বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০১:০৬ অপরাহ্ন
উত্তর : নিঃসন্দেহে প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং সদাচরণ করা প্রত্যেকের উপর অপরিহার্য। একবার নবী (ﷺ) বলছিলেন, আল্লাহর শপথ! সে ব্যক্তি মুমিন নয়। এ কথা তিনি তিনবার বললেন। জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! কে সে ব্যক্তি? তিনি বললেন, যে লোকের প্রতিবেশী তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকে না’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬০১৬; ছহীহ মুসলিম, হা/৪৬)। অন্যত্র তিনি বলেন,  ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের দিনে ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে জ্বালাতন না করে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬০১৮, ৫১৮৫; ছহীহ মুসলিম, হা/৪৭)। তিনি আরো বলছিলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে সম্মান করে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬০১৯, ৬১৩৫, ৬৪৭৬; ছহীহ মুসলিম, হা/৪৮)।

আর প্রতিবেশী যদি সত্যিই উম্মাদ, পাগল ও মানসিক ভারসাম্যহীন হয় এবং যেকোন সময় গুরুতর বিপদ ঘটানোর আশঙ্কা থাকে, সেক্ষেত্রে আপনি নিন্মোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে পারেন।
১- আল্লাহ তা‘আলার নিকট মন্দ প্রতিবেশী থেকে আশ্রয় চাওয়া: রাসূল (ﷺ) দু‘আ করতেন,

اَللَّهُمَّ إنّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ يَوْمِ السُّوْءِ، وَمِنْ لَيْلَةِ السُّوْءِ، وَمِنْ سَاعَةِ السُّوْءِ، وَمِنْ صَاحِبِ السُّوْءِ، وَمِنْ جَارِ السُّوْءِ فيْ دَارِ الْمُقامَةِ

‘হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি আপনার নিকট মন্দ দিন, মন্দ রাত, মন্দ সময়, অসৎ সঙ্গী এবং স্থায়ী আবাসস্থলে অসৎ প্রতিবেশী হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি’ (ছহীহুল জামি‘, হা/১২৯৯)। অন্যত্র এসেছে,

اَللَّهُمَّ إنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ جَارِ السُّوْءِ فِيْ دَارِ الْمُقَامَةِ؛ فَإِنَّ جَارَ الْبَادِيَةِ يَتَحَوَّلُ

‘হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি আপনার নিকট স্থায়ী আবাসস্থলে অসৎ প্রতিবেশী থেকে আশ্রয় চাচ্ছি, যেহেতু অস্থায়ী আবাসস্থলের প্রতিবেশী পরিবর্তন হয়ে থাকে’ (নাসাঈ, হা/৫৫০২; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/৩৯৪৩; ছহীহ আদাবিল মুফরাদ, হা/৮৬)।
২- চিকিৎসার ব্যবস্থা করা: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের সংশোধনী ‘মানসিক স্বাস্থ্য আইন ২০১৮, (২০১৮ সনের ৬০ নং আইন) অনুযায়ী আপনি আপনার ঐ মানসিক ভারসাম্যহীন প্রতিবেশীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তার মানসিক অসুস্থতার চিকিৎসা গ্রহণের ব্যবস্থা করুন। এই আইন অনুযায়ী মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির স্বাস্থ্য সেবা প্রদান, মর্যাদার সুরক্ষা, সম্পত্তির অধিকার ও পুনর্বাসন এবং সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করবার দায়িত্ব সরকারের। পরিবার অসম্মতি প্রকাশ করলে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টিতে নিয়ে আসুন এবং নিজেদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করুন।


প্রশ্নকারী : মুহাম্মাদ হানিফ খান, চট্টগ্রাম।





প্রশ্ন (৭) : স্বেচ্ছায় কেউ জামা‘আতে ছালাত আদায় না করলে তার হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : আমার এলাকার জনৈক ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত ছালাতও আদায় করেন আবার মসজিদের বাইরে গিয়ে গীবতও করেন। তার ছালাত হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : কোন ব্যক্তি যদি কুরআনের মুছহাফ ব্যতীত মুখস্থ কুরআন তেলাওয়াত করে, তাহলে তার জন্য এক হাযার মর্যাদার সমান নেকী রয়েছে। আর যদি মাছহাফে কুরআন পড়া মুখস্থ পড়ার চেয়ে দুই হাজার মর্যাদার সমান রয়েছে (ত্বাবারাণী, আল-জামেঊল কাবীর হা/৬০১)। বর্ণনাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : ঈদের খুৎবা চলা কালে টাকা-পয়সা আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : জনৈক ব্যক্তি কোল্ড এলার্জির রোগী। শীতের মধ্যে রোগটা বেড়ে যায়। ওযূতে নাকের মধ্যে পানি দিলে হাঁচি হতে হতে অসুস্থ হয়ে যায়? এমতাবস্থায় কী করা উচিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : এক রাকা‘আত বিতর পড়লে তাহাজ্জুদ ছালাত সর্বনিম্ন দুই রাকা‘আত পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : আশারায়ে মুবাশশারা বা জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশ ব্যক্তি কারা? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : সমাজে জয়ত্রি এবং জায়ফল দিয়ে বিভিন্ন খাবার রান্না করে খাওয়ার প্রচলন আছে। এটা খাওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : যদি বিড়াল, বেজি, কুকুর বা শেয়াল কোন হাঁস-মুরগীকে আহত করে, তাহলে উক্ত হাঁস-মুরগী খাওয়া যাবে কি ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ক্বিয়ামতের দিন পশু-পাখিদেরকেও কি পুনরুত্থিত করা হবে? শোনা যায় যে, দশটি প্রাণীও জান্নাতে যাবে। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : বন্ধুদের মাঝে দাওয়াতী কাজ করতে চাইলে কোথা থেকে শুরু করতে হবে এবং কোন্ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : ফিতরার পরিমাণ হিসাবে কেউ বলছেন এক ছা‘ সমান আড়াই কেজি, কেউ পৌনে তিন কেজি, কেউ তিন কেজি বলছেন। সঠিক সমাধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ