বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন
উত্তর : কাউকে এরূপ সম্বোধন করা উচিত নয়। ‘আলা ইবনুল মুসাইয়েব তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তার পিতা (মুসাইয়েব) বলেছেন,

لَا تَقُلْ لِصَاحِبِكَ يَا حِمَارُ يَا كَلْبُ يَا خِنْزِيْرُ فَيَقُوْلَ لَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَتَرَانِيْ خُلِقْت كَلْبًا أَوْ حِمَارًا أَوْ خِنْزِيْرًا؟

‘তোমার সঙ্গী-সাথীকে হে গাধা, হে কুকুর, হে শুয়োর বলে সম্বোধন করবে না। অন্যথা ক্বিয়ামতের দিন সে তোমাকে বলবে, তুমি কি মনে করতে যে, আমাকে কুকুর, গাধা বা শুয়োর রূপে সৃষ্টি করা হয়েছিল’? (মুছান্নাফে ইবনু আবী শায়বাহ, হা/২৬৬২৪)। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

ومن الألفاظ المذمومة المستعملة في العادة قوله لمن يخاصمه يا حمار يا تيس ياكلب ونحو ذلك فهذا قبيح لوجهين أحدهما أنه كذب والآخر أنه إيذاء

‘নিন্দনীয় যে সব শব্দ সচরাচর ব্যবহৃত হয় সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হল, ঝগড়াঝাঁটিতে প্রতিপক্ষকে বলা, হে গাধা, হে পাঠা/ছাগল, কুকুর ইত্যাদি। তা দু’টি কারণে কুৎসিত। একটি হল, তা মিথ্যা। অন্যটি হল কষ্টদায়ক’ (আল-আযকার, পৃ. ৩৬৫)।

শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘কোন মুমিন ব্যক্তির জন্য কাউকে গাধা, কুকুর, শুয়োর, খচ্চর, গরু-ছাগল ইত্যাদি বলে ডাকা শোভনীয় নয়। বরং সবচেয়ে সুন্দর নামে সম্বোধন করা উচিত। এসব উপাধি দিয়ে মানুষকে সম্বোধন করা হলে পারস্পারিক বিদ্বেষ সৃষ্টি, মন-কষাকষি, ঝগড়াঝাঁটি বা মারামারি হতে পারে’ (শায়খ ইবনু বাযের অফিসিয়াল ওয়েব সাইট)। শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘মানুষকে জীবজন্তু বা পশুর উপাধি দিয়ে ডাকা হারাম’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল, ৬/২৩৩, ২৩/২৩৬ পৃ.)। শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) ও উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) উভয়েই নিম্নোক্ত আয়াত দ্বারা দলীল পেশ করেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

یٰۤاَیُّہَا  الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا یَسۡخَرۡ قَوۡمٌ مِّنۡ قَوۡمٍ عَسٰۤی اَنۡ یَّکُوۡنُوۡا خَیۡرًا مِّنۡہُمۡ وَ لَا نِسَآءٌ  مِّنۡ  نِّسَآءٍ  عَسٰۤی اَنۡ یَّکُنَّ خَیۡرًا مِّنۡہُنَّ ۚ وَ لَا تَلۡمِزُوۡۤا اَنۡفُسَکُمۡ وَ لَا تَنَابَزُوۡا بِالۡاَلۡقَابِ ؕ بِئۡسَ الِاسۡمُ الۡفُسُوۡقُ بَعۡدَ الۡاِیۡمَانِ ۚ وَ مَنۡ لَّمۡ یَتُبۡ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الظّٰلِمُوۡنَ

‘হে ইমানদারগণ! কোনও মুমিন সম্প্রদায় যেন অপর কোনও মুমিন সম্প্রদায়কে উপহাস না করে। কেননা যাদেরকে উপহাস করা হচ্ছে তারা উপহাসকারীদের চেয়ে উত্তম হতে পারে এবং নারীরাও যেন অন্য নারীদেরকে উপহাস না করে। কেননা যাদেরকে উপহাস করা হচ্ছে তারা উপহাসকারিণীদের চেয়ে উত্তম হতে পারে। আর তোমরা একে অন্যের প্রতি দোষারোপ করো না এবং তোমরা একে অন্যকে মন্দ উপাধিতে ডেকো না। ঈমানের পর মন্দ উপাধি অতি নিকৃষ্ট। আর যারা তওবা করে না তারাই তো যালিম’ (সূরা আল-হুজুরাত : ১১)। ইমাম ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) উক্ত আয়াতে وَ لَا تَنَابَزُوۡا بِالۡاَلۡقَابِ ‘আর তোমরা একে অপরকে মন্দ উপাধিতে ডেকো না’-এর ব্যাখ্যায় বলেন, لا تتداعوا بالألقاب ، وهي التي يسوء الشخص سماعها ‘তোমারা একে অপরকে এমন সব উপাধি দ্বারা ডাকাডাকি করো না যা সে শুনতে অপসন্দ করে’ (তাফসীরে ইবনু কাছীর, ৭/৩৭৬ পৃ.)।

প্রশ্নকারী : আবূ তাহের, মোহনপুর, রাজশাহী।





প্রশ্ন (১৯) : ‘ষাট বছরের জীবনে কেউ এক ওয়াক্ত ছালাত ছেড়ে দিলেও সে কাফের’। সালাফদের থেকে এরকম কোন বক্তব্য পাওয়া যায় কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : শরী‘আতে শরীরে ট্যাটু করা হারাম। কিন্তু ভিটিলিগো বা শ্বেত রোগের চিকিৎসা হিসাবে ট্যাটুর মত করে কালার করা হয়; যা ত্বকের পূর্বের রং ফিরিয়ে আনে। এমতাবস্থায় শ্বেত রোগ থেকে মুক্তির জন্য এমনটি করা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : ইসলামের দৃষ্টিতে আদর্শ পোশাকের বৈশিষ্ট্য কেমন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : রামাযান মাসের প্রথম দশদিন রহমত, দ্বিতীয় দশদিন মাগফিরাত এবং তৃতীয় দশদিন নাজাত- এ মর্মে পুরা মাসকে তিনভাগে ভাগ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : জনৈক আলেম বলেন, কুরবানী দিতে অক্ষম ব্যক্তিগণ কুরবানীর খালেছ নিয়তে যিলহজ্জ মাসের চাঁদ ওঠার পর নখ ও চুল না কাটলে সে আল্লাহর নিকটে তা পূর্ণাঙ্গ কুরবানী হিসাবে গৃহীত হবে। তিনি দলীল হিসাবে মিশকাত হা/১৪৭৯ পেশ করেছেন। সেই সাথে এটাও বলেছেন যে, শু‘আইব আরনাঊত্ব (রাহিমাহুল্লাহ) অত্র হাদীছটিকে হাসান বলেছেন। তবে শায়খ নাছিরুদ্দীন আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) অত্র হাদীছটিকে যঈফ বলেছেন। এখন আমরা দুই শায়খের মধ্যে কার তাহক্বীক্বকে প্রাধান্য দিব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : ফজরের আযানের পর মসজিদে গিয়ে সময় থাকলে মসজিদে প্রবেশের ২ রাক‘আত পড়া যাবে কি, না সরাসরি ২ রাক‘আত সুন্নাত পড়তে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : আমার চাচা আমার সামনে আমার মাকে গালিগালাজ করে। তাই আমি আল্লাহর কসম করে বলি যে, সে মারা গেলে তার জানাযায় আমি যাব না। এ রকম কসম করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কয়টি স্ত্রী ও কয়টি ছেলে-মেয়ে ছিল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : নবী-রাসূল, ছাহাবায়ে কেরামের বিভিন্ন ইতিহাস নিয়ে নির্মিত ভিডিও চিত্র দেখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : বড় ভাই আমাদের পারিবারিক খরচের জন্য আমাকে এক লক্ষ টাকা দিয়েছে। এই টাকার কি যাকাত দিতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : মোবাইলে ত্বালাক্ব দিলে ত্বালাক্ব পতিত হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ইসলামে চাঁদাবাজীর শাস্তি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ