সদাচরণ করা[৫৪] এবং দাস-দাসীদের সাথে সদাচরণ করা।[৫৫]
(খ) জীবনের নিরাপত্তা বিধান করা। যেমন, মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়া[৫৬], শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের অধিকার নিশ্চিত করা[৫৭], নিরাপত্তামূলক বাসস্থানের সুযোগ দেয়া[৫৮], ধর্মীয় অনুশাসন প্রতিপালনের অধিকার দেয়া[৫৯], মতামত প্রকাশের অধিকার[৬০] এবং অধিকার প্রদানে সাম্য রক্ষা।[৬১]
(গ) সম্ভ্রমের নিরাপত্তা বিধান করা। যেমন, কাউকে মন্দ নামে বা উপনাকে না ডাকা[৬২], কাউকে উপহাস না করা[৬৩], গীবত বা পরনিন্দা না করা[৬৪], চোগলখুরী না করা[৬৫], অশালীন কথাবার্তা না বলা[৬৬], অত্যাচার না করা[৬৭], হিংসা-অহংকার না করা[৬৮], ক্রোধান্বিত না হওয়া[৬৯], কখনো মিথ্যা কথা না বলা[৭০], অশ্লীলতা-বেহায়াপনার মূলোচ্ছেদ করা।[৭১]
(পাঁচ) অথনৈতিক সংস্কার (Economic reforms)
একজন ব্যবসায়ী শরী‘আতের মূলনীতি অনুসরণ করেই ব্যবসা করবেন। যেমন- (ক) তিনি হালাল মালের ব্যবসা করবেন।[৭২] চুরি বা আত্মসাৎ করা কোন মালের ব্যবসা করবেন না এবং মাদকদ্রব্য বর্জন করবেন। কারণ এগুলোর ব্যবসা করা পরিষ্কার হারাম।[৭৩] (খ) যাবতীয় সূদী লেনদেন থেকে বিরত থাকবেন।[৭৪] যেমন শেয়ার বাজার, সূদী ব্যাংক, বীমা, জমি বন্ধক নেয়া বা দেয়া, ফল পুষ্ট না হতেই বাগানের পাতা ক্রয়-বিক্রয় করা কিংবা পাঁচ/দশ বছরের চুক্তিতে ফলের বাগান ক্রয়-বিক্রয় করা।[৭৫] (গ) ঘুষ ও প্রতারণার আশ্রয় নিবেন না।[৭৬] যেমন- মাপে কম দেয়া, খারাপ মালকে ভাল বলে চালিয়ে দেয়া ইত্যাদি। (ঘ) মূল্য বৃদ্ধির জন্য কোন মাল মওজূদ রাখবেন না। এটা ইসলামে নিষিদ্ধ।[৭৭] (ঙ) বাজার মূল্যের অধিক লাভ গ্রহণ করবেন না। এছাড়া নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে অর্থ উপার্জন করা থেকে বিরত থাকবেন। যেমন, বেশ্যাবৃত্তি ও দেহ ব্যবসা করা[৭৮], নেশা জাতীয় দ্রব্যের ব্যবসা করা[৭৯], জুয়া-লটারী-ভাগ্য গণনা ও জ্যোতিষীর ব্যবসা করা।[৮০]
(ছয়) রাজনৈতিক সংস্কার (Political reforms)
রাজনীতির পরিমণ্ডলেও ইসলামের রয়েছে সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা। সংশ্লিষ্ট সকলকে সে বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক। ইসলামী রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দায়িত্ব পালনের কার্যাবলী তিন ভাগে বিভক্ত। যথা : আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ।[৮১] ইসলামে আইনদাতা হচ্ছে স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলা।[৮২] আল্লাহ তা‘আলা বলেন, اَفَحُکۡمَ الۡجَاہِلِیَّۃِ یَبۡغُوۡنَ ؕ وَ مَنۡ اَحۡسَنُ مِنَ اللّٰہِ حُکۡمًا لِّقَوۡمٍ یُّوۡقِنُوۡنَ ‘তারা কি জাহিলিয়াতের আইন চায়? বিশ্বাসীগণের জন্য আল্লাহর চেয়ে উত্তম হুকুমদাতা আর কে হতে পারে?’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ৫০)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, إِنَّ اللهَ هُوَ الْحَكَمُ وَإِلَيْهِ الْحُكْمُ ‘আল্লাহই হলেন আইনদাতা, আর তাঁর নিকট থেকেই আইন নিতে হবে’।[৮৩] আর সে আইন কেবল আল-কুরআন ও সুন্নাহর মধ্যেই মওজুদ রয়েছে। তাই আইনসভার দায়িত্ব হলো আল-কুরআন ও সুন্নাহ কর্তৃক অনুমোদিত আইনই কেবল পাশ করা এবং মানব রচিত কোন আইন পাশ না করা।
আল-কুরআন ও সুন্নাহ নির্দেশিত আইন মানুষের নিত্যনৈমত্তিক ও ব্যবহারিক জীবনে বাস্তবায়ন করা নির্বাহী বিভাগের কাজ। এক্ষেত্রে নির্বাহী বিভাগের দায়িত্বশীলবৃন্দ যেমন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সচিব, টিএনও, ডিসি, এসপি ইত্যাদি সকলকে যেমন জনগণের সেবক হতে হবে, তেমনি আল্লাহর আইন জারি ও যথাযথভাবে কার্যকরকরণে কোনরূপ অনীহা, উপেক্ষা, দুর্বলতা ও স্বজনপ্রীতির আশ্রয় গ্রহণ করা যাবে না। এজন্য প্রশাসন বিভাগকে অত্যন্ত শক্তিশালী, সাহসী ও দৃঢ় হতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
لَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا رُسُلَنَا بِالۡبَیِّنٰتِ وَ اَنۡزَلۡنَا مَعَہُمُ الۡکِتٰبَ وَ الۡمِیۡزَانَ لِیَقُوۡمَ النَّاسُ بِالۡقِسۡطِ ۚ وَ اَنۡزَلۡنَا الۡحَدِیۡدَ فِیۡہِ بَاۡسٌ شَدِیۡدٌ وَّ مَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَ لِیَعۡلَمَ اللّٰہُ مَنۡ یَّنۡصُرُہٗ وَ رُسُلَہٗ بِالۡغَیۡبِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ قَوِیٌّ عَزِیۡزٌ
‘নিশ্চয় আমি আমার রাসূলদেরকে প্রেরণ করেছি স্পষ্ট প্রমাণসহ এবং তাদের সঙ্গে দিয়েছি কিতাব ও ন্যায়-নীতি, যাতে মানুষ সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে। আমি লৌহও দিয়েছি, যাতে রয়েছে প্রচণ্ড শক্তি ও মানুষের জন্য বহুবিধ কল্যাণ; এটা এ জন্য যে, আল্লাহ প্রকাশ করে দিবেন কে প্রত্যক্ষ না করেও তাঁকে ও তাঁর রাসূলদেরকে সাহায্য করে। আল্লাহ শক্তিমান, পরাক্রমশালী’ (সূরা আল-হাদীদ : ২৫)
উক্ত আয়াতে ‘আল-হাদীদ’ বা লৌহ বলে প্রশাসনিক শক্তিকে বুঝানো হয়েছে। এমনকি কোনপ্রকার নমনীয়তা, দুর্বলতা কিংবা দয়া-সহানুভূতি প্রদর্শন করাও যাবে না। আল্লাহর আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে মুহাম্মাদ (ﷺ) ছিলেন কর্মদক্ষতার মূর্ত প্রতীক। এক্ষেত্রে তিনি যেমন কোনরূপ দুর্বলতা দেখাননি, তেমনি কোনরূপ সুপারিশ গ্রহণ করাকেও বরদাশত করেননি।[৮৪]
রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং সর্বত্র আমর বিল মা‘রূফ ও নাহি আনিল মুনকারের দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগ ও প্রশাসনিক বিভাগই পালন করবে। অনুরূপভাবে এ বিভাগের সর্বোচ্চ ব্যক্তি দেশের আইনশৃংখলা রক্ষার ব্যাপারে উদ্যোগী হবেন এবং আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করবেন। মানুষের উপর প্রভুত্ব কায়েম করবেন না। মানুষের উপর কোন রকম যুলুম বা অত্যাচার করবেন না। নিজের মনগড়া বিধান জনগণের উপর চাপিয়ে দিবেন না। নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য কাউকে ব্যবহারও করবেন না। বরং আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে তাকে সচেতনতার পরিচয় দিতে হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, لَاطَاعَةَ لِمَخْلُوْقٍ فِىْ مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ ‘সৃষ্টিকর্তার অবাধ্যতা করে সৃষ্টির কোন আনুগত্য নেই’।[৮৫] এক্ষেত্রে আল্লাহভীতি জরুরী ভূমিকা পালন করবে। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন,
إِنَّمَا الْإِمَامُ جُنَّةٌ يُقَاتَلُ مِنْ وَرَائِهِ وَيُتَّقَى بِهِ فَإِنْ أَمَرَ بِتَقْوَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ وَعَدَلَ كَانَ لَهُ بِذَلِكَ أَجْرٌ وَإِنْ يَأْمُرْ بِغَيْرِهِ كَانَ عَلَيْهِ مِنْهُ
‘ইমাম বা শাসক ঢালস্বরূপ। তার নেতৃত্বে যুদ্ধ করা হয় এবং শত্রুর ক্ষতি থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যায়। সে যদি তাকওয়া ও ন্যায়-বিচারের ভিত্তিতে শাসনকার্য পরিচালনা করে, তবে তার জন্য সে পুরস্কৃত হবে। আর যদি ন্যায় ব্যতীত অন্য কিছু আদেশ করে তবে সে পাপের জন্য দায়ী হবে’।[৮৬] এজন্যই তো তাদের মর্যাদাও অনেক বেশি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ‘আল্লাহর রাস্তায় একদিন পাহারা দেয়া, সমস্ত দুনিয়া ও তার উপরের যাবতীয় সম্পদ হতে উত্তম’।[৮৭] এজন্য প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে ধার্মিক, জ্ঞানী, বিচক্ষণ ও নেতৃত্বদানে দক্ষ ব্যক্তিকে নির্বাচন করা উচিত।
স্বাধীন বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের শান্তি ও স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত। এজন্য আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ও খুলাফায়ে রাশিদুনের যুগে বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন ছিল। মূলত সে যুগগুলোতে প্রয়োগকৃত বিচারব্যবস্থাই হলো ইসলামী বিচার ব্যবস্থা। ইসলামী বিচার বিভাগের বৈশিষ্ট্য দু’টি। যথা : (১) রায় প্রদানের ক্ষেত্রে আল-কুরআন ও সুন্নাহকে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে মেনে চলা এবং (২) একটি প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি প্রণয়ন করা, যার সাহায্যে রাষ্ট্রের নতুন ও বিচিত্র পরিস্থিতিতে ইসলামী বিচার ব্যবস্থার সঠিক প্রয়োগ সম্ভব হয়।[৮৮] আর বিচার ব্যবস্থায় আইনের উৎস ৪টি। যথা : (ক) আল-কুরআন (খ) আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সুন্নাহ, যার মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কর্তৃক বিচারের রায়গুলোও অন্তর্ভুক্ত। (গ) ইজমা তথা সাহাবীগের ঐকমত্য এবং (ঘ) ইজতিহাদ বা ব্যক্তিগত মতামত ও সিদ্ধান্ত। আর তা তখনই নেয়া হয় যখন একজন বিচারক কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমা থেকে কান বিষয়ে রায় প্রদানের আইন খুঁজে না পান।[৮৯]
অতএব এ বিভাগের সাথে যারা জড়িত থাকবেন তারা বিচার বিভাগের উক্ত বৈশিষ্ট্য ও আইনের উৎসগুলোর ভিত্তিতে বিচারকার্য পরিচালনা করবেন। মামলার দীর্ঘসূত্রিতা উৎখাত করে যতসম্ভব দ্রুত ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন। হয়রানী, প্রতারণা ও স্বজনপ্রীতির আশ্রয় গ্রহণ করবেন না। এ প্রসঙ্গে ইসলামের মূলনীতি সুস্পষ্ট। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা যে বিধান অবতীর্ণ করেছেন, সে অনুযায়ী যারা শাসনকার্য পরিচালনা করে না তারা কাফির, যালিম ও ফাসিক’।[৯০] ইসলামে বিচারকের অবস্থা বর্ণনায় নিচের হাদীছটি যথেষ্ট। বুরাইদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,
اَلْقُضَاةُ ثَلَاثَةٌ وَاحِدٌ فِى الْجَنَّةِ وَاثْنَانِ فِى النَّارِ فَأَمَّا الَّذِىْ فِى الْجَنَّةِ فَرَجُلٌ عَرَفَ الْحَقَّ فَقَضَى بِهِ وَرَجُلٌ عَرَفَ الْحَقَّ فَجَارَ فِى الْحُكْمِ فَهُوَ فِى النَّارِ وَرَجُلٌ قَضَى لِلنَّاسِ عَلَى جَهْلٍ فَهُوَ فِى النَّارِ
‘বিচারক তিন প্রকার। এক শ্রেণীর বিচারক জান্নাতী, আর দুই শ্রেণীর বিচারক জাহান্নামী। (১) যে বিচারক সত্য উপলব্ধি করে এবং তদনুযায়ী বিচার করে, সে জান্নাতী (২) যে বিচারক সত্য উপলব্ধি করতে পারে, কিন্তু তদনুযায়ী বিচার করে না, সে জাহান্নামী। (৩) আর এক শ্রেণীর বিচারক সত্য উপলব্ধি করতে পারে না। অজ্ঞতার ভিত্তিতে বিচার করে, সেও জাহান্নামী’।[৯১] অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে যে, ‘যে ব্যক্তিকে আল্লাহ তা‘আলা প্রজা সাধারণের উপর দায়িত্বশীল করেন অথচ সে যখন মারা যায় তখনও সে প্রজা সাধারণগণের প্রতি প্রতারণাকারী থাকে, তাহলে তার জন্য আল্লাহ জান্নাত হারাম করে দেন’।[৯২]
তাই একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি শরী‘আতের মূলনীতি অনুসরণ করেই রাজনীতির ময়দানে বিচরণ করবেন। মিথ্যা, প্রতারণা ও শঠতার রাজনীতি থেকে মুক্ত থাকবেন। অর্থ ও নেতৃত্বের নেশায় মত্ত হবেন না। অস্ত্রের মহড়া দেখিয়ে ত্রাসের রাজ্য কায়েম করবেন না। রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত মূলনীতিগুলো অনুসরণ করবেন
ক. রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও খুলাফায়ে রাশেদীনের পদ্ধতি অনুসরণ করবেন। এক্ষেত্রে মানব রচিত আধুনিক বা প্রাচীন কোন পদ্ধতি বা মতবাদকে সমর্থন ও গ্রহণ করবেন না। ইরবায ইবনু সারিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
أُوصِيْكُمْ بِتَقْوَى اللهِ وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَإِنْ عَبْدًا حَبَشِيًّا فَإِنَّهُ مَنْ يَّعِشْ مِنْكُمْ بَعْدِىْ فَسَيَرَى اخْتِلَافًا كَثِيْرًا فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِى وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الْمَهْدِيِّيْنَ الرَّاشِدِيْنَ تَمَسَّكُوْا بِهَا وَعَضُّوْا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُوْرِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ
‘(একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে অসিয়ত করার সময় বলেন,) আমি তোমাদেরকে আল্লাহভীতির, (আমীরের কথা) শ্রবণ ও আনুগত্যের উপদেশ দিচ্ছি, যদিও সে (আমীর) একজন হাবাশী গোলামও হয়। কারণ তোমাদের মধ্যে যারা আমার পরে জীবিত থাকবে তারা অচিরেই প্রচুর মতবিরোধ দেখতে পাবে। এমতাবস্থায় তোমরা অবশ্যই আমার সুন্নাত ও আমার হিদায়াতপ্রাপ্ত খলীফাগণের সুন্নাতকে অনুসরণ করবে, তা দাঁত দিয়ে মযবুত করে আঁকড়ে থাকবে। সাবধান! নবাবিষ্কৃত বিষয় থেকে বিরত থাকবে। কারণ প্রতিটি নবাবিষ্কৃত বিষয় হল বিদ‘আত আর প্রতিটি বিদ‘আতই ভ্রষ্টতা’।[৯৩]
খ. আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে তিনি শার‘ঈ আইন প্রয়োগ করবেন এবং এর পক্ষে জনমত সৃষ্টি করবেন। আল্লাহ প্রদত্ত আইনের বিরোধিতা করে নতুন কোন আইন রচনা করবেন না। কারণ তিনি আইন প্রণেতা নন; বরং আইনের প্রয়োগকারী মাত্র। মূলত আইন প্রণেতা হলেন আল্লাহ। তাঁর আইনকে উপেক্ষা করে কোন আইন ও বিধান তৈরির অধিকার কারো নেই। এটা করলে আল্লাহর অধিকারের উপর হস্তক্ষেপ করা হবে। আল্লাহ তা‘আলা এ ব্যাপারে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন এভাবে,
اَمۡ لَہُمۡ شُرَکٰٓؤُا شَرَعُوۡا لَہُمۡ مِّنَ الدِّیۡنِ مَا لَمۡ یَاۡذَنۡۢ بِہِ اللّٰہُ ؕ وَ لَوۡ لَا کَلِمَۃُ الۡفَصۡلِ لَقُضِیَ بَیۡنَہُمۡ ؕ وَ اِنَّ الظّٰلِمِیۡنَ لَہُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ
‘তাদের কি এমন কিছু শরীক আছে, যারা তাদের জন্য আইন প্রণয়ন করে, যে বিষয়ে আল্লাহ অনুমতি দেননি? (কিয়ামতের) ফায়সালার ঘোষণা না থাকলে তাদের বিষয়ে ফায়সালা হয়েই যেত। নিশ্চয় সীমালংঘনকারীদের জন্য কঠোর শাস্তি বিদ্যমান’ (সূরা আশ-শূরা : ২১)। অন্যত্র তিনি বলেন, وَ مَنۡ لَّمۡ یَحۡکُمۡ بِمَاۤ اَنۡزَلَ اللّٰہُ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الظّٰلِمُوۡنَ ‘আল্লাহ তা‘আলা যে বিধান অবতীর্ণ করেছেন সে অনুযায়ী যারা শাসনকার্য পরিচালনা করে না তারা যালিম’ এবং وَ مَنۡ لَّمۡ یَحۡکُمۡ بِمَاۤ اَنۡزَلَ اللّٰہُ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡفٰسِقُوۡنَ ‘আল্লাহ তা‘আলা যে বিধান অবতীর্ণ করেছেন সে অনুযায়ী যারা শাসনকার্য পরিচালনা করে না, তারা ফাসিক’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ৪৫ ও ৪৭)। একই অপরাধ করে কেউ কাফির হচ্ছে, কেউ যালিম আবার কেউ ফাসিক হচ্ছে। তাই এর কারণ জানা আবশ্যক। কখন কাফির, কখন যালিম এবং কখন ফাসিক তা স্পষ্ট না হলে বিভ্রান্তিতে পড়া স্বাভাবিক। মূলত যারা আল্লাহর বিধানকে বিশ্বাস করে না, অনুসরণ করে না এবং অন্যকে অনুসরণ করতে বাধা দেয় তারা পরিষ্কার কাফির। যারা বিশ্বাস করে কিন্তু নিজেরা অনুসরণ করে না, কাউকে করতেও দেয় না তারা যালিম। আর যারা বিশ্বাস করে কিন্তু মানে না, কেউ অনুসরণ করলে বাধা দেয় না তারা ফাসিক।[৯৪]
গ. মুসলিম ব্যক্তি মাত্রই যেন সালাত আদায় করে সে জন্য বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এবং সৎকাজের আদেশ এবং অসৎ কাজে বাধা প্রদান করবেন। আল্লাহ তা‘আলা রাজনৈতিক ময়দানে আইন প্রয়োগের ধারাবাহিকতা উল্লেখ করে বলেন, اَلَّذِيْنَ إِنْ مَكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوْا بِالْمَعْرُوْفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ وَلِلهِ عَاقِبَةُ الْأُمُوْرِ ‘আমি যদি তাদেরকে পৃথিবীতে রাজত্ব দান করি, তবে তারা সালাত প্রতিষ্ঠা করবে, যাকাত দিবে, সৎকাজের আদেশ দিবে এবং অসৎ কাজ হতে বাধা প্রদান করবে। আর সকল কর্মের পরিণাম আল্লাহর ইখতিয়ারে’ (সূরা আল-হজ্জ : ৪১)। অতএব রাজনৈতিক ময়দানে বিচরণকালে সালাতই হবে প্রধান কর্মসূচী। কারণ যাবতীয় অন্যায়-অশ্লীলতা প্রতিরোধে সালাতই সবচেয়ে বেশি কার্যকরী ঔষধ।[৯৫]
ঘ. শরী‘আত বিরোধী প্রচলিত যাবতীয় মতবাদ ও দর্শন, নিয়ম-নীতি বাতিল ও উচ্ছেদ করবেন। যার জন্য আল্লাহ মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে প্রেরণ করেছিলেন। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
ہُوَ الَّذِیۡۤ اَرۡسَلَ رَسُوۡلَہٗ بِالۡہُدٰی وَ دِیۡنِ الۡحَقِّ لِیُظۡہِرَہٗ عَلَی الدِّیۡنِ کُلِّہٖ وَ لَوۡ کَرِہَ الۡمُشۡرِکُوۡنَ
‘তিনিই তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যেন তিনি সকল দ্বীনের উপর তাকে বিজয়ী করতে পারেন। যদিও তা মুশরিকরা অপসন্দ করে’ (সূরা আস-সাফ্ : ৯)। যে কাজ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও চার খলীফা করেছিলেন। নবী কারীম (ﷺ) মক্কা বিজয়ের দিন সর্বাগ্রে কা‘বা চত্বর থেকে ৩৬০টি মূর্তি অপসারণ করেন।[৯৬] তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন, ‘আমার রব আমাকে মূর্তি ভাঙ্গার জন্য প্রেরণ করেছেন’।[৯৭] ‘আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে নির্দেশ দিলেন, ছবি-মূর্তি ও সৌধ নির্মাণ করা যত উঁচু কবর রয়েছে সবগুলো ভেঙ্গে দাও। কোথাও যেন অবশিষ্ট না থাকে।[৯৮] লাত, মানাত, উযযা, দেব-দেবী, পূর্বপুরুষ, গোত্রপ্রধান ও সমাজ নেতাদের দোহাই দিয়ে প্রণীত আইনকে বাতিল করে বলে দিলেন, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তোমরা তার আনুগত্য কর। তাই মুসলিম হিসাবে কোন রাজনৈতিক ব্যক্তি আল্লাহর বিধান লংঘন করে ত্বাগূতের আইন ও বিধানের তাবেদারী করতে পারেন না। তিনি শয়তানী নীতির সামনে মাথা নত করতে পারেন না। বরং তিনি ইসলামী বিধান প্রতিষ্ঠায় হবেন আপোসহীন।
উপর্যুক্ত আলোচনায় স্পষ্ট হয়েছে যে, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। এজন্য প্রত্যেক মুসলিমকে তার জীবনের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান যথাযথভাবে কার্যকর করতে হবে। এটাই ইসলামের দাবী। ধর্মীয় ও বৈষয়িক উভয় জীবনই এখানে সমানভাবে অন্তর্ভুক্ত হবে। তাহলে মানব জীবনের সর্বক্ষেত্রে সংস্কার সাধিত হবে। অনুরূপ নৈতিক, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও অর্থব্যবস্থায় যেমন ইসলামের পুনর্জাগরণ ঘটবে, তেমনি শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, পররাষ্ট্রনীতি, সমরনীতি প্রভৃতি ক্ষেত্রেও বিপ্লব সংঘটিত হবে। তাফসীর, হাদীছ, ফিকহ ও সীরাহর ক্ষেত্রে যেমন সংস্কার হবে, তেমনি ‘আক্বীদাহ ও ‘আমলে সালিহের ক্ষেত্রেও সার্বিক জাগরণ ঘটবে।
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
তথ্যসূত্র :
[১]. সূরাহ আল-বাকারাহ : ২২৭; সুরাহ আন-নিসা : ৩৪; মুসনাদুল ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল, ১ম খণ্ড, পৃ. ১৯১, হা/১৬৬১; সহীহ ইবনু হিব্বান, ৯ম খণ্ড, পৃ. ৪৭১, হা/৪১৬৩; আল-মু‘জামুল আওসাত, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৩৪, হা/৪৫৯৮।
[২]. সূরাহ আল-আহযাব : ৩৩; ছহীহ বুখারী, পৃ. ১৫৪, হা/৯০০; সহীহ মুসলিম, পৃ. ১৪৫, হা/৪৪২; মুসনাদুল ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৫১, হা/৬৩৮৭।
[৩]. ছহীহ বুখারী, পৃ. ১৫৩, হা/৮৯৩; মুসনাদুল ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল, ২য় খণ্ড, পৃ. ১২১, হা/৬০২৬; সহীহ ইবনু হিব্বান, ১০তম খণ্ড, পৃ. ৩৪২, হা/৪৪৯০; মুসনাদু আবী ‘আওয়ানাহ, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৩৮৩-৩৮৪, হা/৭০৩৫।
[৪]. আল-মুসতাদরাকু ‘আলাস সহীহাইন, ২য় খণ্ড, পৃ. ২০৭, হা/২৭৭১; সুনানুল বাইহাকী আল-কুবরা, ৭ম খণ্ড, পৃ. ২৯৪, হা/১৪৪৯৭; সুনানুন নাসাঈ আল-কুবরা, ৫ম খণ্ড, পডৃ. ৩৫৪, হা/৯১৩৫।
[৫]. জামি‘উস সহীহ সুনানুত তিরমিযী, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৪৬৭, হা/১১৬৩; সুনানু ইবনি মাজাহ, ১ম খণ্ড, পডৃ. ৫৯৪, হা/১৮৫১।
[৬]. সহীহ মুসলিম, পৃ. ১০৮ ও ৭০১, হা/২৮৬ ও ২১৪৪-২১৪৫; আল-আহকামুশ শার‘ইয়্যাহ আল-কুবরা, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩৮৫; মিশকাতুল মাসাবীহ, ২য় খণ্ড, পৃ. ৪৪৩, হা/৪১৫০।
[৭]. সহীহ মুসলিম, পৃ. ৬৬২, হা/২০১৭; মিশকাতুল মাসাবীহ, ২য় খণ্ড, পৃ. ৪৪৬, হাদীস নং৪১৬০।
[৮]. ছহীহ বুখারী, পৃ. ৫৩৮ ও ৫৩৭, হা/৩৩১৬ ও ৩৩০৪; সহীহ মুসলিম, পৃ. ৬৬১ হা/২০১২; সুনানু আবী দাঊদ, পৃ. ৬৭২, হা/৩৭৩৩; মুসনাদুল ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৩৮৮, হা/১২২০৬; মুসনাদু আবী ‘আওয়ানাহ, ৫ম খণ্ড, পৃ. ১৪৩-১৪৪, হা/৮১৫৯ ও ৮১৬০; মিশকাতুল মাসাবীহ, ২য় খণ্ড, পৃ. ৪৭৬, হা/৪২৯৪।
[৯]. ছহীহ বুখারী, পৃ. ৯১১, হা/৫৪৬৭; সহীহ মুসলিম, পৃ. ৭০১, হা/২১৪৫; সুনানু আবী দাঊদ, পৃ. ৫০৪, হা/২৮৩৮।
[১০]. ছহীহ বুখারী, পৃ. ৯১১-৯১২, হা/৫৪৭২; সুনানু আবী দাঊদ, পৃ. ৫০৪, হা/২৮৩৯; আল-মুসতাদরাকু আলাস সহীহাইন, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ২৬৬, হা/৭৫৯৩; আল-মু‘জামুল কাবীর, ৭ম খণ্ড, পৃ. ২২৯, হা/৬৯৫৫; কানযুল উম্মাল ফী সুনানিল আকওয়ালি ওয়াল আফ‘আলি, ১৬তম খণ্ড, পৃ. ৪৩৩, হা/৪৫২৯২; মিশকাতুল মাসাবীহ, ২য় খণ্ড, পৃ. ৪৪৪, হা/৪১৫৩।
[১১]. কানযুল উম্মাল ফী সুনানিল আকওয়ালি ওয়াল আফ‘আল, ১৬তম খণ্ড, পৃ. ৫৯৯, হা/৪৬০০১; মিশকাতুল মাসাবীহ, ২য় খণ্ড, পৃ. ৪৪৪, হা/৪১৫৪।
[১২]. ছহীহ বুখারী, পৃ. ৯৬৮, হা/৫৮৯১; আল-মুসতাদরাকু ‘আলাস সহীহাইন, ২য় খণ্ড, পৃ. ৬০০, হা/৪০২৩; সুনানুন নাসাঈ আল-কুবরা, ১ম খণ্ড, পৃ. ৬৫, হা/৯; শু‘আবুল ঈমান, ৩য় খণ্ড, পৃ. ২২, হা/২৭৫৯; মিশকাতুল মাসাবীহ, ২য় খণ্ড, পৃ. ৫০৩, হা/৪৪২০।
[১৩]. সুনানু আবী দাঊদ, পৃ. ২৬৪, হা/১৫৩৬; আল-জামিঊস সহীহু সুনানুত তিরমিযী, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৩১৪, হা/১৯০৫; মিশকাতুল মাসাবীহ, ২য় খণ্ড, পৃ. ৭, হা/২২৫০।
[১৪]. সহীহ মুসলিম, পৃ. ৬০৫, হা/১৮২৯; সুনানু আবী দাঊদ, পৃ. ৫২২, হা/২৯২৮; সূরাহ লুকমান : ১৩-১৯।
[১৫]. সূরাহ বনী ইসরাঈল, আয়াত : ২৩-২৪; সূরাহ লোকমান, আয়াত : ১৫; মুহাম্মাদ ইবনু ইসমা‘ঈল আবূ ‘আব্দিল্লাহ আল-বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ (বৈরূত : দারুল বাশাইরিল ইসলামিয়্যাহ, ৩য় সংস্করণ, ১৪০৯ হি./১৯৮৯ খ্রি.), পৃ. ২২ ও ২৫, হা/২৪-২৫।
[১৬]. ছহীহ বুখারী, পৃ. ৪৩৭, হা/২৬৫৩; সহীহ মুসলিম, পৃ. ৪৯, হা/৮৮; আল-আদাবুল মুফরাদ, পৃ. ২৫ ও ৩১, হা/ ১১ ও ৩১।
[১৭]. সহীহ মুসলিম, পৃ. ৮১৪, হা/২৫৪৮; সহীহ ইবনু হিব্বান, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৭৫, হা/৪৩৩; মিশকাতুল মাসাবীহ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৬৫, হা/৪৯১১; ছহীহ বুখারী, পৃ. ৪৮৮, হা/৩০০৪; সহীহ মুসলিম, পৃ. ৮১৪, হা/২৫৪৯; সুনানু আবী দাঊদ, পৃ. ৪৪৫, হা/২৫২৯; মিশকাতুল মাসাবীহ, ২য় খণ্ড, পৃ. ৩৬৮, হাদীসনং- ৩৮১৭; আল-আদাবুল মুফরাদ, পৃ. ২১, হা/ ২০; আল-মুসতাদরাকু ‘আলাস সহীহাইন, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ১৬৮, হা/৭২৫০; সুনানু আবী দাঊদ, পৃ. ৪৪৫, হা/২৫২৮; সুনানু ইবনি মাজাহ, ২য় খণ্ড, পৃ. ৯৩০, হা/২৭৮২।
[১৮]. সহীহ মুসলিম, পৃ. ৬৪৯, হা/১৯৭৮; সুনানুন নাসাঈ, ৭ম খণ্ড, পৃ. ২৩২, হা/৪৪২২; আল-জামেঊস সহীহ সুনানুত তিরমিযী, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৩১২, হা/১৯০২।
[১৯]. আল-জামি‘ঊস সহীহু সুনানুত তিরমিযী, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৬৬০, হা/১৩৭৬; সুনানুন নাসাঈ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ২৫১, হা/৩৬৫১; আল-আদাবুল মুফরাদ, পৃ. ২৮, হা/৩৬; মিশকাতুল মাসাবীহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ৪৪, হা/২০৩।
[২০]. আল-আদাবুল মুফরাদ, পৃ. ২৮, হা/৩৯; সহীহ মুসলিম, পৃ. ৩০৩, হা/১০০৪; সুনানু আবী দাঊদ, পৃ. ৫১২, হা/২৮৮১।
[২১]. আল-আদাবুল মুফরাদ, পৃ. ২৯, হা/৪১; আল-জামি‘উস সহীহ সুনানুত তিরমিযী, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৩১৩, হা/১৯০৩; সহীহ ইবনু হিব্বান, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৭৩, হা/৪৩০।
[২২]. ছহীহ বুখারী, পৃ. ৩৬৬ ও ৮৯৭, হা/২২৯৮ ও ৫৩৭১; সহীহ মুসলিম, পৃ. ৫১৯, হা/১৬১৯।
[২৩]. সহীহ মুসলিম, পৃ.২৩৭, হা/৭৭৯; সহীহ ইবনু হিব্বান, ৩য় খণ্ড, পৃ. ১৩৫, হা/৮৫৪; জামি‘উল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৪৭৫, হা/২৫৬৩; আল-আহকামুশ শার‘ইয়্যাহ আল-কুবরা, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৪৭৩; মিশকাতুল মাসাবীহ, ২য় খণ্ড, পৃ. ১০, হা/২২৬৩।
[২৪]. সূরাহ ইউনুস : ৮৭; তাফসীরুল কুরআনিল ‘আযীম, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ২৮৯; ছহীহ বুখারী, পৃ. ৮৯, হা/৪২৫; সুনানু ইবনি মাজাহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ২৪৯, হা/৭৫৪; সহীহ ইবনু হিব্বান, ১ম খণ্ড, পৃ. ৪৫৭, হা/২২৩; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৭৭, হা/১৬৫৩।
[২৫]. সহীহ মুসলিম, পৃ. ২২৬, হা/২২৬; মুসনাদুল ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ১৫২, হা/২৫২২৫; জামি‘উল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ৫৯, হা/৪১৫৭; সুনানু আবী দাঊদ, পৃ. ২২৫, হা/১৩০৮; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৮৩, হা/১১৪৮; সুনানুল বাইহাকী আল-কুবরা, ১ম খণ্ড, পৃ. ৪৭২, হা/৮২৮।
[২৬]. সহীহ মুসলিম, পৃ. ৬৬২, হা/২০১৮; সুনানু আবী দাঊদ, পৃ. ৯২২, হা/৫০৯৫; সহীহ মুসলিম, পৃ. ১০১, হা/২৫৩; মুসনাদুল ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ১৮৮, হা/২৫৫৯৪; মিশকাতুল মাসাবীহ, ২য় খণ্ড, পডৃ. ৪৯, হা/২৪৪৩।
[২৭]. সহীহ মুসলিম, পৃ. ২৩৭, হা/৭৮০; মিশকাতুল মাসাবীহ, ১ম খণ্ড,প ৃ. ৪৮০, হা/২১১৯; আল-মুসতাদরাকু ‘আলাস সহীহাইন, ১ম খণ্ড, পৃ.৭৪৯, হা/২০৬২ এবং ২য় খণ্ড, পৃ. ২৮৬, হা/৩০৩১।
[২৮]. সূরাহ আত-তাহরীম : ৬; তাফসীরুল কুরআনিল ‘আযীম, ৮ম খণ্ড, পৃ. ১৬৭; ছহীহ বুখারী, পৃ. ৩৯, হা/৯৭।
[২৯]. সূরাহ নূহ : ২৮।
[৩০]. সূরাহ আল-বাকারাহ : ১৮৯; সূরাহ আন-নূর : ২৭-২৯, ৫৮, ৬১; সূরাহ আত-তালাক : ১; ছহীহ বুখারী, পৃ. ১৩০-১৩১, হা/৭৩১; সহীহ মুসলিম, পৃ. ৭০৪, হা/২১৫৮; সুনানুন নাসাঈ, ৮ম খণ্ড, পৃ. ৬১, হা/৪৮৬০; মুসনাদুল ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল, ২য় খণ্ড, পৃ. ৩৮৬, হা/৮৯৮৫।
[৩১]. সূরাহ আশ-শূরা : ৩৮।
[৩২]. সুনানু আবী দাঊদ, পৃ. ৮৭৫, হা/৪৮২৯; জামি‘উস সহীহ সুনানুত তিরমিযী, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৪৬৭, হা/১১৬৩; সুনানু ইবনি মাজাহ, ১ম খণ্ড, পডৃ. ৫৯৪, হা/১৮৫১।
[৩৩]. জামি‘উস সহীহ সুনানুত তিরমিযী, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ২০৮, হা/১৭০৫; সহীহ ইবনু হিব্বান, ১০ তম খণ্ড, পৃ. ৩৪৫, হা/৪৪৯৩।
[৩৪]. সূরাহ আল-আযহাব : ৩৩; সূরা আল-কাসাস : ২৩ ও ২৬; ছহীহ বুখারী, পৃ. ৭৯৪, হা/৪৭৯৫; সহীহ মুসলিম, পৃ. ৭০৮, হা/২১৭০।
[৩৫]. সহীহ মুসলিম, পৃ. ৪৪৮, হা/১৪৩৭; সুনানু আবী দাঊদ, পৃ. ৩৭৭-৩৭৮, হা/২১৭৪; সূরাহ আন-নিসা : ৩৫; সূরাহ আত-তাহরীম : ১০; মুসনাদুল ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩১৩, হা/২৮৬৭; তাফসীরুল কুরআনিল ‘আযীম, ৮ম খণ্ড, পৃ. ১৭১।
[৩৬]. মুসনাদুল ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ৭১, হা/২৪৪৭১।
[৩৭]. কানুযুল ‘উম্মাল ফী সুনানিল আকওয়ালি ওয়াল আফ‘আল, ৭ম খণ্ড, পৃ. ১৩৭, হা/১৮৩৮১; যাইনুদ্দীন মুহাম্মাদ ‘আব্দুর রঊফ আল-মানাভী, ফাইযুল কাদীর শারহু জাসি‘ঈস সাগীর, ৫ম খণ্ড (মিশর : আল-মাকাতাবাতুজ তিজারিয়্যাহ আল-কুবরা, ১ম সংস্করণ ১৩৫৬ হি.), পৃ. ১০৬, হা/৬৫৮৫; আবূ ‘উমার ইউসুফ ইবনু ‘আব্দিল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু ‘আব্দির বার্র ইবনু ‘আসিম আন-নামরী আল-কুরতুবী, আল-ইসতিযকার, ৮ম খণ্ড (বৈরূত : দারুল কুতুবিল ‘ইলমিয়্যাহ, ১ম সংস্করণ ১৪২১ হি./২০০০ খ্রি.), পৃ. ৫৭৬।
[৩৮]. আল-মু‘জামুল আওসাত, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৩৪০-৩৪১, হা/৪৩৮২; আল-মু‘জামুল কাবীর, ১০তম খণ্ড, পৃ. ৩৮৪, হা/১০৬৭১; ফাইযুল কাদীর, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৩২৫।
[৩৯]. সহীহ মুসলিম, পৃ. ৭১৪, হা/২১৯২; আল-মুসতাদরাকু ‘আলাস সহীহাইন, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ১৩১, হা/৭১২২; মুসনাদুল ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ৩২, হা/২৪০৮১; জামি‘উস সহীহ সুনানুত তিরমিযী, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৩৮৩, হা/২০৩৯; মিশকাতুল মাসাবীহ, ২য় খণ্ড, পৃ. ৪৬১, হা/৪২৩৪।
[৪০]. সূরাহ আল-আ‘রাফ : ১৯।
[৪১]. ড. রশীদুল আলম ও ড. মোঃ ইব্রাহীম খলিল, ধর্মদর্শন (ঢাকা : মেরিট ফেয়ার প্রকাশন, ১ম প্রকাশ, নভেম্বর ২০১১), পৃ. ১৯৯।
[৪২]. সূরাহ আল-বাকারাহ : ১৭২; সূরাহ আল-মায়িদাহ : ৮; সূরাহ আন-নিসা : ১৩৫, ১৫৮; সূরাহ আশ-শূরা, আয়াত : ১৫; হাফিজ আবু শাইখ ইসফাহানি, আখলাকুন নবী (সা.), ১ম খণ্ড (দারুল মুসলিম, ১ম সংস্করণ, ১৯৯৮), পৃ. ১৯; ছহীহ বুখারী, পৃ. ৫৬৯, হা/২৪৭৫; সহীহ মুসলিম, পৃ. ৫৫১, হা/১৬৮৮; সুনানু আবী দাঊদ, পৃ. ৭৮৪, হা/৪৩৭৩; মুসনাদুল ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল, ২য় খণ্ড, পৃ. ৫২৩, হা/১০৭৯১ এবং ৫ম খণ্ড, পৃ. ৪১১, হা/২৩৫৩৬; মিশকাতুল মাসাবীহ, প্রাগুক্ত, ২য় খণ্ড, পৃ. ৩২১, হা/৩৬১০।
[৪৩]. সূরাহ আল-হুজুরাত : ১০।
[৪৪]. সূরাহ আল-‘আরাফ : ৫৬; সূরাহ আল-বাকারাহ : ১৯১।
[৪৫]. সূরাহ আন-নিসা : ২৯; ছহীহ বুখারী, পৃ. ১০৩৯, হা/৬৪২০; মিশকাতুল মাসাবীহ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ১৪২, হা/৫২৭১।
[৪৬]. সূরাহ বানী ইসারাঈল : ৩৩; সূরাহ আলি ‘ইমরান : ২১-২২; সূরাহ আন-নিসা : ৯৩; সূরাহ আল-ফুরকান : ৬৮-৭০; সূরাহ আল-মায়িদাহ : ৩২; ছহীহ বুখারী, পৃ. ৪২৭, হা/২৬৫৩; সহীহ মুসলিম, পৃ. ৪৯, হা/৮৮; ছহীহুল বুখারী, পৃ. ১০৫৪, হা/৬৫৩৩; সহীহ মুসলিম, পৃ. ৫৪৬, হা/১৬৭৮; মিশকাতুল মাসাবীহ, প্রাগুক্ত, ২য় খণ্ড, পৃ. ২৮৫, হা/৩৪৪৮; ছহীহ বুখারী, পৃ. ১১০১, হা/৬৮৬৩; জামি‘উস সহীহ সুনাতুত তিরমিযী, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৫৩১, হা/১৩৯৮; মিশকাতুল মাসাবীহ, ২য় খণ্ড, পৃ. ২৮৮, হা/৩৪৬৪; সুনানুন নাসা‘ঈ, ৭ম খণ্ড, পৃ. ৮১, হা/৩৯৮৪; মুসনাদুল ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৯৯, হা/১৬৯৫৩।
[৪৭]. সূরাহ আল-মায়িদাহ : ৩৮; সহীহ মুসলিম, পৃ. ২৭৩, হা/৯০৪; ছহীহ বুখারী, পৃ. ১০৮৯, হা/৬৭৮৩; সহীহ মুসলিম, পৃ. ৫৫১, হা/১৬৮৭।
[৪৮]. সূরাহ আন-নূর : ২, ৩০-৩১; সূরাহ বনী ইসরা‘ঈল : ৩২; সূরাহ আল-আ‘রাফ : ৩৩।
[৪৯]. সূরাহ আন-নিসা : ১, ৩৬; সূরাহ আর-রা‘দ : ২৫; সূরাহ আর-রূম : ৩৮; সূরাহ বানী ইসর‘ঈল : ২৬; সহীহ মুসলিম, পৃ. ৮৬২, হা/২৭৩৫; মিশকাতুল মাসাবীহ, ২য় খণ্ড, পৃ. ৪, হা/২২৩৬; ছহীহ বুখারী, পৃ. ৯৭৯, হা/৫৯৮৪; সুনানুত তিরমিযী, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৩১৬, হা/১৯০৯; মিশকাতুল মাসাবীহ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৬৭, হা/৪৯২২; সুনানু আবী দাউদ, পৃ. ৮৮৭, হা/৪৯০২ এবং পৃ. ২৯৩, হা/১৬৯৪; মুসনাদুল ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৬০, হা/৬৪৯৪।
[৫০]. সূরাহ আন-নিসা : ৬, ১০, ৩৬।
[৫১]. সূরাহ আর-রূম : ৩৮; সহীহ মুসলিম, পৃ. ৮৫৪, হা/২৬৯৯; সুনানু আবী দাঊদ, পৃ. ৮৯৪, হা/৪৯৪৬।
[৫২]. সূরাহ আন-নিসা : ৩৬; ছহীহ বুখারী, পৃ. ৯৮২, হা/৬০১৪; সহীহ মুসলিম, পৃ. ৮৩৩, হা/২৬২৫; আল-আদাবুল মুফরাদ, পৃ. ৪৯ ও ৫২, হা/১০১ ও ১১২; মুসনাদু আবী ই‘আলা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৯২, হা/২৬৯৯; আল-মু‘জামুল কাবীর, ১২ তম খণ্ড, পৃ. ১৫৪, হা/১২৭৪১; শু‘আবুল ঈমান, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৩১, হা/৫৬৬০; মিশকাতুল মাসাবীহ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৭৬, হা/৪৯৬৪।
[৫৩]. সূরাহ আন-নিসা : ৩৬।
[৫৪]. সূরাহ আন-নিসা : ৩৬; সূরাহ আর-রূম : ৩৮; সূরাহ বানী ইসরাঈল : ২৬।
[৫৫]. সূরাহ আন-নিসা : ৩৬।
[৫৬]. সূরাহ বানী ইসরাঈল : ৩১; আল-আদাবুল মুফরাদ, পৃ. ৪৯ ও ৫২, হা/১০১ ও ১১২; মুসনাদু আবী ই‘আলা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৯২, হা/২৬৯৯; ।
[৫৭]. সূরাহ আল-মায়িদাহ : ২।
[৫৮]. সূরাহ আন-নূর : ২৭।
[৫৯]. সূরাহ আল-বাকারাহ : ২৫৬; সূরাহ ইউনুস : ৯৯; সূরাহ ইয়াসীন : ১৭; সূরাহ আল-আন‘আম, আয়াত : ১০৮; সূরাহ আল-কাফিরুন, আয়াত : ৬।
[৬০]. মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুর রহীম, আল-কুরআনে রাষ্ট্র ও সরকার (ঢাকা : খায়রুন প্রকাশনী, ২০০০), পৃ. ২৮৬; মুহাম্মাদ শফীউদ্দীন, “বিশ্বসভ্যতায় মহানবী (সা.)-এর অবদান”, ইসলামিক ফাউন্ডেশন পত্রিকা, ১২ বর্ষ, ৭তম সংখ্যা, (ঢাকা : ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, জুলাই, ৯৭ইং), পৃ. ১৮৪-১৮৬।
[৬১]. সূরাহ আন-নিসা : ৫৮।
[৬২]. সূরাহ আল-হুজুরাত : ১১; ছহীহ বুখারী, পৃ. ২৪, হা/১৩; সহীহ মুসলিম, পৃ. ৪০, হা/৪৫; মিশকাতুল মাসাবীহ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৭৫, হা/৪৯৬১।
[৬৩]. সূরাহ আল-হুজুরাত : ১১।
[৬৪]. সূরাহ আল-হুজুরাত : ১২; সূরাহ আল-হুমাযাহ : ১; সহীহ মুসলিম, পৃ. ৮২৩, হা/২৫৮৯; সুনানু আবী দাঊদ, পৃ. ৮৮২-৮৮৩, হা/৪৮৭৪, ৪৮৮১; মিশকাতুল মাসাবীহ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৪৬, ৮৪, হা/৪৮২৮, ৫০৪৭।
[৬৫]. সূরাহ আন-নিসা : ১০৮; সহীহ মুসলিম, পৃ. ৫৩, হা/১০৫; সুনানু আবী দাঊদ, পৃ. ৮৮১, হা/৪৮৭১; সুনানুদ দারেমী, ২য় খণ্ড, পৃ. ৪০৫, হা/২৭৬৪; মিশকাতুল মাসাবীহ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৪৫, ৫০, হা/৪৮২৩, ৪৮৪৬।
[৬৬]. ছহীহ বুখারী, পৃ. ৯৮৪, হা/৬০৩০; মিশকাতুল মাসাবীহ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৩, হা/৪৬৩৮।
[৬৭]. সহীহ মুসলিম, পৃ. ৮২৩, হা/২৫৮১; মিশকাতুল মাসাবীহ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ১১১, হা/৫১২৬।
[৬৮]. সূরাহ আল-ফালাক : ৫; সূরাহ আল-আ‘রাফ : ১২; সূরাহ লুকমান : ১৮; সূরাহ আল-কাসাস : ৭৬-৮১।
[৬৯]. ছহীহ বুখারী, পৃ. ৯৯৫, হা/৬১১৬; মিশকাতুল মাসাবীহ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ১০৬, হা/৫১০৪।
[৭০]. সূরাহ আল-কালাম : ৮; সহীহ মুসলিম, পৃ. ৮২৯, হা/২৬০৭; সুনানু আবী দাঊদ, পৃ. ৯০২, হা/৪৯৯০; জামি‘ঊস সহীহ সুনানুত তিরমিযী, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৪৭১, হা/১৯৭১; মিশকাতুল মাসাবীহ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৪৫ ও ৪৮, হা/৪৮২৪, ৪৮৩৪।
[৭১]. সূরাহ আন-নাহল : ৯০; সূরাহ আন-নূর : ২; সূরাহ আল-‘আরাফ : ৩৩; সূরাহ আল-মায়িদাহ : ৯০; সূরাহ বানী ইসরাঈল : ৩২।
[৭২]. সহীহ মুসলিম, পৃ. ৩০৬, হা/১০১৫, ‘যাকাত’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-২০; মুসনাদুল ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল. ২য় খণ্ড, পৃ. ৩২৮, হা/৮৩৩০; সুনানুদ দারিমী, ২য় খণ্ড, পৃ. ৩৮৯, হা/২৭১৭; মিশকাতুল মাসাবীহ, ২য় খণ্ড, পৃ. ১২৩, হা/২৭৬০, ‘ক্রয়-বিক্রয়’ অধ্যায়।
[৭৩]. ছহীহ বুখারী, পৃ. ৩৫৪, হা/২২৩৬, ‘ক্রয়-বিক্রয়’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-১১২; সুনাসু আবী দাঊদ, পৃ. ৬২৭, হা/৩৪৮৮; মিশকাতুল মাসাবীহ, ২য় খণ্ড, পৃ. ১২৫, হা/২৭৬৬; ।
[৭৪]. সূরাহ আল-বাক্বারাহ : ২৭৫; সহীহ মুসলিম, পৃ. ৫১২, হা/১৫৯৮; আবূ ‘আব্দিল্লাহ মুহাম্মাদ ইবুন ইয়াযীদ আল-কাযবীনী ইবনু মাজাহ, সুনানু ইবনি মাজাহ (রিয়াদ : মাকতাবাতুল মা‘আরিফ, ১৪২৯ হি./২০০৮ খৃ.), পৃ. ৩৯০, হা/২২৭৪; মিশকাতুল মাসাবীহ, ২য় খণ্ড, ১৩৪, হা/২৮০৭।
[৭৫]. সহীহ মুসলিম, পৃ. ৪৯৩, হা/১৫৩৬; সুনানু আবী দাঊদ, পৃ. ৬১৩, হা/৩৪০৪; মিশকাতুল মাসাবীহ, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৪০, হা/২৮৩৬।
[৭৬]. সুনানু আবী দাঊদ, পৃ. ৬৪২, হা/৩৫৮০; জামি‘উস সহীহ সুনানুত তিরমিযী, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৬২২, হা/১৩৩৬; মুসনাদুল ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৬৪, হা/৬৫৩২; মিশকাতুল মাসাবীহ, ২য় খণ্ড, পৃ. ৩৫৪, হা/৩৭৫৩।
[৭৭]. সহীহ মুসলিম, পৃ. ৫১৬, হা/১৬০৫, ‘মুসাকাত’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-২৬; আল-মু‘জামুল কাবীর, ২০তম খণ্ড, পৃ. ৪৪৫, হা/১০৮৬; মিশকাতুল মাসাবীহ, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৫২, হা/২৮৯২।
[৭৮]. সূরাহ আন-নূর : ২ ও ৩৩।
[৭৯]. সূরাহ আল-মায়িদাহ : ৯।
[৮০]. সূরাহ আল-মায়িদাহ : ১০।
[৮১]. মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম, আল-কুরআনে রাষ্ট্র ও সরকার (ঢাকা : খায়রুন প্রকাশনী, তা.বি.), পৃ. ১৫৭।
[৮২]. সূরাহ আল-আন‘আম : ৫৭; তাইসীরুল কারীমির রহমান ফী তাফসীরি কালামিল মান্নান, পৃ. ৪০১।
[৮৩]. ইমাম আবূ দাঊদ, আস-সুনান, পৃ. ৮৯৬, হাদীছ নং-৪৯৫৫ ‘শিষ্টাচার’ অধ্যায়-৩৫; আহমাদ ইবন শু‘আইব আবূ ‘আব্দির রহমান আন-নাসাঈ, আস-সুনান, ৮ম খণ্ড (আলেপ্পো : মাকতাবুল মাতবূ‘আতিল ইসলামিয়্যাহ, ২য় সংস্করণ, ১৪০৬ হি./১৯৮৬ খ্রি.), পৃ. ২২৬, হাদীছ নং-৫৩৮৭।
[৮৪]. সূরাহ আন-নূর : ২; ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, পৃ. ৫৬৯, হাদীছ নং-৩৪৭৫ ‘নবীগণের বর্ণনা’ অধ্যায়-৬০, অনুচ্ছেদ-৫৪; ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, পৃ. ৫৫১, হাদীছ নং-১৬৮৮ ‘হুদূদ’ অধ্যায়-২৯, ‘সম্ভ্রান্ত ও অন্যান্য চোরদের হাত কর্তন ও আইন বাস্তবায়নে সুপারিশ নিষিদ্ধ’ অনুচ্ছেদ-২; তাফসীরুল কুরআনিল ‘আযীম, ৮ম খণ্ড, পৃ. ২৭-২৮; তাইসীরুল কারীমির রহমান ফী তাফসীরি কালামিল মান্নান, পৃ. ৮৪২;।
[৮৫]. ইমাম তাবারানী, আল-মু‘জামুল কাবীর, ১৮তম খণ্ড, পৃ. ১৭০, হাদীছ নং-৩৮১।
[৮৬]. ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, পৃ. ৬১০, হাদীছ নং-১৮৪১ ‘প্রশাসন’ অধ্যায়-৩৩, ‘ইমাম ঢালস্বরূপ, যার অধীনে যুদ্ধ করা হয় ও নিরাপদ থাকা যায়’ অনুচ্ছেদ-৯।
[৮৭]. ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, পৃ. ৪৭৩, হাদীছ নংÑ২৮৯২; ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বাল, আল-মুসনাদ, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৩৩৯, হাদীছ নং-২২৯২৩।
[৮৮]. ড. মুহাম্মাদ আয-যুহাইলী, তারীখুল কাযা ফিল ইসলাম (বৈরূত : দারুল ফিকরিল মু‘আসির, ১৯৯৫ খ্রি.), পৃ. ৮৪।
[৮৯]. ড. ‘আলী মুহাম্মাদ আস-সাল্লাবী, আল-খালীফাতুল আওয়াল আবূ বাকর আস-সিদ্দীক শাখসিয়্যাতুহু ওয়া ‘আসরুহু (বৈরূত : দারুল মা‘আরিফাহ, ৭ম সংস্করণ, ১৪৩০ হি./২০০৯ খ্রি.), পৃ. ১৪২।
[৯০]. সূরাহ আল-মায়িদাহ : ৪৪-৪৫ ও ৪৭।
[৯১]. ইমাম আবূ দাঊদ, আস-সুনান, পৃ. ৬৪১, হাদীছ নং-৩৫৭৩ ‘বিচার ব্যবস্থা’ অধ্যায়-১৮, ‘বিচারক ভুল করলে’ অনুচ্ছেদ-২।
[৯২]. ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, পৃ. ৬৩-৬৪, হাদীছ নং-১৪২; মুহাম্মাদ ইবন হিব্বান ইবন আহমাদ আবূ হাতিম আত-তামীমী, আস-সহীহ, ১০ম খণ্ড (বৈরূত : মুওয়াসসাসাতুর রিসালাহ, ২য় সংস্করণ, ১৪১৪ হি./১৯৯৩ খ্রি.), পৃ. ৩৪৬, হাদীছ নং-৪৪৯৫।
[৯৩]. ইমাম আবূ দাঊদ, আস-সুনান, পৃ. ৮৩২, হাদীছ নং-৪৬০৭; ইমাম তিরমিযী, আস-সুনান, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৪৪, হাদীছ নং-২৬৭৬; ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বাল, আল-মুসনাদ, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ১২৬, হাদীছ নং-১৭১৮৫; ইমাম তাবারনী, আল-মু‘জামুল আওসাত, ১ম খণ্ড, পৃ. ২৮, হাদীছ নং-৬৬; ইমাম দারিমী, আস-সুনান, ১ম খণ্ড, পৃ. ৫৭, হাদীছ নং-৯৫; মিশকাতুল মাসাবীহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩৬, হাদীছ নং-১৬৫।
[৯৪]. আবূ ‘আব্দিল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ শামসুদ্দীন আল-কুরতুবী, আল-জামি‘ঊ লি আহকামিল কুরআন, ৬ষ্ঠ খণ্ড (রিয়াদ : দারু ‘আলিমিল কুতুব, ১৪২৩ হি./২০০৩ খ্রি.), পৃ. ১৯০; তাফসীরুল কুরআনিল ‘আযীম, ৩য় খণ্ড, পৃ. ১২০।
[৯৫] সূরাহ আল-‘আনকাবূত : ৪৫।
[৯৬]. ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, পৃ. ৩৯৭-৩৯৮, হাদীছ নং-২৪৭৮; আহমাদ ইবন শু‘আইব আবূ ‘আব্দির রহমান আন-নাসাঈ, সুনানুল কুবরা, ৬ষ্ঠ খণ্ড (বৈরূত : দারুল কুতুবিল ‘ইলমিয়্যাহ, ১ম সংস্করণ, ১৪১১ হি./১৯৯১ খ্রি.), পৃ. ৪৩৮, হাদীছ নং-১১৪২৮।
[৯৭]. ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, পৃ. ২৪৯, হাদীছ নং-৮৩২; ইমাম বায়হাকী, সুনানুল কুবরা, ২য় খণ্ড, পৃ. ৪৫৪, হাদীছ নং-৪১৭৮; আল-আহকামুশ শার‘ইয়্যাহ আল-কুবরা, ১ম খণ্ড, পৃ. ৫৭৫।
[৯৮]. ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, পৃ. ২৯১, হাদীছ নং-৯৬৯; ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বাল, আল-মুসনাদ, ১ম খণ্ড, পৃ. ৯৬, হাদীছ নং-৭৪১; মিশকাতুল মাসাবীহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩৮২, হাদীছ নং-১৬৯৬।
প্রসঙ্গসমূহ »:
সমাজ-সংস্কার