উত্তর : শর্তসাপেক্ষে কঠোরভাবে তাওবা করলে ইনশাআল্লাহ আযাব হবে না। অপরিহার্য বিষয় হল- দ্রুত উত্তমরূপে তাওবাহ করা। আর তার পদ্ধতি হল- ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আলেমগণ বলেছেন, ‘প্রত্যেক পাপ থেকে তাওবাহ করা অপরিহার্য। যদি গোনাহর সম্পর্ক আল্লাহর (অবাধ্যতার) সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়, তাহলে এ ধরনের তাওবাহ ক্ববুলের জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে। যথা: (১) পাপকে সম্পূর্ণরূপে বর্জন করতে হবে। (২) কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হতে হবে। (৩) ঐ পাপ পুনরায় না করার ব্যাপারে দৃঢ় সঙ্কল্প করতে হবে। সুতরাং যদি এর মধ্যে একটি শর্তও লুপ্ত হয়, তাহলে সেই তাওবা বিশুদ্ধ হবে না। পক্ষান্তরে যদি সেই পাপ মানুষের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তাহলে তা ক্ববুলের জন্য চারটি শর্ত আছে। উপরোক্ত তিনটি এবং চতুর্থ শর্ত হল- অধিকারীর অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। যদি অবৈধ পন্থায় কারো মাল বা অন্য কিছু নিয়ে থাকে, তাহলে তা ফিরিয়ে দিতে হবে (রিয়াযুছ ছালিহীন, ‘তাওবাহ’ অনুচ্ছেদ, পৃ. ১৪-২২)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘(হে নবী! আপনি বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (সূরা আয-যুমার: ৫৩)।
সুতরাং যে ব্যক্তি স্বচ্ছ ও পবিত্র অন্তরে একনিষ্ঠ ও একাগ্রতার সহিত খালিছ তাওবাহ করে আল্লাহ তার তাওবাহ ক্ববুল করেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর যারা আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহকে ডাকে না এবং যারা আল্লাহ যে নাফসকে হত্যা করা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না। আর যারা ব্যভিচার করে না। আর যে তা করবে সে আযাবপ্রাপ্ত হবে। ক্বিয়ামতের দিন তার আযাব বর্ধিত করা হবে এবং সেখানে সে অপমানিত অবস্থায় স্থায়ী হবে। তবে যে তাওবাহ করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে। পরিণামে আল্লাহ তাদের পাপগুলোকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আর যে তাওবাহ করে ও সৎকাজ করে, সে তো সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর অভিমুখী হয়’ (সূরা আল-ফুরক্বান: ৬৮-৭০)।
আবদুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لاَ ذَنْبَ لَهُ ৎ ‘গুনাহ থেকে তওবাকারী নিষ্পাপ ব্যক্তিতুল্য’ (ইবনু মাজাহ, হা/৪২৫০, সনদ হাসান)। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর অবশ্যই আমি তার প্রতি ক্ষমাশীল, যে তাওবাহ করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে অতঃপর সৎ পথে চলতে থাকে’ (সূরা ত্বো-হা: ৮২)। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, এক ব্যক্তি এক পরনারীকে চুম্বন করে রাসূল (ﷺ)-এর কাছে এলো এবং ঘটনাটি রাসূল (ﷺ)-কে বলল, অতঃপর আল কুরআনের এ আয়াতগুলো নাযিল হল- ‘আর তুমি ছালাত ক্বায়িম কর দিবসের দু’প্রান্তে এবং রাতের প্রথম অংশে, নিশ্চয় ভালোকাজ মন্দকাজকে মিটিয়ে দেয়। এটি উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য উপদেশ’ (সূরা হূদ: ১১৪)। লোকটি বললেন, এটা কি আমার জন্য হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! তিনি বললেন, আমার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি এ অনুযায়ী আমল করবে তার জন্য (ছহীহ মুসলিম, হা/২৭৬৩, ‘তাওবাহ’ অধ্যায়; মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ৯/৩৬৪; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-২৭১১৩, ২৩৪৮৫)।
প্রশ্নকারী : সুমাইয়া, নরসিংদী।