রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:২৯ অপরাহ্ন
উত্তর : শেষ বৈঠকে বসার শরী‘আত সম্মত পদ্ধতিকে ইসলামী পরিভাষায় ‘তাওয়াররুক’ বলা হয়। তাওয়াররুক বলতে বুঝায় ‘দ্বিতীয় বা শেষ বৈঠকে বসার সময় ডান পাকে খাড়া করে রাখা এবং বাম পাকে ডান পায়ের নিচ দিয়ে বের করে দেয়া অতঃপর বাম নিতম্বের উপর ভর করে ভূপৃষ্ঠের উপর বসা’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১০৩৮৮৬)। পক্ষান্তরে প্রথম বৈঠকে বসার শরী‘আতসম্মত পদ্ধতিকে ‘ইফ্তিরাশ’ বলা হয়। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ইফিতরাশ বলতে বুঝায়, বাম পাকে বিছিয়ে দিয়ে তার উপর নিতম্ব রেখে বসা, আর ডান পাকে খাড়া করে রাখা’ (কিতাবুল মাজমূঊ, ৩/৪৩৭ পৃ.)। যা দুই রাক‘আত বিশিষ্ট ছালাতে করতে হয় যাতে শুধু একটি-ই তাশাহ্হুদ থাকে। এটাই সুন্নাত (নাসাঈ হা/১১৫৯; মুসলিম হা/৪৯৮; তামামুল মিন্নাহ, পৃ: ২২৩; বিস্তারিত আলোচনা দ্র. মির‘আতুল মাফাতীহ হা/৯১৭-এর ব্যাখ্যা)। যেমন, ফজর, জুমু‘আহ ও অন্যান্য দুই রাক‘আত বিশিষ্ট ছালাত।

সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি, শাফিঈ, হাম্বালী মাযহাবের আলেমগণ, ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম, ইমাম ইবনু কুদামাহ, শায়খ উছাইমীন ও শায়খ আলবানী (রাহিমাহুমুল্লাহ) বলেন, ‘যে সকল ছালাতে দু’টি তাশাহ্হুদ আছে শুধু তার শেষ তাশাহ্হুদের বৈঠকে-ই তাওয়াররুক করা সুন্নাত। যেমন মাগরিব, এশা, জোহর ও আছরের ছালাত। পক্ষান্তরে যেগুলো দুই রাক‘আত বিশিষ্ট ছালাত যাতে শুধু একটি-ই তাশাহ্হুদ থাকে, সে সমস্ত ছালাতের বৈঠকে তাওয়াররুক করা সুন্নাত নয়। যেমন, ফজর, জুমু‘আহ ও অন্যান্য নফল ছালাত’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়েমাহ, ১/৩৪৯, ৬/৪৪৬ ও ৭/১৫-১৮ পৃ.; তুহফাতুল মুহতাজ, ২/৭৯ পৃ.; মুগনীউল মুহতাজ, ১/১৭২ পৃ.; আসনাল মাত্বালীব, ১/১৬৪ পৃ.; আল-ইনছাফ, ২/৬৫ পৃ.; কাশ্শাফুল ক্বিনা‘, ১/৩৬৩-৩৬৪ ও ৩৯২ পৃ.; যাদুল মা‘আদ, ১/২৩৫, ২৪৫ পৃ.; আল-মুগনী, ১/৩১৮ পৃ. ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, পৃ. ৩৩৪, ফৎওয়া নং-২৫৬; ছিফাতু ছালাতিন নবী, পৃ. ১৮১)। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) ও শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘প্রথম তাশাহ্হুদে ইফতিরাশ করা সুন্নাত, আর দ্বিতীয় তাশাহহুদে তাওয়াররুক করা সুন্নাত’ (কিতাবুল মাজমূঊ, ৩/৪৫১ পৃ.; যাদুল মা‘আদ, ১/২৪৬ পৃ.; ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব ইিবনি বায, ৮/৩৫৩ পৃ.)। আবূ হুমাইদ আস-সাঈদী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রশিক্ষণ দেয়া হাদীছে এসেছে,.....

فَإِذَا جَلَسَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ جَلَسَ عَلَى رِجْلِهِ الْيُسْرَى وَنَصَبَ الْيُمْنَى وَإِذَا جَلَسَ فِي الرَّكْعَةِ الآخِرَةِ قَدَّمَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَنَصَبَ الأُخْرَى وَقَعَدَ عَلَى مَقْعَدَتِهِ‏.‏

‘‌যখন তিনি দুই রাক‘আতের পর বসতেন তখন বাম পায়ের উপর বসতেন আর ডান পা খাড়া করে রাখতেন এবং যখন শেষ রাক‘আতে বসতেন তখন তিনি তাঁর বাম পা এগিয়ে দিতেন, আর ডান পা খাড়া করে রাখতেন এবং স্বীয় নিতম্বের উপর ভর করে বসতেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/৮২৮; আবূ দাঊদ, হা/৭৩০, ৭৩১)।

এ প্রসঙ্গে শায়খ ইবনু বায, শায়খ নাছিরুদ্দিন আলবানী, শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুমুল্লাহ) বলেন, ‘এই সুন্নাত নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে-ই প্রমাণিত। কেননা ইসলামী শরী‘আতের বিধানের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয়ে-ই বরাবর। তবে ছহীহ সুন্নাহর আলোকে ও দলীলের ভিত্তিতে যে কয়েকটি বিষয়ে মহিলারা পুরুষদের থেকে ভিন্নরূপ আমল করে থাকে তা ব্যতীত। এক্ষেত্রে এমন কোন ছহীহ দলীল পাওয়া যায় না যার দ্বারা নারী-পুরুষের ছালাতে পার্থক্য প্রমাণিত হয়। ছালাতের পদ্ধতির ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সকলেই সমান (মাজমূঊ ফাতাওয়া লিইবনি বায, ১১/৭৯-৪১ পৃ.; ছিফাতু ছালাতিন নবী (ﷺ), পৃ. ১৮৯, আশ-শারহুল মুমতি‘, ৩/৩০৩-৩০৪ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৩৮১৬২)।

রাসূল (ﷺ) বলেন, إِنَّمَا النِّسَاءُ شَقَائِقُ الرِّجَالِ ‘নারীরা তো পুরুষের-ই সহোদরা’ (আবূ দাঊদ, হা/২৩৬; তিরমিযী, হা/১১৩; সনদ হাসান)। এছাড়া ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) উম্মুদ দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করে বলেছেন, أَنَّهَا  كَانَتْ تَجْلِسُ فِىْ صَلَاتِهَا جِلْسَةَ الرَّجُلِ وَكَانَتْ فَقِيْهَةً ‘তিনি (উম্মুদ দারদা) ছালাতে পুরুষের মতই বসতেন, আর তিনি একজন ফকীহাহ অর্থাৎ দ্বীনি জ্ঞানের অধিকারিণী ছিলেন’ (তা‘লীকু ছহীহিল বুখারী, হা/৮২৭;০ আত-তারীখুছ ছাগীর, ৯৫ পৃ.; ফাৎহুল বারী, ২/৩৫৫; ছিফাতু ছাালাতিন নবী (ﷺ), পৃ. ১৮৯)। এ সম্পর্কে বিখ্যাত তাবিঈ ইবরাহীম নাখাঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, تفعل المرأة في الصلاة كما يفعل الرجل ‘নারীরা ছালাতে তাই করবে যা একজন পুরুষ করে। এটি বর্ণনা করেছেন ইবনু আবী শাইবাহ’ (ছিফাতু ছালাতীন নবী (ﷺ), পৃ. ১৮৯)।


প্রশ্নকারী : সাদ্দাম, গোদাগাড়ী, রাজশাহী।





প্রশ্ন (১৪) : আমার ছেলে ঘরের ফ্লোরে বাথরুম করে কমোডে বসতে পারে না। তখন আমি বাচ্চাদের টিস্যু দিয়ে ফেলে দেই আর পরিষ্কার করে দেই। এখন সেই মেজেতে কি ছালাত পড়া যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : তাবলীগ জামা‘আতের চিল্লায় মুরুব্বীরা বলেন যে, ‘কোন ব্যক্তি যদি কুরআন পড়ে মানুষের নিকট খায়, তাহলে ক্বিয়ামতের দিন সে এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে, তার চেহারায় হাড় থাকবে, কোন গোশত থাকবে না’। উক্ত বর্ণনা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : মসজিদে একই কাতারের বাম পাশ অপেক্ষা ডান পাশে বসা বা ছালাত আদায় করার মধ্যে বিশেষ কোন ফযীলত আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : যারা বিভিন্ন পরিবহনে (ড্রাইভার, হেলপার ইত্যাদি) শ্রমিক হিসাবে কাজ করে। প্রত্যেক দিন চাকুরীর জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেতে হয়। তারা কি ছালাতকে কসর করবে, না-কি পূর্ণ ছালাতই আদায় করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : শ্বশুর যদি কোন জিনিস ইচ্ছা করে দেয়, তাহলে সেটা নেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : সম্মিলিত দু‘আ করে এমন মাযহাবী ইমামের পিছনে ছালাত শুদ্ধ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫২) : শীতকালে আমার শ্বাসকষ্ট প্রকট আকার ধারণ করে। পানি স্পর্শ করলে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। এমতাবস্থায় তায়াম্মুম করে ছালাত আদায় করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : দাজ্জাল যখন বের হবে তখন কি মৃতদেরকেও জীবিত করা হবে, না শুধু জীবিতদের ওপরই প্রকাশিত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : মসজিদের দেওয়ালে কুরআনের বা হাদীছ লেখে রাখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : একদিন স্বামীর সাথে ঝগড়ার একপর্যায়ে প্রচণ্ড রাগের বশবর্তী হয়ে কুরআন হাতে নিয়ে যদি কেউ বলে যে, এই কুরআন ছুয়ে বলছি জীবনে কোনদিন তোমার টাকায় হাত দিব না, তোমার টাকা দিয়ে কিছু করব না, যত টাকা নিয়েছি সব ফেরত দিয়ে দিব। অতঃপর পরবর্তীতে ভুল বুঝতে পারে যে, তার এমন কাজ করা ঠিক হইনি। এমতাবস্থায় করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : ঈদের দিনে কুরবানীর পশুর রক্ত ঝরানোর চেয়ে আল্লাহর নিকট অধিক পসন্দনীয় কোন আমল নেই। সে ক্বিয়ামত দিবসে উক্ত পশুর শিং, খুর, লোম প্রভৃতি নিয়ে উপস্থিত হবে এবং তার রক্ত যমীনে পড়ার পূর্বেই আল্লাহর নির্ধারিত মর্যাদার স্থানে পতিত হয়। অতএব তোমরা প্রফুল্লচিত্তে কুরবানী কর’। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : বাম হাতে কোন জিনিস আদান-প্রদান করা কি নাজায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ