রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১০ অপরাহ্ন
উত্তর : সার্বিকভাবে সরকারী চাকরী করা বৈধ, যতক্ষণ তা সত্তাগতভাবে হারাম না হবে। যেমন সরকারী ব্যাংক ইত্যাদি। আর সরকারের সুনির্দিষ্ট ফান্ড থেকে যদি বেতন প্রদান করা হয় এবং চাকরির কাজটি যদি হালাল হয় তাহলে এর বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়েয হবে। এক্ষেত্রে সরকারের উপার্জন কী অথবা সরকারের টাকা কিভাবে উপার্জন করা হয়েছে সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়। সরকারের বহুমুখী ফান্ড রয়েছে এবং সেখানে অবৈধ ফান্ড যেমন রয়েছে, তেমনি অনেক বৈধ ফান্ডও রয়েছে। তাই দেখার বিষয় হল, চাকরিটা বৈধ কি-না। বৈধ হলে বেতন হবে এটিই বাস্তবতা। শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘...এক্ষেত্রে হারাম উপার্জনকারীই প্রকৃত গুনাহগার। সে ছাড়া অন্য কারো জন্য তা হারাম নয়। যেমন রাসূল (ﷺ) ইহুদীদের সঙ্গে আদান-প্রদান করেছেন এটি জানার পরও যে, তারা সূদী কারবারের সঙ্গে যুক্ত এবং হারাম ভক্ষণ করে। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, তা উপার্জনকারী ব্যতীত অন্য কারো জন্য হারাম নয়’ (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যা, ৩/৪৫২; তাফসীরু সূরাতিল বাক্বারাহ, ১/১৯৮; আল-ক্বাউলুল মুফীদ আলা কিতাবিত-তাওহীদ, ৩/১১২ পৃ.)। শায়খ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘ফক্বীহগণ বলেছেন, হারাম পন্থায় উপার্জিত অর্থ শুধু উপার্জনকারীর জন্যই হারাম। সন্তান হিসাবে পিতা যদি তাকে উপহারস্বরূপ ঐ মাল থেকে কিছু দেয়, তবে তা গ্রহণ করা তার জন্য বৈধ হবে। তবে যদি সম্ভব হয় তাহলে পিতার ঐ উপহার বর্জন করাই উত্তম হবে (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৪৫০১৮; আহকামুল কুরআন, ১/৩২৪; আল-মাজমূঊ, ৯/৪৩০; ফাতাওয়া ফিক্বহিয়্যাহ আল-কুবরা, ২/২৩৩; কাশ্শাফুল ক্বিনা, ৩/৪৯৬ পৃ.)।‌

সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির আলেমগণ বলেন, ‘সরকারী কাজের বিনিময় স্বরূপ আপনি যে অর্থ উপার্জন করবেন, তার দ্বারা আপনার লাভবান বা উপকৃত হওয়া দোষনীয় নয়, কারণ আপনি যে বেতন নিয়েছেন তা কর্মের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করেছেন; এটি জায়েয। তবে সত্তাগতভাবে হালাল কর্ম হওয়া সত্ত্বেও যে সমস্ত জায়গায় শরী‘আতের বিধান লঙ্ঘিত হয়, অবশ্যই তার জন্য গুনাহগার হতে হবে। তাই আপনার জন্য উচিত এই ধরণের কাজ ছেড়ে দেয়া এবং অন্য একটি পূর্ণাঙ্গ হালাল চাকরি বা কর্মের সন্ধান করতে থাকা। যাতে আপনি হারাম ও ফিতনায় পড়া থেকে নিরাপদ থাকতে পারেন’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ- দায়িমাহ, ১২/১৫৬ পৃ.)। আলেমগণ আরো বলেন যে, ‘হালাল ও বৈধ চাকরীর পেনশন যেমন বৈধ ঠিক তেমনি তা ভক্ষণ করাও জায়েয’ (বাদায়িঊছ ছানায়ী, ৩/৪৫ পৃ.)। এ কথা ঠিক যে, সরকারী চাকরিতে নানাবিধ সমস্যা রয়েছে, তবে তা হারাম নয়। আর এটা শুধু সরকারী চাকরিতেই নয়, বরং ৯৯% বেসরকারী চাকরীতেও রয়েছে। তাই সব সরকারী চাকরি তাক্বওয়ার পরিপন্থী নয়। নিশ্চিতরূপে আপনি সরকারী হালাল ও বৈধ যে কোন চাকরী করতে পারেন এবং এর থেকে প্রাপ্ত বেতন স্কেল গ্রহণ করতে পারবেন। এতে শরী‘আতের দৃষ্টিকোন থেকে কোনরূপ সমস্যা নেই। তবে সর্বদা হারাম ও নাজায়েয জিনিস হতে বেঁচে থাকবে হবে। ছালাত সহ যাবতীয় ইবাদত সঠিক সময়ে আন্তরিকভাবে পালন করতে হবে।

প্রশ্নকারী : আব্দুল্লাহ আল-মাসঊদ, গাইবান্ধা।





প্রশ্ন (১১) : ছালাত অবস্থায় যদি দুই এক ফোঁটা পেশাব পড়ে যায়, তাহলে কি পুনরায় ছালাত আদায় করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : টাকা দ্বারা ফিতরা দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ত্বালাক্ব দেয়ার পদ্ধতি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : আমার একটি সাইকেল চুরি হয়ে গিয়েছিল। পরে আমি জানতে পারি, কে সেটি চুরি করেছে। আমি তার কাছে আমার সাইকেল ফেরত চাইলে সে আমাকে আরেকটি সাইকেল দেয়। কিন্তু আমি জানি, সেই সাইকেলটিও চুরি করা। তবে এর প্রকৃত মালিক কে, তা আমি জানি না। এ অবস্থায় ঐ সাইকেলটি গ্রহণ করার বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : লেনদেনের ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি যদি অসহায় দরিদ্র ব্যক্তিকে মাফ করে দেয় বা কিছু হালকা করে দেয়, তাহলে আল্লাহ তাকে এর বিনিময়ে জান্নাত দান করবেন। এমন কোন হাদীছ আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : কেউ তাওবা করে দ্বীনের পথে ফিরে এসেছে। সে যদি অতীতে কাউকে পাপ কাজে সহযোগিতা করে, তাহলে এখনো কি সেই পাপের সমান ভাগীদার হবে? যাকে পাপ কাজে সহযোগিতা করেছে, সে তাকেও ফিরে আসতে বলেছে। কিন্তু সে ফিরে আসতে চাচ্ছে না। এক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : কোন অসুস্থ ব্যক্তি দু‘আ চাইলে শুক্রবারে জুমু‘আর ছালাতের পর সম্মিলিত মুনাজাত করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৯) : জনৈক খতীব ‘তাযকিরাতুল কুরআনে’র কথা উল্লেখ করে বলেন, আল্লাহ্র আরশে একটি দু‘আ লিখা আছে যার নাম ‘গঞ্জুল আরশ’। উক্ত দু‘আ চারজন ফেরেশতা পাঠ করার পর আল্লাহর আরশ বহন করতে সক্ষম হন। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : সূরা ইয়াসীন ও ত্বা-হা পাঠের ফযীলত বর্ণনায় বলা হয় যে, আল্লাহ তা‘আলা আসমান ও যমীন সৃষ্টির এক হাযার বছর পূর্বে সূরা ‘ত্বা-হা’ ও ‘ইয়াসীন’ পাঠ করলেন। তখন ফেরেশতারা শুনে বললেন, ধন্য সেই জাতি, যাদের উপর এটা নাযিল হবে, ধন্য সেই পেট যে সেটা ধারণ করবে এবং ধন্য সেই মুখ যে সেটা উচ্চারণ করবে (দারেমী, হা/৩৪১৪; মিশকাত, হা/২১৪৮; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/২০৪৫, ৫/১৮ পৃ.)। বর্ণনাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : মসজিদে ছালাতের জায়গার সংকুলান হচ্ছে না। পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিমে কোনাকুনি তিন দিকে সরকারী রাস্তা হওয়ায় সে সব দিকে মাসজিদ বাড়ানোর সুযোগ নেই। আর দক্ষিণ দিকে পুরানো গোরস্থান। দক্ষিণ দিকে মাসজিদ বাড়াতে গেলে বহু পুরাতন ৩/৪ টি কবর পড়ছে। যা প্রায় ২০/২৫ বছর আগের। এক্ষণে উক্ত কবরগুলো মূল গোরস্থানে স্থানান্তরিত করে দক্ষিণ দিকে মাসজিদ সম্প্রসারণ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : কোন পুরুষ অন্য পুরুষ কে দেখলে যদি খারাপ চিন্তা আসে, তাহলে ঐ পুরুষ দেখলে কি গুনাহ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : ‘যে উত্তমরূপে ওযূ করে ছওয়াবের উদ্দেশ্যে তার কোন মুসলিম ভাইকে দেখতে যাবে, তাকে জাহান্নাম হতে ষাট বছরের পথ দূরে রাখা হবে’। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ