বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন
উত্তর : বিকাশে কার্ড থেকে অ্যাড মানি করার সময় যে ক্যাশব্যাক দেয়া হয়, সেটি মূলত একটি ছাড় বা প্রণোদনা, যা সূদ বা হিবা নয়। এটি একটি বিপণন কৌশল, যেখানে কোম্পানী তাদের গ্রাহকদের আকর্ষণ করার জন্য এই ধরনের অফার দিয়ে থাকে। কোন লেনদেন জায়েয হওয়ার জন্য কয়েকটি শর্ত রয়েছে। তার মধ্যে একটি হল- লেনদেনটি স্পষ্ট হতে হবে এবং এতে কোন ধরনের ধোঁকা বা প্রতারণা থাকা যাবে না। ক্যাশব্যাক যেহেতু স্পষ্ট এবং কোন ধরনের ধোঁকা বা প্রতারণা নেই, তাই এটি জায়েয। বিকাশের ক্যাশব্যাক সাধারণত সূদের অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে এর প্রকৃতি এবং ব্যবহারের উপর নির্ভর করে এটি ‘হিবা’ অর্থাৎ উপহার হিসাবে গণ্য হতে পারে। যদি ক্যাশব্যাক কোন শর্তের সাথে সম্পর্কিত না হয়, তবে এটি ‘হিবা’ হিসাবে বিবেচিত হতে পারে, যা মূলত একটি উপহার। তবে, যদি ক্যাশব্যাক কোন লেনদেন বা সেবার সাথে শর্তযুক্ত থাকে, তাহলে এটি ‘রিবা’ বা সূদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

বিকাশের ক্যাশব্যাক একটি নির্দিষ্ট শর্তের ভিত্তিতে দেয়া হয়, যেমন নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা রিচার্জ করা বা কেনাকাটা করা। যদি এই শর্ত পূরণ না করে ক্যাশব্যাক পাওয়া যায়, তবে এটি ‘হিবা’ বা উপহার হিসাবে গণ্য হতে পারে। তবে, যদি শর্ত পূরণ করে ক্যাশব্যাক পাওয়া যায়, তবে এটি সূদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। সুতরাং বিকাশের ক্যাশব্যাক ‘হিবা’, না-কি ‘রিবা’, তা নির্ভর করে এর প্রকৃতির উপর। যদি এটি কোন শর্ত ছাড়া একটি উপহার হিসাবে দেয়া হয়, তবে এটি ‘হিবা’ হতে পারে। তবে, যদি এটি কোন লেনদেন বা সেবার সাথে সম্পর্কিত শর্তের ভিত্তিতে দেয়া হয়, তবে এটি ‘রিবা’ বা সূদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

বিকাশ বা অন্যান্য যত অনলাইন লেনদেনের অ্যাপস্ আছে, সেগুলো থেকে ক্যাশব্যাক অফার গ্রহণ করা যাবে কি-না সে ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। যাঁরা মনে করেন যে, এই সমস্ত ক্যাশব্যাক অফারগুলো বিকাশ অ্যাপস্ এর মাধ্যমে পাওয়া গেলেও, মূলত এই ছাড় কোম্পানীর পক্ষ থেকেই চুক্তিসম্মত দেয়া হয়ে থাকে, তাঁরা এটাকে জায়েয মনে করেন। আবার কিছু আলেম মনে করেন যে, সব কোম্পানী তো আর ছাড় দেয় না, এমন অনেক ব্র্যান্ডেড কোম্পানী আছে, যারা ছাড় দেয় না। সেক্ষেত্রে বিকাশসহ অন্যান্য অ্যাপসগুলো এই ক্যাশব্যাক অফার কোথায় থেকে দিচ্ছে, তা সন্দেহ থেকে মুক্ত নয়। আর কোন মুসলিমের জন্য এরূপ সন্দেহযুক্ত উপার্জন ভক্ষণ করা বৈধ নয়। উপরিউক্ত মতামত দু’টির মধ্যে নিম্নোক্ত মতটি শারঈ দলীলের অধিক নিকটবর্তী। যেমন, ইসলামী শরী‘আতের স্থিরীকৃত নীতিমালা সমূহের মধ্যে রয়েছে: إذا اجتَمَع الحلالُ والحرامُ غُلِّبَ الحرامُ ‘যখন কোন বিষয়ে হালাল ও হারামের মাসআলা একত্রিত হয়, তখন হারামের মাসআলা প্রাধান্য পায় অর্থাৎ সেটাকে হারাম বলে গণ্য করতে হবে।

নবী (ﷺ) বলেন, ‘নিশ্চয় হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট, আর উভয়ের মাঝে রয়েছে সন্দেহজনক বিষয়, অনেক লোকই সেগুলো জানে না। যে ব্যক্তি এসব সন্দেহজনক বিষয় থেকে দূরে থাকে সে তার দ্বীন ও মর্যাদাকে নিরাপদে রাখে, আর যে লোক সন্দেহজনক বিষয়ে পতিত হবে সে হারামের মধ্যে লিপ্ত হয়ে পড়বে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫২, ২০৫১; ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৯)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘যে বিষয়ে তোমার সন্দেহ হয়, তা ছেড়ে দিয়ে যাতে সন্দেহের সম্ভাবনা নেই তা গ্রহণ কর। যেহেতু, সত্য হল শান্তি ও স্বস্তি এবং মিথ্যা হল দ্বিধা-সন্দেহ’ (তিরমিযী, হা/২৫১৮; নাসাঈ, হা/৫৭১১)। অতএব সচেতন ধার্মিকের জন্য এ থেকে বিরত থাকায় সর্বাধিক উত্তম হবে।

অনুরূপভাবে আমরা জানি, বিকাশ ব্র্যাক ব্যাংকের অঙ্গীভূত একটি সূদ ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। তাই একান্ত যরূরী প্রয়োজন ছাড়া বিকাশ ব্যবহার করা উচিত নয়। কেননা এতে প্রকারান্তরে তাদেরকে সহায়তা করা হয়। অথচ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাক্বওয়ায় পরস্পরকে সহযোগিতা কর এবং মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে একে অন্যের সহযোগিতা করো না (সূরা আল-মায়িদাহ: ২)।


প্রশ্নকারী : বুরহান, মৌলভীবাজার।





প্রশ্ন : (৭) জঙ্গলে বা জনবসতিহীন এলাকায় উৎপন্ন ফল বা সবজি খাওয়া যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : ছিয়াম অবস্থায় শ্বাসকষ্টের কারণে ইনহেইলার গ্রহণ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : মসজিদে ইফতার ও দু‘আ মাহফিলের ব্যানার লাগানো যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : জনৈক ইমাম সাহেব, মুছল্লীদের উদ্দেশ্যে জুমু‘আর বয়ানে বলেছিলেন যে, আপনারা হজ্জের জন্য আল্লাহর কাছে খাছ দিলে দু‘আ করুন, আল্লাহ অবশ্যই দু‘আ কবুল করবেন। কেননা পিপিলিকা এবং কবুতর আল্লাহর কাছে কা‘বা ঘর ত্বাওয়াফ করতে চেয়েছিল, আল্লাহ তাদের দু‘আ কবুল করে জিবরীলকে আদেশ দিলেন তাদেরকে কা‘বা ঘরে পৌঁছে দিতে। এ ঘটনাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : হাদীছে বলা হয়েছে যে, খারিজীরা জাহান্নামের কুকুর (ইবনু মাজাহ, হা/১৭৬; সনদ ছহীহ)। কুকুর বলে কী বুঝানো হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : আমার মা আমার নানার একমাত্র মেয়ে। নানার আর কোন ছেলেমেয়ে নেই। তবে ভাতিজা, ভাগিনা আছে। নানা এখনো জীবিত। আমার নানা তাঁর সমস্ত সম্পত্তি আমার মায়ের নামে লিখে দিয়েছেন। এটা কি ঠিক হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বীয় দাড়ি প্রস্থ এবং দৈর্ঘ্য হতে ছেঁটে নিতেন (তিরমিযী, হা/২৭৬২)। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : জনৈক ব্যক্তি জর্জ কোর্টে মুহুরীর সহযোগী হিসাবে কাজ করে। মজুরী হিসাবে টাকাও পায়। কিন্তু যার সহযোগী হিসাবে কাজ করে সে মানুষের কাছ থেকে মিথ্যা/প্রতারণা করে টাকা নেয় এবং বিভিন্ন সময় তাকেও মিথ্যা কথা বলতে হয়। এ ধরনের চাকরী করা বৈধ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানদের ইবাদতের নেকি কি পিতা-মাতা পাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : মসজিদে হারাম বা মসজিদে নববীর চত্বরে ছালাত আদায় করলে কি মূল মসজিদে ছালাত আদায় করার সমান ছাওয়াব পাওয়া যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : বিবাহের পূর্বে যদি কেউ বলে, আমি অমুক কাজ করলে বিবাহের পর আমার স্ত্রী ত্বালাক হয়ে যাবে। আমি যাকে বিবাহ করব সে ত্বালাক্ব। এগুলো বললে কি ত্বালাক্ব কার্যকর হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : প্রচলিত আছে যে, রাসূল (ﷺ)-এর যে নিয়মে চুল রাখতেন সেই নিয়মকে ‘বাবরী চুল’ বলা হয়। আসলে ‘বাবরী চুল’ দ্বারা কী বুঝানো হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ