রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০২:৫৯ অপরাহ্ন
উত্তর : শেষ বৈঠকে বসার শরী‘আত সম্মত পদ্ধতিকে ইসলামী পরিভাষায় ‘তাওয়াররুক’ বলা হয়। তাওয়াররুক বলতে বুঝায় ‘দ্বিতীয় বা শেষ বৈঠকে বসার সময় ডান পাকে খাড়া করে রাখা এবং বাম পাকে ডান পায়ের নিচ দিয়ে বের করে দেয়া অতঃপর বাম নিতম্বের উপর ভর করে ভূপৃষ্ঠের উপর বসা’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১০৩৮৮৬)। পক্ষান্তরে প্রথম বৈঠকে বসার শরী‘আতসম্মত পদ্ধতিকে ‘ইফ্তিরাশ’ বলা হয়। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ইফিতরাশ বলতে বুঝায়, বাম পাকে বিছিয়ে দিয়ে তার উপর নিতম্ব রেখে বসা, আর ডান পাকে খাড়া করে রাখা’ (কিতাবুল মাজমূঊ, ৩/৪৩৭ পৃ.)। যা দুই রাক‘আত বিশিষ্ট ছালাতে করতে হয় যাতে শুধু একটি-ই তাশাহ্হুদ থাকে। এটাই সুন্নাত (নাসাঈ হা/১১৫৯; মুসলিম হা/৪৯৮; তামামুল মিন্নাহ, পৃ: ২২৩; বিস্তারিত আলোচনা দ্র. মির‘আতুল মাফাতীহ হা/৯১৭-এর ব্যাখ্যা)। যেমন, ফজর, জুমু‘আহ ও অন্যান্য দুই রাক‘আত বিশিষ্ট ছালাত।

সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি, শাফিঈ, হাম্বালী মাযহাবের আলেমগণ, ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম, ইমাম ইবনু কুদামাহ, শায়খ উছাইমীন ও শায়খ আলবানী (রাহিমাহুমুল্লাহ) বলেন, ‘যে সকল ছালাতে দু’টি তাশাহ্হুদ আছে শুধু তার শেষ তাশাহ্হুদের বৈঠকে-ই তাওয়াররুক করা সুন্নাত। যেমন মাগরিব, এশা, জোহর ও আছরের ছালাত। পক্ষান্তরে যেগুলো দুই রাক‘আত বিশিষ্ট ছালাত যাতে শুধু একটি-ই তাশাহ্হুদ থাকে, সে সমস্ত ছালাতের বৈঠকে তাওয়াররুক করা সুন্নাত নয়। যেমন, ফজর, জুমু‘আহ ও অন্যান্য নফল ছালাত’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়েমাহ, ১/৩৪৯, ৬/৪৪৬ ও ৭/১৫-১৮ পৃ.; তুহফাতুল মুহতাজ, ২/৭৯ পৃ.; মুগনীউল মুহতাজ, ১/১৭২ পৃ.; আসনাল মাত্বালীব, ১/১৬৪ পৃ.; আল-ইনছাফ, ২/৬৫ পৃ.; কাশ্শাফুল ক্বিনা‘, ১/৩৬৩-৩৬৪ ও ৩৯২ পৃ.; যাদুল মা‘আদ, ১/২৩৫, ২৪৫ পৃ.; আল-মুগনী, ১/৩১৮ পৃ. ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, পৃ. ৩৩৪, ফৎওয়া নং-২৫৬; ছিফাতু ছালাতিন নবী, পৃ. ১৮১)। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) ও শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘প্রথম তাশাহ্হুদে ইফতিরাশ করা সুন্নাত, আর দ্বিতীয় তাশাহহুদে তাওয়াররুক করা সুন্নাত’ (কিতাবুল মাজমূঊ, ৩/৪৫১ পৃ.; যাদুল মা‘আদ, ১/২৪৬ পৃ.; ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব ইিবনি বায, ৮/৩৫৩ পৃ.)। আবূ হুমাইদ আস-সাঈদী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রশিক্ষণ দেয়া হাদীছে এসেছে,.....

فَإِذَا جَلَسَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ جَلَسَ عَلَى رِجْلِهِ الْيُسْرَى وَنَصَبَ الْيُمْنَى وَإِذَا جَلَسَ فِي الرَّكْعَةِ الآخِرَةِ قَدَّمَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَنَصَبَ الأُخْرَى وَقَعَدَ عَلَى مَقْعَدَتِهِ‏.‏

‘‌যখন তিনি দুই রাক‘আতের পর বসতেন তখন বাম পায়ের উপর বসতেন আর ডান পা খাড়া করে রাখতেন এবং যখন শেষ রাক‘আতে বসতেন তখন তিনি তাঁর বাম পা এগিয়ে দিতেন, আর ডান পা খাড়া করে রাখতেন এবং স্বীয় নিতম্বের উপর ভর করে বসতেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/৮২৮; আবূ দাঊদ, হা/৭৩০, ৭৩১)।

এ প্রসঙ্গে শায়খ ইবনু বায, শায়খ নাছিরুদ্দিন আলবানী, শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুমুল্লাহ) বলেন, ‘এই সুন্নাত নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে-ই প্রমাণিত। কেননা ইসলামী শরী‘আতের বিধানের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয়ে-ই বরাবর। তবে ছহীহ সুন্নাহর আলোকে ও দলীলের ভিত্তিতে যে কয়েকটি বিষয়ে মহিলারা পুরুষদের থেকে ভিন্নরূপ আমল করে থাকে তা ব্যতীত। এক্ষেত্রে এমন কোন ছহীহ দলীল পাওয়া যায় না যার দ্বারা নারী-পুরুষের ছালাতে পার্থক্য প্রমাণিত হয়। ছালাতের পদ্ধতির ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সকলেই সমান (মাজমূঊ ফাতাওয়া লিইবনি বায, ১১/৭৯-৪১ পৃ.; ছিফাতু ছালাতিন নবী (ﷺ), পৃ. ১৮৯, আশ-শারহুল মুমতি‘, ৩/৩০৩-৩০৪ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৩৮১৬২)।

রাসূল (ﷺ) বলেন, إِنَّمَا النِّسَاءُ شَقَائِقُ الرِّجَالِ ‘নারীরা তো পুরুষের-ই সহোদরা’ (আবূ দাঊদ, হা/২৩৬; তিরমিযী, হা/১১৩; সনদ হাসান)। এছাড়া ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) উম্মুদ দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করে বলেছেন, أَنَّهَا  كَانَتْ تَجْلِسُ فِىْ صَلَاتِهَا جِلْسَةَ الرَّجُلِ وَكَانَتْ فَقِيْهَةً ‘তিনি (উম্মুদ দারদা) ছালাতে পুরুষের মতই বসতেন, আর তিনি একজন ফকীহাহ অর্থাৎ দ্বীনি জ্ঞানের অধিকারিণী ছিলেন’ (তা‘লীকু ছহীহিল বুখারী, হা/৮২৭;০ আত-তারীখুছ ছাগীর, ৯৫ পৃ.; ফাৎহুল বারী, ২/৩৫৫; ছিফাতু ছাালাতিন নবী (ﷺ), পৃ. ১৮৯)। এ সম্পর্কে বিখ্যাত তাবিঈ ইবরাহীম নাখাঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, تفعل المرأة في الصلاة كما يفعل الرجل ‘নারীরা ছালাতে তাই করবে যা একজন পুরুষ করে। এটি বর্ণনা করেছেন ইবনু আবী শাইবাহ’ (ছিফাতু ছালাতীন নবী (ﷺ), পৃ. ১৮৯)।


প্রশ্নকারী : সাদ্দাম, গোদাগাড়ী, রাজশাহী।





প্রশ্ন (১০) : এলাকাবাসী কোন মৃত ব্যক্তির জানাযায় উপস্থিত হয়ে তার ব্যাপারে ভাল গুণ আলোচনা করলে কোন উপকারে আসবে কি? যদিও সে জুমু‘আর ছালাত ব্যতীত পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত আদায় করত না। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : জনৈক ব্যক্তি বলেছেন, বক্তব্যে অতিরঞ্জিত কথা বলা শয়তানের বমি করার শামিল। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : প্রসিদ্ধ চার মাযহাবের অনুসরণ করার বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : জুমু‘আহ ও পাঁচ ওয়াক্ত ছালাতের আযান মসজিদের কোন্ জায়গা থেকে দিতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : প্রচলিত রয়েছে যে, ইফতারের পূর্বমুহূর্তে দু‘আ কবুল হয়। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : এক ওয়াক্ত ছালাত ক্বাযা করলে এবং পরে পড়ে নিলেও ২ লক্ষ ৮৮ বছর জাহান্নামে থাকতে হবে (ফাযায়েলে নামায, পৃ. ১১৬)। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : মুরতাদ কাকে বলে? ইসলামে মুরতাদের শাস্তি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : ছিয়াম পালনকারীর শ্বাসকষ্ট উপশমকারী স্প্রে (ইনহেইলার বা পাফার) ব্যববারের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রুকইয়া করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : প্রবাসে অবৈধভাবে বসবাসকারী অনেকে ঋণগ্রস্ত অবস্থায় আছে, যাদের দেশে এসে জীবন ধারণের কোন ব্যবস্থা নেই। তাদের ক্ষেত্রে অবৈধভাবে প্রবাসে থেকে অর্থ উপার্জন করা কি হালাল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : উটের মালিক সম্মান ও ইজ্জতের অধিকারী এবং ছাগল বরকতপূর্ণ প্রাণী। আর ঘোড়ার কপালে ক্বিয়ামত পর্যন্ত কল্যাণ বাঁধা থাকবে। উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : চার রাক‘আত বিশিষ্ট ছালাতে ১ম রাক‘আত যদি ছুটে যায়, তাহলে ইমামের সাথে তিন রাক‘আত আদায় করার পর শেষ রাক‘আতে শুধু সূরা ফাতিহা পড়লে হবে, না-কি ফাতিহার সাথে অন্য আরেকটি সূরা মিলাতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ