উত্তর : এ জন্য শরী‘আতসম্মত উপায়ে ঝাড়ফুঁক করতে হবে। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, নবী (ﷺ) আমাকে বদ নযর থেকে বাঁচার জন্য ঝাড়-ফুক করার নির্দেশ দিতেন (ছহীহ বুখারী, ১০/১৭০; ছহীহ মুসলিম, হা/২১৯৫)। উম্মে সালমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূল (ﷺ) তার ঘরে এক মেয়ে শিশুর চেহারায় দাগ দেখে তিনি বলেছেন যে, তার চেহারায় বদ নযরের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তাকে ঝাড়-ফুঁক করাও (ছহীহ বুখারী, ১/১৭১; ছহীহ মুসলিম, হা/৯৭)। সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস, ফাতিহা, সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত এবং হাদীছে বর্ণিত দু‘আগুলো পড়ে রোগীকে ফুঁ দিতে হবে। তাহলে আশা করা যায়, আল্লাহ তা‘আলা এর সমস্যা থেকে মুক্তি দান করবেন। নবী (ﷺ) হাসান ও হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে নিম্নের বাক্যগুলো দিয়ে ঝাড়-ফুঁক করতেন:
أُعِيْذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
‘আমি তোমাদের উভয়কে আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কালামের আশ্রয়ে রাখতে চাই সব ধরণের শয়তান হতে, কষ্টদায়ক বস্তু হতে এবং সব ধরণের বদনযর হতে’। এরপর নবী (ﷺ) বলেন, তোমাদের পিতা (আলাইহিস সালাম) এই দু‘আ দ্বারা (তাঁর দুই সন্তান) ইসমাইল ও ইসহাক (আলাইহিস সালাম)-কে ঝাড়ফুঁক করতেন (আবূ দাঊদ, হা/৪৭৩৭)। আবূ সাঈদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, জিবরীল (আলাইহিস সালাম) নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বললেন, ইয়া মুহাম্মদ! আপনি কি অসুস্থতা বোধ করছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি (জিবরীল) বললেন: তখন তিনি তাঁকে নিম্নোক্ত দু‘আ পড়ে রুক্বইয়া করলেন:
بِاسْمِ اللهِ أَرْقِيْكَ مِنْ كُلِّ شَىْءٍ يُؤْذِيْكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اللهُ يَشْفِيْكَ بِاسْمِ اللهِ أَرْقِيْكَ
‘আল্লাহর নামে আপনাকে ঝাড়-ফুঁক করছি- সে সব জিনিস থেকে, যা আপনাকে কষ্ট দেয়, সব প্রাণের অনিষ্ট কিংবা হিংসুকের বদ নযর থেকে আল্লাহ আপনাকে শিফা দিন; আল্লাহর নামে আপনাকে ঝাড়-ফুঁক করছি’ (ছহীহ মুসলিম, ২১৮৬)।
প্রশ্নকারী : আরীফুযযামান, নওগাঁ।