রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০২:৫৩ অপরাহ্ন
উত্তর :  কুরআন ও ছহীহ হাদীছের বক্তব্য অনুযায়ী ঝাড়ফুঁক বৈধ হওয়ার জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে। প্রথম শর্ত : ‘সেটি কুরআনের আয়াত অথবা আল্লাহ তা‘আলার যিকির এবং বৈধ দু‘আর মাধ্যমে হবে’। ইমাম ইবনু আব্দিল বার্র (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আমার জানা মতে বদ-নযর, জ্বর, সাপ-বিচ্ছুর দংশন ইত্যাদি বিষয়ে ঝাড়ফুঁক বৈধ হওয়ার ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে কোন মতপার্থক্য নেই। যদি সেই ঝাড়ফুঁক আল্লাহ তা'আলার গুণবাচক নাম ও বৈধ দু‘আর মাধ্যমে হয়’ (আল-ইসতিযকার, ১৯/২৭ পৃ.)।

দ্বিতীয় শর্ত : সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য আরবীতে ঝাড়ফুঁক করা অপরিহার্য। এমন ভাষায় ঝাড়ফুঁক করা হারাম যে ভাষা সম্পর্কে সে অবগত নয়। জনসম্মুখে তাদের ছলচাতুরি গোপন রাখার জন্য কবিরাজরা এমন ভাষা দ্বারা ঝাড়ফুঁক করে যার অর্থ তারা নিজেরাই বুঝে না। তবে আরবী না জানা ব্যক্তি যদি মূল আরবী ঝাড়ফুঁকের অনূদিত অর্থ মাতৃভাষায় বলে এবং তাতে যদি নিষিদ্ধ কিছু না থাকে তাহলে তা বৈধ হিসাবে বিবেচিত হবে ইনশাআল্লাহ। ইমাম খাত্ত্বাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আরবী ব্যতীত অন্য ভাষায় ঝাড়ফুঁক করা নিষিদ্ধ। কেননা এর ফলে যাদু অথবা কুফরীর মধ্যে লিপ্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যদি সে অর্থগুলো যথাযথভাবে বুঝতে পারে এবং সে কথাগুলো যদি আল্লাহর যিকির-আযকার সম্বলিত হয়, তাহলে জায়েয হবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ জ্ঞাত’ (মা‘আলিমুস সুনান, ৪/২২৬ পৃ.)।

শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যদি ঝাড়ফুঁকের অর্থ বুঝা যায়, তবে এমন শব্দ দ্বারা ঝাড়ফুঁক করা দ্বীন ইসলামে জায়েয। যার মাধ্যমে সে আল্লাহকে ডাকবে, তাঁকে স্মরণ করবে, তাঁর সৃষ্টির কথা তাঁর সামনে তুলে ধরবে, ইত্যাদি ইত্যাদি। এ পদ্ধতিতে ঝাড়ফুঁক করা জায়েয। যেমন হাদীছে বর্ণিত হয়েছে, নবী (ﷺ) বলেছেন, ‘মন্ত্র দিয়ে ঝাড়ফুঁক করতে কোন আপত্তি নেই, যদি তার মধ্যে শিরকী কিছু না থাকে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২২০০)। অন্যত্র তিনি বলেন, জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) মন্ত্র তথা ঝাড়ফুঁক করাতে নিষেধ করেছেন। (এই নিষেধের পর) আমর ইবনে হাযমের বংশের কয়েকজন লোক এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমাদের কাছে এমন একটি মন্ত্র আছে, যার দ্বারা আমরা বিচ্ছুর দংশনে ঝাড়ফুঁক করে থাকি। অথচ আপনি মন্ত্র (ঝাড়-ফুঁক) পড়া হতে নিষেধ করেছেন। অতঃপর তারা মন্ত্রটি নবী করীম (ﷺ)-কে পড়ে শুনাল। তখন তিনি বললেন,

مَا أَرَى بَأْسًا مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يَنْفَعَ أَخَاهُ فَلْيَنْفَعْهُ

‘আমি তো এর মধ্যে দোষের কিছু দেখছি না। অতএব তোমাদের যে কেউ নিজের কোন ভাইয়ের কোন উপকার করতে পারে, সে যেন অবশ্যই তার উপকার করে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৫৮৬১; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৪৪২২; মিশকাত, হা/৪৫২৯)। পক্ষান্তরে যদি ঝাড়ফুঁকের মধ্যে শিরকের মত নিষিদ্ধ কথাবার্তা থাকে অথবা যদি অর্থ না বুঝা যায়, হতে পারে তার মধ্যে কুফরী মূলক কথা আছে, কারোর জন্য এরূপ শব্দ দ্বারা ঝাড়ফুঁক করা জায়েয নয় (মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ২৪/২৭৭-২৭৮ পৃ.)।

তৃতীয় শর্ত : ঝাড়ফুঁকদাতা এবং ঝাড়ফুঁক গ্রহীতা উভয় ব্যক্তিই এই বিশ্বাস রাখবে যে, ঝাড়ফুঁক নিছক একটি মাধ্যম, আল্লাহর আদেশ ব্যতীত সে কোন প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হবে না (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফাতাওয়া নং-২২৩৫০৫)। হাফিয ইবনু হাজার আসক্বালানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, তিনটি শর্তসাপেক্ষে ঝাড়ফুঁক বৈধ হওয়ার ব্যাপারে আলেমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। আল্লাহর কালাম অথবা তাঁর আসমা' ও সিফাত দ্বারা হবে। আরবী ভাষায় হবে অথবা এমন ভাষায় যার অর্থ বোধগম্য হবে এবং এই বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত ঝাড়ফুঁক নিজে কিছুই করতে পারবে না (ফাৎহুল বারী, ১০/১৯৫ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : আফযাল, ময়মনসিংহ।





প্রশ্ন (১৪) : খুলা ত্বালাক্বের কোন ইদ্দত আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : ছাগীরা গুনাহের পরিচয় ও পরিণাম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : দাড়ি একমুষ্টি রেখে বাকি অংশ কাটা যাবে কি? যেখানে ছহীহ বুখারীর ৫৮৯২ নম্বর হাদীছে এসেছে, ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহ আনহুমা) সূত্রে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, তোমরা মুশরিকদের উল্টো করবে- দাড়ি লম্বা রাখবে, গোঁফ ছোট করবে। ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহ আনহুমা) যখন হজ্জ বা ওমরাহ করতেন, তখন তিনি তাঁর দাড়ি মুষ্টি করে ধরতেন এবং মুষ্টির বাইরে যতটুকু বেশি থাকত, তা কেটে ফেলতেন। এছাড়া আরো হাদীছ এসেছে। এই বিষয়ে সঠিক সমাধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : কোন আলেম যদি তাবীয ব্যবহার করে, তাহলে তার পিছনে ছালাত আদায় করা কি জায়েয হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : রাক‘আত ছালাতের শেষ বৈঠকে বসার সময় বাম পা ডান পায়ের ভিতর দিয়ে বসতে হয়। জামা‘আতে ১ বা ২ রাক‘আত পেলে ইমামের শেষ বৈঠকের সময় কিভাবে বসতে হবে? পরে মুছল্লী তার শেষ বৈঠকে কিভাবে বসবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : আমার স্ত্রীর বিয়ের পূর্বে এক ছেলের সাথে গভীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঐ ছেলের দ্বারা সে গর্ভবতী হয়। এ অবস্থায় মেয়ের পরিবার বিষয়টি গোপন রেখে তড়িঘড়ি করে ২ মাসের গর্ভবতী মেয়েকে আমার সাথে বিয়ে দেয়। মেয়ে মনের বিরুদ্ধেই পরিবারের চাপে আমার সাথে বিয়ে করে, কিন্তু স্বামীকে মন থেকে মেনে নেয় না। এক সময় বাচ্চা হয়। সেই মেয়ে পূর্ব প্রেমিককে ভুলে থাকতে পারে না। স্বামীর অগোচরে পূর্ব প্রেমিককে সাথে মোবাইলে, ইমোতে, কল ও ভিডিও পরকীয়ার সম্পর্ক চালিয়ে যায়। মেয়ে  নিজেই স্বীকার করে বলে যে, বাচ্চা পূর্ব প্রেমিকের। এমতাবস্থায় কয়েকটি প্রশ্ন হল- মেয়ে যেহেতু যিনাকারিণী এবং বিয়ের সময় গর্ভবতী ছিল, তাই আমার বিবাহ কি ছহীহ হয়েছিল? এমতাবস্থায় এ মেয়েকে নিয়ে সংসার করা কি জায়েয? মেয়ে আত্মস্বীকৃত চরিত্রহীন এবং বাচ্চাটাও আমার না তাই আমি তাকে ডিভোর্স দিয়েছি। এতে কী আমি তার ওপর যুল্ম করেছি? অবৈধ বাচ্চার হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : কিছু উন্নত জাতের গরু আছে যা বাংলাদেশে পাওয়া যায় না। সেগুলো সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে আসে। একজন খামারি সীমান্ত পথে অবৈধভাবে এনে এই গরু বিক্রয় করছে। এটা জানার পরেও তা ক্রয় করা আমার জন্য বৈধ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : মসজিদের কাতারের মাঝে পিলার থাকলে ঐ কাতারে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : সূরা নিসার ৯৩ আয়াতে বলা হয়েছে যে, ‘ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করলে সে চিরকাল জাহান্নামে থাকবে’। আর হাদীছে আছে, ‘যার অন্তরে অণু পরিমাণ ঈমান আছে সে একদিন জান্নাতে যাবে’। চিরকাল মানে অনন্তকাল বোঝায়। প্রশ্ন হল- এক জায়গায় বলা হচ্ছে চিরকাল জাহান্নামে যাবে আর এক জায়গায় বলা হচ্ছে যে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে। এই দু’টি কি বিরোধী নয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : শেষ রাতে জাগতে না পারলে তাহাজ্জুদ ছালাত পড়ার নিয়ম কী? এশার পরে বিতরের আগে না-কি বিতরের পরে ২ রাক‘আত ছালাত আদায় করলে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : বর্তমানে ছোট বাচ্চাদের পোশাক মানেই বিভিন্ন প্রাণীর কার্টুনযুক্ত পোশাক। এরূপ ছবি ও কার্টুনযুক্ত পোশাক বাচ্চাদের পরানো যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : প্রচলিত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা এবং ভোট দেয়ার সুযোগ আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ