রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:০৩ অপরাহ্ন
উত্তর : তখন রোমের সম্রাটকে বলা হত ‘ক্বাইসার’। সেই সময় রোমের রাজা ছিলেন ‘হিরাক্লিয়াস’। তিনি খ্রিষ্টান হলেও নবী (ﷺ)-এর রিসালাতে বিশ্বাসী ছিলেন। নবী (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে তার নিকট পত্র প্রেরণ করা হয়েছিল। তিনি উক্ত পত্রটিকে সত্যায়িত করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ঈমান আনেননি (ছহীহ বুখারী, হা/৭, ৫১, ২৬৮১; ছহীহ মুসলিম, হা/১৭৭৩)। পক্ষান্তরে পারস্যের সম্রাটকে বলা হত ‘কিসরা’। সেই সময় পারস্যের রাজা ছিলেন ‘খসরু ইবনে হুরমুয’। নবী করীম (ﷺ)-এর নিকটেও পত্র প্রেরণ করেছিলেন। কিন্তু সে পত্রটি পড়ার পর সে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলল। (এ ঘটনার খবর পেয়ে) রাসূল (ﷺ) তাদের জন্য বদদু‘আ করেন যে, তাদেরকেও যেন সম্পূর্ণরূপে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয় (ছহীহ বুখারী, হা/৬৪, ২৯৩৯)।

নবী (ﷺ)-এর যুগে রোম ও পারস্য দু’টি বৃহৎ শক্তিশালী সাম্রাজ্য ছিল। পারসিকরা ছিল অগ্নিপূজক মুশরিক আর রোমানরা ছিল খ্রিষ্টান (আহলে কিতাব)। সূরা রূমের মধ্যে রোমক ও পারসিকদের যুদ্ধের কাহিনী আলোচিত হয়েছে। তাদের উভয়পক্ষই ছিল কাফির। তাদের মধ্যে কারও বিজয় এবং কারও পরাজয় বস্তুত ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য কোন কৌতুহলের বিষয় ছিল না। কিন্তু যেহেতু উভয় কাফির দলের মধ্যে পারসিকরা ছিল অগ্নিপূজারী মুশরিক এবং রোমকরা ছিল খ্রিষ্টান আহলে কিতাব। ফলে এরা ছিল মুসলিমদের অপেক্ষাকৃত নিকটবর্তী (তাফরীরে ইবনে কাছীর, সূরা রূমের ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য)।

মক্কার মুশরিকদের সহানুভূতি ছিল পারসিকদের প্রতি; কারণ তারা উভয়েই গায়রুল্লাহর উপাসক ছিল। পক্ষান্তরে মুসলিমদের সহানুভূতি রোমের খ্রিষ্টান রাজ্যের প্রতি ছিল; কারণ খ্রিষ্টানরাও মুসলিমদের মত (আহলে কিতাব) ছিল এবং অহী ও রিসালাতের প্রতি বিশ্বাসী ছিল। তাদের উভয়ের মধ্যে যুদ্ধ-বিবাদ লেগেই থাকত। নবী (ﷺ)-এর নবুয়াত প্রাপ্তির কয়েক বছর পর পারসিকরা খ্রিষ্টানদের উপর বিজয়লাভ করার ফলে মুশরিকরা আনন্দিত এবং মুসলিমরা হতাশ হয়ে পড়ে। সেই সময় সূরা রূমের আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়। যাতে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে যে, কয়েক বছরের মধ্যে রোমানরা বিজয়ী হবে এবং বিজয়ীরা পরাজিত ও পরাজিতরা বিজয়ী হয়ে যাবে। বাহ্যিক দৃষ্টিতে উক্ত ভবিষ্যদ্বাণী অসম্ভব মনে হলেও আল্লাহর উক্ত বাণীর ফলে মুসলিমদের মনে দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, তা অবশ্যই সংঘটিত হবে। যার ফলে আবূ বাকর সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) উবাই ইবনে খালফ ও আবূ জাহলের সাথে বাজি করে ফেলেন যে, তিন অথবা পাঁচ বছরের মধ্যে রোমানরা বিজয়ী হবেই।

উক্ত বাজির কথা নবী (ﷺ) জানতে পারলে তিনি বললেন, بِضْعٌ শব্দটি তিন থেকে নয় পর্যন্ত সংখ্যা বুঝাতে ব্যবহার হয়। অতএব পাঁচ বছর বাজির সময় কম করে ফেলেছ, এতে আরো সময় বাড়িয়ে নাও। সুতরাং নবী (ﷺ)-এর কথামত আবূ বাকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর প্রস্তাবিত সময় আরো কিছু বাড়িয়ে দিলেন। ফল এই দাঁড়ালো যে, রোমানরা নয় বছর সময়ের মধ্যেই (সূরা অবতীর্ণ হওয়ার) ঠিক সপ্তম বছরে পুনরায় পারসিকদের উপর জয়যুক্ত হল। যাতে মুসলিমগণ অনেক অনেক আনন্দিত হয়েছিলেন (তিরমিযী, হা/৩১৯৩, ৩১৯৪)। বিভিন্ন হাদীছ থেকে জানা যায় যে, হিজরতের পাঁচ বছর পূর্বে এই ঘটনা সংঘটিত হয় এবং সাত বছর পূর্ণ হওয়ার পর বদর যুদ্ধের সময রোমকরা পারসিকদের বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করে (তাফসীরে সা‘দী, সূরা রূমের ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য)।


প্রশ্নকারী : নূর আলম, রংপুর।





প্রশ্ন (৪) : কিছু কিছু এলাকায় সাহারীতে মানুষ ডাকার জন্য মাইকে বিভিন্ন ইসলামী গযল ও কুরআন তেলাওয়াত বাজানো হয়। এটা কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : জনৈক আলেম বলেন, যে ব্যক্তি জুম‘আর দিন আগে আগে মসজিদে উপস্থিত হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এ মর্মে কোন দলীল আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : ফজরের আযানের পর মসজিদে গিয়ে সময় থাকলে মসজিদে প্রবেশের ২ রাক‘আত পড়া যাবে কি, না সরাসরি ২ রাক‘আত সুন্নাত পড়তে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাটির তৈরি, না-কি নূরের তৈরি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : ঈদের দিনে কুরবানীর পশুর রক্ত ঝরানোর চেয়ে আল্লাহর নিকট অধিক পসন্দনীয় কোন আমল নেই। সে ক্বিয়ামত দিবসে উক্ত পশুর শিং, খুর, লোম প্রভৃতি নিয়ে উপস্থিত হবে এবং তার রক্ত যমীনে পড়ার পূর্বেই আল্লাহর নির্ধারিত মর্যাদার স্থানে পতিত হয়। অতএব তোমরা প্রফুল্লচিত্তে কুরবানী কর’। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : সূদী ঋণ নিয়ে হজ্জ করলে হজ্জ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে ত্বালাক্ব দিয়ে অপর কোন নারীকে বিয়ে করতে পারবে কি? ত্বালাক্ব দেয়ার কারণ হল- একই সাথে দু’জন স্ত্রী রাখার সামর্থ্য তার নেই এবং ইনছাফ করতে পারবে না। আর তার স্ত্রীর প্রতি কোন প্রকার আকর্ষণও নেই। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : মুসলিম রুক্বইয়্যাহকারী কি কোন অমুসলিম রোগীকে রুক্বইয়্যাহ করতে পারে এবং কোন বিধর্মীর কাছে থেকে কি রুক্বইয়্যাহ নেয়া যাবে, যদি তার পদ্ধতি সঠিক হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : কোন্ দু‘আ পড়লে সারাদিন যিকির করার নেকী পাওয়া যায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : ‘জ্ঞান অর্জনের জন্য চীন দেশে হলেও তোমরা যাও’। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : হাসান ইবনু আলী বলেন, ‘যে ব্যক্তি এই বিশ আয়াত পড়বে আমি তার এ ব্যাপারে যিম্মাদার হয়ে গেলাম যে, আল্লাহ তাকে যালিম শাসক, অবাধ্য শয়তান, ক্ষতিকর ও হিংস্র জীবজন্তু ও সীমালঙ্ঘনকারী চোর থেকে রক্ষা করবেন। বিশটি আয়াত হল, আয়াতুল কুরসী, সূরা আ‘রাফের ৫৪ থেকে ৫৬ তিন আয়াত, সূরা ছাফফাতের দশ আয়াত, সূরা আর-রহমানের ৩৩ থেকে ৩৫ তিন আয়াত এবং সূরা হাশরের শেষের ২১ থেকে ২৪ চার আয়াত (আদ-দুররুল মানসূর; তারীখু বাখদাদ)। বর্ণনাটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : বর্তমানে অধিকাংশ মসজিদে কাতার সোজা হওয়ার পর ইক্বামত দেয়া হয়। এটা কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ