মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫২ অপরাহ্ন
উত্তর : কাউকে এরূপ সম্বোধন করা উচিত নয়। ‘আলা ইবনুল মুসাইয়েব তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তার পিতা (মুসাইয়েব) বলেছেন,

لَا تَقُلْ لِصَاحِبِكَ يَا حِمَارُ يَا كَلْبُ يَا خِنْزِيْرُ فَيَقُوْلَ لَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَتَرَانِيْ خُلِقْت كَلْبًا أَوْ حِمَارًا أَوْ خِنْزِيْرًا؟

‘তোমার সঙ্গী-সাথীকে হে গাধা, হে কুকুর, হে শুয়োর বলে সম্বোধন করবে না। অন্যথা ক্বিয়ামতের দিন সে তোমাকে বলবে, তুমি কি মনে করতে যে, আমাকে কুকুর, গাধা বা শুয়োর রূপে সৃষ্টি করা হয়েছিল’? (মুছান্নাফে ইবনু আবী শায়বাহ, হা/২৬৬২৪)। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

ومن الألفاظ المذمومة المستعملة في العادة قوله لمن يخاصمه يا حمار يا تيس ياكلب ونحو ذلك فهذا قبيح لوجهين أحدهما أنه كذب والآخر أنه إيذاء

‘নিন্দনীয় যে সব শব্দ সচরাচর ব্যবহৃত হয় সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হল, ঝগড়াঝাঁটিতে প্রতিপক্ষকে বলা, হে গাধা, হে পাঠা/ছাগল, কুকুর ইত্যাদি। তা দু’টি কারণে কুৎসিত। একটি হল, তা মিথ্যা। অন্যটি হল কষ্টদায়ক’ (আল-আযকার, পৃ. ৩৬৫)।

শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘কোন মুমিন ব্যক্তির জন্য কাউকে গাধা, কুকুর, শুয়োর, খচ্চর, গরু-ছাগল ইত্যাদি বলে ডাকা শোভনীয় নয়। বরং সবচেয়ে সুন্দর নামে সম্বোধন করা উচিত। এসব উপাধি দিয়ে মানুষকে সম্বোধন করা হলে পারস্পারিক বিদ্বেষ সৃষ্টি, মন-কষাকষি, ঝগড়াঝাঁটি বা মারামারি হতে পারে’ (শায়খ ইবনু বাযের অফিসিয়াল ওয়েব সাইট)। শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘মানুষকে জীবজন্তু বা পশুর উপাধি দিয়ে ডাকা হারাম’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল, ৬/২৩৩, ২৩/২৩৬ পৃ.)। শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) ও উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) উভয়েই নিম্নোক্ত আয়াত দ্বারা দলীল পেশ করেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

یٰۤاَیُّہَا  الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا یَسۡخَرۡ قَوۡمٌ مِّنۡ قَوۡمٍ عَسٰۤی اَنۡ یَّکُوۡنُوۡا خَیۡرًا مِّنۡہُمۡ وَ لَا نِسَآءٌ  مِّنۡ  نِّسَآءٍ  عَسٰۤی اَنۡ یَّکُنَّ خَیۡرًا مِّنۡہُنَّ ۚ وَ لَا تَلۡمِزُوۡۤا اَنۡفُسَکُمۡ وَ لَا تَنَابَزُوۡا بِالۡاَلۡقَابِ ؕ بِئۡسَ الِاسۡمُ الۡفُسُوۡقُ بَعۡدَ الۡاِیۡمَانِ ۚ وَ مَنۡ لَّمۡ یَتُبۡ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الظّٰلِمُوۡنَ

‘হে ইমানদারগণ! কোনও মুমিন সম্প্রদায় যেন অপর কোনও মুমিন সম্প্রদায়কে উপহাস না করে। কেননা যাদেরকে উপহাস করা হচ্ছে তারা উপহাসকারীদের চেয়ে উত্তম হতে পারে এবং নারীরাও যেন অন্য নারীদেরকে উপহাস না করে। কেননা যাদেরকে উপহাস করা হচ্ছে তারা উপহাসকারিণীদের চেয়ে উত্তম হতে পারে। আর তোমরা একে অন্যের প্রতি দোষারোপ করো না এবং তোমরা একে অন্যকে মন্দ উপাধিতে ডেকো না। ঈমানের পর মন্দ উপাধি অতি নিকৃষ্ট। আর যারা তওবা করে না তারাই তো যালিম’ (সূরা আল-হুজুরাত : ১১)। ইমাম ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) উক্ত আয়াতে وَ لَا تَنَابَزُوۡا بِالۡاَلۡقَابِ ‘আর তোমরা একে অপরকে মন্দ উপাধিতে ডেকো না’-এর ব্যাখ্যায় বলেন, لا تتداعوا بالألقاب ، وهي التي يسوء الشخص سماعها ‘তোমারা একে অপরকে এমন সব উপাধি দ্বারা ডাকাডাকি করো না যা সে শুনতে অপসন্দ করে’ (তাফসীরে ইবনু কাছীর, ৭/৩৭৬ পৃ.)।

প্রশ্নকারী : আবূ তাহের, মোহনপুর, রাজশাহী।





প্রশ্ন (২৩) : নিয়তের খবর কি দু’কাঁধের ফেরেশতারা জানে? একটি হাদীছে এসেছে যে, ‘মানুষের ভাল কাজের নিয়ত করার সাথে সাথে একটি ছাওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়। অতঃপর ঐ কাজ বাস্তবায়ন করলে দু’টি ছাওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়। আর মানুষের মন্দ কাজের নিয়ত করার সাথে সাথে পাপ লেখা হয় না, বরং তা বাস্তবায়নের পরে লেখা হয়’। এ হাদীছের ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : একটি মসজিদের পাশে কবর, মসজিদ এবং কবরের মাঝে দুই থেকে তিন ফিটের একটি রাস্তা আছে, কবরের আলাদা বাউন্ডারি এবং ছাদ আছে। কিন্তু মসজিদ দোতলা করার সময় দোতলার অংশটি পিলার দিয়ে কবরের উপরে করে দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় এই মসজিদে ছালাত পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : চেয়ারে বসে ছালাত আদায় করা যাবে কি? যদি যায়, তবে চেয়ার কাতারের কোথায় রাখতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : বড় অপবিত্রতা থেকে গোসল করার পদ্ধতি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : হাদীছে এসেছে, ‘যা তোমার হাতে নেই তা বিক্রি করো না’ (আবূ দাঊদ, হা/৩৫০৩)। এই হাদীছের সঠিক ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : বোন জীবিত থাকা অবস্থায় দুলাভাইয়ের সামনে কেমন পর্দা করতে হবে? নন মাহরাম ব্যক্তির সামনে হিজাব-নিকাব পরে যেমন যায় তেমন, না-কি ঢিলাঢেলা পোশাক পরে হাত মুখ খোলা রেখে যাওয়া যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : একজন মুসলিম ব্যক্তি ছিয়ামের পরিবর্তে কখন ফিদইয়া দিবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : একজন মেয়ের বিয়ের আগে অন্যদের ফোনে ছবি তোলা ছিল। প্রশ্ন হল- বিয়ের আগের যে ছবিগুলো অন্যের ফোনে থেকে গেছে সেগুলো অন্য কেউ দেখলে কি ঐ মেয়ের গুনাহ হতেই থাকবে, না-কি তাওবা করলে মাফ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : ‘কুযা’ কাকে বলে? কিছু কিছু যুবক তাদের মাথার সাইডের চুলগুলো কেটে মাঝখানের চুলগুলো রেখে দেয়। প্রশ্ন হল- শরী‘আতের দৃষ্টিতে পুরুষের মাথার চুল কাটার পদ্ধতি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : ইন্টারনেটের মাধ্যমে আবহাওয়ার বিভিন্ন সংবাদ যেমন বৃষ্টি, চন্দ্রগ্রহণ, সূর্যগ্রহণ ইত্যাদি অনেক আগেই অবগত হওয়া যায়।  প্রশ্ন হল, এগুলো বিশ্বাস করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : জনৈক আলেম বলেন, মসজিদে প্রবেশ করে ইচ্ছা করে ছালাত না পড়ে বসলে কোন গুনাহ হবে না, কারণ এটা নফল ছালাত। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : ‘আমরা চাইলে জীবনের প্রতিটা মুহূর্তকেই আনন্দময় করে তুলতে পারি’, এরূপ বলা কি শিরক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ