বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ০১:২৫ পূর্বাহ্ন
উত্তর : তখন রোমের সম্রাটকে বলা হত ‘ক্বাইসার’। সেই সময় রোমের রাজা ছিলেন ‘হিরাক্লিয়াস’। তিনি খ্রিষ্টান হলেও নবী (ﷺ)-এর রিসালাতে বিশ্বাসী ছিলেন। নবী (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে তার নিকট পত্র প্রেরণ করা হয়েছিল। তিনি উক্ত পত্রটিকে সত্যায়িত করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ঈমান আনেননি (ছহীহ বুখারী, হা/৭, ৫১, ২৬৮১; ছহীহ মুসলিম, হা/১৭৭৩)। পক্ষান্তরে পারস্যের সম্রাটকে বলা হত ‘কিসরা’। সেই সময় পারস্যের রাজা ছিলেন ‘খসরু ইবনে হুরমুয’। নবী করীম (ﷺ)-এর নিকটেও পত্র প্রেরণ করেছিলেন। কিন্তু সে পত্রটি পড়ার পর সে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলল। (এ ঘটনার খবর পেয়ে) রাসূল (ﷺ) তাদের জন্য বদদু‘আ করেন যে, তাদেরকেও যেন সম্পূর্ণরূপে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয় (ছহীহ বুখারী, হা/৬৪, ২৯৩৯)।

নবী (ﷺ)-এর যুগে রোম ও পারস্য দু’টি বৃহৎ শক্তিশালী সাম্রাজ্য ছিল। পারসিকরা ছিল অগ্নিপূজক মুশরিক আর রোমানরা ছিল খ্রিষ্টান (আহলে কিতাব)। সূরা রূমের মধ্যে রোমক ও পারসিকদের যুদ্ধের কাহিনী আলোচিত হয়েছে। তাদের উভয়পক্ষই ছিল কাফির। তাদের মধ্যে কারও বিজয় এবং কারও পরাজয় বস্তুত ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য কোন কৌতুহলের বিষয় ছিল না। কিন্তু যেহেতু উভয় কাফির দলের মধ্যে পারসিকরা ছিল অগ্নিপূজারী মুশরিক এবং রোমকরা ছিল খ্রিষ্টান আহলে কিতাব। ফলে এরা ছিল মুসলিমদের অপেক্ষাকৃত নিকটবর্তী (তাফরীরে ইবনে কাছীর, সূরা রূমের ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য)।

মক্কার মুশরিকদের সহানুভূতি ছিল পারসিকদের প্রতি; কারণ তারা উভয়েই গায়রুল্লাহর উপাসক ছিল। পক্ষান্তরে মুসলিমদের সহানুভূতি রোমের খ্রিষ্টান রাজ্যের প্রতি ছিল; কারণ খ্রিষ্টানরাও মুসলিমদের মত (আহলে কিতাব) ছিল এবং অহী ও রিসালাতের প্রতি বিশ্বাসী ছিল। তাদের উভয়ের মধ্যে যুদ্ধ-বিবাদ লেগেই থাকত। নবী (ﷺ)-এর নবুয়াত প্রাপ্তির কয়েক বছর পর পারসিকরা খ্রিষ্টানদের উপর বিজয়লাভ করার ফলে মুশরিকরা আনন্দিত এবং মুসলিমরা হতাশ হয়ে পড়ে। সেই সময় সূরা রূমের আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়। যাতে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে যে, কয়েক বছরের মধ্যে রোমানরা বিজয়ী হবে এবং বিজয়ীরা পরাজিত ও পরাজিতরা বিজয়ী হয়ে যাবে। বাহ্যিক দৃষ্টিতে উক্ত ভবিষ্যদ্বাণী অসম্ভব মনে হলেও আল্লাহর উক্ত বাণীর ফলে মুসলিমদের মনে দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, তা অবশ্যই সংঘটিত হবে। যার ফলে আবূ বাকর সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) উবাই ইবনে খালফ ও আবূ জাহলের সাথে বাজি করে ফেলেন যে, তিন অথবা পাঁচ বছরের মধ্যে রোমানরা বিজয়ী হবেই।

উক্ত বাজির কথা নবী (ﷺ) জানতে পারলে তিনি বললেন, بِضْعٌ শব্দটি তিন থেকে নয় পর্যন্ত সংখ্যা বুঝাতে ব্যবহার হয়। অতএব পাঁচ বছর বাজির সময় কম করে ফেলেছ, এতে আরো সময় বাড়িয়ে নাও। সুতরাং নবী (ﷺ)-এর কথামত আবূ বাকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর প্রস্তাবিত সময় আরো কিছু বাড়িয়ে দিলেন। ফল এই দাঁড়ালো যে, রোমানরা নয় বছর সময়ের মধ্যেই (সূরা অবতীর্ণ হওয়ার) ঠিক সপ্তম বছরে পুনরায় পারসিকদের উপর জয়যুক্ত হল। যাতে মুসলিমগণ অনেক অনেক আনন্দিত হয়েছিলেন (তিরমিযী, হা/৩১৯৩, ৩১৯৪)। বিভিন্ন হাদীছ থেকে জানা যায় যে, হিজরতের পাঁচ বছর পূর্বে এই ঘটনা সংঘটিত হয় এবং সাত বছর পূর্ণ হওয়ার পর বদর যুদ্ধের সময রোমকরা পারসিকদের বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করে (তাফসীরে সা‘দী, সূরা রূমের ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য)।


প্রশ্নকারী : নূর আলম, রংপুর।





প্রশ্ন (২১) : তামাক চাষ করা কি জায়েয? আর তামাক থেকে ইনকাম করা টাকা কি হালাল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪১) : স্বামী-স্ত্রীর মাঝে দ্বন্দ্ব হলে ‘মীমাংসামূলক ছালাত’ নামে ছালাত পড়া হয়। উক্ত ছালাতের কোন দলীল আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : সন্তান নেশার সাথে জড়িত হলে করণীয় কী? শাসনের জন্য সামাজিক বা প্রশাসনিক সাহায্য নেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : সমাজে জয়ত্রি এবং জায়ফল দিয়ে বিভিন্ন খাবার রান্না করে খাওয়ার প্রচলন আছে। এটা খাওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : আল্লাহ তা‘আলা রাসূল (ﷺ)-এর উপর অহীর মাধ্যমে কুরআন নাযিল করেছেন। প্রশ্ন হল- হাদীছ কিভাবে তার উপর নাযিল হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : কোন মুসলিম নামের সাথে prince ব্যবহার করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : যে নারী ক্বাযা ছিয়াম পালন করার আগেই গর্ভবতী হয়ে গেছেন এবং আগত রামাযানেও তার পক্ষে ছিয়াম রাখা সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় পূর্বের ক্বাযা ছিয়াম ও আগত ছিয়ামের হুকুম কী হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : সা‘দ ইবনু আবী ওয়াক্কাছ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর মাতৃভক্তি প্রসঙ্গ সমাজে একটি কাহিনী প্রচলিত আছে। এর সত্যতা কতটুকু? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪১) : চুলে কালো কলপ করার শাস্তি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : হাদীছে এসেছে, ‘আল্লাহকে সাহায্য কর, আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করবেন’। প্রশ্ন হল- মানুষ কীভাবে, কোন্ উপায়ে আল্লাহকে সাহায্য করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : গাযওয়া হিন্দ‌‌ বা হিন্দুদের সাথে মুসলিমদের যুদ্ধ সম্পর্কে অনেক কিছুই শুনা যায়। এগুলো কি হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : স্বামী-স্ত্রী একসাথে জামা‘আতে ছালাত আদায় করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ