শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:০৫ অপরাহ্ন
উত্তর : কাউকে এরূপ সম্বোধন করা উচিত নয়। ‘আলা ইবনুল মুসাইয়েব তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তার পিতা (মুসাইয়েব) বলেছেন,

لَا تَقُلْ لِصَاحِبِكَ يَا حِمَارُ يَا كَلْبُ يَا خِنْزِيْرُ فَيَقُوْلَ لَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَتَرَانِيْ خُلِقْت كَلْبًا أَوْ حِمَارًا أَوْ خِنْزِيْرًا؟

‘তোমার সঙ্গী-সাথীকে হে গাধা, হে কুকুর, হে শুয়োর বলে সম্বোধন করবে না। অন্যথা ক্বিয়ামতের দিন সে তোমাকে বলবে, তুমি কি মনে করতে যে, আমাকে কুকুর, গাধা বা শুয়োর রূপে সৃষ্টি করা হয়েছিল’? (মুছান্নাফে ইবনু আবী শায়বাহ, হা/২৬৬২৪)। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

ومن الألفاظ المذمومة المستعملة في العادة قوله لمن يخاصمه يا حمار يا تيس ياكلب ونحو ذلك فهذا قبيح لوجهين أحدهما أنه كذب والآخر أنه إيذاء

‘নিন্দনীয় যে সব শব্দ সচরাচর ব্যবহৃত হয় সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হল, ঝগড়াঝাঁটিতে প্রতিপক্ষকে বলা, হে গাধা, হে পাঠা/ছাগল, কুকুর ইত্যাদি। তা দু’টি কারণে কুৎসিত। একটি হল, তা মিথ্যা। অন্যটি হল কষ্টদায়ক’ (আল-আযকার, পৃ. ৩৬৫)।

শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘কোন মুমিন ব্যক্তির জন্য কাউকে গাধা, কুকুর, শুয়োর, খচ্চর, গরু-ছাগল ইত্যাদি বলে ডাকা শোভনীয় নয়। বরং সবচেয়ে সুন্দর নামে সম্বোধন করা উচিত। এসব উপাধি দিয়ে মানুষকে সম্বোধন করা হলে পারস্পারিক বিদ্বেষ সৃষ্টি, মন-কষাকষি, ঝগড়াঝাঁটি বা মারামারি হতে পারে’ (শায়খ ইবনু বাযের অফিসিয়াল ওয়েব সাইট)। শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘মানুষকে জীবজন্তু বা পশুর উপাধি দিয়ে ডাকা হারাম’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল, ৬/২৩৩, ২৩/২৩৬ পৃ.)। শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) ও উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) উভয়েই নিম্নোক্ত আয়াত দ্বারা দলীল পেশ করেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

یٰۤاَیُّہَا  الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا یَسۡخَرۡ قَوۡمٌ مِّنۡ قَوۡمٍ عَسٰۤی اَنۡ یَّکُوۡنُوۡا خَیۡرًا مِّنۡہُمۡ وَ لَا نِسَآءٌ  مِّنۡ  نِّسَآءٍ  عَسٰۤی اَنۡ یَّکُنَّ خَیۡرًا مِّنۡہُنَّ ۚ وَ لَا تَلۡمِزُوۡۤا اَنۡفُسَکُمۡ وَ لَا تَنَابَزُوۡا بِالۡاَلۡقَابِ ؕ بِئۡسَ الِاسۡمُ الۡفُسُوۡقُ بَعۡدَ الۡاِیۡمَانِ ۚ وَ مَنۡ لَّمۡ یَتُبۡ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الظّٰلِمُوۡنَ

‘হে ইমানদারগণ! কোনও মুমিন সম্প্রদায় যেন অপর কোনও মুমিন সম্প্রদায়কে উপহাস না করে। কেননা যাদেরকে উপহাস করা হচ্ছে তারা উপহাসকারীদের চেয়ে উত্তম হতে পারে এবং নারীরাও যেন অন্য নারীদেরকে উপহাস না করে। কেননা যাদেরকে উপহাস করা হচ্ছে তারা উপহাসকারিণীদের চেয়ে উত্তম হতে পারে। আর তোমরা একে অন্যের প্রতি দোষারোপ করো না এবং তোমরা একে অন্যকে মন্দ উপাধিতে ডেকো না। ঈমানের পর মন্দ উপাধি অতি নিকৃষ্ট। আর যারা তওবা করে না তারাই তো যালিম’ (সূরা আল-হুজুরাত : ১১)। ইমাম ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) উক্ত আয়াতে وَ لَا تَنَابَزُوۡا بِالۡاَلۡقَابِ ‘আর তোমরা একে অপরকে মন্দ উপাধিতে ডেকো না’-এর ব্যাখ্যায় বলেন, لا تتداعوا بالألقاب ، وهي التي يسوء الشخص سماعها ‘তোমারা একে অপরকে এমন সব উপাধি দ্বারা ডাকাডাকি করো না যা সে শুনতে অপসন্দ করে’ (তাফসীরে ইবনু কাছীর, ৭/৩৭৬ পৃ.)।

প্রশ্নকারী : আবূ তাহের, মোহনপুর, রাজশাহী।





প্রশ্ন (১৬) : যাদের মানহাজ-আক্বীদা সঠিক নয়, তাদের কুরআন তিলাওয়াত বা ইলমী আলোচনা শুনা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : যারা বলেন, নবীজি (ﷺ) হাজির নাযির। তারা দলীল দেয় যে, ‘যখনই যে কেউ আমাকে সালাম করেন তখনই আল্লাহ আমার রূহকে আমার কাছে ফিরিয়ে দেন, যেন আমি তার সালামের উত্তর দিতে পারি’। তাহলে নবী (ﷺ) কি কবরে জীবিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : মহিলার পেটে বাচ্চা থাকলে কি ত্বালাক্ব পতিত হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪): বর্তমানে নবী ও রাসূল সম্পর্কিত বহু কার্টুন ও মুভী প্রকাশিত হয়েছে, যার মাধ্যমে নবীদের কাহিনী শেখা যায়। প্রশ্ন হল- এগুলো দেখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : হিসাববিজ্ঞান পড়ার ক্ষেত্রে সূদী লেনদেনের হিসাব শিখতে হয়। প্রশ্ন হল, হিসাব বিজ্ঞান সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জন করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : জনৈক আলেম বলেন, একদা রাসূল (ﷺ) ফজরের ছালাতের সালাম ফিরিয়ে ঘুরে বসে দু’হাত উঠিয়ে দু‘আ করেছিলেন (ফাতাওয়া নাযীরিয়াহ, ১/৫৬৫ পৃ.; তুহফাতুল আহওয়াযী, ২/১৭১ পৃ., হা/২৯৯ এর ব্যাখ্যা দ্র.)। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : মৃত ব্যক্তির নামে ইফতার মাহফিল করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : জর্দাখোরের ইমামতিতে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : আহলেহাদীছদের বাহ্যিক নিদর্শনগুলো কী কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪): গরীব-মিসকীন ছাড়া ক্বুরআনে উল্লেখিত আট শ্রেণীর অন্যদের মাঝে কি ফিতরা বণ্টন করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : রাসূল (ﷺ) কি তার সকল বক্তব্যের ক্ষেত্রেই দাঁড়িয়ে এবং হাতে লাঠি নিয়ে বক্তব্য দিতেন? এখন যারা মাহফিল, তা‘লীমী বৈঠকে বক্তব্য রাখেন, তাদের কি দাঁড়িয়ে এবং হাতে লাঠি নিয়ে বক্তব্য রাখা উচিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : পাইলস, অর্শ, ভগন্দর রোগের কারণে তেল বা মলম ব্যবহার করলে ছিয়ামের কোন ক্ষতি হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ