শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ১২:১৬ অপরাহ্ন
উত্তর : বিকাশে কার্ড থেকে অ্যাড মানি করার সময় যে ক্যাশব্যাক দেয়া হয়, সেটি মূলত একটি ছাড় বা প্রণোদনা, যা সূদ বা হিবা নয়। এটি একটি বিপণন কৌশল, যেখানে কোম্পানী তাদের গ্রাহকদের আকর্ষণ করার জন্য এই ধরনের অফার দিয়ে থাকে। কোন লেনদেন জায়েয হওয়ার জন্য কয়েকটি শর্ত রয়েছে। তার মধ্যে একটি হল- লেনদেনটি স্পষ্ট হতে হবে এবং এতে কোন ধরনের ধোঁকা বা প্রতারণা থাকা যাবে না। ক্যাশব্যাক যেহেতু স্পষ্ট এবং কোন ধরনের ধোঁকা বা প্রতারণা নেই, তাই এটি জায়েয। বিকাশের ক্যাশব্যাক সাধারণত সূদের অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে এর প্রকৃতি এবং ব্যবহারের উপর নির্ভর করে এটি ‘হিবা’ অর্থাৎ উপহার হিসাবে গণ্য হতে পারে। যদি ক্যাশব্যাক কোন শর্তের সাথে সম্পর্কিত না হয়, তবে এটি ‘হিবা’ হিসাবে বিবেচিত হতে পারে, যা মূলত একটি উপহার। তবে, যদি ক্যাশব্যাক কোন লেনদেন বা সেবার সাথে শর্তযুক্ত থাকে, তাহলে এটি ‘রিবা’ বা সূদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

বিকাশের ক্যাশব্যাক একটি নির্দিষ্ট শর্তের ভিত্তিতে দেয়া হয়, যেমন নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা রিচার্জ করা বা কেনাকাটা করা। যদি এই শর্ত পূরণ না করে ক্যাশব্যাক পাওয়া যায়, তবে এটি ‘হিবা’ বা উপহার হিসাবে গণ্য হতে পারে। তবে, যদি শর্ত পূরণ করে ক্যাশব্যাক পাওয়া যায়, তবে এটি সূদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। সুতরাং বিকাশের ক্যাশব্যাক ‘হিবা’, না-কি ‘রিবা’, তা নির্ভর করে এর প্রকৃতির উপর। যদি এটি কোন শর্ত ছাড়া একটি উপহার হিসাবে দেয়া হয়, তবে এটি ‘হিবা’ হতে পারে। তবে, যদি এটি কোন লেনদেন বা সেবার সাথে সম্পর্কিত শর্তের ভিত্তিতে দেয়া হয়, তবে এটি ‘রিবা’ বা সূদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

বিকাশ বা অন্যান্য যত অনলাইন লেনদেনের অ্যাপস্ আছে, সেগুলো থেকে ক্যাশব্যাক অফার গ্রহণ করা যাবে কি-না সে ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। যাঁরা মনে করেন যে, এই সমস্ত ক্যাশব্যাক অফারগুলো বিকাশ অ্যাপস্ এর মাধ্যমে পাওয়া গেলেও, মূলত এই ছাড় কোম্পানীর পক্ষ থেকেই চুক্তিসম্মত দেয়া হয়ে থাকে, তাঁরা এটাকে জায়েয মনে করেন। আবার কিছু আলেম মনে করেন যে, সব কোম্পানী তো আর ছাড় দেয় না, এমন অনেক ব্র্যান্ডেড কোম্পানী আছে, যারা ছাড় দেয় না। সেক্ষেত্রে বিকাশসহ অন্যান্য অ্যাপসগুলো এই ক্যাশব্যাক অফার কোথায় থেকে দিচ্ছে, তা সন্দেহ থেকে মুক্ত নয়। আর কোন মুসলিমের জন্য এরূপ সন্দেহযুক্ত উপার্জন ভক্ষণ করা বৈধ নয়। উপরিউক্ত মতামত দু’টির মধ্যে নিম্নোক্ত মতটি শারঈ দলীলের অধিক নিকটবর্তী। যেমন, ইসলামী শরী‘আতের স্থিরীকৃত নীতিমালা সমূহের মধ্যে রয়েছে: إذا اجتَمَع الحلالُ والحرامُ غُلِّبَ الحرامُ ‘যখন কোন বিষয়ে হালাল ও হারামের মাসআলা একত্রিত হয়, তখন হারামের মাসআলা প্রাধান্য পায় অর্থাৎ সেটাকে হারাম বলে গণ্য করতে হবে।

নবী (ﷺ) বলেন, ‘নিশ্চয় হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট, আর উভয়ের মাঝে রয়েছে সন্দেহজনক বিষয়, অনেক লোকই সেগুলো জানে না। যে ব্যক্তি এসব সন্দেহজনক বিষয় থেকে দূরে থাকে সে তার দ্বীন ও মর্যাদাকে নিরাপদে রাখে, আর যে লোক সন্দেহজনক বিষয়ে পতিত হবে সে হারামের মধ্যে লিপ্ত হয়ে পড়বে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫২, ২০৫১; ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৯)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘যে বিষয়ে তোমার সন্দেহ হয়, তা ছেড়ে দিয়ে যাতে সন্দেহের সম্ভাবনা নেই তা গ্রহণ কর। যেহেতু, সত্য হল শান্তি ও স্বস্তি এবং মিথ্যা হল দ্বিধা-সন্দেহ’ (তিরমিযী, হা/২৫১৮; নাসাঈ, হা/৫৭১১)। অতএব সচেতন ধার্মিকের জন্য এ থেকে বিরত থাকায় সর্বাধিক উত্তম হবে।

অনুরূপভাবে আমরা জানি, বিকাশ ব্র্যাক ব্যাংকের অঙ্গীভূত একটি সূদ ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। তাই একান্ত যরূরী প্রয়োজন ছাড়া বিকাশ ব্যবহার করা উচিত নয়। কেননা এতে প্রকারান্তরে তাদেরকে সহায়তা করা হয়। অথচ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাক্বওয়ায় পরস্পরকে সহযোগিতা কর এবং মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে একে অন্যের সহযোগিতা করো না (সূরা আল-মায়িদাহ: ২)।


প্রশ্নকারী : বুরহান, মৌলভীবাজার।





প্রশ্ন (২৩) : জনৈক নারী উকিলের মাধ্যমে ত্বালাক্বনামা লিখিয়ে রাখে, কিন্তু বেশ কিছুদিন পরে তা স্বামীর নিকট পৌছায় এবং স্বামী তাতে স্বাক্ষর করেন। প্রশ্ন হল- ত্বালাক্বনামা লিখিত হওয়ার মাধ্যমে বা স্বামীর স্বাক্ষরের পূর্বেই কী ত্বালাক্ব পতিত হয়ে গেছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : খিযির (আলাইহিস সালাম) কি নবী ছিলেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : স্বামী-স্ত্রী একসাথে জামা‘আতে ছালাত আদায় করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : ‘আমার ছাহাবীগণ তারকার ন্যায়, তোমরা যারই অনুসরণ কর সঠিক পথ পাবে’। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : যার চরিত্র যেমন, তার জীবনসঙ্গী বা স্ত্রী তেমন হবে। এটা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১): কোন্ কোন্ দিন ছিয়াম পালন করা নিষেধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : টিভি, ফ্রিজ, এসি, রাইস কুকার, গান বাজানোর সাউন্ডবক্স, কম্পিউটার, ক্যামেরা, স্মার্ট মোবাইল ইত্যাদি সার্ভিসিং বা মেরামতের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা কি হালাল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : কোন আলেম যদি তাবীয ব্যবহার করে, তাহলে তার পিছনে ছালাত আদায় করা কি জায়েয হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : এক ওয়াক্ত ছালাত ক্বাযা করলে এবং পরে পড়ে নিলেও ২ লক্ষ ৮৮ বছর জাহান্নামে থাকতে হবে (ফাযায়েলে নামায, পৃ. ১১৬)। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশে কেউ হাযারে ২০ টাকা খরচ দিয়ে পাঠালে, টাকা তোলার পর একাউন্টে ২/৩ টাকা থেকে যায়, কোম্পানি পুরো ২০ টাকা কাটে না। এই অবশিষ্ট টাকা গ্রহণ হালাল হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : ‘ষাট বছরের জীবনে কেউ এক ওয়াক্ত ছালাত ছেড়ে দিলেও সে কাফের’। সালাফদের থেকে এরকম কোন বক্তব্য পাওয়া যায় কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : যাদের ঈমান নেই তারাতো চিরকাল জাহান্নামে থাকবে আবার যারা জান্নাতে থাকবে তারাও চিরকাল থাকবে। জাহান্নামের শাস্তিতো অসহনীয় তাহলে জাহান্নামিরা এই শাস্তি অনন্তকাল কীভাবে ভোগ করবে? আল্লাহতো চিরস্থায়ী সত্তা তাহলে জান্নাত-জাহান্নামও চিরস্থায়ী হলে আল্লাহর বিশেষত্ব কোথায়? না-কি এমন হতে পারে অনেক দীর্ঘকাল পরে জান্নাত-জাহান্নামও ধ্বংস হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ