রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন
উত্তর : মাথার চুল সমান ভাবে কাটা উচিত। এতে অমুসলিমদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা যাবে না। নবী (ﷺ) বলেন, مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ ‘যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে ব্যক্তি সেই জাতিরই দলভুক্ত’ (আবূ দাঊদ, হা/৪০৩৩; ছহীহুল জামে‘, হা/ ৬১৪৯)। সাধারণত অন্য ধর্মের লোকেরাই কিছু চুল ছোট আর কিছু বড় করে রাখে যেটাকে হাদীছের ভাষায় কাযা (قزع) বলা হয়। ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ‘কাযা’ নিষেধ করেছেন। রাবী (উমার ইবনু নাফি) বলেন, আমি নাফি (রাহিমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, কাযা কী? তিনি বললেন, শিশুর মাথার (চুল) কতকাংশ মুড়ানো এবং কতকাংশ রেখে দেয়া’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২১২০)।

ইবনু উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ধ-কে কাযা থেকে নিষেধ করতে শুনেছি। রাবী উবাইদুল্লাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘কাযা’ কী? তখন আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাদের ইশারা দিয়ে দেখিয়ে বললেন, ‘শিশুদের যখন চুল কামানো হয় তখন এই, এই জায়গায় চুল রেখে দেয়া। এ কথা বলার সময় উবাইদুল্লাহ তার কপাল ও মাথার দু’পাশ দেখালেন। পুনরায় জিজ্ঞাসা করা হল- বালক ও বালিকার কি একই হুকুম? তিনি বললেন, আমি জানি না। এভাবে তিনি বালকের কথা বলেছেন। উবাইদুল্লাহ বলেন, আমি এ কথা পুনরায় জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, পুরুষ শিশুর মাথার সামনের ও পিছনের দিকের চুল কামানো দোষনীয় নয়। আর (অন্য এক ব্যাখ্যা মতে) ‘কাযা’ বলা হয়, কপালের উপরে কিছু চুল রেখে বাকী মাথার কোথাও চুল না রাখা। অনুরূপভাবে মাথার চুল একপাশ থেকে অথবা অপর পাশ থেকে কাটা’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৪৯৬)।

কেউ যদি একান্তই লম্বা চুল রাখতে চাই তাহলে অবশ্যই হাদীছ অনুযায়ী রাখতে হবে। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন,

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ وَكَانَ لَهُ شَعْرٌ فَوْقَ الْجُمَّةِ وَدُونَ الوفرة

‘আমি এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একই পাত্র হতে গোসল করতাম। তখন রাসূল (ﷺ)-এর মাথার চুল জুম্মার উপরে এবং ওয়াফরার নিচে ছিল’ (তিরমিযী, হা/১৭৫৫; ইবনু মাজাহ, হা/৬০৪)। জুম্মাহ হলো চুলের এমন পরিমাণ যা মাথা থেকে কাঁধ পর্যন্ত নেমে যায়। আর ওয়াফরাহ হলো যা কানের লতি পর্যন্ত হয়। জুম্মাহ ও ওয়াফরাহ এর মাঝামাঝি চুলকে আরবীতে লিম্মাহ বলা হয়। তাই কোন কোন বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লিম্মাহওয়ালা চুলের অধিকারী ছিলেন বলে বলা হয়েছে। উভয় বর্ণনার উদ্দেশ্য একই। তবে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বড় জুম্মাহ চুলের অধিকারী ছিলেন বলেও বর্ণনায় পাওয়া যায়।

বিভিন্ন প্রকার চুলের বিবরণের মাঝে সামঞ্জস্য করতে মুহাদ্দিছীনে কিরাম বলেন, এসব হাদীছ পরস্পর বিরোধী নয়। কেননা চুলের বিভিন্ন অবস্থা হতে পারে। এক সময় কাটতে দেরী হয়েছে। তাই চুল জুম্মায় পরিণত হয়েছে। এ অবস্থা যিনি দেখেছেন তিনি তা বর্ণনা করেছেন। আরেক সময় চুল কেটেছেন তখন তা ছোট হয়েছে। কাটার নিকটবর্তী সময়ে যিনি দেখেছেন তিনি এ অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন। এভাবেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চুলের বিভিন্ন বর্ণনা এসেছে। মোটকথা, রাসূল (ﷺ)-এর চুল লম্বা ছিল। আমরা যাকে বাবরি বলে থাকি। তবে কোন সময় তা অধিক লম্বা হয়ে কাঁধ পর্যন্ত চলে যেত, আবার কোন সময় কানের লতি পর্যন্ত থাকত এবং কোন কোন সময় এর মাঝামাঝি থাকত (মিরক্বাতুল মাফাতীহ হা/৪৪৬০-এর হাদীছে আলোচনা দ্র.)।


প্রশ্নকারী : রাসেল বিন ইসমাইল, সরিষাবাড়ি, জামালপুর।





প্রশ্ন (২৯) : জনৈক আলেম বলেন, অতিরিক্ত কথা বলা মুনাফিকের লক্ষণ। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর আমাদের সমাজে অনেকে সম্মিলিত মুনাজাত করে। এটা করা কতটুকু জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : স্ত্রী প্রচণ্ড রাগী স্বভাবের হওয়ায় ঝামেলা এড়াতে যদি স্বামী কোন ঘটনায় নিজের দোষ না থাকার পরেও নিজেরই ভুল হয়েছে বলে মেনে নেন, তাহলে কি গুনাহ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : আড়াই মাসের গর্ভবতী হঠাৎ করে রক্তপাত শুরু হলে বাচ্চা নষ্ট হয়ে যায়। এখন তার ছালাতের মাসআলা কী হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : যাদের ঈমান নেই তারাতো চিরকাল জাহান্নামে থাকবে আবার যারা জান্নাতে থাকবে তারাও চিরকাল থাকবে। জাহান্নামের শাস্তিতো অসহনীয় তাহলে জাহান্নামিরা এই শাস্তি অনন্তকাল কীভাবে ভোগ করবে? আল্লাহতো চিরস্থায়ী সত্তা তাহলে জান্নাত-জাহান্নামও চিরস্থায়ী হলে আল্লাহর বিশেষত্ব কোথায়? না-কি এমন হতে পারে অনেক দীর্ঘকাল পরে জান্নাত-জাহান্নামও ধ্বংস হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : ‘সূরা ফাতেহা সকল রোগের ঔষধ’ কথাটি কি ঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : জান্নাতের হূরগণ বলবে, نَحْنُ الْخَالِدَاتُ فَلَا نَبِيْدُ وَنَحْنُ النَّاعِمَاتُ فَلَا نَبْأَسُ وَنَحْنُ الرَّاضِيَاتُ فَلَا نَسْخَطُ طُوْبَى لِمَنْ كَانَ لَنَا وَكُنَّا لَهُ ‘আমরা চিরদিন থাকব, কখনও ধ্বংস হব না। আমরা হামেশা সুখে-সানন্দে থাকব, কখনও দুঃখ-দুশ্চিন্তায় পতিত হবে না। আমরা সর্বদা সন্তুষ্ট থাকব, কখনও নাখোশ হব না। সুতরাং তাকে ধন্যবাদ, যার জন্য আমরা এবং আমাদের জন্য যিনি’ (তিরমিযী, হা/২৫৬৪; মিশকাত, হা/৫৬৪৯; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/৫৪০৭, ১০/১৫০ পৃ.) মর্মে বর্ণনাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : জনৈক বক্তা বলেন, কুরবানীর মাংস তিনদিনের বেশি খাওয়া যাবে না। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : সাহু সিজদা দেয়ার কারণগুলো কী কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : কিছু ব্লগ বা ফোরামে মিউজিক ব্যাকগ্রাউন্ড সহ ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করা কি বৈধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : জনৈক ব্যক্তির জখম ছিল, সে আত্মহত্যা করল। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমার বান্দা তার প্রাণ নিয়ে আমার সাথে তাড়াহুড়া করল। কাজেই আমি তার উপর জান্নাত হারাম করে দিলাম (ছহীহ বুখারী, হা/১৩৬৪)। প্রশ্ন হল- যেখানে আল্লাহ তা‘আলা জান্নাত হারাম করে দিলেন, সেখানে বলা হয়, ‘সে চিরস্থায়ী জাহান্নামী নয়’। উক্ত বক্তব্যের সঠিক ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : হিজড়ারা জিনের সন্তান। এ দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ