রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন
উত্তর : যদি কেউ কাউকে গুনাহের কাজে সহযোগিতা করে, উৎসাহিত করে, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বাধা প্রদান না করে, তবে অবশ্যই সে তার গুনাহের অংশীদার হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাক্বওয়ায় পরস্পর সহযোগিতা কর। মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে একে অন্যের সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি প্রদানে অত্যধিক কঠোর’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ২)। উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) ও ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এখানে আল্লাহ তা‘আলা মুমিন ব্যক্তিদেরকে ভালো কাজে সহযোগিতা করতে আদেশ করেছেন এবং অন্যায়, অসৎ ও হারাম কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছেন’ (তাফসীর ইবনে কাছীর, ২/১২; তাফসীরে কুরতুবী, ৬/৪৬-৪৭ পৃ.)

এমতাবস্থায় ঐ ব্যক্তিকে আল্লাহর নিকট একনিষ্ঠচিত্তে তাওবাহ করতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা খালিছ তাওবার মাধ্যমে শিরকের মত ধ্বংসাত্মক পাপও ক্ষমা করে দেন (সূরা আল-ফুরক্বান : ৭০; গিযাউল আলবাব, ২/৫৮১; আল-ই‘তিছাম, ২/২৮১; মাজাল্লাতুল বুহূছিল ইসলামিয়্যাহ, ১৪/১৮৩-১৮৫ পৃ.)। অতএব তাকে বেশি বেশি তাওবাহ-ইস্তিগফার, আমালে ছালিহাহ, ছালাত আদায়, ছাদাক্বাহ ইত্যাদি করতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘অবশ্যই আমি তার প্রতি ক্ষমাশীল, যে তাওবাহ করে, ঈমান আনয়ন করে এবং সৎকর্ম করে অতঃপর সৎ পথে চলতে থাকে’ (সূরা ত্বো-হা : ৮২)। নবী (ﷺ) বলেছেন, ‏التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ"‏ ‘গুনাহ থেকে তাওবাহকারী নিষ্পাপ ব্যক্তিতুল্য (ইবনু মাজাহ, হা/৪২৫০, সনদ হাসান)

আর কিয়ামতের দিন প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিজ নিজ পাপ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে হবে। আল্লাহ কারো উপর যুলম করবেন না। আর কেউ অন্য কারো পাপের বোঝা বহন করবে না। আল্লাহ্ বলেন, প্রত্যেকেই স্বীয় কৃতকর্মের জন্য দায়ী হবে এবং কেউ অন্য কারো ভার বহন করবে না’ (সূরা আল-আন‘আম : ১৬৪)। উপরিউক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় হাফিয ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ আয়াত আরো রয়েছে। মূলত এই আয়াতগুলোর মাধ্যমে এই সংবাদ দেয়া হয়েছে যে, ক্বিয়ামতের দিন যে শাস্তি দেয়া হবে তা নিপুণতা ও ন্যায়ের ভিত্তিতেই হবে। আমলের প্রতিফল আমলকারীই পাবে। ভাল লোককে ভাল প্রতিদান এবং মন্দ লোককে মন্দ প্রতিদান দেয়া হবে। আর নিশ্চিতরূপে একজনের পাপের কারণে অপরজনকে শাস্তি দেয়া হবে না।

যেমন আল্লাহ বলেন, ‘কোন বহনকারী অপরের বোঝা বহন করবে না, কারো পাপের বোঝা গুরুভার হলে সে যদি অন্যকে তা বহন করতে আহ্বান করে, তবুও কেউ তা বহন করবে না, যদিও সে নিকটাত্মীয় হয়’ (সূরা আল-ফাত্বির : ১৮)। তবে যারা অন্যায়কে অন্যায় মনে করে প্রতিবাদ করে না তারা শাস্তি পাবে, বরং তাকে এজন্য শাস্তি দেয়া হবে যে, সে তার দায়িত্ব সম্পর্কে উদাসীন। সে প্রতিবাদ না করে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। বাধা প্রদান তো করেই না, উপরন্ত সন্তুষ্টি প্রকাশ করে এবং বোবা, বধির ও অন্ধ শয়তানের ন্যায় চোখ বুজে মৌন সম্মতি জ্ঞাপন করে। আর তাদের অবাধ বিচরণে ও তাদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করণার্থে সার্বিকভাবে সহযোগিতার হস্তদ্বয় প্রসারিত করে বলেই তারা অপরাধী (মির‘আতুল মাফাতীহ, ৬/২৩৯৯; লিক্বাউল বাব আল-মাফতূহ, ২/৪৮ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-২৫১১০৪)


প্রশ্নকারী : রিদুওয়ানুল কবির, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম।





প্রশ্ন (১৮) :  যেখানে পানির ব্যবস্থা নেই, সেখানে পেশাব করার পর শুধু ঢিল বা টিস্যু নিয়ে পবিত্রতা হাছিল করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : সূর্যাস্তের সময় ‘দুখূলুল মসজিদ’ আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : ‘যে ব্যক্তি সব মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীর জন্য দু‘আ করবে আল্লাহ তাকে প্রতিটি মুমিন পুরুষ ও নারীর পরিবর্তে একটি করে পুণ্য দেবেন’। হাদীছটি কী ছহীহ? ছহীহ হলে কোন্ দু‘আটি পড়তে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : খ্রিষ্টানদের পরিচালিত কলেজে অধ্যয়ন করার কারণে নিয়মানুযায়ী ক্রুশযুক্ত পোশাক পরতে হয়। এই পোশাক পরা কি শরী‘আতসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক রাতে সূরা আল-ওয়াক্বি‘আহ পড়বে, সে কখনো অভাবের মধ্যে পড়বে না। ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) তার মেয়েদেরকে প্রত্যেক রাতে উক্ত সূরা পড়তে বলতেন (বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান, হা/২৪৯৮; মিশকাত, হা/২১৮১)। বর্ণনাটির তাহক্বীক্ব জানতে চাই। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : ‘আমি তখনও ছিলাম নবী; আদম (আলাইহিস সালাম) যখন রূহ এবং দেহের মধ্যে ছিলেন’ (আহমাদ, হা/১৭১৬৩; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/৩৭৩) মর্মে হাদীছটি কি ছহীহ? এই হাদীছের সঠিক ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩): যাকাত, যাকাতুল ফিতর ও কুরবানীর পশুর চামড়ার মূল্য মাদরাসা নির্মাণ কাজে ব্যয় করা যাবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : জনৈক আলেম বলেন, আরাফার দিন ছিয়াম রাখলে ১০০০ ছিয়ামের সময় নেকী পাওয়া যাবে। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : জনৈক খত্বীব বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মিলনের সময় পর্দা না করলে নাকি ফেরেশতাগণ লজ্জায় চলে যায় এবং শয়তান এসে হাযির হয়। তাদের সন্তান হলে শয়তান তাতে ভাগ বসায়। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : ওযূতে কান মাসাহ-এর ক্ষেত্রে কানের ভিতরের অংশ বলতে কোন্ অংশকে বুঝায়? শুধু কানের ছিদ্র, না-কি ভিতরের সম্পূর্ণ অংশ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : ছহীহ হাদীছের অনুসরণ করার কারণে অনেকে ‘জঙ্গী’ বলছে। এ জন্য পরিবারও চিন্তিত। তারাও চাপ সৃষ্টি করছে। এমন পরিস্থিতিতে কী করা উচিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : কোন মুসাফির ব্যক্তির এমন হতে পারে যে, তার ছিয়াম পালন অবস্থায় বিমান উড্ডয়নের পূর্বে সূর্য অস্ত গেল। ফলে সে ইফতার করল। কিন্তু বিমান উড্ডয়নের পরে সে সূর্য দেখতে পেল। এমতাবস্থায় তার হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ