রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০২:৫০ অপরাহ্ন
উত্তর : অপবিত্র অবস্থায় কুরআন স্পর্শ না করে যিকির হিসাবে মুখস্থ তিলাওয়াত করা যাবে। বরং এ অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ করা ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। যেমন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يَتَّكِئُ فِيْ حَجْرِيْ وَأَنَا حَائِضٌ ثُمَّ يَقْرَأُ الْقُرْآنَ‏ ‘নবী (ﷺ) আমার কোলে হেলান দিয়ে কুরআন তিলাওয়াত করতেন। আর তখন আমি ঋতুবতী অবস্থায় ছিলাম’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৯৭; ছহীহ মুসলিম, হা/৩০১)।

ঋতুবতী মহিলারা কুরআন তিলাওয়াত করতে পারবে না মর্মে স্পষ্ট কোন ছহীহ দলীল নেই। শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ليس في منع الحائض من القراءة نصوص صريحة صحيحة ‘ঋতুবতী নারীদের কুরআন তিলাওয়াত করা যাবে না মর্মে কোন স্পষ্ট ছহীহ দলীল নেই’ (ফাতাওয়াউল ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, প্রশ্ন নং-২৫৬৪)।

আম্মা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন,كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَذْكُرُ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى كُلِّ أَحْيَانِهِ ‘রাসূল (ﷺ) সর্বাবস্থায় মহামহিয়ান আল্লাহর যিকির করতেন’ (ছহীহ মুসলিম, ‘হায়েয’ অধ্যায়, ‘অপবিত্র ও অন্যান্য অবস্থায় মহান আল্লাহর যিকর করা প্রসঙ্গে’ অনুচ্ছেদ ৩/৩০, হা/৩৭৩, ৭১২; তা‘লীকুল বুখারী, হা/৬৩৪; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/৮৩৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪৪১০, ২৫২০০)। হাদীছটি প্রমাণ করে যে, নবী (ﷺ) পবিত্র, অপবিত্র, ওযূ অবস্থায়, ওযূবিহীন অবস্থায়, বসে, দাঁড়িয়ে, হেলান দিয়ে, হাঁটা ও আরোহী সকল অবস্থায়ই আল্লাহর যিকর করতেন। এখানে যিকর কথাটি ‘আম’ তথা ব্যাপক অর্থবোধক, যা তাসবীহ, তাহলীল, তাকবীর, তাহমীদ, ইস্তিগফার, দরূদ সকল প্রকার যিকর শামিল করে।

শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, তাছাড়া এটি সর্বজনবিদিত যে, রাসূল (ﷺ)-এর যুগেও মহিলা ছাহাবীদের হায়েয আসত কিন্তু তাদেরকে কুরআন তিলাওয়াত করা থেকে নিষেধ করা হয়েছে এরকম কোন প্রমাণ নেই। যেমন যিকির-আযকার ও দু‘আ থেকে নিষেধ করা হয়নি, তেমনি কুরআন তিলাওয়াত থেকেও নিষেধ করা হয়নি। বরং রাসূল (ﷺ)-এর যুগে ঋতুবতী মহিলাগণ ঈদের খুত্ববাহ ও দু‘আয় শরীক হতেন। উম্মু আত্বিয়্যাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, দুই ঈদের দিনে ঋতুবতী মহিলাদেরকে ঈদের মাঠে বের করার জন্য আমাদের আদেশ করা হয়েছে। তবে ঋতুবতী মহিলারা মুছাল্লা থেকে পৃথক থাকবে এবং মুসলিমদের জামা‘আতে ও দু‘আতে শরীক হবে (ছহীহ বুখারী, হা/৩৫১; ছহীহ মুসলিম, হা/৮৯০)। তাছাড়া অপবিত্র অবস্থায় যে কুরআন স্পর্শ করতে নিষেধ করা হয়েছে, তা হল মুছহাফ বা মূল আরবী কুরআন (মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ২১/৪৬০; মুগনী শারহুল কাবীর, ২/৭৫ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : মুহাম্মাদ গোলাম রব্বানী, সাঘাটা, গাইবান্ধা।





প্রশ্ন (৬) : দাড়ি একমুষ্টি রেখে বাকি অংশ কাটা যাবে কি? যেখানে ছহীহ বুখারীর ৫৮৯২ নম্বর হাদীছে এসেছে, ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহ আনহুমা) সূত্রে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, তোমরা মুশরিকদের উল্টো করবে- দাড়ি লম্বা রাখবে, গোঁফ ছোট করবে। ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহ আনহুমা) যখন হজ্জ বা ওমরাহ করতেন, তখন তিনি তাঁর দাড়ি মুষ্টি করে ধরতেন এবং মুষ্টির বাইরে যতটুকু বেশি থাকত, তা কেটে ফেলতেন। এছাড়া আরো হাদীছ এসেছে। এই বিষয়ে সঠিক সমাধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর শর্তগুলো জানা কি প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরয? না জানলে কি ব্যক্তি কাফের হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : ‘হাজারে আসওয়াদ ভূপৃষ্ঠে আল্লাহর ডান হাত। সুতরাং যে তাতে হাত লাগাল এবং চুমু খেল সে যেন আল্লাহর সাথে মুছাফাহা করল এবং তার ডান হাতে চুমু খেল’। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : জনৈক ব্যক্তি স্ত্রীর প্রতি রাগান্বিত হয়ে স্ত্রীর সামনে স্ত্রীর নাম উল্লেখ করে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আল্লাহ তুমি স্বাক্ষী থাক, আল্লাহর কসম! আল্লাহর কসম! আল্লাহর কসম! আমি তোমার সাথে (স্ত্রী) আর কখনো মিলন করব না’। এরূপ কসমের জন্য করণীয় কী? এজন্য কি বিবাহ বিচ্ছিদ ঘটবে, না-কি কসমের কাফ্ফারা স্বরূপ তিনটি ছিয়াম রাখলেই যথেষ্ট হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : জনৈক আলেম বলেন, আরাফার দিন ছিয়াম রাখলে ১০০০ ছিয়ামের সময় নেকী পাওয়া যাবে। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : বিবাহের অনুষ্ঠানে বা খাৎনার অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিয়ে টাকা নেয়ার শারয়ী বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : সাধারণ বিদ‘আত কিংবা কুফরী বিদ‘আত; যেকোনো বিদ‘আতে লিপ্ত থাকা ব্যক্তির তাওবা এবং অন্যান্য আমল কবুল হবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : আমার মা রক্তের সম্পর্কের বহির্ভূত এক জনের সাথে কথা বলেন। মাকে তিনি ‘ভাবী’ বলেন এবং আমার মা তাকে ‘ভাই’ বলেন। আমাদের বাড়িতে আসেন এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা সামনাসামনি হয়ে কথা বলেন। এখন সন্তান হিসাবে আমার করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : সমাজের একশ্রেণীর মানুষ মনে করে যে, তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ পৃথক ছালাত। তাহাজ্জুদ ৮ রাক‘আত, আর তারাবীহ ২০ রাক‘আত। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : তাহিয়্যাতুল মসজিদ বা দুখুলুল মসজিদ কখন যরূরী আর কখন যরূরী নয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আমি একজন অমুসলিম প্রার্থীকে ভোট দিয়েছি, অথচ তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে একজন মুসলিম প্রার্থীও ছিলেন। আমার এ কাজ কি ইসলামী শিক্ষার পরিপন্থী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : দেওবন্দী মানহাজের লোকেরা বলে থাকে যে, চার ইমামের প্রত্যেকেই ২০ রাক‘আত তারাবীহ আদায় করেছেন এবং অন্যদেরকে পড়তে বলেছেন। প্রশ্ন হল- তাদের দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ