বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন
উত্তর : কাউকে এরূপ সম্বোধন করা উচিত নয়। ‘আলা ইবনুল মুসাইয়েব তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তার পিতা (মুসাইয়েব) বলেছেন,

لَا تَقُلْ لِصَاحِبِكَ يَا حِمَارُ يَا كَلْبُ يَا خِنْزِيْرُ فَيَقُوْلَ لَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَتَرَانِيْ خُلِقْت كَلْبًا أَوْ حِمَارًا أَوْ خِنْزِيْرًا؟

‘তোমার সঙ্গী-সাথীকে হে গাধা, হে কুকুর, হে শুয়োর বলে সম্বোধন করবে না। অন্যথা ক্বিয়ামতের দিন সে তোমাকে বলবে, তুমি কি মনে করতে যে, আমাকে কুকুর, গাধা বা শুয়োর রূপে সৃষ্টি করা হয়েছিল’? (মুছান্নাফে ইবনু আবী শায়বাহ, হা/২৬৬২৪)। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

ومن الألفاظ المذمومة المستعملة في العادة قوله لمن يخاصمه يا حمار يا تيس ياكلب ونحو ذلك فهذا قبيح لوجهين أحدهما أنه كذب والآخر أنه إيذاء

‘নিন্দনীয় যে সব শব্দ সচরাচর ব্যবহৃত হয় সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হল, ঝগড়াঝাঁটিতে প্রতিপক্ষকে বলা, হে গাধা, হে পাঠা/ছাগল, কুকুর ইত্যাদি। তা দু’টি কারণে কুৎসিত। একটি হল, তা মিথ্যা। অন্যটি হল কষ্টদায়ক’ (আল-আযকার, পৃ. ৩৬৫)।

শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘কোন মুমিন ব্যক্তির জন্য কাউকে গাধা, কুকুর, শুয়োর, খচ্চর, গরু-ছাগল ইত্যাদি বলে ডাকা শোভনীয় নয়। বরং সবচেয়ে সুন্দর নামে সম্বোধন করা উচিত। এসব উপাধি দিয়ে মানুষকে সম্বোধন করা হলে পারস্পারিক বিদ্বেষ সৃষ্টি, মন-কষাকষি, ঝগড়াঝাঁটি বা মারামারি হতে পারে’ (শায়খ ইবনু বাযের অফিসিয়াল ওয়েব সাইট)। শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘মানুষকে জীবজন্তু বা পশুর উপাধি দিয়ে ডাকা হারাম’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল, ৬/২৩৩, ২৩/২৩৬ পৃ.)। শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) ও উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) উভয়েই নিম্নোক্ত আয়াত দ্বারা দলীল পেশ করেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

یٰۤاَیُّہَا  الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا یَسۡخَرۡ قَوۡمٌ مِّنۡ قَوۡمٍ عَسٰۤی اَنۡ یَّکُوۡنُوۡا خَیۡرًا مِّنۡہُمۡ وَ لَا نِسَآءٌ  مِّنۡ  نِّسَآءٍ  عَسٰۤی اَنۡ یَّکُنَّ خَیۡرًا مِّنۡہُنَّ ۚ وَ لَا تَلۡمِزُوۡۤا اَنۡفُسَکُمۡ وَ لَا تَنَابَزُوۡا بِالۡاَلۡقَابِ ؕ بِئۡسَ الِاسۡمُ الۡفُسُوۡقُ بَعۡدَ الۡاِیۡمَانِ ۚ وَ مَنۡ لَّمۡ یَتُبۡ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الظّٰلِمُوۡنَ

‘হে ইমানদারগণ! কোনও মুমিন সম্প্রদায় যেন অপর কোনও মুমিন সম্প্রদায়কে উপহাস না করে। কেননা যাদেরকে উপহাস করা হচ্ছে তারা উপহাসকারীদের চেয়ে উত্তম হতে পারে এবং নারীরাও যেন অন্য নারীদেরকে উপহাস না করে। কেননা যাদেরকে উপহাস করা হচ্ছে তারা উপহাসকারিণীদের চেয়ে উত্তম হতে পারে। আর তোমরা একে অন্যের প্রতি দোষারোপ করো না এবং তোমরা একে অন্যকে মন্দ উপাধিতে ডেকো না। ঈমানের পর মন্দ উপাধি অতি নিকৃষ্ট। আর যারা তওবা করে না তারাই তো যালিম’ (সূরা আল-হুজুরাত : ১১)। ইমাম ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) উক্ত আয়াতে وَ لَا تَنَابَزُوۡا بِالۡاَلۡقَابِ ‘আর তোমরা একে অপরকে মন্দ উপাধিতে ডেকো না’-এর ব্যাখ্যায় বলেন, لا تتداعوا بالألقاب ، وهي التي يسوء الشخص سماعها ‘তোমারা একে অপরকে এমন সব উপাধি দ্বারা ডাকাডাকি করো না যা সে শুনতে অপসন্দ করে’ (তাফসীরে ইবনু কাছীর, ৭/৩৭৬ পৃ.)।

প্রশ্নকারী : আবূ তাহের, মোহনপুর, রাজশাহী।





প্রশ্ন (৬) : চোখের যিনা কাবীরা গুনাহ, না-কি ছাগীরা গুনাহ? এটার জন্য কি তওবা করতে হবে, না-কি সৎ আমলের দ্বারা মাফ হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৩) : সমাজের অধিকাংশ মসজিদে দেখা যায় যে, ছালাতে তারা নাভীর নীচে হাত বেঁধে থাকে। প্রশ্ন হল- নাভীর নীচে হাত বাঁধার দলীল আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : কুরআন যেমন আল্লাহর কালাম অনুরূপ হাদীছের ক্ষেত্রে আমাদের আক্বীদা কেমন হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : বিভিন্ন কাজে পত্রিকার কাগজ ব্যবহার করা হয়। যদি ঐ পত্রিকায় আল্লাহর নাম বা কুরআনের আয়াত বা হাদীছ থাকে, তাহলে ব্যবহার করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : ফজরের ওয়াক্ত পুরো সময় বায়ু বের হয় এমনকি মাঝে মধ্যে ওযূতেও বায়ু বের হয়। অন্য ওয়াক্তে মাঝে মাঝে এমনটি হয়। এখন উক্ত ব্যক্তি কি মা‘যূর? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : ‘ক্বিয়ামতের দিন গোটা পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে, তবে মসজিদগুলো ধ্বংস হবে না। সেগুলো একটি আরেকটির সাথে যুক্ত হবে এবং কা‘বার সাথে গিয়ে মিলিত হবে’। এ মর্মে কোন দলীল আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : মোবাইলের রিংটোন হিসাবে দু‘আ বা কুরআনের আয়াত ব্যবহার করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : আউয়াল ওয়াক্তে ফরয ছালাত আদায় করে বিলম্বিত ওয়াক্তে মসজিদে ছালাত আদায়ের ক্ষেত্রে মুছল্লী কি নফল ছালাতের নিয়ত করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : তিলাওয়াতে সিজদাহর নিয়ম কী এবং এ জন্য কোন নির্দিষ্ট কোন দু‘আ আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির টাকা ফেরত দেয়ার সক্ষমতা নেই। এক্ষেত্রে ঋণদাতা যদি তাকে পাফ করে দেয় তাহলে তার ফযীলত কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : তারাবীহর ছালাত চলছে। এমতাবস্থায় এশার ফরয ছালাত আদায়ের নিয়ত করে তারাবীহর জামা‘আতে শরীক হওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : আমি সফরে নিদিষ্ট দূরত্ব অতিক্রম করি। বাড়ি থেকে সকালে বের হয়ে আবার রাতের মধ্যে বাড়ি ফিরে আসি। প্রশ্ন হল- এরকম সময় আমি কি ছালাত কছর করতে পারব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ