রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০১:০০ অপরাহ্ন
উত্তর : বিকাশে কার্ড থেকে অ্যাড মানি করার সময় যে ক্যাশব্যাক দেয়া হয়, সেটি মূলত একটি ছাড় বা প্রণোদনা, যা সূদ বা হিবা নয়। এটি একটি বিপণন কৌশল, যেখানে কোম্পানী তাদের গ্রাহকদের আকর্ষণ করার জন্য এই ধরনের অফার দিয়ে থাকে। কোন লেনদেন জায়েয হওয়ার জন্য কয়েকটি শর্ত রয়েছে। তার মধ্যে একটি হল- লেনদেনটি স্পষ্ট হতে হবে এবং এতে কোন ধরনের ধোঁকা বা প্রতারণা থাকা যাবে না। ক্যাশব্যাক যেহেতু স্পষ্ট এবং কোন ধরনের ধোঁকা বা প্রতারণা নেই, তাই এটি জায়েয। বিকাশের ক্যাশব্যাক সাধারণত সূদের অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে এর প্রকৃতি এবং ব্যবহারের উপর নির্ভর করে এটি ‘হিবা’ অর্থাৎ উপহার হিসাবে গণ্য হতে পারে। যদি ক্যাশব্যাক কোন শর্তের সাথে সম্পর্কিত না হয়, তবে এটি ‘হিবা’ হিসাবে বিবেচিত হতে পারে, যা মূলত একটি উপহার। তবে, যদি ক্যাশব্যাক কোন লেনদেন বা সেবার সাথে শর্তযুক্ত থাকে, তাহলে এটি ‘রিবা’ বা সূদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

বিকাশের ক্যাশব্যাক একটি নির্দিষ্ট শর্তের ভিত্তিতে দেয়া হয়, যেমন নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা রিচার্জ করা বা কেনাকাটা করা। যদি এই শর্ত পূরণ না করে ক্যাশব্যাক পাওয়া যায়, তবে এটি ‘হিবা’ বা উপহার হিসাবে গণ্য হতে পারে। তবে, যদি শর্ত পূরণ করে ক্যাশব্যাক পাওয়া যায়, তবে এটি সূদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। সুতরাং বিকাশের ক্যাশব্যাক ‘হিবা’, না-কি ‘রিবা’, তা নির্ভর করে এর প্রকৃতির উপর। যদি এটি কোন শর্ত ছাড়া একটি উপহার হিসাবে দেয়া হয়, তবে এটি ‘হিবা’ হতে পারে। তবে, যদি এটি কোন লেনদেন বা সেবার সাথে সম্পর্কিত শর্তের ভিত্তিতে দেয়া হয়, তবে এটি ‘রিবা’ বা সূদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

বিকাশ বা অন্যান্য যত অনলাইন লেনদেনের অ্যাপস্ আছে, সেগুলো থেকে ক্যাশব্যাক অফার গ্রহণ করা যাবে কি-না সে ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। যাঁরা মনে করেন যে, এই সমস্ত ক্যাশব্যাক অফারগুলো বিকাশ অ্যাপস্ এর মাধ্যমে পাওয়া গেলেও, মূলত এই ছাড় কোম্পানীর পক্ষ থেকেই চুক্তিসম্মত দেয়া হয়ে থাকে, তাঁরা এটাকে জায়েয মনে করেন। আবার কিছু আলেম মনে করেন যে, সব কোম্পানী তো আর ছাড় দেয় না, এমন অনেক ব্র্যান্ডেড কোম্পানী আছে, যারা ছাড় দেয় না। সেক্ষেত্রে বিকাশসহ অন্যান্য অ্যাপসগুলো এই ক্যাশব্যাক অফার কোথায় থেকে দিচ্ছে, তা সন্দেহ থেকে মুক্ত নয়। আর কোন মুসলিমের জন্য এরূপ সন্দেহযুক্ত উপার্জন ভক্ষণ করা বৈধ নয়। উপরিউক্ত মতামত দু’টির মধ্যে নিম্নোক্ত মতটি শারঈ দলীলের অধিক নিকটবর্তী। যেমন, ইসলামী শরী‘আতের স্থিরীকৃত নীতিমালা সমূহের মধ্যে রয়েছে: إذا اجتَمَع الحلالُ والحرامُ غُلِّبَ الحرامُ ‘যখন কোন বিষয়ে হালাল ও হারামের মাসআলা একত্রিত হয়, তখন হারামের মাসআলা প্রাধান্য পায় অর্থাৎ সেটাকে হারাম বলে গণ্য করতে হবে।

নবী (ﷺ) বলেন, ‘নিশ্চয় হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট, আর উভয়ের মাঝে রয়েছে সন্দেহজনক বিষয়, অনেক লোকই সেগুলো জানে না। যে ব্যক্তি এসব সন্দেহজনক বিষয় থেকে দূরে থাকে সে তার দ্বীন ও মর্যাদাকে নিরাপদে রাখে, আর যে লোক সন্দেহজনক বিষয়ে পতিত হবে সে হারামের মধ্যে লিপ্ত হয়ে পড়বে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫২, ২০৫১; ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৯)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘যে বিষয়ে তোমার সন্দেহ হয়, তা ছেড়ে দিয়ে যাতে সন্দেহের সম্ভাবনা নেই তা গ্রহণ কর। যেহেতু, সত্য হল শান্তি ও স্বস্তি এবং মিথ্যা হল দ্বিধা-সন্দেহ’ (তিরমিযী, হা/২৫১৮; নাসাঈ, হা/৫৭১১)। অতএব সচেতন ধার্মিকের জন্য এ থেকে বিরত থাকায় সর্বাধিক উত্তম হবে।

অনুরূপভাবে আমরা জানি, বিকাশ ব্র্যাক ব্যাংকের অঙ্গীভূত একটি সূদ ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। তাই একান্ত যরূরী প্রয়োজন ছাড়া বিকাশ ব্যবহার করা উচিত নয়। কেননা এতে প্রকারান্তরে তাদেরকে সহায়তা করা হয়। অথচ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাক্বওয়ায় পরস্পরকে সহযোগিতা কর এবং মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে একে অন্যের সহযোগিতা করো না (সূরা আল-মায়িদাহ: ২)।


প্রশ্নকারী : বুরহান, মৌলভীবাজার।





প্রশ্ন (২৮) : সৌন্দর্যের জন্য প্লাস্টিক-সার্জারী করা বৈধ কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : মাইয়েতকে কবর দেয়ার সময় কবরের চার পাশে চারটি খেজুরের ডাল পোঁতা হয় এবং চার কুল পড়া হয়। এর কোন দলীল আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : শায়খ ড. রাবী ইবনে হাদী আল মাদখালী সম্পর্কে জানতে চাই। তিনি সালাফী মানহাজ থেকে বের হয়ে গেছেন এমন দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : গান শুনা ইমামের পিছনে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : ফজরের পূর্বে দুই, যোহরের পূর্বে চার ও পরে দুই, মাগরিবের পরে দুই, এশার পরে দুই রাক‘আত দিনে রাতে মোট বার রাক‘আত ছালাতের ফযীলতের কথা আমরা জানি। আমার প্রশ্ন হল- কেউ যদি যোহরের আগের চার রাক‘আত ছালাত পরে আদায় করে তবে কি তিনি সেই ফযীলত পাবেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : তাকবীরে তাহরিমার সময় আঙ্গুলগুলো বাঁকা থাকবে, না-কি সোজা থাকবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : আমি একজন সিএনজি চালক। দিনের বেলায় যে জায়গার ভাড়া ২০ টাকা- রাতের বেলায় সে একই জায়গায় অনেক চালক ৪০ টাকা নিয়ে থাকে। এভাবে রাতে ভাড়া বাড়ানো যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : আক্বীক্বার সপ্তম দিনে যদি যিলহজ্জ মাসের চাঁদ উদিত হয়, তাহলে আক্বীক্বা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : জুমু‘আর খুৎবাহ বসে বসে দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : আল-কুরআনের মুহকাম ও মুতাশাবিহ আয়াত বলতে কী বুঝায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৯) : হজ্জের সময় মক্কায় প্রবেশ করার পূর্বে যদি তার মাসিক শুরু হয়ে যায়, তাহলে তিনি কী করবেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : মসজিদে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ