উত্তর : স্ত্রীর সঙ্গে রাতের বেলা হাঁটা সুন্নাত হওয়ার কোন দলীল পাওয়া যায় না। যদিও কেউ কেউ আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত ছহীহ বুখারীর ৫২১১ নং হাদীছ দ্বারা দলীল দেয়ার চেষ্টা করেছেন, আদতে তারা অনুবাদে এবং ব্যাখ্যায় ভুল করেছেন। কেননা এই হাদীছটির মূল বিষয়বস্তু হল- স্ত্রীর সঙ্গে ভ্রমণ করা এবং তাদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করা সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, ‘যখনই নবী (ﷺ) সফরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করতেন, তখনই স্ত্রীগণের মাঝে লটারী করতেন। একদা সফরের সময় আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) এবং হাফছা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর নাম লটারীতে ওঠে।
وَكَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا كَانَ بِاللَّيْلِ سَارَ مَعَ عَائِشَةَ يَتَحَدَّثُ
‘আর নবী (ﷺ)-এর অভ্যাস ছিল যখন রাত হত তখন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর সঙ্গে এক সওয়ারীতে আরোহণ করতেন এবং তাঁর সঙ্গে কথা বলতে বলতে পথ চলতেন...’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫২১১; ছহীহ মুসলিম, হা/২৪৪৫)। সুতরাং বুঝা গেল যে, এটি কোন নৈশ ভ্রমণ ছিল না, বরং এটি ছিল দূরে সফর করা সম্পর্কে। আর এখান থেকে প্রমাণিত হয় যে, (ক) স্ত্রীর সঙ্গে রাতের বেলা ভ্রমণ করা জায়েয। (খ) একাধিক স্ত্রী হলে তাদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে কোন একজনকে নির্বাচন করা অনুমোদিত। (গ) সফরসঙ্গী স্ত্রীর সাথে কথোপকথনে ব্যস্ত থাকা নবী (ﷺ)-এর আদর্শ, এর ফলে সফরের দূরত্ব ও কষ্টের তীব্রতা হ্রাস পায়।
দ্বিতীয়তঃ দাদী-নানীর উক্ত প্রচলিত কথা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, ভয়ঙ্কর কুসংস্কার। এটি শরী‘আত বহির্ভূত আক্বীদা। অবশ্যই বিবাহ আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে এরূপ কুসংস্কারে আচ্ছন্ন হয়ে নিজের বিবাহিত জীবনে অতিষ্ট করে তোলা মোটেও শোভনীয় নয়। আমাদের জীবনে সেটাই ঘটে, যা আল্লাহ তা‘আলা পূর্ব থেকেই ভাগ্যে নির্ধারণ করে রেখেছেন। যেমন আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, ‘আপনি বলুন, আল্লাহ আমাদের ভাগ্যে যা লিখে রেখেছেন, তা ব্যতীত কিছুই আমাদের নিকট পৌঁছবে না। তিনিই আমাদের অভিভাবক’ (সূরা আত-তাওবাহ: ৫১)।
প্রশ্নকারী : ফিরোজ বিন মুহসিন, কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ।