বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন
উত্তর : স্ত্রীর সঙ্গে রাতের বেলা হাঁটা সুন্নাত হওয়ার কোন দলীল পাওয়া যায় না। যদিও কেউ কেউ আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত ছহীহ বুখারীর ৫২১১ নং হাদীছ দ্বারা দলীল দেয়ার চেষ্টা করেছেন, আদতে তারা অনুবাদে এবং ব্যাখ্যায় ভুল করেছেন। কেননা এই হাদীছটির মূল বিষয়বস্তু হল- স্ত্রীর সঙ্গে ভ্রমণ করা এবং তাদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করা সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, ‘যখনই নবী (ﷺ) সফরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করতেন, তখনই স্ত্রীগণের মাঝে লটারী করতেন। একদা সফরের সময় আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) এবং হাফছা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর নাম লটারীতে ওঠে।

وَكَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا كَانَ بِاللَّيْلِ سَارَ مَعَ عَائِشَةَ يَتَحَدَّثُ

‘আর নবী (ﷺ)-এর অভ্যাস ছিল যখন রাত হত তখন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর সঙ্গে এক সওয়ারীতে আরোহণ করতেন এবং তাঁর সঙ্গে কথা বলতে বলতে পথ চলতেন...’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫২১১; ছহীহ মুসলিম, হা/২৪৪৫)। সুতরাং বুঝা গেল যে, এটি কোন নৈশ ভ্রমণ  ছিল না, বরং এটি ছিল দূরে সফর করা সম্পর্কে। আর এখান থেকে প্রমাণিত হয় যে, (ক) স্ত্রীর সঙ্গে রাতের বেলা ভ্রমণ করা জায়েয। (খ) একাধিক স্ত্রী হলে তাদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে কোন একজনকে নির্বাচন করা অনুমোদিত। (গ) সফরসঙ্গী স্ত্রীর সাথে কথোপকথনে ব্যস্ত থাকা নবী (ﷺ)-এর আদর্শ, এর ফলে সফরের দূরত্ব ও কষ্টের তীব্রতা হ্রাস পায়।

দ্বিতীয়তঃ দাদী-নানীর উক্ত প্রচলিত কথা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, ভয়ঙ্কর কুসংস্কার। এটি শরী‘আত বহির্ভূত আক্বীদা। অবশ্যই বিবাহ আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে এরূপ কুসংস্কারে আচ্ছন্ন হয়ে নিজের বিবাহিত জীবনে অতিষ্ট করে তোলা মোটেও শোভনীয় নয়। আমাদের জীবনে সেটাই ঘটে, যা আল্লাহ তা‘আলা পূর্ব থেকেই ভাগ্যে নির্ধারণ করে রেখেছেন। যেমন আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, ‘আপনি বলুন, আল্লাহ আমাদের ভাগ্যে যা লিখে রেখেছেন, তা ব্যতীত কিছুই আমাদের নিকট পৌঁছবে না। তিনিই আমাদের অভিভাবক’ (সূরা আত-তাওবাহ: ৫১)।


প্রশ্নকারী : ফিরোজ বিন মুহসিন, কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ।





প্রশ্ন (১৩) : ‘যে তার চক্ষুদ্বয়কে ভালোবাসে সে যেন আছরের পরে না লেখে’ প্রচলিত ধারণা কি হাদীছসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : সন্তান-সন্ততি এবং অর্থ-সম্পদ তোমাদের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ (আনফাল ২৮; তাগাবুন ১৫)। এ কথার সঠিক ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : জনৈক বক্তা বলেন, মহিলারা সারাক্ষণ তাদের চুল বেঁধে রাখবে। এমনকি বাসার মধ্যে একাকী থাকলেও। কারণ চুল বাঁধা না থাকলে শয়তান তার চুল নিয়ে তামাশা করে। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : ‘পিতা-মাতার দু‘আ আল্লাহ তা‘আলা ফিরিয়ে দেন না’ অর্থাৎ তাদের দু‘আ কবুলযোগ্য। প্রশ্ন হল- যাদের পিতা-মাতা মৃত্যুবরণ করেছেন- তাদের কবুলযোগ্য দু‘আ প্রাপ্তির জন্য করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : আমাদের দেশে অসংখ্য মহিলা গার্মেন্টস কর্মী কাজ করে থাকেন। তারা যখন কাজ করেন, তখন অনেক ক্ষেত্রেই পর্দার লঙ্ঘন হয়। তাদের ব্যাপারে ইসলামের দিক-নির্দেশনা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : হাসান ইবনু আলী বলেন, ‘যে ব্যক্তি এই বিশ আয়াত পড়বে আমি তার এ ব্যাপারে যিম্মাদার হয়ে গেলাম যে, আল্লাহ তাকে যালিম শাসক, অবাধ্য শয়তান, ক্ষতিকর ও হিংস্র জীবজন্তু ও সীমালঙ্ঘনকারী চোর থেকে রক্ষা করবেন। বিশটি আয়াত হল, আয়াতুল কুরসী, সূরা আ‘রাফের ৫৪ থেকে ৫৬ তিন আয়াত, সূরা ছাফফাতের দশ আয়াত, সূরা আর-রহমানের ৩৩ থেকে ৩৫ তিন আয়াত এবং সূরা হাশরের শেষের ২১ থেকে ২৪ চার আয়াত (আদ-দুররুল মানসূর; তারীখু বাখদাদ)। বর্ণনাটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : এক ব্যক্তির পৈত্রিক কিছু সম্পদ আত্মীয়-স্বজন অবৈধভাবে ভোগ করছে। ফিরিয়ে নিতে গেলে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা শরী‘আতে নিষিদ্ধ। এখন সে কোনটা প্রাধান্য দিবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : মজলিসের শেষের দু‘আ একাকী পড়া যাবে কি? না-কি একজন বলে দিবে আর সবাই তার সাথে সাথে বলবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : ইমাম সূরা ফাতিহার শেষের আয়াত তিলাওয়াত করছেন। এমতাবস্থায় কেউ জামা‘আতে অংশগ্রহণ করলে সে কি ইমামের সঙ্গে ‘আমীন’ বলার পরে সূরা ফাতিহা পড়বে, না-কি প্রথমেই সূরা ফাতিহা পড়া শুরু করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪১) : জানাজা ছালাতের ছুটে যাওয়া অংশ আদায় করতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : যেখানে পানির ব্যবস্থা নেই সেখানে পেশাব করার পর শুধু টিস্যু পেপার দিয়ে পবিত্র হওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ছহীহ হাদীছ শুনার পরে যারা মানে না, তারা কি হাদীছ অস্বীকারকারী সাব্যস্ত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ