উত্তর : বদ নযর একটি সাধারণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিশ্বাস। ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে হিংসা বা বিদ্বেষের দৃষ্টিতে তাকালে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। এই দৃষ্টির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা বস্তুতে অস্বাভাবিক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে, যেমন শারীরিক অসুস্থতা, মানসিক অশান্তি, কর্মে বাধা ইত্যাদি। ইসলামে বদ নযর থেকে সৃষ্ট ক্ষতির কথা উল্লেখ আছে। নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) বলেছেন, ‘নযর বা দৃষ্টি একটি সত্য’। অর্থাৎ এর সত্যতা আছে এবং এটি মানুষের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। সুরা আল-ফালাক্ব এর ৫ নং আয়াতে বদ নজর থেকে আশ্রয় চাওয়ার কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর আমি আশ্রয় চাই হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন সে হিংসা করে’ (সূরা আল-ফালাক্ব: ৫)। নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) বলেন, الْعَيْنُ حَقٌّ وَلَوْ كَانَ شَىْءٌ سَابَقَ الْقَدَرَ سَبَقَتْهُ الْعَيْنُ ‘নযর (বদ নযর) সত্য; যদি কিছু জিনিস তাকদীরের বাইরে থাকত, তবে তা নযর দ্বারা আক্রান্ত হত’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২১৮৮)। অন্য একটি হাদীছে এসেছে, তিনি বলেছিলেন, ‘নযর একটি সত্য বিষয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৭৪০)। বদ নযর থেকে বাঁচার জন্য নবী করিম (সাঃ) আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে বলেছেন (ছহীহ বুখারী, হা/৫৭৩৮)।
বদ নযরে আক্রান্ত হলে মানুষের শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা দেখা দেয়। বদ নযরের লক্ষণগুলো হল: হঠাৎ করে দুর্বলতা অনুভব করা, কাজকর্মে ব্যাঘাত হওয়া, অবসাদ ও ক্লান্তি বৃদ্ধি পাওয়া, মানসিক বিষণ্নতা বা উদ্বেগ, শারীরিক বিভিন্ন অসুস্থতা দেখা দেয়া ইত্যাদি। ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী বদ নযর থেকে বাঁচার জন্য কিছু দু‘আ ও আমল রয়েছে। যথা: সূরা আল-ফালাক্ব ও সূরা আন-নাস পড়া। সকালে ও সন্ধ্যায় তিনবার করে ‘আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক’ পড়া (ছহীহ বুখারী, হা/৫৭৩৮; ছহীহ মুসলিম, হা/৫৬৪২)।
প্রশ্নকারী : আব্দুল আহাদ, পাবনা।