রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:৩০ অপরাহ্ন
উত্তর : তখন রোমের সম্রাটকে বলা হত ‘ক্বাইসার’। সেই সময় রোমের রাজা ছিলেন ‘হিরাক্লিয়াস’। তিনি খ্রিষ্টান হলেও নবী (ﷺ)-এর রিসালাতে বিশ্বাসী ছিলেন। নবী (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে তার নিকট পত্র প্রেরণ করা হয়েছিল। তিনি উক্ত পত্রটিকে সত্যায়িত করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ঈমান আনেননি (ছহীহ বুখারী, হা/৭, ৫১, ২৬৮১; ছহীহ মুসলিম, হা/১৭৭৩)। পক্ষান্তরে পারস্যের সম্রাটকে বলা হত ‘কিসরা’। সেই সময় পারস্যের রাজা ছিলেন ‘খসরু ইবনে হুরমুয’। নবী করীম (ﷺ)-এর নিকটেও পত্র প্রেরণ করেছিলেন। কিন্তু সে পত্রটি পড়ার পর সে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলল। (এ ঘটনার খবর পেয়ে) রাসূল (ﷺ) তাদের জন্য বদদু‘আ করেন যে, তাদেরকেও যেন সম্পূর্ণরূপে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয় (ছহীহ বুখারী, হা/৬৪, ২৯৩৯)।

নবী (ﷺ)-এর যুগে রোম ও পারস্য দু’টি বৃহৎ শক্তিশালী সাম্রাজ্য ছিল। পারসিকরা ছিল অগ্নিপূজক মুশরিক আর রোমানরা ছিল খ্রিষ্টান (আহলে কিতাব)। সূরা রূমের মধ্যে রোমক ও পারসিকদের যুদ্ধের কাহিনী আলোচিত হয়েছে। তাদের উভয়পক্ষই ছিল কাফির। তাদের মধ্যে কারও বিজয় এবং কারও পরাজয় বস্তুত ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য কোন কৌতুহলের বিষয় ছিল না। কিন্তু যেহেতু উভয় কাফির দলের মধ্যে পারসিকরা ছিল অগ্নিপূজারী মুশরিক এবং রোমকরা ছিল খ্রিষ্টান আহলে কিতাব। ফলে এরা ছিল মুসলিমদের অপেক্ষাকৃত নিকটবর্তী (তাফরীরে ইবনে কাছীর, সূরা রূমের ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য)।

মক্কার মুশরিকদের সহানুভূতি ছিল পারসিকদের প্রতি; কারণ তারা উভয়েই গায়রুল্লাহর উপাসক ছিল। পক্ষান্তরে মুসলিমদের সহানুভূতি রোমের খ্রিষ্টান রাজ্যের প্রতি ছিল; কারণ খ্রিষ্টানরাও মুসলিমদের মত (আহলে কিতাব) ছিল এবং অহী ও রিসালাতের প্রতি বিশ্বাসী ছিল। তাদের উভয়ের মধ্যে যুদ্ধ-বিবাদ লেগেই থাকত। নবী (ﷺ)-এর নবুয়াত প্রাপ্তির কয়েক বছর পর পারসিকরা খ্রিষ্টানদের উপর বিজয়লাভ করার ফলে মুশরিকরা আনন্দিত এবং মুসলিমরা হতাশ হয়ে পড়ে। সেই সময় সূরা রূমের আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়। যাতে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে যে, কয়েক বছরের মধ্যে রোমানরা বিজয়ী হবে এবং বিজয়ীরা পরাজিত ও পরাজিতরা বিজয়ী হয়ে যাবে। বাহ্যিক দৃষ্টিতে উক্ত ভবিষ্যদ্বাণী অসম্ভব মনে হলেও আল্লাহর উক্ত বাণীর ফলে মুসলিমদের মনে দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, তা অবশ্যই সংঘটিত হবে। যার ফলে আবূ বাকর সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) উবাই ইবনে খালফ ও আবূ জাহলের সাথে বাজি করে ফেলেন যে, তিন অথবা পাঁচ বছরের মধ্যে রোমানরা বিজয়ী হবেই।

উক্ত বাজির কথা নবী (ﷺ) জানতে পারলে তিনি বললেন, بِضْعٌ শব্দটি তিন থেকে নয় পর্যন্ত সংখ্যা বুঝাতে ব্যবহার হয়। অতএব পাঁচ বছর বাজির সময় কম করে ফেলেছ, এতে আরো সময় বাড়িয়ে নাও। সুতরাং নবী (ﷺ)-এর কথামত আবূ বাকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর প্রস্তাবিত সময় আরো কিছু বাড়িয়ে দিলেন। ফল এই দাঁড়ালো যে, রোমানরা নয় বছর সময়ের মধ্যেই (সূরা অবতীর্ণ হওয়ার) ঠিক সপ্তম বছরে পুনরায় পারসিকদের উপর জয়যুক্ত হল। যাতে মুসলিমগণ অনেক অনেক আনন্দিত হয়েছিলেন (তিরমিযী, হা/৩১৯৩, ৩১৯৪)। বিভিন্ন হাদীছ থেকে জানা যায় যে, হিজরতের পাঁচ বছর পূর্বে এই ঘটনা সংঘটিত হয় এবং সাত বছর পূর্ণ হওয়ার পর বদর যুদ্ধের সময রোমকরা পারসিকদের বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করে (তাফসীরে সা‘দী, সূরা রূমের ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য)।


প্রশ্নকারী : নূর আলম, রংপুর।





প্রশ্ন (২৬) : মৃতব্যক্তিকে ‘মরহূম’ বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : অন্যান্য ধর্মের পূজা, মন্দির বা গির্জা দেখার জন্য যাওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : আমাদের এলাকায় অনেকেই ফজর ছালাতের পর ১৯ বার ‘বিসমিল্লা-হ’ পাঠ করে থাকে। এটা কতটুকু শরী‘আতসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : পেটের ভরে (উপুড় হয়ে) শয়ন করার বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : দীর্ঘ ৪/৫ বছর ধরে দুই বোনের মধ্যে কোন সম্পর্ক নেই। কারণ এক বোনের ছেলেরা তার মাকে তাদের খালার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে নিষেধ করেছিল। কিন্তু বর্তমানে তারা আবার সম্পর্ক রাখতে চায়। কিন্তু সমস্যা হল- অন্য বোনের মেয়েরা তার মাকে বলছে যে, খালা তার ছেলেদের কথায় আমাদের সাথে সম্পর্ক রাখেননি এখন তুমিও খালার সাথে সম্পর্ক রাখবে না। কিন্তু তিনি তার বোনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাচ্ছেন না। তখন তার মেয়েরা বলছে, হয় খালার সাথে সম্পর্ক রাখতে হবে, না হয় মেয়েদের সাথে। এই বলে মেয়েরা মায়ের উপর রাগ করে দীর্ঘদিন কথা বলে না। প্রশ্ন হল- মেয়েরা কী ধরনের গুনাহ করছে? এই ক্ষেত্রে মায়ের করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : আমার বাবা সূদের উপরে টাকা নিয়ে গরুর খামার দিতে যাচ্ছে আমি ঐ খামারে কাজ করতে চাচ্ছি না বিধায় আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে চাচ্ছেন। এখন আমার কী করা উচিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : কুরআন খতমের পর নিম্নের দু‘আ পড়ার কোন ছহীহ দলীল আছে কি? اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي بالقُرْءَانِ وَاجْعَلهُ لِي إِمَاماً وَنُوراً وَهُدًى وَرَحْمَةً اللَّهُمَّ ذَكِّرْنِي مِنْهُ مَانَسِيتُ وَعَلِّمْنِي مِنْهُ مَاجَهِلْتُ وَارْزُقْنِي تِلاَوَتَهُ آنَاءَ اللَّيْلِ وَأَطْرَافَ النَّهَارِ وَاجْعَلْهُ لِي حُجَّةً يَارَبَّ العَالَمِينَ - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : চাকুরীজীবী ব্যক্তি অফিসের যাবতীয় পণ্য ক্রয় করে। কিছু পণ্য ক্রয় করার সময় দেখা যাচ্ছে পণ্যের দাম ৩০০/৪০০ টাকা, যা সব দোকানে একই দাম। কিন্তু ঐ ব্যক্তি সেই পণ্যটি ২৮০/৩৮০ টাকায় ক্রয় করতে পারে। উক্ত পণ্য ক্রয়ে যে ২০ টাকা সাশ্রয় হল, সেই টাকা কি তিনি নিজে গ্রহণ করতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : কোন ব্যক্তি যদি একাধারে কয়েক বছর যাকাত আদায় না করে, তাহলে তার করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : গোপন পাপের পরিণাম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’ শ্লোগানের শারঈ ভিত্তি কী এবং এরূপ কথায় বিশ্বাস করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : আমার একটি পাঠা ছাগল আছে, যেটি আমি প্রজননের জন্য রেখেছি। আশেপাশের লোকজন তাদের ছাগলকে প্রজনন করানোর জন্য নিয়ে আসে এবং এজন্য তারা আমাকে কিছু টাকা দেয়। এটা গ্রহণ করা জায়েয হবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ