উত্তর : ইসলামে ‘পবিত্র কিতাব’ বলতে বুঝায় আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাবসমূহ। যেমন কুরআন, তাওরাত, ইঞ্জীল ইত্যাদি। মানুষের তৈরি কোন দলীল বা নথিপত্রকে ‘পবিত্র’ বলা শরী‘আত সম্মত নয়। বিশেষ করে যে সংবিধানের অনেক অনুচ্ছেদ ইসলাম বিরোধী তাকে পবিত্র বলার প্রশ্নই আসে না। যদি সংসদ কুরআন-সুন্নাহর পরিপন্থী কোন আইন প্রণয়ন করে বা আল্লাহর বিধানকে বাদ দিয়ে নতুন বিধান তৈরি করে, তবে তা ইসলাম বিরোধী। এটা মহান কিভাবে হয়? মুসলিমরা এভাবে বলতে পারে না। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কিতাবে জানিয়েছেন, ‘হুকুম বা শাসনের মালিক একমাত্র তিনি এবং তিনিই হচ্ছেন- উত্তম হুকুমদাতা বা শাসক’ (সূরা আল-মুমিন: ১৩)। পক্ষান্তরে অন্যকে তাঁর শাসনে অংশীদার করা থেকে নিষেধ করেছেন এবং জানিয়েছেন তাঁর চেয়ে উত্তম বিধানদাতা কেউ নেই। তিনি আরো বলেন, ‘আল্লাহ ছাড়া কারো বিধান দেয়ার অধিকার নেই (সূরা ইউসুফ: ৪০)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, ‘আল্লাহ কি হুকুমদাতাদের শ্রেষ্ঠ নন?’ (সূরা আত-ত্বীন: ৮)। ঈমানদাররা সুদৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, আল্লাহর আইনের চেয়ে উত্তম কোন আইন নেই। আল্লাহর আইন বিরোধী সকল বিধান জাহিলী বিধান। যেমন তিনি বলেন, ‘তারা কি জাহিলিয়্যাতের হুকুম চায়? বিশ্বাসীদের জন্য আল্লাহর চেয়ে উত্তম হুকুমদাতা আর কে?’ (সূরা আল-মায়িদাহ: ৫০)।
‘মহান সংসদ’ বলা শিরক না হলেও অতিরঞ্জিত। কোন মানবরচিত সংবিধান বা সংসদকে ‘পবিত্র’ বা ‘মহান’ আখ্যা দেয়া ইসলামী আক্বীদার সাথে সাংঘর্ষিক। ইসলামে শিরক কেবল মূর্তিপূজার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, যে কোন সৃষ্টিকে আল্লাহর গুণ বা মর্যাদা দেয়াও শিরকের অন্তর্ভুক্ত।
প্রশ্নকারী : আব্দুর রহমান, মোমেনশাহী।