বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ছালাত পরিত্যাগকারী ও অস্বীকারকারী কাফের মুরতাদ, যা অন্যান্য বিধর্মী থেকেও খারাপ (আহাদীছুল মুখতারাহ হা/৩৫১, সনদ ছহীহ; ফাতাওয়া উছায়মীন ১২/২)। কারণ কালেমার সাক্ষ্য দেয়ার পর ছালাতই ইসলামের অধিকতর গুরুত্ব ও তাকীদপূর্ণ রুকন বা স্তম্ভ। এ জন্যই আল্লাহ তা‘আলা ছালাতকে ‘ঈমান’ নামে অভিহিত করেছেন। যেমন তাঁর বাণী: وَ مَا کَانَ اللّٰہُ لِیُضِیۡعَ اِیۡمَانَکُمۡ ‘আল্লাহ এরূপ নন যে, তোমাদের ঈমান (ছালাত)-কে নষ্ট করে দিবেন’ (সূরা আল-বাকারাহ: ১৪৩)।

ছালাত ইসলাম এবং কুফুরীর মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়কারী। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, إِنَّ بَيْنَ الرَّجُلِ وَبَيْنَ الشِّرْكِ وَالْكُفْرِ تَرْكَ الصَّلَاةِ ‘মানুষ এবং শিরক-কুফুরীর মধ্যে পার্থক্য ছালাত ছেড়ে দেয়া’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৮২)। তিনি আরো বলেন, اَلْعَهْدُ الَّذِىْ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمُ الصَّلاَةُ فَمَنْ تَرَكَهَا فَقَدْ كَفَرَ ‘আমাদের ও তাদের (কাফিরদের) মধ্যে যে পার্থক্য তা হলো ছালাত। অতএব যে ছালাত ছেড়ে দিল সে কুফুরী করল’ (তিরমিযী, হা/২৬২১; ইবনু মাজাহ, হা/১০৭৯, সনদ ছহীহ)। প্রখ্যাত তাবেঈ শাক্বীক্ব ইবনু আব্দুল্লাহ আল-উক্বাইলী বলেন, كَانَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ ﷺ لَا يَرَوْنَ شَيْئًا مِنَ الْأَعْمَالِ تَرْكُهُ كُفْرٌ غَيْرَ الصَّلَاةِ ‘মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর ছাহাবীগণ ছালাত ব্যতীত অন্য কোন আমাল ছেড়ে দেয়াকে কুফরী মনে করতেন না (অর্থাৎ ছালাত ত্যাগ করাকে কুফরী মনে করতেন)’ (তিরমিযী, হা/২৬২২, সনদ ছহীহ)। উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ছালাত ছেড়ে দিল ইসলামে তার কোন অংশ নেই’।

উল্লিখিত ও অন্যান্য দলীলসমূহ ছালাত পরিত্যাগকারী বড় কুফুরীর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ; যদিও সে পরিত্যাগকারী ব্যক্তি ছালাত ফরয হওয়াকে অস্বীকার না করে। আর এ মত পোষণ করেন ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) এবং তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিম্নোক্ত হাদীছ থেকে দলীল গ্রহণ করেন,

أَوَّلُ مَا تَفْقِدُوْنَ مِنْ دِيْنِكُمُ الْخُشُوْعُ، وَآخِرُ مَا تَفْقِدُوْنَ مِنْ دِيْنِكُمُ الصَّلَاةُ

‘সর্বপ্রথম তোমরা তোমাদের দ্বীনের যা হারাবে তাহল আমানত এবং সর্বশেষ দ্বীনের যা হারাবে তাহল ছালাত’ (আল-মুসতাদরাক আলাছ ছহীহাইন, হা/৮৪৪৮, সনদ ছহীহ)। ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘সুতরাং ইসলাম থেকে চলে যাওয়া সর্বশেষ বস্তু যখন ছালাত, তখন যে বস্তুর শেষ চলে যায় সে বস্তু সম্পূর্ণ নিঃশেষ হয়ে যায়। এ জন্য আপনাদের দ্বীনের সর্বশেষ অংশ (ছালাত)-কে যথাযথভাবে আঁকড়ে ধরুন, আল্লাহ আপনাদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন’ (ইমাম আহমদের কিতাবুছ ছালাত)। বর্তমান যুগে আমাদের বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম ছালাত পরিত্যাগকারীর ব্যাপারে কুফুরীর ফাতওয়া দিয়েছেন, আর তাদের শীর্ষে রয়েছেন, মাননীয় (সাবেক) মুফতী শাইখ আব্দুল আযীয ইবন আব্দুল্লাহ ইবন বায (রাহিমাহুল্লাহ) ও আল্লামা মুহাম্মাদ ইবছু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)।


প্রশ্নকারী : আবূ রিদা, পশ্চিমবঙ্গ, ঢাকা।





প্রশ্ন (৭) : রামাযান মাসের ছিয়ামের ক্বাযা বাকি রেখে, শাওয়াল মাসের ছয়টি ছিয়াম পালন করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : ইমাম সূরা ফাতিহার শেষের আয়াত তিলাওয়াত করছেন। এমতাবস্থায় কেউ জামা‘আতে অংশগ্রহণ করলে সে কি ইমামের সঙ্গে ‘আমীন’ বলার পরে সূরা ফাতিহা পড়বে, না-কি প্রথমেই সূরা ফাতিহা পড়া শুরু করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : পাত্রী দেখে টাকা বা স্বর্ণালঙ্কার দেয়া কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : তামাক চাষ করা কি জায়েয? আর তামাক থেকে ইনকাম করা টাকা কি হালাল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : বিবাহের পূর্বে যদি কেউ বলে, আমি অমুক কাজ করলে বিবাহের পর আমার স্ত্রী ত্বালাক হয়ে যাবে। আমি যাকে বিবাহ করব সে ত্বালাক্ব। এগুলো বললে কি ত্বালাক্ব কার্যকর হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : ছিয়াম পালনে অক্ষম ব্যক্তিকে ফিদইয়া দিতে বলা হয়েছে। এর পরিমাণ সম্পর্কে কেউ বলছে এক ছা‘ আবার কেউ আধা ছা‘। কোনটি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : ইউটিউবে অশ্লীল এ্যাডযুক্ত ভিডিও আপলোড করে অর্থ উপার্জন করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : স্ত্রী প্রচণ্ড রাগী স্বভাবের হওয়ায় ঝামেলা এড়াতে যদি স্বামী কোন ঘটনায় নিজের দোষ না থাকার পরেও নিজেরই ভুল হয়েছে বলে মেনে নেন, তাহলে কি গুনাহ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : একই রাতে দুইবার বিতর পড়া যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : শীতের কারণে অনেক সময় ওযূ অবস্থায় লেপের মধ্যে অবস্থান করি। লেপের মধ্যে হাঁটুর উপর কাপড় উঠে গেলে অথবা অন্য কোন সময় হাঁটুর উপর কাপড় উঠলে ওযূ নষ্ট হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : মৃত ব্যক্তিকে কবরে চিত করে শোয়ানো কি বৈধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : জনৈক আলেম বলেন, ‘কোন ব্যক্তি যদি কোন মুমিন ব্যক্তির প্রতি অভিশাপ করে, তাহলে সে তাকে হত্যা করার মত পাপ করল’। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ