বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন
উত্তর : একজন মুসলিম অপর মুসলিমের নিকট দু‘আ চাইতে পারে এবং চাওয়া উত্তম। মহান আল্লাহ বলেন, ইয়াকূব (আলাইহিস সালাম)-এর পুত্রগণ পিতার নিকট বলল, আমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন (সূরা ইউসুফ : ৯৭)। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট তার মায়ের হেদায়াতের জন্য দু‘আ চাইলে তিনি দু‘আ করে বলেন, اللَّهُمَّ اهْدِ أُمَّ أَبِىْ هُرَيْرَةَ ‘হে আল্লাহ! আপনি আবূ হুরায়রার মাকে হেদায়াত দান করুন’। তিনি আবারো বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনি দুআ করুন, আল্লাহ তা‘আলা যেন আমাকে ও আমার মাকে সকল মুমিনের নিকট প্রিয় বানিয়ে দেন। আর সকল মুুমিনকে আমাদের নিকট প্রিয় করে দেন। তখন রাসূল (ﷺ) দু‘আ করলেন, اللَّهُمَّ حَبِّبْ عُبَيْدَكَ هَذَا - يَعْنِى أَبَا هُرَيْرَةَ وَأُمَّهُ - إِلَى عِبَادِكَ الْمُؤْمِنِيْنَ وَحَبِّبْ إِلَيْهِمُ الْمُؤْمِنِيْنَ ‘হে আল্লাহ! আপনার এ বান্দাকে অর্থাৎ আবূ হুরায়রাকে ও তার মাকে আপনার মুমিন বান্দাদের কাছে প্রিয় বানিয়ে দিন। আর এদের নিকট আপনার মুমিন বান্দাদেরকে প্রিয় করে দিন’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৪৯১)।

আব্দুল্লাহ ইবনু বুসর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার পিতার নিকট পৌঁছলেন। আমরা তাঁর নিকট কিছু রুটি ও খেজুর, পনির ও ঘি মিশ্রিত এক জাতীয় মিষ্টান্ন পেশ করলাম। তাঁর খাওয়া শেষ হলে আমার পিতা তাঁর সওয়ারীর লাগাম ধরে বললেন, আমাদের জন্য আল্লাহর নিকট কিছু দু‘আ করুন। তখন তিনি বললেন, اللهم بَارِكْ لَهُمْ فِيْمَا رَزَقْتَهُمْ وَاغْفِرْ لَهُمْ وَارْحَمْهُمْ ‘হে আল্লাহ! আপনি তাদেরকে যা দান করেছেন তাতে আপনি বরকত দান করুন এবং তাদেরকে মাফ করুন ও দয়া করুন’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২০৪২; আবূ দাঊদ, হা/৩৭২৯; মিশকাত, হা/২৪২৭)। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) ‘আত্বা ইবনে আবু রিবাহকে বললেন, ‘আমি কি তোমাকে একটি জান্নাতী মহিলা দেখাব না!’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ!’ তিনি বললেন, ‘এই কৃষ্ণকায় মহিলাটি নবী (ﷺ)-এর নিকটে এসে বলল যে, আমার মৃগী রোগ আছে, আর সে কারণে আমার দেহ থেকে কাপড় সরে যায়। সুতরাং আপনি আমার জন্য দু‘আ করুন’। তিনি বললেন, ‘তুমি যদি চাও ছবর কর, তোমার জন্য জান্নাত রয়েছে। আর যদি চাও তাহলে আমি তোমার রোগ নিরাময়ের জন্য আল্লাহ তা‘আলার নিকটে দু‘আ করব। স্ত্রীলোকটি বলল, ‘আমি ছবর করব’। অতঃপর সে বলল, ‘(রোগ উঠার সময়) আমার দেহ থেকে কাপড় সরে যায়, সুতরাং আপনি আল্লাহর কাছে দু‘আ করুন, যেন আমার দেহ থেকে কাপড় সরে না যায়’। ফলে নবী (ﷺ) তার জন্য দু‘আ করলেন (যাতে তার কাপড় খুলে না যায়। তারপর সে মৃগী আক্রান্ত হত কিন্তু তার কাপড় খুলত না) (ছহীহ বুখারী, হা/৫৬৫২; মিশকাত, হা/১৫৭৭)।

রাসূল (ﷺ) আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর জন্য দু‘আ করেছিলেন, اللَّهُمَّ أكْثِرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ، وَبَارِكْ لَهُ فِيمَا أَعْطَيْتَهُ ‘হে আল্লাহ! তাকে বেশি বেশি সন্তান ও সম্পদ দান করুন এবং তাকে যা দিয়েছেন তাতে বারাকাহ দান করুন’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৩৩৪)। রাসূল (ﷺ) এক যুবকের জন্য দু‘আ করেছিলেন যে, اللَّهُمَّ اغْفِرْ ذَنْبَهُ وَطَهِّرْ قَلْبَهُ وَحَصِّنْ فَرْجَهُ ‘হে আল্লাহ! আপনি তাকে ক্ষমা করুন, তার অন্তরকে পবিত্র করুন ও তার লজ্জাস্থানের হেফাযত করুন’ (আহমাদ, হা/২২২৬৫, সনদ ছহীহ)। সুতরাং যখন কেউ তার মুসলিম ভাইয়ে নিকট দু‘আ চাইবে তখন তার পরিস্থিতি বুঝে দু‘আ করতে হবে।


প্রশ্নকারী : ফয়সাল আহমাদ, নাটোর।





প্রশ্ন (২১) : বিশেষ ফযীলত মনে করে নির্দিষ্ট করে শুধুই ১৫ই শা‘বান ছিয়াম পালন করা যাবে কি? শা‘বান মাসে ছিয়াম পালনের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫): রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যখন আল্লাহ তা‘আলা যমীন সৃষ্টি করলেন তখন তা দুলতে লাগল। অতঃপর পাহাড়গুলো সৃষ্টি করে সেগুলো পৃথিবীর উপর স্থীর করেন। অতঃপর পৃথিবী স্থীর হয়ে গেল। ফেরেশতাগণ পাহাড়ের এ শক্তি দেখে আশ্চর্যান্বিত হলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে পাহাড় অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? আল্লাহ বললেন, হ্যাঁ; আর সেটা লোহা। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করল, হে প্রভু! আপনার সৃষ্টির মধ্যে লোহা অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আগুন। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে আগুন অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ; পানি। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে পানি অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ; বাতাস। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে বাতাস অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ; আদম সন্তান। যে তার ডান হাতে দান করে আর দানকে বাম হাত হতে গোপন রাখে। এ ঘটনাটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : আদম (আলাইহিস সালাম) হিন্দুস্তান থেকে পায়ে হেঁটে ১০০০ বার হজ্জ করেছেন (ফাযায়েলে হজ্জ, পৃ ৪১)। উক্ত বর্ণনাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : মদীনা কামারের হাপরের ন্যায়। মদীনা মরিচা (দুষ্ট লোক) বিদূরিত করে এবং ভালকে আরও উজ্জ্বল করে (ছহীহ বুখারী, হা/৬৭৮৫)। উক্ত হাদীছে ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : জনৈক ব্যক্তি সোমবার ও বৃহস্পতিবার নফল ছিয়াম পালন করে। কিন্তু কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে আবার কখনো স্ত্রী সহবাসের মাধ্যমে উক্ত ছিয়াম ভেঙ্গে ফেলে। এমতাবস্থায় সে কি গুনাহগার হবে কিংবা এ জন্য কি কাফফারা দিতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : রুকূ অবস্থায় দৃষ্টি কোথায় রাখতে হবে এবং ইমাম যখন ‘সামি‘আল্লাহু লিমান হা‘মদাহ’ বলেন, তখন মুক্তাদীগণও কি ‘সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : মানুষ মারা গেলে মাইকিং করে শোক সংবাদ প্রচার করা কি ঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : কোন গর্ভবতী গাভীর ৫ অথবা ৬ ছয় মাস পর যদি কোন রোগের কারণে মৃত্যুর উপক্রম হয়ে যায়। তবে সেই গাভীটিকে যব্হ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : আমার মা আমার নানার একমাত্র মেয়ে। নানার আর কোন ছেলেমেয়ে নেই। তবে ভাতিজা, ভাগিনা আছে। নানা এখনো জীবিত। আমার নানা তাঁর সমস্ত সম্পত্তি আমার মায়ের নামে লিখে দিয়েছেন। এটা কি ঠিক হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : মানুষের শরীরে পা লাগলে অথবা বই হাত থেকে পড়ে গেলে উঠিয়ে সালাম করতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : এক রাক‘আত বিতর ছালাতে কোনদিনও দু‘আ কুনূত না পড়লে কি বিতর ছালাত হবে? বিতর ছালাতে কুনূত পড়ার সময় কেউ যদি কুনূতে নাজেলা পড়ে, তাহলে কি সুন্নত পরিপন্থী হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : সূরা ইয়াসীন ও ত্বা-হা পাঠের ফযীলত বর্ণনায় বলা হয় যে, আল্লাহ তা‘আলা আসমান ও যমীন সৃষ্টির এক হাযার বছর পূর্বে সূরা ‘ত্বা-হা’ ও ‘ইয়াসীন’ পাঠ করলেন। তখন ফেরেশতারা শুনে বললেন, ধন্য সেই জাতি, যাদের উপর এটা নাযিল হবে, ধন্য সেই পেট যে সেটা ধারণ করবে এবং ধন্য সেই মুখ যে সেটা উচ্চারণ করবে (দারেমী, হা/৩৪১৪; মিশকাত, হা/২১৪৮; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/২০৪৫, ৫/১৮ পৃ.)। বর্ণনাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ